📄 অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করার ক্ষতি
ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের বিবাহের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। অধিক বয়সে বিবাহ করা যেমন ক্ষতিকর তেমনি অল্প বয়সে বিবাহের মধ্যেও রয়েছে নানা ক্ষতিকর দিক। আর এ ক্ষতি যেমন রয়েছে ছেলের জন্যে তেমনি রয়েছে মেয়ের ক্ষেত্রেও। অল্প বয়সে বিবাহের দ্বারা ছেলেদের স্বাস্থ্যহানি ঘটা, কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, অকাল বার্ধক্যে পতিত হয়ে সীমাহীন দুঃখে কষ্টে জীবনযাপন করা অল্প বয়সে বিয়ের ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক। তাছাড়া অপরিণত বয়সে স্ত্রী সম্ভোগের ফলে যে সন্তান জন্ম নেয় তা অত্যন্ত ক্ষীণ, দুর্বল ও রোগাটে হয়ে থাকে। একই সাথে তাদের বুদ্ধিও কম হয়। এমনকি কখনও অকাল মৃত্যুও হয়ে থাকে।
আর মেয়েদের অল্প বয়সে গর্ভধারণের ফলে স্বাস্থ্য একেবারে ভেঙে পড়া, সাংসারিক কাজকর্ম দেখাশোনা ও গোছানোর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বেচারির দফারফা হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর বয়সের স্বল্পতা ও অভিজ্ঞতার অভাবে সন্তানের কোনো রূপ সেবাযত্ন ও পরিচর্যা করা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে স্বামীর বাড়ির লোকজন যদি একটু বদমেজাজি হয়ে যায়, তাহলে তো লাঞ্ছনা গঞ্জনার সীমাই থাকে না। অল্প বয়সি বধূকে নিয়ে তারা উষ্টাউষ্টি করতে কুণ্ঠাবোধ করে না।
📄 যৌবন এক পাগলা ঘোড়া
অধিক বয়সে বিবাহ শাদিতে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্যে ক্ষতি রয়েছে। যৌবনকাল মানুষের জন্যে যেমন সময়, অপরদিকে বিপজ্জনকও। যৌবন মানুষকে পাগলা ঘোড়ার ন্যায় দৌড়াতে থাকে। যৌবনের চাহিদা দুরন্ত। এ সময় ছেলেমেয়েদেরকে যৌনচাহিদা অস্থির করে তোলে। এ অবস্থায় যুবক যুবতিরা মনের আনন্দে, সুখের নেশায়, রঙিন স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ জীবনের আরাম আয়েশ উপভোগের জন্যে মনে মনে বিভিন্ন কল্পনা জল্পনা করতে থাকে। ইন্দ্রিয়ের তাড়নায় কামলিলা চরিতার্থ করার জন্যে যুবক যুবতির সান্নিধ্য এবং যুবতি যুবকের সান্নিধ্য লাভ করতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। যথাসময়ে তার চাহিদা বৈধ পন্থায় পূরণ করতে না পারলে তার দ্বারা অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোনো কর্মকা-ের সৃষ্টি হতে পারে। এর দ্বারা ব্যক্তির মান মর্যাদা তো যাবেই, পাশাপাশি বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্থ হওয়ার ফলে জীবনের চরম ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষত আজকের এই টেকনোলজি বা তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিস্তারিত বিবরণ নিষ্প্রয়োজন।
টিভি, ভিসিআর, ডিশ এন্টেনা, ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, মোবাইল, সিনেমা, অশ্লীল পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন এবং ফর্নোগ্রাফির বদৌলতে বাল্য বয়সেই তো অধিকাংশ কিশোর কিশোরী পূর্ণ বয়স্ক যুবক যুবতি ও স্বামী-স্ত্রীর মতো আচরণ করে। তারপরও যদি পরিপক্ক যুবক যুবতিরা যথাসময়ে বিয়ে শাদি না করে তাদের দ্বারা অস্বাভাবিক কিছু ঘটে যাওয়া মোটেও বিচিত্র নয়। মূলত হচ্ছেও তাই। এ দোষে আক্রান্ত নয়, এমন ব্যক্তির সংখ্যা হাতেগোণার পর্যায়ে এসে পৌঁছার উপক্রম হয়েছে। এরূপ পরিস্থিতিতে পূর্ণ যৌবনপ্রাপ্ত অবিবাহিত নারী-পুরুষের পক্ষে, নিজেদের চরিত্র সংরক্ষণ করা কতটুকু সম্ভব? তাই সব বিষয় বিবেচনা করে উপযুক্ত বয়সে বিবাহ শাদি করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। এতে ঈমান ও জীবন উভয়ের পূর্ণতা পায়।
