📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অন্তরের সৌন্দর্যে বিশ্বজগতের সৌন্দর্য উপলব্ধি

📄 অন্তরের সৌন্দর্যে বিশ্বজগতের সৌন্দর্য উপলব্ধি


সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টিতে সুখী হতে হলে জীবনে সৌন্দর্য ও জাঁকজমক উপভোগ করা উচিত। এই আমোদ-প্রমোদ কেবলমাত্র ইসলাম প্রদত্ত (ইসলামের) সীমানা দ্বারাই সীমাবদ্ধ। আল্লাহ আমাদের জন্য সুন্দর সুন্দর জান্নাতও এজন্য সৃষ্টি করেছেন যে, তিনি নিজেই সুন্দর ও সুন্দরকে ভালবাসেন আর তাঁর নির্দেশনাগুলি নিয়ে যাতে আমরা গবেষণা করি এজন্য চমৎকার সৃষ্টির মাঝে তাঁর নির্দেশনাগুলি রয়েছে।

“পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার সব কিছু তিনিই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন।” (২-সূরা বাকারা: আয়াত-২৯)

সুতরাং, সুস্বাদু খাবার ও বিস্ময়কর দৃশ্য-এসব কিছু অন্তরে চপলতা, হাসি খুশিতা ও সুখ বয়ে আনে।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
حُبِّبَ إِلَيَّ مِنْ دُنْيَاكُمْ ثَلَاثٌ: الطِّيبُ وَالنِّসَاءُ، وَجُعِلَتْ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ.
ভাবার্থ: “তোমাদের দুনিয়া থেকে আমার নিকট সুগন্ধি ও নারীদেরকে প্রিয় করে দেয়া হয়েছে আর সালাতে আমার চোখের শান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।”

চরম ও কঠোর আত্ম-সংযম কারো জীবনের চমৎকারিত্বকে নষ্ট ও বিরক্ত করে দেয়। তারা কষ্টের জীবন যাপন করে, তারা ইচ্ছা করেই চরম দরিদ্র জীবন-যাপন করে এবং তারা তাদের দেহকে প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
لَكِنِّي أَصُومُ وَأُفْطِرُ وَأَقُومُ وَأَرْجُعُ وَأَتَزَوَّجُ النِّসَاءُ وَآكُلُ اللَّহْمَ. فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي.
ভাবার্থ: “কিন্তু আমি কখনও রোযা রাখি আবার কখনও রোযা ভেঙে ফেলি, কখনও আমি রাত জেগে সালাত আদায় করি আবার কখনও বিশ্রাম করি, আমি নারীদেরকে বিবাহ করি এবং গোশতও খাই; অতএব, যে ব্যক্তি আমার রীতি-নীতিকে অপছন্দ করে (বা আমার তরীক্কা থেকে সরে যাবে) সে আমার দলভুক্ত নয়।”

কিন্তু কিছু সম্প্রদায়ের অনুসারীরা এমন কিছু কাজ করে রেখেছে যা দেখতে অদ্ভুত ও বিতর্কিত; কেউ সুস্বাদু খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকবে; অন্যেরা হাসি ছেড়ে দিয়েছে এবং অন্যান্য এমনও লোকজন রয়েছে, যারা নিজেদেরকে টাটকা পানি পান করা থেকেও বিরত রেখেছে। তারা মনে করে যে এসব কাজ নিজেদেরকে শাসন করার জন্য। অথচ আসলে তারা নিজেদেরকে অত্যাচার করার ও নিজের আত্মার উজ্জ্বলতাকে নিভিয়ে ফেলার কাজ করছে।

আপনি বলে দিন, ‘আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছেন, তাকে এবং হালাল ও পবিত্র খাদ্যকে কে হারাম করেছে?’ (৭-সুরা আল আ'রাফ: আয়াত-৩২)

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মধু খেতেন অথচ তিনি সর্বাপেক্ষা ধার্মিক মানুষ ছিলেন। কারণ আল্লাহ্ মানুষকে খাওয়ার জন্য মধু সৃষ্টি করেছেন।

“তাদের (মৌমাছিদের) পেট থেকে নানা রঙ্গের (মধুর) পানীয় বের হয়, তাতে মানবজাতির জন্য আরোগ্য রয়েছে।” (১৬-সুরা আন নাহল: আয়াত-৬৯)

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন কুমারীকে বিয়ে করেছিলেন এবং তিনি এমন নারীদেরকেও বিয়ে করেছিলেন, যারা বিধবা অথবা তালাকপ্রাপ্তা ছিল।

“অতএব তোমরা তোমাদের পছন্দসই নারীদের থেকে দুইটি, তিনটি অথবা চারটি (করে) বিয়ে কর।” (৪-সুরা আন নিসা: আয়াত-৩)

তিনি ধর্মীয় আনন্দসমূহে এবং অন্যান্য বিশেষ সময়ে উত্তম পোশাক পরিধান করতেন।

خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ
“প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা তোমাদের সুন্দর সুন্দর পোশাক পরিধান করো।” (৭-সুরা আল আ'রাফ: আয়াত-৩১)

যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য, যিনি সত্য ধর্মসহ প্রেরিত হয়েছেন, তিনি দেহ-মন উভয়কেই তৃপ্ত করেছেন।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 দুঃখ-কষ্টের পরেই আরাম-আয়েশ

📄 দুঃখ-কষ্টের পরেই আরাম-আয়েশ


দুঃখ-কষ্ট যতই কঠিন ও সুদূরপ্রসারী হোক না কেন তা কখনই চিরস্থায়ী হয় না, বরং কারো পরিস্থিতি যতই জটিল-কঠিন হয় তবে তা সহজসাধ্য হওয়া ও আরাম-আয়েশের নিকটবর্তী হয়। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য নেমে আসে। প্রতিটি অন্ধকার রাত্রির শেষ কি আলোকিত সকাল নয়?

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ভুল পদ্ধতি

📄 ভুল পদ্ধতি


আমি সম্প্রতি দুটি বই পড়েছি। দুটিই সে সহজতা ও সরলতা হতে বঞ্চিত যা শরীয়ত আমাদের জন্য চায়। প্রথমটি হলো ইমাম গাজ্জালীর 'এহইয়াউ উলুমিদ্দীন'। তিনি এমন কিছু হাদীস জমায়েত করেছেন, যার অধিকাংশই দুর্বল। তিনি সেসব হাদীসের উপর ভিত্তি করে এমন কিছু নিয়ম-নীতি তৈরি করেছেন যেগুলোকে তিনি মানুষকে তার প্রভুর নিকটতর করার শ্রেষ্ঠ উপায় মনে করেছেন। এ পুস্তকে 'বুখারী' ও 'মুসলিম'-এর সাথে তুলনা করে আমি স্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ্য করেছি। প্রথম পুস্তকে বাড়াবাড়ি, কঠোরতা ও কৃত্রিমতা আছে। পক্ষান্তরে বুখারী ও মুসলিমে সরলতা ও মধ্যমপন্থা আছে। এর কারণ সম্ভবত এই যে, বুখারী ও মুসলিম আমাদের জন্য শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য হাদীসসমূহ বর্ণনা করেন। এ সকল কিতাবের তুলনা করে আমি নিম্নোক্ত আয়াতের অধিকতর গভীর অর্থ পেয়েছি। “ (হে মুহাম্মাদ ﷺ) আমি আপনার জন্য সহজ পথ ও আমলকে আরো সহজ করে দিব।” (৮৭-সূরা আল আ'লা : আয়াত-৮) দ্বিতীয় বইটি হলো আবু তালিব মক্কীর 'কুতুল কুলুব'। এতে তিনি পাঠককে এ জীবন পরিত্যাগ করতে, কাজ ত্যাগ করতে, এমনকি হালাল আনন্দ থেকে বিরত থাকতে এবং কঠোর আত্ম-সংযম ও কৃচ্ছতা সাধন করার চেষ্টা করতে উৎসাহ দেন। আবু হামীদ গাজ্জালী এবং আবু তালিব মক্কী দু'জন লেখকেরই ভালো উদ্দেশ্য ছিল। তবুও সমস্যা এ ছিল যে তারা হাদীসের জ্ঞান অপর্যাপ্ত ও দুর্বল ছিল। এ কারণে তাদের চিন্তাধারায় ভুল ঢুকে গেছে। তাদের ভুল থেকে আমাদের এ শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত যে, পথ প্রদর্শককে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। তার অবশ্যই এমন একটি নির্ভুল মানচিত্র থাকতে হবে, যা কারো গন্তব্যে পৌঁছার বিভিন্ন পথ প্রদর্শন করে। وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّানِيِّينَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنتُمْ تَدْرُسُونَ - “বরং তোমরা রাব্বানী (ইলাহের সাধক) হয়ে যাও; যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিচ্ছ এবং যেহেতু তোমরা (কিতাব) অধ্যয়ন করছ।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-৭৯) (রাব্বানী অর্থ হলো– ইলাহের সাধক বা রবের গুণে গুণান্বিত বা আল্লাহর জ্ঞানে জ্ঞানী অনুরাগী যে ব্যক্তি আমল করে এবং অন্যকে সে জ্ঞান শিক্ষা দেয়।)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব

📄 সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব


আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর চরিত্রের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল– পরিতুষ্টি, আশ্বাবাদ ও উদার হৃদয়। তিনি মানুষকে কঠোর আত্মসংযম ও কঠোর তপস্যাপূর্ণ করতে নিষেধ করতেন। কারণ; এগুলো মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। হতাশা ও ব্যর্থতা রাসূল ﷺ-এর অভিধানে ছিল না। রাসূল ﷺ এর মুখে সদা মুচকি হাসি ছিল এবং তাঁর অন্তর ছিল পরিতৃপ্ত। অধিকন্তু, রাসূল ﷺ-এর আদেশ মান্য করা সহজ ছিল। কারণ, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কষ্ট সহজ করা এবং মিথ্যার শিকলকে দূর করা, যা মানুষকে নত করে রাখে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px