📄 কল্যাণে ভরপুর এক ধর্ম
ইসলাম ধর্ম মুমিন বান্দাকে বিশাল পরিসরের কল্যাণ ও পুরস্কারের প্রতিশ্রতি দেয়। এটি এমন সব কল্যাণের প্রতিশ্ৰুতি দেয়, যা তাকে সর্বদা সত্যপথে থাকতে উৎসাহ দেয় এবং এমন সব পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়, যা আখিরাতের জন্য তার আশাকে বাড়িয়ে তোলে। যেসব আমল গুনাহ মুছে ফেলে (যেমন সালাত) ইসলামে এমন সব আমল আছে।
যেমন একটি আমল সালেহ বা নেক আমল দশ গুণ, সাতশত গুণ, এমনকি আরো অনেক অনেক গুণ বেশি বাড়ানো হয়। আরেকটি উদাহরণ হলো দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন ও যে কোন সংকট, যখনই কোন মুমিন বান্দা কোন সংকটে পড়ে তখনই তার কিছু পাপ মাফ করে দেয়া হয়। মুসিবতের সময় মুমিন বান্দা অন্যান্য মুমিন বান্দাদের দোয়ার দ্বারাও উপকৃত হয়।
وَإِن تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا ۗ
“আর যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামতকে গণনা কর তবে তোমরা তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না।” (১৪-সুরা নাহল: আয়াত-১৮)
“আর তিনি তোমাদের উপর তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয় নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করেছেন।” (৩১-সুরা লোকমান: আয়াত-২০)
{প্রকাশ্য নেয়ামত বলতে বুঝায় ইসলামী তাওহীদ (একত্ববাদ) ও স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য ইত্যাদি এবং পৃথিবীর বৈধ আমোদ-প্রমোদ। অপ্রকাশ্য নেয়ামত বলতে বুঝায় আল্লাহর প্রতি ঈমান, ইলম (জ্ঞান), হিকমত (প্রজ্ঞা), আমলে সালেহ করার জন্য পথ-নির্দেশন বা হেদায়েত এবং আখিরাতে জান্নাতের আমোদ-প্রমোদ।}
📄 চারটি বিষয় হতে দূরে থাকুন
নিম্নোক্ত চারটি বিষয় মনে দুঃখ-কষ্ট আনে; সুতরাং সেগুলিকে পরিহার করুন বা এড়িয়ে চলুন-
১. আল্লাহ যা বিধান দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন না এবং তাতে রাগ করবেন না।
২. তওবাহবিহীন পাপ (যে পাপ করে পরে তওবা করা হয় না)।
“আপনি (তাদেরকে) বলে দিন! এ মুসিবত (তোমাদের পাপের কারণে) তোমাদের নিজেদের নিকট থেকেই এসেছে।” (৩-সুরা ইমরান: আয়াত-১৬৫)
“এটা তোমাদের নিজ হাতে কৃত পাপের কারণেই।” (৪২-সুরা আশ শুরা: আয়াত-৩০)
৩. আল্লাহ মানুষকে অনুগ্রহ দান করার কারণে তাদেরকে ঘৃণা করা।
“আল্লাহ নিজ অনুগ্রহ থেকে তাদেরকে যা দান করেছেন তা নিয়ে কি তারা মানুষদেরকে হিংসা করেন?” (৪-সুরা আন নিসা: আয়াত-৫৪)
৪. আল্লাহর যিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।
فإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا “নিশ্চয় তার জন্য রয়েছে এক সংকটময় জীবন।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-১২৪)
📄 ন্যায়পরায়ণ প্রভু
আপনার প্রভু ন্যায়পরায়ণ এ বিষয়ে আপনার দৃঢ় নিশ্চয়তাবোধ থাকা উচিত। মহান আল্লাহ একজন মহিলাকে একটি কুকুরের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করার অনুমতি দিয়েছেন। আরেকজনকে একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়েছেন। প্রথম মহিলাটি বনী ইসরাঈলের একটি বেশ্যা ছিল। একদা সে একটি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়েছিল। (এ কারণে) আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়ে তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেন। তার নেক আমলের প্রতি একনিষ্ঠতা ও তাঁর আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতার কারণে এটা ছিল ন্যায়সঙ্গত পুরস্কার। দ্বিতীয় মহিলাটি একটি বিড়ালকে একটি ঘরে রেখেছিল। সে এটাকে পানাহার করতে দিত না। সে এটাকে বন্দী করে মাঠে-ঘাটে পোকা-মাকড় খাওয়া থেকেও বিরত রেখেছিল; তাই আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়েছিলেন。
প্রথম মহিলাটির ঘটনা মনে শান্তি যোগায়। কেননা, এ থেকে বুঝা যায় যে, আল্লাহ ছোট-খাট নেক আমলের বদলে বিশাল বিশাল পুরস্কার দেন।
فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
“অতএব, যে ব্যক্তি অণুপরিমাণ নেক আমল করবে সে তা দেখতে পাবে। আর যে ব্যক্তি অণুপরিমাণ বদ আমল করবে সে তা দেখতে পাবে।” (৯৯-সূরা যিলযাল: আয়াত-৬-৭)
إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ.