📄 ছেলে মেয়ের বিয়ের বয়স
বিয়ের প্রকৃত বয়স কত- এ নিয়ে মহাবিপাকে দুনিয়ার মানুষ। অনেক অভিভাবক কুয়ারার সুরে বলে থাকে যে, 'এখনও ছেলে বা মেয়ের বিয়ের বয়স হয়নি। আর কয়েক বছর অপেক্ষা করি! তারপরই না হয় তাদের বিয়েটা দিই। ছেলেমেয়ের পড়ালেখাটাও একটা পর্যায়ে পৌঁছুক কিংবা কোনো চাকরি বাকরি ধরে ফেলুক। না হয় বিয়ে করে তারা খাবে কী? বউকে দিবে কী? তাছাড়া পড়ালেখা শেষ না করে বিয়ে করলে লোকসমাজে মুখ দেখাই কিভাবে?' ইত্যাকার প্রশ্ন আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে।
জাতিসংঘ ছেলে-মেয়ে উভয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে আঠারো। এর আগে সবাই শিশু। তাই আঠারো বছরের আগে কোনো ছেলে কিংবা মেয়ের বিয়ে দেওয়া কথিত আন্তর্জাতিক আইনে সিদ্ধ নয়। কিন্তু বাস্তবে জাতিসংঘের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার এই বয়স নির্ধারণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত?
প্রকৃতপক্ষে বিয়ের প্রকৃত বয়স কত?
এ প্রশ্নের জবাবে আমার দ্বিধাহীন বক্তব্য হলো, আপনি নিজ থেকে প্রথম যেদিন নিজের সাবালকত্ব সম্পর্কে পূর্ণ অনুভূতি লাভ করবেন, সেটাই আপনার বিয়ের উপযুক্ত বয়স।
সব বিষয় দলিল-প্রমাণ দিয়ে হয় না। বিয়ের বয়স নির্ধারণের জন্যেও কোনো দলিল-প্রমাণ তলবের প্রয়োজন নেই। কারণ কারও মতে বিয়ের বয়স হচ্ছে ত্রিশ। কেউ আবার মত দিয়েছেন চল্লিশ।
আমার জবাব হলো- আল্লাহ মানুষকে যে ফিতরাতের ওপর সৃষ্টি করেছেন, তার অনুকূল হলেই বিয়ে করে ফেলা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যেই কল্যাণকর। আমার দেওয়া জবাবটি বোঝার জন্যে একটা ভূমিকা উল্লেখ করা প্রয়োজন।
মনে রাখবেন যে, আল্লাহ মানুষকে দুটি স্বভাবজাত গুণ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। একটি হলো মানবসত্তার সংরক্ষণ ভাবনা। এই ভাবনার কারণেই আমাদের ক্ষুধা লাগে। দ্বিতীয়টি হলো জাতিসত্তার সংরক্ষণ চেতনা। এই চেতনার তাগিদেই বংশধারা টিকে আছে। এই দুটির একটি বিশুদ্ধ প্রমাণিত হলে অপরটিও নির্ভুল মেনে নিতে হবে।
আচ্ছা বলুন তো, মানুষ কখন খাবার গ্রহণ করে? আপনি অবশ্যই এ প্রশ্নের জবাবে বলবেন যে, যখন খাওয়ার চাহিদা হয় কিংবা ক্ষুধা লাগে তখনই মানুষ খাবারের প্রতি আগ্রহী হয়ে থাকে। আপনার এই জবাবের সূত্র ধরেই আমি বলব যে, মনের মাঝে জৈবিক চাহিদা পূরণের চাহিদা জন্ম নিলে কিংবা যৌন চাহিদা পূরণের তাগাদা অনুভব করলেই বিয়ের প্রকৃত বয়স হয়ে থাকে।
কথাটাকে খোলাসা করার জন্যে আবার বলছি-
মানুষ কখন খাবার খায়?
জবাবে আপনারা বলবেন, যখন ক্ষুধা লাগে তখন।
তো আমিও বলব, বিয়ে তখনই করবেন, যখন কামনার উদ্রেক হয়, মনের সুপ্ত বাসনা জাগ্রত হয়। অর্থাৎ যে সময়ে পৌরুষ আসে, যৌবন আসে তখন। মোটামুটি সর্বোচ্চ আঠারো বছর ধরা যায়।
📄 বিয়ের বয়স নিয়ে ভানুমতির খেল
আপনারা প্রশ্ন করবেন, এ বয়সে পৌঁছার পরও যদি বিয়ে করার মতো অর্থ হাতে না থাকে, তাহলে কী করব?
