📘 লেট ম্যারেজ > 📄 বিবাহ কী

📄 বিবাহ কী


আরবি 'নিকাহ' শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ বিবাহ-শাদি, বিয়ে। ইসলামি পরিভাষায় ইচ্ছাকৃতভাবে একজন নারীর সারা শরীর দ্বারা আস্বাদিত হওয়ার আকদকে বিবাহ-শাদি বলা হয়।
বিয়ে একজন সুস্থ মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজন। মানুষের স্বভাবগত পরিচ্ছন্নতা, মানসিক ভারসাম্য ও চারিত্রিক পবিত্রতার অন্যতম উপায় বিবাহ-শাদি। এ কারণেই অনিন্দ্য সুখের বাসর জান্নাতে বসেও যখন আদম (আ.) অতৃপ্তিতে ভুগছিলেন তখনই আল্লাহ তায়ালা মা হাওয়া (আ.)কে সৃষ্টি করলেন তাঁর সঙ্গিনীরূপে। নর-নারীর যুগল বাঁধনে শুরু হলো মানবজীবন। রক্ত-মাংসে সৃষ্ট এই মানুষের মধ্যে যে প্রভূত যৌনক্ষুধা জমে ওঠে বয়সের পরতে পরতে তা একান্তই বাস্তব। সুতরাং ক্ষুধা যিনি দিয়েছেন সে ক্ষুধা নিবারণের পথও দেখাবেন তিনিই। আর তা হলো বিবাহ।
বিবাহ করা সকল নবী-রাসুলের সুন্নাত। বিবাহ করা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ। বিবাহের মাধ্যমে একজন মুমিন বান্দা আল্লাহর সমীপে পবিত্র হয়ে ওঠার পথ পায়। এক কথায় বিবাহের পবিত্র ছোঁয়ায় পরিচ্ছন্ন জীবন লাভ করে বিবাহিত মর্দে মুমিন। নবিজির আদর্শের রোশনিতে আলোকিত হয়ে ওঠে তার কর্মময় জীবন। ইসলামি শরিয়ত বিবাহকে পুরো দীনের অর্ধেক বলে আখ্যায়িত করেছে। কারণ শারীরিক, মানসিক ও চারিত্রিক উৎকর্ষ ও পবিত্রতা নির্ভর করে এর ওপর।

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 বিবাহের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

📄 বিবাহের গুরুত্ব ও তাৎপর্য


অধিকাংশ গবেষকের মতে, বিবাহ হলো নারী-পুরুষ একে অপর থেকে উপকৃত হওয়া এবং আদর্শ পরিবার ও নিরাপদ সমাজ গড়ার উদ্দেশ্যে পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হওয়া। এ সংজ্ঞা থেকে আমরা অনুধাবন করতে পারি যে, বিবাহের উদ্দেশ্য কেবল ভোগ নয়; বরং এর সঙ্গে আদর্শ পরিবার ও আলোকিত সমাজ গড়ার অভিপ্রায়ও জড়িত।
বিবাহ একটি বৈধ ও প্রশংসনীয় কাজ। প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ক্ষেত্রেই এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিয়ে করা নবি-রাসুলগণের সুন্নত। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً
অবশ্যই তোমার পূর্বে আমি রাসুলদের প্রেরণ করেছি এবং তাদেরকে দিয়েছি স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি। [সূরা রা'দ: ৩৮]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বিবাহ করেছেন এবং এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলেছেন-
أَتَزَوْجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي.
'আমি নারীকে বিবাহ করেছি। (তাই বিবাহ আমার সুন্নত) অতএব যে আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়। (মুসনাদে আহমদ: ১২৬৩৪।
এ জন্যেই আলিমগণ বলেছেন, সাগ্রহে বিবাহ করা নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম। কারণ, এর মধ্য দিয়ে অনেক মহৎ গুণের বিকাশ ঘটে এবং অবর্ণনীয় কল্যাণ প্রকাশ পায়।
কারও কারও ক্ষেত্রে বিবাহ করা ওয়াজিব। যেমন: যদি কেউ বিবাহ না করলে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করে। তখন নিজেকে পবিত্র রাখতে এবং হারাম কাজ থেকে বাঁচতে তার জন্যে বিয়ে করা ওয়াজিব হয়ে দাঁড়ায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزُوجُ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصُّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاء.
হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিয়ে করে। কেননা তা চক্ষুকে অবনত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যে এর সামর্থ্য রাখে না, তার কর্তব্য রোজা রাখা। কেননা তা যৌন উত্তেজনার প্রশমণ ঘটায়। [বায়হাকি; সুনানু কুবরা : ১৪২১১, ইবনু মাজাহ: ১৯১৮]

