📘 লেট ম্যারেজ > 📄 সময়মত বিয়ে না করার কুফল

📄 সময়মত বিয়ে না করার কুফল


সিডনীর এক প্রখ্যাত চিকিৎসক ডাক্তার ওয়াচার লোহাক। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যদি পরিণত বয়স হয়ে যাওয়ার পরও বিয়ে করতে দেরি করে, তবে সেক্স হরমোন কমতে কমতে এক সময় তা নিঃশেষ হয়ে যায়। গ্রন্থির রস কমে গিয়ে প্রথমে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং পরে ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
যৌবনের প্রারম্ভে বিবাহ না হলে সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। অপরাধের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর বিবাহ করলেও সে তার অপকর্মের অভ্যাস পরিত্যাগ করতে পারে না। এভাবেই দিন দিন সমাজ অবনতির পথে অগ্রসর হতে থাকে। আর ব্যক্তি নিজে জড়িয়ে পড়ে ছোট থেকে বড় অন্যায়ের সঙ্গে।
বর্তমান সমাজে সামাজিক অপরাধের মূল হোতা হলো যুব সমাজ। তাদের মধ্যে যৌন উত্তেজনা বেশি। আর এ উত্তেজনা ব্যভিচারকে সহজ বানিয়ে দিয়েছে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে পুরো ইউরোপ তথা প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সমাজের সর্বনিম্ন পর্যায়ের মানুষ পর্যন্ত ব্যভিচারে লিপ্ত। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, যাদের প্রাপ্ত বয়সে বিয়ে হয়নি, তারাই নানা অজুহাতে নানা পদ্ধতিতে যৌন চাহিদা চরিতার্থ করতে সামাজিক অন্যায়ে লিপ্ত হয়ে পড়ছে। আর এ কারনেই ইসলামে যে ক'টি কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সর্বাগ্রে করার নির্দেশ এসেছে, তন্মধ্যে ছেলেমেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা অন্যতম।
আমেরিকান ডাক্তারদের সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, বর্তমান পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী কুমারদের তুলনায় বিবাহিতরা অধিক সুস্থ থাকে।
গবেষণা অনুযায়ী জানা গেছে যে, বিবাহিত লোকদের নেশার প্রতি আগ্রহ খুব কম থাকে। তারা নিজেদের খাদ্যের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখে। এক সঙ্গী সকল ব্যাপারেই অপর সঙ্গীকে সহায়তা দেয়। তারা নিয়মিত ব্যায়াম করে। এ ব্যাপারে মার্কিন স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীগণ উনিশ হাজার লোকের ওপর জরিপ চালানোর পর দেখা গেছে যে, অ্যাজমা থেকে মাথা ব্যথা পর্যন্ত প্রায় সকল রোগে কুমারদের তুলনায় বিবাহিতরা কম আক্রান্ত হয়ে থাকে।

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করার ক্ষতি

📄 অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করার ক্ষতি


ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের বিবাহের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। অধিক বয়সে বিবাহ করা যেমন ক্ষতিকর তেমনি অল্প বয়সে বিবাহের মধ্যেও রয়েছে নানা ক্ষতিকর দিক। আর এ ক্ষতি যেমন রয়েছে ছেলের জন্যে তেমনি রয়েছে মেয়ের ক্ষেত্রেও। অল্প বয়সে বিবাহের দ্বারা ছেলেদের স্বাস্থ্যহানি ঘটা, কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, অকাল বার্ধক্যে পতিত হয়ে সীমাহীন দুঃখে কষ্টে জীবনযাপন করা অল্প বয়সে বিয়ের ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক। তাছাড়া অপরিণত বয়সে স্ত্রী সম্ভোগের ফলে যে সন্তান জন্ম নেয় তা অত্যন্ত ক্ষীণ, দুর্বল ও রোগাটে হয়ে থাকে। একই সাথে তাদের বুদ্ধিও কম হয়। এমনকি কখনও অকাল মৃত্যুও হয়ে থাকে।
আর মেয়েদের অল্প বয়সে গর্ভধারণের ফলে স্বাস্থ্য একেবারে ভেঙে পড়া, সাংসারিক কাজকর্ম দেখাশোনা ও গোছানোর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বেচারির দফারফা হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর বয়সের স্বল্পতা ও অভিজ্ঞতার অভাবে সন্তানের কোনো রূপ সেবাযত্ন ও পরিচর্যা করা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে স্বামীর বাড়ির লোকজন যদি একটু বদমেজাজি হয়ে যায়, তাহলে তো লাঞ্ছনা গঞ্জনার সীমাই থাকে না। অল্প বয়সি বধূকে নিয়ে তারা উষ্টাউষ্টি করতে কুণ্ঠাবোধ করে না।

