📄 তিনটি ভুল
আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে তিনটি ভুল সচরাচর করে থাকি সেগুলো হলো-
১. সময় নষ্ট করা।
২. অযথা কথা বলা।
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ
“অযথা কাজ ত্যাগ করা ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্যের বা ভালো কাজের একটি।”
৩. ভুল বিষয়ে আগে থেকেই উষ্ণ বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া। গুজবে কান দেওয়া, ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বাস করা ও গল্প গুজব করা হলো তিনটি সাধারণ উদাহরণ। এসব চরিত্রের ফলে বুদ্ধি নষ্ট (হ্রাস), টেনশন ও জীবনের উদ্দেশ্যহীনতা দেখা দেয়।
“অতএব আল্লাহ তাদেরেক এ দুনিয়ার প্রতিদান ও পরকালের উত্তম প্রতিদান দিলেন।” (৩-সুরা আল ইমরান : আয়াত-১৪৮)
“যে আমার হেদায়েতের অনুসরণ করবে (করল) সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুঃখ-কষ্ট ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না।” (২০-সুরা ত্বাহা : আয়াত-১২৩)
📄 শরীয়ত সহজ
শরীয়ত বা ইসলামী জীবনের বিধানের দু'টি গুণ হলো, তা সহজ ও সুবিধাজনক যা মু'মিন ব্যক্তিকে শান্তি দেয়।
مَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَى
“(হে মুহাম্মাদ !) আমি আপনাকে কষ্ট দেয়ার জন্য আপনার উপর কুরআন অবতীর্ণ করিনি।” (২০-সূরা ত্বাহা: আয়াত-২)
وَتَيَسَّرَكَ بِالْيُسْرَى
“আর আমি সহজ পথকে (ইসলামকে) আপনার জন্য (আরো) সহজ করে দিব।” (৮৭-সূরা আ'লা: আয়াত-৮)
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
“আল্লাহ কোন ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপান না।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২৮৬)
وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ
“আর তিনি দীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোন কঠোরতা আরোপ করে দেননি।” (২২-সূরা মু’মিনুন : আয়াত-৭৮)
“এবং তিনি (মুহাম্মাদ) তাদের থেকে তাদের বোঝা ও তাদের উপর যে শৃঙ্খল ছিল তা দূর করবেন।” (৭-সূরা আল্ আরাফ : আয়াত-১৫৭)
فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا - إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
“অতএব নিশ্চয় কঠোরতার পরে স্বস্তি আছে। নিশ্চয় কঠোরতার পরে স্বস্তি আছে।” (৯৪-সূরা ইনশিরাহ : আয়াত-৫-৬)
অর্থাৎ, একটি কঠোরতার সাথে দু'টি স্বস্তি আছে; সুতরাং একটি কঠোরতা দু'টি স্বস্তিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না। কঠোরতা শব্দটি اَلْ যোগে আছে আর স্বস্তি শব্দটি اَلْ ছাড়া (يُسْرَى) আছে, সুতরাং আরবী ব্যাকরণ অনুসারে اَلْ যোগে কোন একটি শব্দ ব্যবহার করা হলেও নির্দিষ্ট একটিই বুঝায় আর اَل্ ছাড়া শব্দ একাধিকবার উল্লেখ হলে প্রতিবার একটি একটি করে বুঝায়; এভাবে اَلْ ছাড়া يُসْرَى উল্লেখ হওয়াতে দু'টি স্বস্তি (يُসْرَى) বুঝা যায়; পক্ষান্তরে اَلْ সহ الْعُسْرِ দু'বার উল্লেখিত হওয়া সত্ত্বেও দু'টি কঠোরতা (الْعُسْرُ) বুঝা যায় না। —অনুবাদক
“হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি, তবে আপনি আমাদেরকে (শাস্তি দেয়ার জন্য) পাকড়াও করবেন না। “হে আমাদের প্রভু! আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেরূপ বোঝা চাপিয়েছিলেন আমাদের উপর সেরূপ বোঝা চাপাবেন না। হে আমাদের প্রভু! আর আমাদের উপর এমন বোঝা চাপাবেন না যা বহন করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আর আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর আমাদেরকে দয়া করুন। আপনিই আমাদের মাওলা (অভিভাবক), অতএব কাফের সম্প্রদায়ের উপর আপনি আমাদেরকে বিজয়ী করুন।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২৮৬)
নবী করীম ﷺ বলেছেন-
رُفِعَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأُ وَالنِّسْيَانُ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ
“ভুল, বিস্মরণ ও জোর-জবরদস্তির কারণে কৃত পাপ আমার উম্মত থেকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।”
নবী করীম ﷺ বলেছেন-
إِنَّ الدِّينَ يُسْرٌ وَلَنْ يُشَادَّ الدِّينَ أَحَدٌ إِلَّا غَلَبَهُ.
