📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ভালো কথা তাঁর নিকটই উত্থিত হয়

📄 ভালো কথা তাঁর নিকটই উত্থিত হয়


আল্লাহর রাসূল ﷺ তাঁর সাহাবীদেরকে এমন কিছু সুন্দর সুন্দর দোয়া (প্রার্থনা ও মুনাজাত) শিক্ষা দিয়েছেন, যা আকারে ছোট, কিন্তু তাদের অন্তর্নিহিত অর্থ সুদূরপ্রসারী।

আবু বকর (রা) তাঁকে একটি দোয়া শিখিয়ে দেওয়ার জন্য নবী করীম ﷺ-এর নিকট আবেদন করলেন এবং নবী করীম ﷺ বললেন-
رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ.
“হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয় আমি আমার প্রতি অনেক জুলুম করেছি, আর আপনি ছাড়া কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না; সুতরাং আমাকে আপনার পক্ষ থেকে ক্ষমা করে দিন এবং আপনি আমাকে দয়া করুন; কেননা নিশ্চয় আপনি অতি ক্ষমাশীল পরম করুণাময়।”

নবী করীম ﷺ আব্বাস (রা)-কে বললেন-
اِسْأَلِ اللَّهَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ.
“আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও সুস্থতা প্রার্থনা করুন।”

রাসূলাল্লাহ ﷺ আলী (রা)-কে বলেছেন- "বলুন,
اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدْنِي.
“হে আল্লাহ! আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।”

রাসূলাল্লাহ ﷺ উবাইদ ইবন হুরাইজ (রা)-কে বলেছেন- "বল,
اللَّهُمَّ الْهِمْنِي رُشْدِي وَقِنِي شَرَّ نَفْسِي.
“হে আল্লাহ! আমাকে সঠিক পথের দিকে চালিত করুন এবং আমাকে আমার নিজের (আত্মার) ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন।”

তিনি ﷺ শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা)-কে বলতে বলেছেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الثَّبَاتَ فِي الأَمْرِ وَالْعَزِيمَةَ عَلَى الرُّشْدِ وَشُكْرَ نِعْمَتِكَ وَحُسْنَ عِبَادَتِكَ وَأَسْأَلُكَ قَلْبًا سَلِيمًا وَلِسَانًا صَادِقًا وَأَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا تَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تَعْلَمُ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ.
ভাবার্থ : “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট (দ্বীনি) কাজে একনিষ্ঠতা চাই। সঠিক পথে থাকার স্থির সংকল্প, দৃঢ়তা ও অটলতা চাই। আপনার নেয়ামতের শোকরিয়া আদায় করার তওফীক ও আপনার ইবাদত উত্তমরূপে করার তওফীক চাই। আপনার নিকট প্রশান্ত চিত্ত ও সত্য কথা বলার জিহ্বা চাই। আপনার অবগত সকল ভালো বিষয় আপনার নিকট চাই। আপনার জানা সকল মন্দ বিষয় হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাই। আপনার জানা আমার সকল পাপ থেকে আপনার নিকট ক্ষমা চাই। কেননা, আপনি অবশ্যই সকল অজানা (গায়েবি) বিষয় অবগত আছেন।”

উপরোক্ত দোয়াতে যেসব বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ধারণার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে তা হলো- পরকালের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি ও করুণা আল্লাহর নিকট আমাদের চাওয়া উচিত। আল্লাহ্র ক্রোধ ও শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহ্র নিকট আমাদের আন্তরিক চাওয়া উচিত এবং তাঁর ইবাদত ও তাঁর শোকরিয়া আদায় করার জন্য তাঁর নিকট আমাদের তাওফীক চাওয়া উচিত। এসব ধারণার একটি সর্বসম্মত বা সাধারণ কারণ আছে। তা হলো- আল্লাহ্র নিকট যা আছে তা আমাদের চাওয়া উচিত আর এ পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা থেকে আমাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া উচিত অর্থাৎ স্বভাবতই বিলীয়মান পার্থিব জিনিসপত্রের প্রতি আমাদের লোভ করা উচিত নয়।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠর এমনই

📄 তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠর এমনই


وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَىٰ وَهِيَ ظَالِمَةٌ ۚ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ.
“যে সব শহরের অধিবাসীগণ জালিম আল্লাহ্ যখন সে সব শহরকে পাকড়াও করেন তখন তোমার প্রভুর পাকড়াও এমনই হয়।” (১১-সূরা হুদ: আয়াত-১০২)