আমি বলব, ক্ষুধার্ত ব্যক্তির কাছে পয়সা না থাকলে সে যা করে, এই যুবকও তা-ই করবে। খাবার হাতে আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরবে।
আপনারা বলবেন, যদি ক্ষুধার্ত ব্যক্তি ধৈর্য ধরতে না পেরে সামনে অন্যের খাবার উপস্থিত পেয়ে চুরি করে খেয়ে ফেলে এবং হারাম কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে আমরা কী করব?
এক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হলো, প্রতিটি সমাজে অনাহারীদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, যেন তারা চুরি বা কোনো অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে। যদি কোনো কারণে সমাজের লোক খাবারের যোগান দিতে না পারে এবং তাদের থেকে চুরির আশঙ্কা করে, তাহলে সাধারণ মানুষের কর্তব্য হলো, যার যার মাল ও অর্থসম্পদ হেফাজত করা। এখন যদি বলেন যে, তাদের চুরি করা একদিকে বৈধ! কারণ, সমাজ তাদেরকে খাদ্যবঞ্চিত করেছে; অথচ এটা তাদের জৈবিক অধিকার? অপরদিকে অবৈধ! কারণ অন্যের সংরক্ষিত জিনিসে তারা হাত লাগিয়েছে। ঠিক একই কথা বিবাহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
মূলত বিবাহের স্বাভাবিক বয়স হলো যে বয়সে ছেলেমেয়ে বালেগ-বালেগা হয়। কিন্তু এ বয়সে তারা স্কুল-কলেজে বা মাদরাসায় পড়াশোনা করে। তাদের হাতে তেমন অর্থকড়িও থাকে না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ‘কমপক্ষে পঁচিশ বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। অর্থাৎ যে সময়ে পারস্পরিক মিলনের সূত্রপাত হওয়ার কথা, ঠিক সে মুহূর্তে তাদের সামনে স্বভাববিরুদ্ধ বিশাল বাধা আপতিত হয়।
তাহলে আমরা এর মোকাবেলা কিভাবে করতে পারি? কী করার আছে এই যুবকের? সে তো এই দশটা বছর বিয়ে ছাড়া কাটিয়ে দিতে বাধ্য। অথচ যৌন চাহিদা জীবনের এই দশ বছরই সর্বাধিক হয়ে থাকে!
আল্লাহ তায়ালা তার দেহের মাঝে জ্বলন্ত অগ্নি স্থাপন করে দিয়েছেন। যদি এই আগুন বিয়ের মাধ্যমে না নেভানো হয়, তাহলে এর তাপে হয়তো নিজে দগ্ধ হবে নতুবা ব্যভিচারের মাধ্যমে অন্যের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেবে। এখানেই হলো মূল সমস্যা। এ নিয়েই আলোচনা করা দরকার।
আমি মনে করি, বিয়ের প্রকৃত বয়স নিয়ে আমাদের অভিভাবকরা বিটলামি করে থাকেন। কারণ যিনি এ বিষয়ে কলম ধরবেন, তার জন্যে সবচেয়ে সহজ হলো চেয়ারে হেলান দিয়ে গভীর চিন্তামগ্ন হয়ে বসা। এরপর রায় ঘোষণা করা। কিন্তু আপনারা হয়তো পড়ালেখা, কর্মযজ্ঞ, প্রতিষ্ঠিত হওয়া, চাকরি করা ইত্যাদি মিলিয়ে বলবেন যে, বিয়ের উপযুক্ত বয়স হলো ত্রিশ বছর!
