📄 তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠর এমনই
وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَىٰ وَهِيَ ظَالِمَةٌ ۚ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ.
“যে সব শহরের অধিবাসীগণ জালিম আল্লাহ্ যখন সে সব শহরকে পাকড়াও করেন তখন তোমার প্রভুর পাকড়াও এমনই হয়।” (১১-সূরা হুদ: আয়াত-১০২)
বিভিন্ন কারণ মানুষ হতাশ ও হতভাগ্য হতে পারে; নিম্নে তার কিছু কারণ উল্লেখ করা হলো- অন্যের সাথে অন্যায় আচরণ করা, অন্যের অধিকারকে জবর দখল করা এবং মানব জাতির নরম প্রকৃতির লোকদেরকে আঘাত দেয়া। কোন একজন বিজ্ঞ লোক বললেন- “(তোমরা অত্যাচারীর) বিরুদ্ধে আল্লাহ ছাড়া যার কোন সাহায্যকারী নেই তাকে ভয় কর।”
অত্যাচারীদের প্রচুর ভীতিকর উদাহরণসহ সম্মিলিত ইতিহাস আমাদের নিকট আছে। ইবনে তোফায়েল নবী করীম ﷺ-কে অপমান করার ষড়যন্ত্র করেছিল তাই নবী করীম ﷺ তাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। ফলে আমের গ্রন্ত্রি রোগে আক্রান্ত হয়ে যন্ত্রণায় কাতর হয়ে এক ঘণ্টা পরে মারা যায়। আরবাব ইবনে কাসেরের একই রকম চক্রান্ত করার দুর্ভাগ্য হয়েছিল। আর নবী করীম ﷺ তার বিরুদ্ধে বদ দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ্ বজ্রপাত ঘটিয়ে তাকে ও তার বাহন উটকে জ্বালিয়ে দিয়েছেন。
হাজ্জাজ সাঈদ ইবনে জুবাইরকে (রা)-কে হত্যা করার কিছু আগে সাঈদ ইবনে জুবাইর প্রার্থনা করে বলেছিলেন, "হে আল্লাহ! আমার পরে তাকে আর কারো (সাথে অত্যাচার করার) ক্ষমতা দিওনা।” হাজ্জাজের এক হাতে একটি ফোড়া হয়েছিল, পরে তা দ্রুত তার সারা গায়ে ছড়িয়ে গেল। তার এত ব্যথা হলো যে সে কুকুরের মতো ডাকতে লাগল। অবশেষে করুণা উদ্রেককর অবস্থায় মারা গেল।
আবু জা'ফর মনসুরের সময় সুফিয়ান সাওরী (রহ) কিছুকাল আত্ম গোপন করেন। আবু জা'ফর মক্কায় কা'বার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় সুফিয়ান (রা) কাবার চত্বরে ছিলেন এবং তিনি আল্লাহ্র নিকট মরিয়া হয়ে আকুল আবেদন করেছিলেন যাতে আল্লাহ্র ঘরে আল্লাহ্ আবু জা'ফরকে প্রবেশ করতে না দেন। মক্কার বর্হিসীমায় পৌঁছার আগেই আবু জা'ফর মারা যায়।
ক্বাজী আহমদ ইবনে আবু দাউদ মু'আফফীরী ইমাম আহমদ (র)-কে কষ্ট দিয়েছিল। ইমাম আহমদ (র) তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন, তাই আল্লাহ ইবনে আবু দাউদের অর্ধাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দিলেন। তাকে বলতে শুনা গেছে “আমার শরীরের পক্ষাঘাতগ্রস্ত অংশে যদি একটি মাছি উড়ে এসে বসে তবে আমার মনে হয় কেয়ামত শুরু হয়ে গেছে। আর বাকি পক্ষাঘাতগ্রস্ত অংশকে কাঁচি দিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হলেও আমি কোন কিছু অনুভব করতে পারব না।”
আলী ইবনে ইয়াহইয়াও ইমাম আহমদ ইবনে হান্বল (র)-কে অত্যাচার করেছে। তাই ইমাম আহমদ (র) তাকেও বদদোয়া (অভিশাপ) দিলেন। কিছু সময় যেতে না যেতেই সে অত্যাচারী মারা যায়।
জামাল আল নাসিরের শাসনামলে বহু মুসলমানকে জেলে রেখে অত্যাচার করা হয়। এক কর্মকর্তা চিৎকার দিয়ে বলত, "কোথায় তোমাদের খোদা? পেলে আমি তাকেও জেলখানায় ভরতাম!" অত্যাচারীর এ কথা থেকে আল্লাহ তাআলা বহু দূরে। একদা সে কায়রো থেকে আলেকজেন্দ্রিয়াতে যাওয়ার সময় একটি লোহা (রড)বাহী ট্রাক তার জীপকে দুমড়ে মুচড়ে দেয়। আর একটি রড তার মাথায় ঢুকে নাড়িভুঁড়ি পর্যন্ত চলে যায়। উদ্ধারকর্মীরা তাকে টুকরো টুকরো করে তার গাড়ি থেকে বের করতে বাধ্য হয়।
وَاسْتَكْبَرَ هُوَ وَجُنُودُهُ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ إِلَيْنَا لَا يُرْجَعُونَ.