বিভিন্ন কারণ মানুষ হতাশ ও হতভাগ্য হতে পারে; নিম্নে তার কিছু কারণ উল্লেখ করা হলো- অন্যের সাথে অন্যায় আচরণ করা, অন্যের অধিকারকে জবর দখল করা এবং মানব জাতির নরম প্রকৃতির লোকদেরকে আঘাত দেয়া। কোন একজন বিজ্ঞ লোক বললেন- “(তোমরা অত্যাচারীর) বিরুদ্ধে আল্লাহ ছাড়া যার কোন সাহায্যকারী নেই তাকে ভয় কর।”

অত্যাচারীদের প্রচুর ভীতিকর উদাহরণসহ সম্মিলিত ইতিহাস আমাদের নিকট আছে। ইবনে তোফায়েল নবী করীম ﷺ-কে অপমান করার ষড়যন্ত্র করেছিল তাই নবী করীম ﷺ তাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। ফলে আমের গ্রন্ত্রি রোগে আক্রান্ত হয়ে যন্ত্রণায় কাতর হয়ে এক ঘণ্টা পরে মারা যায়। আরবাব ইবনে কাসেরের একই রকম চক্রান্ত করার দুর্ভাগ্য হয়েছিল। আর নবী করীম ﷺ তার বিরুদ্ধে বদ দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ্ বজ্রপাত ঘটিয়ে তাকে ও তার বাহন উটকে জ্বালিয়ে দিয়েছেন。

হাজ্জাজ সাঈদ ইবনে জুবাইরকে (রা)-কে হত্যা করার কিছু আগে সাঈদ ইবনে জুবাইর প্রার্থনা করে বলেছিলেন, "হে আল্লাহ! আমার পরে তাকে আর কারো (সাথে অত্যাচার করার) ক্ষমতা দিওনা।” হাজ্জাজের এক হাতে একটি ফোড়া হয়েছিল, পরে তা দ্রুত তার সারা গায়ে ছড়িয়ে গেল। তার এত ব্যথা হলো যে সে কুকুরের মতো ডাকতে লাগল। অবশেষে করুণা উদ্রেককর অবস্থায় মারা গেল।

আবু জা'ফর মনসুরের সময় সুফিয়ান সাওরী (রহ) কিছুকাল আত্ম গোপন করেন। আবু জা'ফর মক্কায় কা'বার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় সুফিয়ান (রা) কাবার চত্বরে ছিলেন এবং তিনি আল্লাহ্র নিকট মরিয়া হয়ে আকুল আবেদন করেছিলেন যাতে আল্লাহ্র ঘরে আল্লাহ্ আবু জা'ফরকে প্রবেশ করতে না দেন। মক্কার বর্হিসীমায় পৌঁছার আগেই আবু জা'ফর মারা যায়।

ক্বাজী আহমদ ইবনে আবু দাউদ মু'আফফীরী ইমাম আহমদ (র)-কে কষ্ট দিয়েছিল। ইমাম আহমদ (র) তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন, তাই আল্লাহ ইবনে আবু দাউদের অর্ধাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দিলেন। তাকে বলতে শুনা গেছে “আমার শরীরের পক্ষাঘাতগ্রস্ত অংশে যদি একটি মাছি উড়ে এসে বসে তবে আমার মনে হয় কেয়ামত শুরু হয়ে গেছে। আর বাকি পক্ষাঘাতগ্রস্ত অংশকে কাঁচি দিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হলেও আমি কোন কিছু অনুভব করতে পারব না।”

আলী ইবনে ইয়াহইয়াও ইমাম আহমদ ইবনে হান্বল (র)-কে অত্যাচার করেছে। তাই ইমাম আহমদ (র) তাকেও বদদোয়া (অভিশাপ) দিলেন। কিছু সময় যেতে না যেতেই সে অত্যাচারী মারা যায়।

জামাল আল নাসিরের শাসনামলে বহু মুসলমানকে জেলে রেখে অত্যাচার করা হয়। এক কর্মকর্তা চিৎকার দিয়ে বলত, "কোথায় তোমাদের খোদা? পেলে আমি তাকেও জেলখানায় ভরতাম!" অত্যাচারীর এ কথা থেকে আল্লাহ তাআলা বহু দূরে। একদা সে কায়রো থেকে আলেকজেন্দ্রিয়াতে যাওয়ার সময় একটি লোহা (রড)বাহী ট্রাক তার জীপকে দুমড়ে মুচড়ে দেয়। আর একটি রড তার মাথায় ঢুকে নাড়িভুঁড়ি পর্যন্ত চলে যায়। উদ্ধারকর্মীরা তাকে টুকরো টুকরো করে তার গাড়ি থেকে বের করতে বাধ্য হয়।