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 যৌবন এক পাগলা ঘোড়া

📄 যৌবন এক পাগলা ঘোড়া


অধিক বয়সে বিবাহ শাদিতে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্যে ক্ষতি রয়েছে। যৌবনকাল মানুষের জন্যে যেমন সময়, অপরদিকে বিপজ্জনকও। যৌবন মানুষকে পাগলা ঘোড়ার ন্যায় দৌড়াতে থাকে। যৌবনের চাহিদা দুরন্ত। এ সময় ছেলেমেয়েদেরকে যৌনচাহিদা অস্থির করে তোলে। এ অবস্থায় যুবক যুবতিরা মনের আনন্দে, সুখের নেশায়, রঙিন স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ জীবনের আরাম আয়েশ উপভোগের জন্যে মনে মনে বিভিন্ন কল্পনা জল্পনা করতে থাকে। ইন্দ্রিয়ের তাড়নায় কামলিলা চরিতার্থ করার জন্যে যুবক যুবতির সান্নিধ্য এবং যুবতি যুবকের সান্নিধ্য লাভ করতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। যথাসময়ে তার চাহিদা বৈধ পন্থায় পূরণ করতে না পারলে তার দ্বারা অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোনো কর্মকা-ের সৃষ্টি হতে পারে। এর দ্বারা ব্যক্তির মান মর্যাদা তো যাবেই, পাশাপাশি বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্থ হওয়ার ফলে জীবনের চরম ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষত আজকের এই টেকনোলজি বা তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিস্তারিত বিবরণ নিষ্প্রয়োজন।
টিভি, ভিসিআর, ডিশ এন্টেনা, ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, মোবাইল, সিনেমা, অশ্লীল পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন এবং ফর্নোগ্রাফির বদৌলতে বাল্য বয়সেই তো অধিকাংশ কিশোর কিশোরী পূর্ণ বয়স্ক যুবক যুবতি ও স্বামী-স্ত্রীর মতো আচরণ করে। তারপরও যদি পরিপক্ক যুবক যুবতিরা যথাসময়ে বিয়ে শাদি না করে তাদের দ্বারা অস্বাভাবিক কিছু ঘটে যাওয়া মোটেও বিচিত্র নয়। মূলত হচ্ছেও তাই। এ দোষে আক্রান্ত নয়, এমন ব্যক্তির সংখ্যা হাতেগোণার পর্যায়ে এসে পৌঁছার উপক্রম হয়েছে। এরূপ পরিস্থিতিতে পূর্ণ যৌবনপ্রাপ্ত অবিবাহিত নারী-পুরুষের পক্ষে, নিজেদের চরিত্র সংরক্ষণ করা কতটুকু সম্ভব? তাই সব বিষয় বিবেচনা করে উপযুক্ত বয়সে বিবাহ শাদি করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। এতে ঈমান ও জীবন উভয়ের পূর্ণতা পায়।

