📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 প্রথম মুসলিম জাতি

📄 প্রথম মুসলিম জাতি


“আল্লাহ্ অবশ্যই মুসলমানদের উপর তখন সুখী হয়েছেন যখন তারা গাছের নিচে আপনার নিকট আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিল। (এ বাইয়াতের) ফলে তাদের অন্তরে যা ছিল তা আল্লাহ্ (প্রমাণসহ) জেনে নিলেন। তাই তিনি তাদের উপর শান্তি অবতীর্ণ করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরস্কার দিলেন।” (৪৮-সূরা আল ফাতহ : আয়াত-১৮)

এ আয়াত মুমিনদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের কথা বুঝায়। সর্বপেক্ষা মূল্যবান যে জিনিস আপনাকে অর্জন করতে হবে তাহলো আপনার প্রতি আল্লাহ্র সন্তুষ্ট হওয়া। প্রথম মুসলিম জাতির প্রতি আল্লাহ্র সন্তুষ্টির কথা এ আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আয়াতে তিনি (আল্লাহ্) তাদের প্রতি ক্ষমার কথা উল্লেখ করেন–

“যাতে আল্লাহ্ তোমার আগে-পিছের সব পাপ ক্ষমা করে দেন।” (৪৮-সূরা আশ শুরা : আয়াত-২)

“আল্লাহ্ অবশ্যই নবী করীম ﷺ-কে, মুহাজিরদেরকে এবং আনসারদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-১১৯)

মক্কা থেকে হিজরত করে প্রথম মুসলমান মদীনায় মুহাজির হন এবং মদীনার যে সব মুসলমান তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছিলেন তাদেরকে আনসার বলা হয়।

“আল্লাহ্ আপনাকে (হে মুহাম্মাদ ﷺ)! ক্ষমা করুন। আপনি কেন তাদেরকে অব্যাহতি দিলেন?” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৪৩)

আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তারা গাছের নিচে তাদের জীবন উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। কেন? তাদের শাহাদাতের মাধ্যমে দ্বীন বেঁচে উঠেছিল ও চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। মহান আল্লাহ্ জানতেন যে, তাদের অন্তরে উচ্চস্তরের ঈমান ছিল। তারা প্রচেষ্টা করেছেন, না খেয়ে থেকেছেন এবং অত্যাচারিত হয়েছেন কিন্তু তারা যা গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন তা হলো আল্লাহ্র প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া। তারা তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, তাদের সম্পদ ত্যাগ করে ও তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে মরু ভ্রমণের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েিন দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন, কিন্তু তারা শুধুমাত্র আল্লাহ্ এবং তাদের প্রতি আল্লাহ্র সন্তুষ্ট হওয়াকে পেতে চেয়েছিলেন বা আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন চেয়েছিলেন। ইসলাম এবং রব্বুল আলামীনের পুরস্কার কি উট, ছাগল বা টাকা-পয়সা ছিল? আপনি কি মনে করেন যে, তাদের অন্তরে শান্তি করার ক্ষমতা এসব জিনিসের ছিল? কখনও নয়। আল্লাহ্র সন্তুষ্টি, তাঁর ক্ষমা ও তাঁর চিরকালীন পুরস্কারই তাদের আত্মার শান্তি দিয়েছিল।

“আর তারা যে ধৈর্য ধরেছিলেন এজন্য তাদের পুরস্কার হবে জান্নাত ও রেশমী পোশাক। সেখানে তারা সুউচ্চ সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে; তথায় তারা সূর্যের অতি উষ্ণতা ও (চন্দ্রের) অতিশয় শীতলতা দেখবে না (যেহেতু জান্নাতে চন্দ্র-সূর্য থাকবে না)। (সেখানে বৃক্ষের) ছায়া তাদের নিকটেই থাকবে এবং ফলমূল সম্পূর্ণরূপে (তাদের) আয়ত্তাধীন করা হবে। আর তাদেরকে (পানীয়) পরিবেশন করা হবে রূপার পানপাত্রে এবং ঝকঝকে কাঁচের পেয়ালায় করে। রূপার মতো ঝকঝকে কাঁচের পাত্রগুলোতে তারা (পরিবেশন কারীরা) যথাযথভাবে (পানীয় দ্বারা) পরিপূর্ণ করবে।” (৭৬-সূরা দাহর বা ইনসান : আয়াত-১২-১৬)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহচ্ছন্ন করে রেখেছে

📄 প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহচ্ছন্ন করে রেখেছে


أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ "প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহান্ধ করে রেখেছে।" (১০২-সূরা আত তাকাসুর: আয়াত-১)