আমি বলব, এটা আপনার কেবলই ব্যক্তিগত অভিমত। এ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। শুধু ফ্রি কথা বললেই তো আর হলো না। যে বিচারক ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন, এখানে তার কষ্ট-ক্লেশের কী আছে? কেবল ঠোঁট দুটো নাড়িয়ে একটা মত প্রকাশ করে দেন। কিন্তু মুসিবত হয় তার, যার বিরুদ্ধে রায় হয় এবং কার্যকর হয়। আর এখানে রায় প্রকাশ করা হচ্ছে যুবক-যুবতির বিরুদ্ধে। তাই আপনার ত্রিশ বছর বলতে কষ্ট না হলেও এত বছরে তাদের অবস্থা মহাবিপর্যয় পয়দা করে ছাড়বে।
মনে রাখবেন, প্রকৃতিগতভাবে বয়স পনেরো হলেই তবিয়ত ও সুপ্ত চাহিদা যুবক-যুবতির ভেতরে যৌনক্ষুধা জাগিয়ে তোলে। কিন্তু আমাদের চিন্তাশীল শ্রদ্ধেয় ভ্রাতৃ মহোদয় তাদের জন্যে মত প্রকাশ করে বলেন, ত্রিশের আগে বিয়ে করা যাবে না। আমার জিজ্ঞাসা হলো, তাহলে বাকি পনেরো বছর সে কী করবে? কুড়িতে যে বুড়ি হয়- সেই প্রাচীন প্রবাদ তো আর অভিজ্ঞজনরা এমনিতেই বলে যাননি!
যে সমাজ যুবককে বিয়ে করতে নিষেধ করে, তারা এই আগুন নিভানোর বিকল্প কোনো পথ বের করতে পারেনি। যখনই বেচারা এই যৌনক্ষুধা কিছুটা হলেও প্রশমিত করতে পারে, তখনই আমরা তাকে সেই তাড়না স্মরণ করিয়ে দিই নগ্ন ফিল্ম উলঙ্গ-অর্ধউলঙ্গ চিত্রাবলি, পথেঘাটে তরুণীদের অবাধ চলাফেরা ও মেলামেশার মাধ্যমে। মনে রাখবেন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথ অনুকরণ ব্যতীত মানুষ অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে তেমন বাঁচিয়ে রাখতে পারে না।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন-
كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبي فقالوا يا رسول الله من أبي؟ قال من أطاعني دخل الجنة ومن عصاني فقد أبي
যারা আমাকে অস্বীকার করে তারা ব্যতীত আমার সব উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাহাবিরা এ কথা শুনে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কারা অস্বীকার করে? জবাবে রাসুল সা. বললেন, যে আমার অনুকরণ করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল। আর যে আমার নাফরমানি করল, সেই আমাকে অস্বীকার করল। [বুখারি শরীফ]
মনে রাখবেন! একজন নারী পথে হাঁটলেও নারী; বাজারে গেলেও নারী; কলেজে এলেও সে নারী। সবখানেই রয়েছে তার সুপ্ত চাহিদা জাগরিত করার ইন্ধন। কিন্তু আমরা এই আগুন বুকের ভেতর পনেরো বছর জ্বালিয়ে রাখার রায় ঘোষণা দিচ্ছি। সাথে সাথে তাকে বলছি, ক্যাম্পাসে যাও, দরসে যাও, অধ্যয়নে ব্যস্ত হও। তাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, অন্যায়-অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকা তোমার কর্তব্য।
পৃথিবীর সস্তা জিনিস হলো কাউকে উপদেশ প্রদান করা। আমরা যুবককে অন্যায় অপরাধ থেকে ফিরে থাকার আসল পথ অনুসরণ না করে তার মাথায় উপদেশের কাঁঠাল ভাঙতেই বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকি। এক্ষেত্রে আমি আল্লাহর শপথ করে বলতে পারি, যে ব্যক্তিকে পনেরো বছর জেলে বন্দি রাখার হুকুম দেওয়া হয়েছে, তার অবস্থা এ যুবকের চেয়ে করুণতর নয়।
তাহলে এখন উপায় কী?
একটিই পথ। তাহলো স্বভাবধর্মের দিকে ফিরে আসা এবং ফিতরাতের অনুসরণ করা। কারণ, একজন মানুষ জাতিগত স্বভাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করতে পারে না। একজন যুবক বিয়ে করবে আঠারো বছর বয়সে। যুবতির বয়স হবে ষোলো কিংবা সতেরো বছর। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে আমাদের সন্তানদের হৃদয়ে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি এবং উন্নত চরিত্র ও আদর্শ নীতি চালু করা যাবে না। যুবক-যুবতিদেরকে নীতি-নৈতিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশকে অশ্লীলতা, পাপাচার ও যৌন চাহিদা উদ্রেককর অবস্থা থেকে মুক্ত করতে হবে। মেয়েদের ব্যাপারে বাবা ও ভাইদের দায়িত্ববান এবং তাদের সম্পদ ও সম্ভ্রম বিনষ্টের কারণ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
এটিই জবাব।