“নিশ্চয় এ দ্বীন সহজ, যখন কেউ এ দ্বীনকে অতি কঠিন করে তখন সে নিজেই ব্যর্থ হয় (অর্থাৎ সে এ দ্বীনকে অতি কঠিন বানাতে পারে না)।”
📄 কল্যাণে ভরপুর এক ধর্ম
ইসলাম ধর্ম মুমিন বান্দাকে বিশাল পরিসরের কল্যাণ ও পুরস্কারের প্রতিশ্রতি দেয়। এটি এমন সব কল্যাণের প্রতিশ্ৰুতি দেয়, যা তাকে সর্বদা সত্যপথে থাকতে উৎসাহ দেয় এবং এমন সব পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়, যা আখিরাতের জন্য তার আশাকে বাড়িয়ে তোলে। যেসব আমল গুনাহ মুছে ফেলে (যেমন সালাত) ইসলামে এমন সব আমল আছে।
যেমন একটি আমল সালেহ বা নেক আমল দশ গুণ, সাতশত গুণ, এমনকি আরো অনেক অনেক গুণ বেশি বাড়ানো হয়। আরেকটি উদাহরণ হলো দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন ও যে কোন সংকট, যখনই কোন মুমিন বান্দা কোন সংকটে পড়ে তখনই তার কিছু পাপ মাফ করে দেয়া হয়। মুসিবতের সময় মুমিন বান্দা অন্যান্য মুমিন বান্দাদের দোয়ার দ্বারাও উপকৃত হয়।
وَإِن تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا ۗ
“আর যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামতকে গণনা কর তবে তোমরা তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না।” (১৪-সুরা নাহল: আয়াত-১৮)
“আর তিনি তোমাদের উপর তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয় নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করেছেন।” (৩১-সুরা লোকমান: আয়াত-২০)
{প্রকাশ্য নেয়ামত বলতে বুঝায় ইসলামী তাওহীদ (একত্ববাদ) ও স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য ইত্যাদি এবং পৃথিবীর বৈধ আমোদ-প্রমোদ। অপ্রকাশ্য নেয়ামত বলতে বুঝায় আল্লাহর প্রতি ঈমান, ইলম (জ্ঞান), হিকমত (প্রজ্ঞা), আমলে সালেহ করার জন্য পথ-নির্দেশন বা হেদায়েত এবং আখিরাতে জান্নাতের আমোদ-প্রমোদ।}
📄 চারটি বিষয় হতে দূরে থাকুন
নিম্নোক্ত চারটি বিষয় মনে দুঃখ-কষ্ট আনে; সুতরাং সেগুলিকে পরিহার করুন বা এড়িয়ে চলুন-
১. আল্লাহ যা বিধান দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন না এবং তাতে রাগ করবেন না।
২. তওবাহবিহীন পাপ (যে পাপ করে পরে তওবা করা হয় না)।
“আপনি (তাদেরকে) বলে দিন! এ মুসিবত (তোমাদের পাপের কারণে) তোমাদের নিজেদের নিকট থেকেই এসেছে।” (৩-সুরা ইমরান: আয়াত-১৬৫)
“এটা তোমাদের নিজ হাতে কৃত পাপের কারণেই।” (৪২-সুরা আশ শুরা: আয়াত-৩০)
৩. আল্লাহ মানুষকে অনুগ্রহ দান করার কারণে তাদেরকে ঘৃণা করা।
“আল্লাহ নিজ অনুগ্রহ থেকে তাদেরকে যা দান করেছেন তা নিয়ে কি তারা মানুষদেরকে হিংসা করেন?” (৪-সুরা আন নিসা: আয়াত-৫৪)
৪. আল্লাহর যিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।
فإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا “নিশ্চয় তার জন্য রয়েছে এক সংকটময় জীবন।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-১২৪)