“সে ও তার সেনাবাহিনী অন্যায়ভাবে জমিনের বুকে অহংকার করত এবং তারা ভেবেছিল যে, তাদেরকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে আনা হবে না।” (২৮-সূরা আল কাহাফ: আয়াত-৩৯)
“এবং তারা বলত, আমাদের থেকে কে বেশি শক্তিশালী আছে? তারা কি দেখেনি যে, তাদেরকে যে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী?” (৪১-সূরা হা-মীম-আস-সাজদাহ: আয়াত-১৫)
জমিনে কুফুর ও অত্যাচারের জন্য প্রসিদ্ধ আবুল নাসিরের সেনাপতি সালাহ্ নসরের ঘটনাও একই রকম। সে দশটি বেদনাদায়ক ও চিরস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হয়। সে বহু বৎসর দূর্দশায় বেঁচেছিল কিন্তু ডাক্তাররা তাকে আরোগ্য করতে পারেনি। অবশেষে সে সে সব দেবতাদের কাছে মাথা নত করত তাদের জেলখানাতে বন্দী হয়েই সে অপমানিত হয়ে মারা যায়।
“যারা দেশে দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল। সেখানে তারা অনেক ফেতনা-ফাসাদ (বিশৃঙ্খলতা-গন্ডগোল) করেছিল। অতএব, তোমার প্রভু তাদের উপর শাস্তির কষাঘাত হানলেন।” (৮৯-সূরা আল ফাজর: আয়াত-১০-১৩)
নবী করীম ﷺ বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ لَيُمْلِي لِلظَّالِمِ حَتَّى إِذَا أَخَذَهُ لَمْ يُفْلِتْهُ.
“নিশ্চয় আল্লাহ জালেমকে কিছু সময় দেন। অবশেষে যখন তিনি তাকে পাকড়াও করেন, তখন তিনি তাকে পালাতে দেন না।”
রাসূলাল্লাহ ﷺ আরও বলেছেন-
وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ.
“অত্যাচারিতের দোয়াকে ভয় কর। কেননা, এ দোয়ার মাঝে ও আল্লাহ্র মাঝে কোন পর্দা নেই।”
📄 ভালো বন্ধু থাকার গুরুত্ব
মনযোগ দেয়ার মতো, আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করে নেয়ার মতো এবং ভালোবাসা বিনিময় করার মতো একজন সাহায্যকারী ও প্রিয় ভাই থাকা প্রত্যেক মুসলমানের প্রয়োজন।
وَاجْعَل لِّي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هَارُونَ أَخِي اشْدُদْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَনُذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنتَ بِنَا بَصِيرًا.