“নিশ্চয় নেক আমলসমূহ বদআমলসমূহকে দূর করে দেয়।” (১১-সূরা হুদ: আয়াত-১১৪)
অতএব, দুঃখ পীড়িতদেরকে সাহায্য করুন, গরীবদেরকে দান করুন, অভাবীদেরকে সাহায্য করুন, রোগী দেখতে যান, মৃতের জানাযায় শরীক হোন, অন্ধকে পথ দেখান, দুর্দশাগ্রস্তদেরকে সান্ত্বনা দিন, পথভ্রষ্টদেরকে পথ-প্রদর্শন করুন এবং মেহমান ও প্রতিবেশী উভয়ের প্রতিই সদয় হোন। এসব কিছুই সদকাতুল্য। এগুলো এমন কাজ যেগুলোতে শুধুমাত্র সাহায্য গ্রহণকারীকেই সাহায্য করে না, অধিকন্তু আপনাকেও স্বস্তি ও শান্তি দিয়ে সাহায্য করে।
📄 নিজের ইতিহাস লিখুন
একদিন আমি মক্কার হারাম শরীফে বসা ছিলাম। দিনটি ছিল গরম। রোজাদারদের ভিড় হয়ে আসছিল। এমন সময় আমি একজন বৃদ্ধ মানুষকে জমজমের পানি বিতরণ করতে দেখলাম। তিনি কয়েকটি পেয়ালা ভরে নিয়ে মানুষদেরকে দিতেন ও তারপর ফিরে এসে একই (ভাবে পেয়ালাগুলো ভরে মানুষের মাঝে পানি বিতরণের) কাজ করতেন। বেশ কিছু সময় যাবৎ তিনি এ কাজ করতে করতে ঘামে ভিজে গেলেন। এ বৃদ্ধ লোকটির বিশ্বস্ততা ও ধৈর্য দেখে এবং তাঁর সদয় কাজের প্রতি ভালোবাসা দেখে আমি বিস্মিত হয়ে গেলাম। যত লোক তাঁর সাথে পেরেছিল তিনি তত লোককেই একটি (মিষ্টি) হাসি ও এক পেয়ালা পানি দিয়েছিলেন। এতে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, যদি আল্লাহ কাউকে আমলের তাওফীক দেন, তবে সে তা হাসি মুখে করে, যদিও তা কষ্টকর কাজ হয়।
আল্লাহর রাসূলকে রক্ষা করার জন্য আবু বকর (রা) মদীনার রাস্তায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন। মেহমানকে খাওয়ানোর জন্য হাতেম তাই ক্ষুধা পেটে ঘুমাতেন। মুসলিমদেরকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য আবু উবাইদাহ (রা) রাত জেগে পাহারা দিতেন। রাতে যখন লোকজন ঘুমিয়ে থাকত তখন তাদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য উমর (রা) রাস্তায় রাস্তায় হাঁটতেন। মহা আকালের বছর জনগণকে খাওয়ানোর জন্য তিনি নিজে না খেয়ে থাকতেন। যুদ্ধের সময় আবু তালহা (রা) নবী করীম ﷺ-কে তীর থেকে রক্ষা করার জন্য নিজের দেহকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। ইবনে মোবারক (রহ) নিজে রোযা রেখে জনগণের মাঝে খাবার বিতরণ করতেন।
وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا.
“তারা তাঁর (আল্লাহর) ভালোবাসায় মিসকীন ইয়াতীম ও বন্দীকে খানা খাওয়ায়।” (৭৬-সূরা আদ দাহর বা ইনসান: আয়াত-৮)