وَاسْتَكْبَرَ هُوَ وَجُنُودُهُ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ إِلَيْنَا لَا يُرْجَعُونَ.
“সে ও তার সেনাবাহিনী অন্যায়ভাবে জমিনের বুকে অহংকার করত এবং তারা ভেবেছিল যে, তাদেরকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে আনা হবে না।” (২৮-সূরা আল কাহাফ: আয়াত-৩৯)

“এবং তারা বলত, আমাদের থেকে কে বেশি শক্তিশালী আছে? তারা কি দেখেনি যে, তাদেরকে যে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী?” (৪১-সূরা হা-মীম-আস-সাজদাহ: আয়াত-১৫)

জমিনে কুফুর ও অত্যাচারের জন্য প্রসিদ্ধ আবুল নাসিরের সেনাপতি সালাহ্ নসরের ঘটনাও একই রকম। সে দশটি বেদনাদায়ক ও চিরস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হয়। সে বহু বৎসর দূর্দশায় বেঁচেছিল কিন্তু ডাক্তাররা তাকে আরোগ্য করতে পারেনি। অবশেষে সে সে সব দেবতাদের কাছে মাথা নত করত তাদের জেলখানাতে বন্দী হয়েই সে অপমানিত হয়ে মারা যায়।

“যারা দেশে দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল। সেখানে তারা অনেক ফেতনা-ফাসাদ (বিশৃঙ্খলতা-গন্ডগোল) করেছিল। অতএব, তোমার প্রভু তাদের উপর শাস্তির কষাঘাত হানলেন।” (৮৯-সূরা আল ফাজর: আয়াত-১০-১৩)

নবী করীম ﷺ বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ لَيُمْلِي لِلظَّالِمِ حَتَّى إِذَا أَخَذَهُ لَمْ يُفْلِتْهُ.
“নিশ্চয় আল্লাহ জালেমকে কিছু সময় দেন। অবশেষে যখন তিনি তাকে পাকড়াও করেন, তখন তিনি তাকে পালাতে দেন না।”

রাসূলাল্লাহ ﷺ আরও বলেছেন-
وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ.
“অত্যাচারিতের দোয়াকে ভয় কর। কেননা, এ দোয়ার মাঝে ও আল্লাহ্র মাঝে কোন পর্দা নেই।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ভালো বন্ধু থাকার গুরুত্ব

📄 ভালো বন্ধু থাকার গুরুত্ব


মনযোগ দেয়ার মতো, আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করে নেয়ার মতো এবং ভালোবাসা বিনিময় করার মতো একজন সাহায্যকারী ও প্রিয় ভাই থাকা প্রত্যেক মুসলমানের প্রয়োজন।

وَاجْعَل لِّي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي ۝ هَارُونَ أَخِي ۝ اشْدُদْ بِهِ أَزْرِي ۝ وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي ۝ كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا ۝ وَনُذْكُرَكَ كَثِيرًا ۝ إِنَّكَ كُنتَ بِنَا بَصِيرًا.
“এবং আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নিয়োগ দিন। আমার ভাই হারুনকে (নিয়োগ দিন)। তার দ্বারা আমার শক্তি বৃদ্ধি করুন এবং তাকে আমার কাজে শরীক করুন যাতে আমি বেশি করে আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি এবং বেশি করে আপনার জিকির করতে পারি।” (২০-সূরা ত্বাহা: আয়াত-২৯-৩৪)

"তারা একে অপরের বন্ধু (রক্ষাকারী, সাহায্যকারী)" (৫-সুরা মায়িদাহ: আয়াত-৫৫)

"যারা আল্লাহর পথে সুদৃঢ় প্রাচীরের মতো সারিবদ্ধভাবে জিহাদ করেন, আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন।" (৬১-সুরা আস সাফ্ফ: আয়াত-৪)

"এবং তিনি তাদের অন্তরের মাঝে প্রীতি স্থাপন করেছেন।" (৮-সুরা আনফাল: আয়াত-৬৩)

"মুমিনরা তো শুধুমাত্র ভাই ভাই।" (৪৯-সুরা হুজুরাত: আয়াত-১০)

আমাদের আলোচ্য বিষয়টি এ পুস্তকের বিষয়বস্তুর সাথে যথাযথ হয়েছে কেননা, একজন ভালো ও যোগ্য বন্ধু মনে আনন্দ বয়ে আনে।