“এবং আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নিয়োগ দিন। আমার ভাই হারুনকে (নিয়োগ দিন)। তার দ্বারা আমার শক্তি বৃদ্ধি করুন এবং তাকে আমার কাজে শরীক করুন যাতে আমি বেশি করে আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি এবং বেশি করে আপনার জিকির করতে পারি।” (২০-সূরা ত্বাহা: আয়াত-২৯-৩৪)
"তারা একে অপরের বন্ধু (রক্ষাকারী, সাহায্যকারী)" (৫-সুরা মায়িদাহ: আয়াত-৫৫)
"যারা আল্লাহর পথে সুদৃঢ় প্রাচীরের মতো সারিবদ্ধভাবে জিহাদ করেন, আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন।" (৬১-সুরা আস সাফ্ফ: আয়াত-৪)
"এবং তিনি তাদের অন্তরের মাঝে প্রীতি স্থাপন করেছেন।" (৮-সুরা আনফাল: আয়াত-৬৩)
"মুমিনরা তো শুধুমাত্র ভাই ভাই।" (৪৯-সুরা হুজুরাত: আয়াত-১০)
আমাদের আলোচ্য বিষয়টি এ পুস্তকের বিষয়বস্তুর সাথে যথাযথ হয়েছে কেননা, একজন ভালো ও যোগ্য বন্ধু মনে আনন্দ বয়ে আনে।
নবী করীম ﷺ বলেছেন যে, আল্লাহ বলেছেন- "আমার মর্যাদার (ভালোবাসার) কারণে যারা একে অপরকে ভালোবাসতো তারা কোথায়? আজকের দিন- যেদিন আমার আরশের ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া নেই- আমি তাদেরকে আমার আরশের ছায়ায় স্থান দিয়ে ছায়া দিব।"
📄 ইসলামে নিরাপত্তা অবধারিত
"তাদেরই জন্য রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত।" (৬-সুরা আন'আম: আয়াত-৮২)
"যিনি তাদের ক্ষুধার সময় খাবার খাইয়েছেন এবং তাদেরকে ভয় থেকে নিরাপদ করেছেন।" (১০৬-সুরা কুরাইশ: আয়াত-৪)
"আমি কি তাদের জন্য একটি নিরাপদ পবিত্র আশ্রয়স্থল প্রতিষ্ঠিত করিনি?" (২৮-সুরা আল কাসাস: আয়াত-৫৭)
"আর যে কেউ এতে প্রবেশ করে সে নিরাপদ।" (৩-সুরা আলে ইমরান: আয়াত-৯৭)
"অতএব, তাকে তার নিরাপত্তাস্থানে বা তাকে তার নিরাপত্তায় পৌছিয়ে দাও।" (৯-সুরা তওবা: আয়াত-৬)
নবী করীম ﷺ বলেছেন-
ভাবার্থ : "যে ব্যক্তি সুদৃঢ় চিত্তে শরীরে ও দিবসের খাবার নিয়ে (যোগাড় করে বা খেয়ে) রাত কাটায় (ঘুমায়) সে যেন গোটা দুনিয়ার মালিক হলো।"
আল্লাহর নিরাপত্তা হলো ঈমান ও সত্যকে নিঃসন্দিগ্ধভাবে জানা। ঘরের নিরাপত্তা হলো লজ্জা ও বেহায়ামি হতে মুক্ত হওয়া এবং শান্তি ও সঠিক পথ নির্দেশক (এলাহী হেদায়েত) দ্বারা ভরপুর হওয়া।
আমাদের জাতির নিরাপত্তা হলো ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, ন্যায়ের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ও শরীয়তের বাস্তবায়ন (আইন প্রয়োগ)। নিরাপত্তার শত্রু হলো ভয়।
"অতএব, সে ভয়ে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে সেখান থেকে পালিয়ে গেল।" (২৮-সুরা আল কাসাস: আয়াত-২১)
"সুতরাং তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় কর।" (৫-সুরা মায়িদা: আয়াত-৩)
