📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ভুল পদ্ধতি

📄 ভুল পদ্ধতি


আমি সম্প্রতি দুটি বই পড়েছি। দুটিই সে সহজতা ও সরলতা হতে বঞ্চিত যা শরীয়ত আমাদের জন্য চায়। প্রথমটি হলো ইমাম গাজ্জালীর 'এহইয়াউ উলুমিদ্দীন'। তিনি এমন কিছু হাদীস জমায়েত করেছেন, যার অধিকাংশই দুর্বল। তিনি সেসব হাদীসের উপর ভিত্তি করে এমন কিছু নিয়ম-নীতি তৈরি করেছেন যেগুলোকে তিনি মানুষকে তার প্রভুর নিকটতর করার শ্রেষ্ঠ উপায় মনে করেছেন। এ পুস্তকে 'বুখারী' ও 'মুসলিম'-এর সাথে তুলনা করে আমি স্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ্য করেছি। প্রথম পুস্তকে বাড়াবাড়ি, কঠোরতা ও কৃত্রিমতা আছে। পক্ষান্তরে বুখারী ও মুসলিমে সরলতা ও মধ্যমপন্থা আছে। এর কারণ সম্ভবত এই যে, বুখারী ও মুসলিম আমাদের জন্য শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য হাদীসসমূহ বর্ণনা করেন। এ সকল কিতাবের তুলনা করে আমি নিম্নোক্ত আয়াতের অধিকতর গভীর অর্থ পেয়েছি। “ (হে মুহাম্মাদ ﷺ) আমি আপনার জন্য সহজ পথ ও আমলকে আরো সহজ করে দিব।” (৮৭-সূরা আল আ'লা : আয়াত-৮) দ্বিতীয় বইটি হলো আবু তালিব মক্কীর 'কুতুল কুলুব'। এতে তিনি পাঠককে এ জীবন পরিত্যাগ করতে, কাজ ত্যাগ করতে, এমনকি হালাল আনন্দ থেকে বিরত থাকতে এবং কঠোর আত্ম-সংযম ও কৃচ্ছতা সাধন করার চেষ্টা করতে উৎসাহ দেন। আবু হামীদ গাজ্জালী এবং আবু তালিব মক্কী দু'জন লেখকেরই ভালো উদ্দেশ্য ছিল। তবুও সমস্যা এ ছিল যে তারা হাদীসের জ্ঞান অপর্যাপ্ত ও দুর্বল ছিল। এ কারণে তাদের চিন্তাধারায় ভুল ঢুকে গেছে। তাদের ভুল থেকে আমাদের এ শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত যে, পথ প্রদর্শককে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। তার অবশ্যই এমন একটি নির্ভুল মানচিত্র থাকতে হবে, যা কারো গন্তব্যে পৌঁছার বিভিন্ন পথ প্রদর্শন করে। وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّানِيِّينَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنتُمْ تَدْرُسُونَ - “বরং তোমরা রাব্বানী (ইলাহের সাধক) হয়ে যাও; যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিচ্ছ এবং যেহেতু তোমরা (কিতাব) অধ্যয়ন করছ।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-৭৯) (রাব্বানী অর্থ হলো– ইলাহের সাধক বা রবের গুণে গুণান্বিত বা আল্লাহর জ্ঞানে জ্ঞানী অনুরাগী যে ব্যক্তি আমল করে এবং অন্যকে সে জ্ঞান শিক্ষা দেয়।)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব

📄 সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব


আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর চরিত্রের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল– পরিতুষ্টি, আশ্বাবাদ ও উদার হৃদয়। তিনি মানুষকে কঠোর আত্মসংযম ও কঠোর তপস্যাপূর্ণ করতে নিষেধ করতেন। কারণ; এগুলো মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। হতাশা ও ব্যর্থতা রাসূল ﷺ-এর অভিধানে ছিল না। রাসূল ﷺ এর মুখে সদা মুচকি হাসি ছিল এবং তাঁর অন্তর ছিল পরিতৃপ্ত। অধিকন্তু, রাসূল ﷺ-এর আদেশ মান্য করা সহজ ছিল। কারণ, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কষ্ট সহজ করা এবং মিথ্যার শিকলকে দূর করা, যা মানুষকে নত করে রাখে।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 কম থাক বা বেশি থাক কৃতজ্ঞ হতে শিখুন