নবী করীম ﷺ বলেছেন যে, আল্লাহ বলেছেন- "আমার মর্যাদার (ভালোবাসার) কারণে যারা একে অপরকে ভালোবাসতো তারা কোথায়? আজকের দিন- যেদিন আমার আরশের ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া নেই- আমি তাদেরকে আমার আরশের ছায়ায় স্থান দিয়ে ছায়া দিব।"

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ইসলামে নিরাপত্তা অবধারিত

📄 ইসলামে নিরাপত্তা অবধারিত


"তাদেরই জন্য রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত।" (৬-সুরা আন'আম: আয়াত-৮২)

"যিনি তাদের ক্ষুধার সময় খাবার খাইয়েছেন এবং তাদেরকে ভয় থেকে নিরাপদ করেছেন।" (১০৬-সুরা কুরাইশ: আয়াত-৪)

"আমি কি তাদের জন্য একটি নিরাপদ পবিত্র আশ্রয়স্থল প্রতিষ্ঠিত করিনি?" (২৮-সুরা আল কাসাস: আয়াত-৫৭)

"আর যে কেউ এতে প্রবেশ করে সে নিরাপদ।" (৩-সুরা আলে ইমরান: আয়াত-৯৭)

"অতএব, তাকে তার নিরাপত্তাস্থানে বা তাকে তার নিরাপত্তায় পৌছিয়ে দাও।" (৯-সুরা তওবা: আয়াত-৬)

নবী করীম ﷺ বলেছেন-
ভাবার্থ : "যে ব্যক্তি সুদৃঢ় চিত্তে শরীরে ও দিবসের খাবার নিয়ে (যোগাড় করে বা খেয়ে) রাত কাটায় (ঘুমায়) সে যেন গোটা দুনিয়ার মালিক হলো।"

আল্লাহর নিরাপত্তা হলো ঈমান ও সত্যকে নিঃসন্দিগ্ধভাবে জানা। ঘরের নিরাপত্তা হলো লজ্জা ও বেহায়ামি হতে মুক্ত হওয়া এবং শান্তি ও সঠিক পথ নির্দেশক (এলাহী হেদায়েত) দ্বারা ভরপুর হওয়া।

আমাদের জাতির নিরাপত্তা হলো ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, ন্যায়ের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ও শরীয়তের বাস্তবায়ন (আইন প্রয়োগ)। নিরাপত্তার শত্রু হলো ভয়।

"অতএব, সে ভয়ে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে সেখান থেকে পালিয়ে গেল।" (২৮-সুরা আল কাসাস: আয়াত-২১)

"সুতরাং তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় কর।" (৫-সুরা মায়িদা: আয়াত-৩)

উপরে যে সব ধরনের নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে তার ভিত্তিতে ভীতদের জন্য বা কাফেরদের জন্য কোন নিরাপত্তা নেই। আল্লাহর কাছে এই পার্থিব জীবন কতই না করুণা উদ্রেককর। যদি আপনি আপনার জীবনের এক দিকে (বিষয়ে) সমৃদ্ধ হন তবে আপনি নিশ্চিত অন্য দিকে (বিষয়ে) শোচনীয়। যদি একদিকে সম্পদ আসে তবে আরেক দিকে অসুখ আসে। যদি আপনার শরীর সুস্থ থাকে তবে অন্য কোন সমস্যা দেখা দিবে। আর যখন সব কিছু ভালোভাবে চলবে মনে হয় এবং আপনি চূড়ান্তভাবে স্থির বোধ করেন তখন তো আপনি শবাধারে রক্ষিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত।

নজদের আল 'আশা নামক কবি নবী করীম ﷺ-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তাঁকে কবিতা আবৃত্তি করে শুনাতে ও ইসলাম গ্রহণ করতে। আবু সুফিয়ান (তিনি তখনও মুসলমান হননি) পথে কবির সাথে সাক্ষাত করে তাকে তাঁর উদ্দেশ্য থেকে ফিরাতে ও তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য ১০০ (একশত) উট উপহার দেয়ার প্রস্তাব করল। কবি উপহার গ্রহণ করল। যাত্রা ফেরানোর (ফিরে যাওয়ার) জন্য সে যখন একটি উটে চড়ে বসল, আর অমনি সেটা ক্ষেপে গিয়ে তাকে ছুঁড়ে মারল, এতে সে মাথা ভূমিতে রেখে পড়ে গেল এবং আঘাতের ফলে তার ঘাড় মটকে গিয়ে সে মরে গেল। সে দ্বীন-দুনিয়া কোনটা অর্জন না করেই এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে গেল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px