উপরে যে সব ধরনের নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে তার ভিত্তিতে ভীতদের জন্য বা কাফেরদের জন্য কোন নিরাপত্তা নেই। আল্লাহর কাছে এই পার্থিব জীবন কতই না করুণা উদ্রেককর। যদি আপনি আপনার জীবনের এক দিকে (বিষয়ে) সমৃদ্ধ হন তবে আপনি নিশ্চিত অন্য দিকে (বিষয়ে) শোচনীয়। যদি একদিকে সম্পদ আসে তবে আরেক দিকে অসুখ আসে। যদি আপনার শরীর সুস্থ থাকে তবে অন্য কোন সমস্যা দেখা দিবে। আর যখন সব কিছু ভালোভাবে চলবে মনে হয় এবং আপনি চূড়ান্তভাবে স্থির বোধ করেন তখন তো আপনি শবাধারে রক্ষিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত।
নজদের আল 'আশা নামক কবি নবী করীম ﷺ-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তাঁকে কবিতা আবৃত্তি করে শুনাতে ও ইসলাম গ্রহণ করতে। আবু সুফিয়ান (তিনি তখনও মুসলমান হননি) পথে কবির সাথে সাক্ষাত করে তাকে তাঁর উদ্দেশ্য থেকে ফিরাতে ও তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য ১০০ (একশত) উট উপহার দেয়ার প্রস্তাব করল। কবি উপহার গ্রহণ করল। যাত্রা ফেরানোর (ফিরে যাওয়ার) জন্য সে যখন একটি উটে চড়ে বসল, আর অমনি সেটা ক্ষেপে গিয়ে তাকে ছুঁড়ে মারল, এতে সে মাথা ভূমিতে রেখে পড়ে গেল এবং আঘাতের ফলে তার ঘাড় মটকে গিয়ে সে মরে গেল। সে দ্বীন-দুনিয়া কোনটা অর্জন না করেই এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে গেল।
📄 ক্ষণস্থায়ী মর্যাদা
সুখ যদি সত্যিকার হয় তবে এটা অবশ্যই (উপস্থিতির দিক থেকে) স্থায়ী এবং (আকারের) পূর্ণ। সদা বিরাজমান বলতে আমি বুঝাতে চাই যে, এটা কখনও দুশ্চিন্তা দ্বারা বিঘ্নিত হওয়া উচিত নয়। আর এটা দুনিয়া আখেরাত উভয়ের জন্য বিদ্যমান থাকা উচিত। যখন এটা সমস্যা ও দুশ্চিন্তা দ্বারা নষ্ট হয়ে না যায় বা কমে না যায় তখন এর পূর্ণতা বুঝা যায়।
ইরাকের এক সময়ের রাজা নু'মান ইবনুল মুনজির এক সময় মদপান করার জন্য একটি গাছের নিচে বসেছিল। তিনি আদী ইবনে যায়েদকে এসে তাকে উপদেশ দেয়ার জন্য ডাকলেন। আদী বলল, "হে বাদশা! আপনি কি জানেন এ গাছ কী বলে?" রাজা বলল, "না, এটা কী বলে?" আদী উত্তর দিলেন (এটা বলে)-
فَإِذَا رَكِبَ فَقَدْ أَخَذُوْا حَوْلَهُ * يَمْزُجُوْنَ الْخَمْرَ بِالْمَاءِ الزُّلَالِ * ثُمَّ سَارُوْا لِعَيْبِ الدَّهْرِ مِلْكِهِ * وَكَذَاكَ الدَّهْرُ لَا يَعْبَثُ بِمَالِ
ভাবার্থ : "আমার আশেপাশে কত লোকইনা আরাম তালাশ করল, বিশুদ্ধ পানির সাথে মদ মিশিয়ে পান করার জন্য। অতএব তাদের অবস্থা এমন শোচনীয় হয়ে গেল যে, যুগ তাদের সাথে খেলা করতে লাগল (তারা কালের চক্করে পড়ল)। আর যুগ তো এমনই যে, এটা সদা এই অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হয়ে যায়।"
রাজার নিকট যে পরিপক্ব কথা বর্ণনা হয়েছিল তা শুনে সে তিক্ত-বিরক্ত হয়ে গেল এবং সে মদপান ছেড়ে দিল ও মৃত্যু পর্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় ছিল।
ইরানের শাহ যখন পারস্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ২৫০০ (দু'হাজার পাঁচশত) বছর উদযাপন করল, তখন সে তার রাজত্বের বাইরের অঞ্চলে তার ক্ষমতা বিস্তারের পরিকল্পনা করল। তখন অনতিবিলম্বেই সে ক্ষমতাচ্যুত হলো।
تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ
"যাকে ইচ্ছা আপনি রাজ্য দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা তার থেকে রাজ্য কেড়ে নেন।" (৩-সুরা আলে ইমরান: আয়াত-২৬)
তার প্রাসাদ ও তার দুনিয়া থেকে তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয় এবং সে বহু দূর দেশে নির্বাসিত ও নিঃস্ব অবস্থায় মারা যায়। কেউ তার জন্য চোখের পানিও ফেলেনি।
كَمْ تَرَكُوْا مِنْ جَنّٰتٍ وَّ عُيُوْنٍ * وَّ زُرُوْعٍ وَّ مَقَامٍ كَرِيْمٍ * وَّ نِعْمَةٍ كَانُوْا فِيْهَا فٰكِهِيْنَ
"কতইনা বাগ-বাগিচা, ঝর্ণাধারা, সবুজ-শ্যামল ফসলের মাঠ, সুন্দর-সুন্দর স্থান (সুমহান প্রাসাদসমূহ) ও ভোগ-বিলাস তারা ফেলে গেছে যেগুলোতে তারা আনন্দ-স্ফুর্তি করত।" (৪৪-সুরা আদ দুখান: আয়াত-২৫-২৭)
রুমানিয়ার প্রাক্তন রাজা চাউচেস্কুও একই ঘটনা। সে বাইশ বছর শাসন করেছিল এবং তার সভার হাজার হাজার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছিল। কিন্তু অবশেষে তার নিজের লোকেরাই তার প্রাসাদকে ঘিরে ফেলে। তারা তার দেহ থেকে একটি একটি করে অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
فَمَا كَانَ لَهُ مِنْ فِئَةٍ يَنْصُرُوْنَهُ مِنْ دُوْنِ اللَّهِ وَمَا كَانَ مِنَ الْمُنْتَصِرِيْنَ
"তখন আল্লাহর বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করার জন্য তার কোন দল ছিল না এবং সে নিজেও নিজেকে সাহায্য করার মতো ছিল না।" (১৮-সুরা আল কাহাফ: আয়াত-৪৩)
এভাবে সে মারা গেল কিন্তু তার সাথে কোন পার্থিব সম্পদ নিতে পারল না এবং আখেরাতের সাফল্যের কোন আশাও তার থাকল না।
আরেকটি উদাহরণ হলো ফিলিপাইনের প্রাক্তন নেতা মার্কোস। সে জনগণের উপর দুঃখ-দুর্দশা চাপিয়ে নিজের জন্য সম্পদ ও ক্ষমতা অর্জন করেছে। যখন তাকে তার দেশ, পরিবার ও ক্ষমতা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছিল, তখন আল্লাহ তাকে একই রকম দুঃখ-কষ্টে ডুবিয়েছিলেন। আশ্রয়হীন অবস্থায় সে লজ্জাজনকভাবে মারা যায়; এমনকি তার নিজের লোকেরাও তাকে ফিলিপাইনে দাফন করতে দেয়নি।
أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِيْ تَضْلِيْلٍ
"তিনি কি তাদের চক্রান্তকে নস্যাৎ করে দেননি?" (১০৫-সুরা আল ফীল: আয়াত-২)
"সুতরাং আল্লাহ তাকে তার প্রথম কথার ও শেষ কথার শাস্তি দিলেন।" (৭৯-সুরা আন না'জিয়া'ত: আয়াত-২৫)
তার শেষ কথা ছিল-
"আমি তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিপালক।" (৭৯-সুরা আন না'জিয়া'ত: আয়াত-২৪)
তার প্রথম কথা ছিল: "হে নেতৃবর্গ, আমি ছাড়া তোমাদের কোন উপাস্য আছে বলে আমার জানা নেই।" (২৮-সুরা আল কাসাস: আয়াত-৩৮)
“অতএব, আমি তাদের প্রত্যেককেই তার পাপের কারণে পাকড়াও করেছিলাম (শাস্তি দিয়েছিলাম)।” (২৯-সুরা আল আনকাবুত: আয়াত-৪০)