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 ছেলে মেয়ের বিয়ের বয়স

📄 ছেলে মেয়ের বিয়ের বয়স


বিয়ের প্রকৃত বয়স কত- এ নিয়ে মহাবিপাকে দুনিয়ার মানুষ। অনেক অভিভাবক কুয়ারার সুরে বলে থাকে যে, 'এখনও ছেলে বা মেয়ের বিয়ের বয়স হয়নি। আর কয়েক বছর অপেক্ষা করি! তারপরই না হয় তাদের বিয়েটা দিই। ছেলেমেয়ের পড়ালেখাটাও একটা পর্যায়ে পৌঁছুক কিংবা কোনো চাকরি বাকরি ধরে ফেলুক। না হয় বিয়ে করে তারা খাবে কী? বউকে দিবে কী? তাছাড়া পড়ালেখা শেষ না করে বিয়ে করলে লোকসমাজে মুখ দেখাই কিভাবে?' ইত্যাকার প্রশ্ন আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে।
জাতিসংঘ ছেলে-মেয়ে উভয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে আঠারো। এর আগে সবাই শিশু। তাই আঠারো বছরের আগে কোনো ছেলে কিংবা মেয়ের বিয়ে দেওয়া কথিত আন্তর্জাতিক আইনে সিদ্ধ নয়। কিন্তু বাস্তবে জাতিসংঘের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার এই বয়স নির্ধারণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত?
প্রকৃতপক্ষে বিয়ের প্রকৃত বয়স কত?
এ প্রশ্নের জবাবে আমার দ্বিধাহীন বক্তব্য হলো, আপনি নিজ থেকে প্রথম যেদিন নিজের সাবালকত্ব সম্পর্কে পূর্ণ অনুভূতি লাভ করবেন, সেটাই আপনার বিয়ের উপযুক্ত বয়স।
সব বিষয় দলিল-প্রমাণ দিয়ে হয় না। বিয়ের বয়স নির্ধারণের জন্যেও কোনো দলিল-প্রমাণ তলবের প্রয়োজন নেই। কারণ কারও মতে বিয়ের বয়স হচ্ছে ত্রিশ। কেউ আবার মত দিয়েছেন চল্লিশ।
আমার জবাব হলো- আল্লাহ মানুষকে যে ফিতরাতের ওপর সৃষ্টি করেছেন, তার অনুকূল হলেই বিয়ে করে ফেলা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যেই কল্যাণকর। আমার দেওয়া জবাবটি বোঝার জন্যে একটা ভূমিকা উল্লেখ করা প্রয়োজন।
মনে রাখবেন যে, আল্লাহ মানুষকে দুটি স্বভাবজাত গুণ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। একটি হলো মানবসত্তার সংরক্ষণ ভাবনা। এই ভাবনার কারণেই আমাদের ক্ষুধা লাগে। দ্বিতীয়টি হলো জাতিসত্তার সংরক্ষণ চেতনা। এই চেতনার তাগিদেই বংশধারা টিকে আছে। এই দুটির একটি বিশুদ্ধ প্রমাণিত হলে অপরটিও নির্ভুল মেনে নিতে হবে।
আচ্ছা বলুন তো, মানুষ কখন খাবার গ্রহণ করে? আপনি অবশ্যই এ প্রশ্নের জবাবে বলবেন যে, যখন খাওয়ার চাহিদা হয় কিংবা ক্ষুধা লাগে তখনই মানুষ খাবারের প্রতি আগ্রহী হয়ে থাকে। আপনার এই জবাবের সূত্র ধরেই আমি বলব যে, মনের মাঝে জৈবিক চাহিদা পূরণের চাহিদা জন্ম নিলে কিংবা যৌন চাহিদা পূরণের তাগাদা অনুভব করলেই বিয়ের প্রকৃত বয়স হয়ে থাকে।
কথাটাকে খোলাসা করার জন্যে আবার বলছি-
মানুষ কখন খাবার খায়?
জবাবে আপনারা বলবেন, যখন ক্ষুধা লাগে তখন।
তো আমিও বলব, বিয়ে তখনই করবেন, যখন কামনার উদ্রেক হয়, মনের সুপ্ত বাসনা জাগ্রত হয়। অর্থাৎ যে সময়ে পৌরুষ আসে, যৌবন আসে তখন। মোটামুটি সর্বোচ্চ আঠারো বছর ধরা যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00