📄 কম থাক বা বেশি থাক কৃতজ্ঞ হতে শিখুন
শীতল পানির জন্য যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, সে অট্টালিকা ও জমকালো গাড়ির জন্যও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হবে না। গরম রুটি (টাটকা খাবার) খেয়ে যে কৃতজ্ঞ হয় না সে হঠাৎ করে দামী খাবার খেয়েও কৃতজ্ঞ হবে না; কেননা, অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি কম ও বেশিকে একই রকম দেখে। আমাদের পূর্বে বহু লোকই আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, যদি আল্লাহ তাদেরকে নেয়ামত দান করেন, তবে এর বদলে তারা কৃতজ্ঞ হবে ও দান-খয়রাত করবে।
“আর তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, “যদি তিনি নিজ অনুগ্রহ থেকে আমাদেরকে কিছু দান করেন তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই সদকা দিব ও অতি অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হব।” যখন তিনি তাদেরকে নিজ অনুগ্রহ থেকে কিছু দান করলেন, তখন তারা সে বিষয়ে কার্পণ্য করল এবং বিরুদ্ধভাবে মুখ ফিরিয়ে নিল।” (৯-সূরা তাওবা: আয়াত-৭৫-৭৬)
প্রতিদিনেই আমরা এ ধরনের লোক দেখি, যারা মানসিকভাবে দুঃখিত, অন্তরসংশয়ী ও তাদের প্রতি ভক্তি-বিরক্ত আর তা এ কারণে যে, তিনি তাদেরকে আরো বেশি দান করেননি। তারা সুবস্থায় থাকা সত্ত্বেও এবং তাদের প্রতিদিনের পুষ্টিকর খাবার সত্ত্বেও তারা এ রকমটা ভাবে। তাদের যে সব মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিস আছে তার সবটা উপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তারা এসব জিনিসের জন্য কৃতজ্ঞও নয় এবং তাদের যে অবসর সময় আছে তার জন্যও কৃতজ্ঞ নয়। যদি তাদেরকে প্রাসাদ বা অট্টালিকা দান করা হতো তাহলে কি ঘটনা ঘটত! আসলে তাদের প্রচুর প্রশ্ন এমনকি আরো বেশি বিজাতীয় মনোভাব হয়ে যেত এবং তারা আরো বেশি ঔদ্ধত্য ও অবজ্ঞা প্রকাশ করত। যে খালি পায়ে হাঁটে সে বলে, “আমার প্রভুর প্রতি আমি তখন কৃতজ্ঞ হব, যখন তিনি আমাকে জুতো দিয়ে ধন্য করবেন।” অথচ জুতাওয়ালা একটি দামী গাড়ি পাওয়া পর্যন্ত তার কৃতজ্ঞতা বিলীন হয়ে থাকে। আমরা কল্যাণকে নগদে গ্রহণ করি আর বাকিটা কৃতজ্ঞ হই না। আল্লাহ্র কাছ থেকে আমাদের আশা অশেষ। অথচ তাঁর আদেশ পালনে আমরা ধীর ও অলস।
📄 তিনটি সাইন বোর্ড
এক জন ব্যক্তি তার অফিসে তিনটি সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে তা তিনি প্রতিদিন পড়তেন।
প্রথমটিতে লেখা ছিল, “আপনার আজকের দিন, আপনার আজকের দিন।” অর্থাৎ কাজ করে এবং প্রচেষ্টা করে আজকের সীমার মধ্যে এই জীবন যাপন করুন (এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা পুস্তকের প্রথম দিকে আছে। -অনুবাদক)
দ্বিতীয়টিতে লেখা ছিল, “ভাবুন ও কৃতজ্ঞ হোন।” অর্থাৎ আপনার উপর আল্লাহর করুণার কথা ভাবুন ও পরে কৃতজ্ঞ হোন।
আর তৃতীয়টিতে লেখা ছিল “রাগাম্বিত হবেন না।”
📄 সাহাবীদের সৌভাগ্য
সাহাবীগণ বিভিন্নভাবে ধন্য হয়েছেন; তার মধ্যে একটি হলো যে, ওহীর মাধ্যমে তাদেরকে তাদের মর্যাদা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। নিম্নোক্ত আয়াতটি-