একবার মোটা অঙ্কের টাকা পাওয়ার পর, যতদূর সম্ভব সব কিতাবের এক কপি করে ক্রয় করার আশায় বইয়ের দোকানে (লাইব্রেরি) ছুটলাম, মুহূর্তের উদ্দীপনা আমাকে পরাভূত করে ফেলেছিল। বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই দিয়ে আমি আমার ঘরের দেয়ালের তাকগুলো ভরে ফেললাম। ইসলামী আইনশাস্ত্র, সমাজ বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক বই-পুস্তক ছিল। আমি পড়া শুরু করতে চাইলাম, কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম না যে কোথা থেকে শুরু করব। আমি দেখলাম যে একই জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন পুস্তক একে অপরকে ছাপিয়ে যেতে চায়। কিন্তু পুস্তকগুলোর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। কতিপয় বিখ্যাত আলেমের সাথে আমি পরামর্শ করে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম কীভাবে আমার পড়ালেখা করা উচিত। তারা আমাকে এমন পথ বাতলিয়ে দিলেন যা সফল প্রমাণিত হয়েছে। তারা আমাকে পরামর্শ দিলেন যাতে আমি ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখার প্রধান প্রধান কিতাবগুলোই গভীরতার সাথে অধ্যয়ন করি। তারা বললেন, অন্যান্য কিতাবগুলোকে আলাদাভাবে রেখে দিতে। তবে যখন কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে গবেষণার জন্য অনেক কিতাবের দরকার হয় তখন সেগুলো পড়তে হবে। এর ফলাফল দেখে আমি ভারি খুশি হয়ে গেলাম। আমি তাদের সরল অথচ যুক্তিযুক্ত উপদেশ অনুসরণ করে অধিকতর গোছালো ও স্বস্তি অনুভব করলাম।

أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ ० حَتَّىٰ زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ "প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহান্ধ করে রেখেছে, এমনকি তোমরা (এ অবস্থায়) কবর পরিদর্শন করছ।" (১০২-সূরা আত তাকাসুর: আয়াত-১-২)
(অর্থাৎ তোমরা আমৃত্যু বা মরণ পর্যন্ত পার্থিব সম্পদের মোহে আচ্ছন্ন হয়ে আছ ও পরকাল থেকে বিমুখ হয়ে আছ বা পরকালকে ভুলে আছ।)

কিছু ছাত্র আছে যারা বিরল পাণ্ডুলিপির জন্য ভীষণ খোঁজা-খুঁজি করে, তারা সর্বদাই বিরল পুস্তকাদি সংগ্রহ করে, তবুও আপনি তাদের অধিকাংশকেই দেখতে পাবেন যে, ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স বইসমূহও তারা পুরাপুরিভাবে পড়েননি। আমি এক লোককে চিনি যিনি মুকাতিল ইবন সুলাইমানের তফসির সংগ্রহ করতে পারেননি বিধায় অসন্তুষ্ট, অথচ তিনি ইবনে কাইয়িমের তফসির পুরাপুরি পড়েননি।

“আর তাদের মাঝে এমন কিছু নিরক্ষর লোক আছে কিতাব সম্বন্ধে যাদের কোন জ্ঞান নেই, তারা শুধু মিথ্যা আশা করে ও ধারণা করে।” (২-সূরা বাকারা : আয়াত-৭৮)

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যখন প্রথমে বিবেচনা করা উচিত তখন কখনও ছোটখাট বিষয়ের পিছনে লাগবেন না। যে ব্যক্তি তার উদ্দেশ্য জানে না তাকে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর সফর করতে হবে-যা কোথাও শেষ হবে না।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 সমাপনী অধ্যায়

📄 সমাপনী অধ্যায়


আসুন, আমরা সবাই সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক- আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করি। আসুন, তাঁর সাথে কোন শরিক সাব্যস্ত না করে আমরা তাঁর সামনে (সালাতে) দাঁড়াই। আসুন, আমরা তাঁর নিকট অতিশয় আকুলভাবে প্রার্থনা করি এবং উত্তরের জন্য ধৈর্যসহকারে অপেক্ষা করি। কেননা, সত্যিই তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট। তিনিই আরোগ্য করেন। তিনি স্রষ্টা ও রিযিকদাতা। তিনি একাই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান।

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ. اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ.
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِن خَيْرٍ مَا سَأَلَكَ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَاذَ مِنْهُ عَبْدُكَ نَبِيُّكَ.
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَসَلِ وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ.

“হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ ও আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন!” (২-সূরা বাকারা : আয়াত-২০১)

“হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে দুনিয়া আখেরাতে সর্বদা সুস্থতা ও কল্যাণ দান করুন!” (কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-৪৬৭৭)

“হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট সেই সর্বোত্তম জিনিস প্রার্থনা করি যা আপনার রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ কামনা করেছেন। আর আমরা আপনার নিকট সেই মন্দ জিনিস থেকে আশ্রয় চাই যার থেকে আপনার রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ আশ্রয় বা পনাহ চেয়েছেন। (বুলুগুল মারাম : হাদীস নং-১৬০৬)

“হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট উদ্বিগ্নতা, দুশ্চিন্তা, অক্ষমতা ও দুঃখ-কষ্ট থেকে পনাহ চাই; আমরা আপনার নিকট অক্ষমতা ও অলসতা থেকে মুক্তি চাই; আমরা আপনার নিকট কৃপণতা ও কাপুরুষতা বা ভীরুতা থেকে আশ্রয় চাই আর আমরা আপনার নিকট ঋণের বোঝা ও মানুষের কর্তৃত্ব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। (জাম’এ ছগীর, হাদীস নং ১৬৫০)

تَمَّتْ بِالْخَيْرِ بِفَضْلِ اللَّهِ تَعَالَى
মহান আল্লাহর রহমতে সুসমাপ্ত

ফন্ট সাইজ
15px
17px