📄 কম থাক বা বেশি থাক কৃতজ্ঞ হতে শিখুন


শীতল পানির জন্য যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, সে অট্টালিকা ও জমকালো গাড়ির জন্যও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হবে না। গরম রুটি (টাটকা খাবার) খেয়ে যে কৃতজ্ঞ হয় না সে হঠাৎ করে দামী খাবার খেয়েও কৃতজ্ঞ হবে না; কেননা, অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি কম ও বেশিকে একই রকম দেখে। আমাদের পূর্বে বহু লোকই আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, যদি আল্লাহ তাদেরকে নেয়ামত দান করেন, তবে এর বদলে তারা কৃতজ্ঞ হবে ও দান-খয়রাত করবে।

“আর তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, “যদি তিনি নিজ অনুগ্রহ থেকে আমাদেরকে কিছু দান করেন তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই সদকা দিব ও অতি অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হব।” যখন তিনি তাদেরকে নিজ অনুগ্রহ থেকে কিছু দান করলেন, তখন তারা সে বিষয়ে কার্পণ্য করল এবং বিরুদ্ধভাবে মুখ ফিরিয়ে নিল।” (৯-সূরা তাওবা: আয়াত-৭৫-৭৬)

প্রতিদিনেই আমরা এ ধরনের লোক দেখি, যারা মানসিকভাবে দুঃখিত, অন্তরসংশয়ী ও তাদের প্রতি ভক্তি-বিরক্ত আর তা এ কারণে যে, তিনি তাদেরকে আরো বেশি দান করেননি। তারা সুবস্থায় থাকা সত্ত্বেও এবং তাদের প্রতিদিনের পুষ্টিকর খাবার সত্ত্বেও তারা এ রকমটা ভাবে। তাদের যে সব মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিস আছে তার সবটা উপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তারা এসব জিনিসের জন্য কৃতজ্ঞও নয় এবং তাদের যে অবসর সময় আছে তার জন্যও কৃতজ্ঞ নয়। যদি তাদেরকে প্রাসাদ বা অট্টালিকা দান করা হতো তাহলে কি ঘটনা ঘটত! আসলে তাদের প্রচুর প্রশ্ন এমনকি আরো বেশি বিজাতীয় মনোভাব হয়ে যেত এবং তারা আরো বেশি ঔদ্ধত্য ও অবজ্ঞা প্রকাশ করত। যে খালি পায়ে হাঁটে সে বলে, “আমার প্রভুর প্রতি আমি তখন কৃতজ্ঞ হব, যখন তিনি আমাকে জুতো দিয়ে ধন্য করবেন।” অথচ জুতাওয়ালা একটি দামী গাড়ি পাওয়া পর্যন্ত তার কৃতজ্ঞতা বিলীন হয়ে থাকে। আমরা কল্যাণকে নগদে গ্রহণ করি আর বাকিটা কৃতজ্ঞ হই না। আল্লাহ্র কাছ থেকে আমাদের আশা অশেষ। অথচ তাঁর আদেশ পালনে আমরা ধীর ও অলস।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 তিনটি সাইন বোর্ড

📄 তিনটি সাইন বোর্ড


এক জন ব্যক্তি তার অফিসে তিনটি সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে তা তিনি প্রতিদিন পড়তেন।

প্রথমটিতে লেখা ছিল, “আপনার আজকের দিন, আপনার আজকের দিন।” অর্থাৎ কাজ করে এবং প্রচেষ্টা করে আজকের সীমার মধ্যে এই জীবন যাপন করুন (এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা পুস্তকের প্রথম দিকে আছে। -অনুবাদক)

দ্বিতীয়টিতে লেখা ছিল, “ভাবুন ও কৃতজ্ঞ হোন।” অর্থাৎ আপনার উপর আল্লাহর করুণার কথা ভাবুন ও পরে কৃতজ্ঞ হোন।

আর তৃতীয়টিতে লেখা ছিল “রাগাম্বিত হবেন না।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px