১. আবু বকর (রা) সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে- “আর মুত্তাকীদের জন্য যে সম্পদ দান করে।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-১৭-১৮)
২. নিম্নোক্ত হাদীসে উমর (রা) সম্বন্ধে শুভ সংবাদ দেওয়া হয়েছে- رَأَيْتُ قَصْرًا أَبْيَضَ فِي الْجَنَّةِ قُلْتُ لِمَنْ هَذَا الْقَصْرُ قِيلَ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ. ভাবার্থ : “জান্নাতে আমি একটি সাদা প্রাসাদ দেখলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম; এটি কার? আমাকে বলা হলো : এটি উমরের।”
৩. উসমান (রা)-এর জন্য নবী করীম ﷺ দোয়া করেছেন- اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعُثْمَانَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ. ভাবার্থ : “হে আল্লাহ্! আপনি উসমানের আগে-পিছের সব পাপ ক্ষমা করে দিন।”
৪. আলী (রা) সম্বন্ধে নবী করীম ﷺ নিম্নোক্ত কথা বলেছেন- رَجُلٌ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ. ভাবার্থ : “আলী এমন লোক যিনি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসেন এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলও তাঁকে ভালোবাসেন।”
৫. সা’দ ইবনে মুয়াজ সম্বন্ধে নবী করীম ﷺ বলেছেন- اهْتَزَّ لَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ. ভাবার্থ : “পরম করুণাময়ের আরশ তাঁর জন্য কেঁপে উঠেছে।”
৬. হানযালাহ (রা) ইন্তেকালের পর তাঁর সম্বন্ধে রাসূল ﷺ বলেছেন- غَسَّلَتْهُ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَنِ. ভাবার্থ : “পরম করুণাময়ের ফেরেশতারা তাঁকে গোসল দিয়েছে।”
📄 কাফেরদের দুর্ভাগ্য
১. ফেরাঊন সম্বন্ধে আল্লাহ্ বলেন- اَلنَّارُ يُعْرَضُوْনَ عَلَيْهَا غُদُوًّا وَعَشِيًّا. “সকাল-সন্ধ্যা তাদেরকে আগুনের সামনে উপস্থিত করা হয়।” (৪০-সূরা আল মু’মিন : আয়াত-৪৬)
২. কারূন সম্বন্ধে আল্লাহ্ বলেন- فَخَسَفْنَا بِهِ وَبِدَارِهِ الْأَرْضَ. “তাই আমি তাকে ও তার বাসস্থানকে মাটিতে প্রোথিত করে দিলাম।” (২৮-সূরা আল কাসাস : আয়াত-৮১)
৩. ওয়ালীদ ইবনে মুগীরাহ সম্বন্ধে আল্লাহ্ বলেন- سَأُرْهِقُهُ صَعُودًا. “আমি অচিরেই তাকে 'সাউদ' পাহাড়ে চড়াব।” (৭৪-সূরা আল মুদ্দাস্সির : আয়াত-১৭) 'সাউদ' হলো জাহান্নামের আগুনের মাঝে এক ঢালু ও কষ্টদায়ক পাহাড়।
৪. উমাইয়া ইবনে খালাফ সম্বন্ধে আল্লাহ্ বলেন- وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَজَةٍ “সম্মুখে ও পশ্চাতে নিন্দাকারীর প্রত্যেকের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ।” (১০৪-সূরা আল হুমাযাহ : আয়াত-১)
৫. আবু লাহাব সম্বন্ধে আল্লাহ্ বলেন- تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ. “আবু লাহাবের দু'হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক।” (১১১-সূরা আল লাহাব বা মাসাদ : আয়াত-১) (আবু লাহাব ছিল নবী করীম ﷺ-এর একজন চাচা)
৬. এবং আস ইবনে ওয়াইল সম্বন্ধে আল্লাহ্ বলেন- كَلَّا سَنَكْتُبُ مَا يَقُوْلُ وَنَمُدُّ لَهُ مِنَ الْعَذَابِ مَدًّا. “কখনও নয়! সে যা বলে তা আমি লিখে রাখব এবং (জাহান্নামে) আমি তার শাস্তিকে বাড়িয়ে দিব।” (১৯-সূরা মারইয়াম : আয়াত-৭৯)