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 বিবাহের প্রয়োজনীয়তা

📄 বিবাহের প্রয়োজনীয়তা


মানুষের মধ্যে যে যৌন ক্ষমতা রয়েছে এর সৃষ্টি উদ্দেশ্যহীন নয়; বরং মানব বংশের বৃদ্ধিই এর লক্ষ্য। আর সে জন্যেই সৃষ্টি হয়েছে নারীর। ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে নারীকে গর্ভধারণের, সন্তান প্রসবের। আর মানুষ যেহেতু পশু নয়, তাই উচ্ছৃঙ্খলভাবে যত্রতত্র যৌনক্ষুধা নিবারণের অনুমতি দেওয়া হয়নি তাকে। বরং নিয়ম-নীতির আলোকে সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে সম্মানজনক পন্থায় কাম-চাহিদা পূরণ ও তা ফলপ্রদ করার পুণ্যময় রীতি প্রণয়ন করেছে শরিয়ত। আর তারই নাম বিবাহ-শাদি। যার অবর্তমানে যেভাবে মানুষ আর পশুতে ভেদাভেদ থাকে না, বিয়ের লক্ষ্য সাধিত না হলেও থাকে না মানব বংশের অস্তিত্ব। সুতরাং মানবজীবনের কল্যাণ ও স্থিতিশীলতার জন্যে বিয়ে এক গভীর তাৎপর্যময় সত্য।
মানুষ যে খাবার গ্রহণ করে তা থেকে উৎপাদিত শক্তির নির্যাস হলো যৌনক্ষমতা। বিবাহের মাধ্যমে যা যথার্থ প্রবাহিত হতে পারে। যদি কোনো ব্যক্তি বিবাহ করার, স্ত্রীর ভরণ-পোষণ করার ক্ষমতা না রাখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে রোজা রেখে শক্তি নিয়ন্ত্রিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। মোটকথা, খানাপিনা যেভাবে মানবজীবনের অপরিহার্য প্রয়োজন, আহার নিবাসের প্রয়োজনীয়তা যেভাবে যুক্তিতর্কের ঊর্ধ্বে, একজন যৌবনদীপ্ত মানুষের সুস্থ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে বিয়ের প্রয়োজনীয়তাও তেমনই। আর এ কারণেই কুরআন ও হাদিসে নির্দেশসূচক শব্দে উৎকীর্ণ করা হয়েছে বিবাহের আহ্বানকে।

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 বিবাহের উপকারিতায় গবেষণা প্রতিবেদন

📄 বিবাহের উপকারিতায় গবেষণা প্রতিবেদন


বিজ্ঞানীদের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে যে, বিবাহের দ্বারা নিম্নোক্ত উপকারিতা পাওয়া যায়।
১. আনন্দঘন দাম্পত্য জীবন দৈনন্দিন পেরেশানি এবং দুশ্চিন্তার মাঝে ঢালের মতো ভূমিকা রাখে।
২. বিবাহিত লোকদের স্বাস্থ্য স্বাভাবিকভাবে অবিবাহিত লোকদের চেয়ে বেশি সুস্থ থাকে।
৩. বিবাহ মানুষকে অনেক খারাপ কাজ যেমন- মদপান, অবৈধ সম্পর্ক এবং সিগারেট পান থেকেও রক্ষা করে।
অনুসন্ধানে এও দেখা গেছে যে, অবিবাহিতদের মধ্যে হার্টের রোগের কারণে মৃত্যুহার বিবাহিতদের চেয়ে অনেক বেশি। তাছাড়া অবিবাহিত লোকেরা ক্যান্সার, আত্মহত্যা এবং আরো অন্যান্য প্রাণঘাতী রোগে বিবাহিত লোকদের তুলনায় অধিক আক্রান্ত হয়ে থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00