📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 কাফেররাও বিভিন্ন স্তরের

📄 কাফেররাও বিভিন্ন স্তরের


জর্জ বুশ তার স্মারক গ্রন্থ "অফিসার হু এন্ড Moving Ahead"-এ উল্লেখ করেছেন যে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভের সহকারে উপস্থিত হয়েছিলেন। বুশ বলেছেন যে, "আমি সরকারের কাজকে অন্ধকার ও খারাপ দেখলাম, এটা ঈমানহীন এবং আত্মাহীন ছিল।" তিনি খ্রিস্টান ছিলেন আর তারা ছিল নাস্তিক তাই তিনি একথা বলেছিলেন。

“এবং যারা আমরা, ইমানদারগণ; আপনি তাদেরকে ভালোবাসার দিক থেকে ইমানদারদের নিকটবর্তী পাবেন।” (৫-সুরা মায়িদা : আয়াত-৮২)

তবে দেখুন যে, যদিও পথভ্রষ্ট তবুও তিনি তাদের মিথ্যা ও অসাড়তাকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। এভাবেই বিষয়গুলো বিষণ্নমূলক (হয়)। যদি তিনি আল্লাহর সত্য ধর্ম ইসলাম (সঠিকভাবে) জানতেন তবে ব্যাপার স্যাপার কতইনা ভিন্ন ধরনের হতো।

“আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম তালাশ করে, তার পক্ষ থেকে তা কখনই গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-৮৫)

এ ঘটনায় ইমাম ইবনে তাইমিয়ার একটি কথা আমার মনে পড়ে গেল। তিনি এক ভক্ত সুফীর সাথে কথা বলতে ছিলেন। লোকটি ইবনে তাইমিয়াকে বলল “যখন আমরা তোমাদের আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের লোকদের নিকট আসি তখন কেন আমাদের যাদু বা অলৌকিক ক্ষমতা কাজ করে না। কিন্তু যখন আমরা মঙ্গোলিয়ান কাফের তাতারদের নিকট যাই তখন আমাদের অলৌকিক ক্ষমতা কাজ করে (কেন)?”

ইবনে তাইমিয়া বললেন-
“তুমি কি তোমাদের তাতারদের ও আমাদের নমুনা জান? আমরা সাদা ঘোড়ার মতো, তোমরা সাদা কালো ছোপওয়ালা ঘোড়ার মতো আর তাতাররা কাল ঘোড়ার মতো। যখন কোন সাদা কালো ছোপযুক্ত ঘোড়া কালো ঘোড়ার পাশে প্রবেশ করে তখন এটাকে সাদা দেখায় আর যখন এটা সাদা ঘোড়ার পাশে প্রবেশ করে তখন এটাকে কালো দেখায়। এখন তোমাদের সামান্য আলোর (নূরের) লেশ আছে। যখন তোমরা কাফেরদের সাথে মিশ তখন তোমাদের সে নূরের লেশ দেখা যায়। কিন্তু যখন তোমরা আমাদের অধিকতর শক্তিশালী আলো অর্থাৎ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের লোকদের নিকট আস তখন তোমাদের অন্ধকার প্রকাশিত হয় (অর্থাৎ আলো নিভে যায়) আর এটাই তোমাদের, তাতারদের ও আমাদের উদাহরণ।”

“আর যাদের মুখমণ্ডলসমূহ উজ্জ্বল হবে তারা (জান্নাতে) আল্লাহ্র রহমতের মাঝে থাকবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১০৭)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 নিজের হিসাব রাখুন

📄 নিজের হিসাব রাখুন


আপনার নিকট একটি নোটবুক রাখুন এবং এতে আপনার কাজকর্মের বিবরণ লিখে রাখুন। আপনার ব্যক্তিত্বের ও কাজকর্মের ক্ষতিকর বা নেতিবাচক বা অনাকাঙ্ক্ষিত দিকগুলোকে তাতে লিখে রাখুন এবং তা থেকে নিজেকে কিভাবে মুক্ত করবেন তার সমাধানের উপায় নিয়ে পরে ভেবে দেখবেন。

উমর (রা) বলেছেন : “(আল্লাহ) তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগেই তোমরা তোমাদের নিজেদের হিসাব নাও। এবং কিয়ামতের দিনের মহা প্রদর্শনীর পূর্বে নেক আমল দ্বারা নিজেদেরকে সুসজ্জিত কর।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 তিনটি ভুল

📄 তিনটি ভুল


আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে তিনটি ভুল সচরাচর করে থাকি সেগুলো হলো-
১. সময় নষ্ট করা।
২. অযথা কথা বলা।
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ
“অযথা কাজ ত্যাগ করা ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্যের বা ভালো কাজের একটি।”
৩. ভুল বিষয়ে আগে থেকেই উষ্ণ বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া। গুজবে কান দেওয়া, ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বাস করা ও গল্প গুজব করা হলো তিনটি সাধারণ উদাহরণ। এসব চরিত্রের ফলে বুদ্ধি নষ্ট (হ্রাস), টেনশন ও জীবনের উদ্দেশ্যহীনতা দেখা দেয়।

“অতএব আল্লাহ তাদেরেক এ দুনিয়ার প্রতিদান ও পরকালের উত্তম প্রতিদান দিলেন।” (৩-সুরা আল ইমরান : আয়াত-১৪৮)

“যে আমার হেদায়েতের অনুসরণ করবে (করল) সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুঃখ-কষ্ট ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না।” (২০-সুরা ত্বাহা : আয়াত-১২৩)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 শরীয়ত সহজ

📄 শরীয়ত সহজ


শরীয়ত বা ইসলামী জীবনের বিধানের দু'টি গুণ হলো, তা সহজ ও সুবিধাজনক যা মু'মিন ব্যক্তিকে শান্তি দেয়।

مَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَى
“(হে মুহাম্মাদ !) আমি আপনাকে কষ্ট দেয়ার জন্য আপনার উপর কুরআন অবতীর্ণ করিনি।” (২০-সূরা ত্বাহা: আয়াত-২)

وَتَيَسَّرَكَ بِالْيُسْرَى
“আর আমি সহজ পথকে (ইসলামকে) আপনার জন্য (আরো) সহজ করে দিব।” (৮৭-সূরা আ'লা: আয়াত-৮)

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
“আল্লাহ কোন ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপান না।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২৮৬)

وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ
“আর তিনি দীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোন কঠোরতা আরোপ করে দেননি।” (২২-সূরা মু’মিনুন : আয়াত-৭৮)

“এবং তিনি (মুহাম্মাদ) তাদের থেকে তাদের বোঝা ও তাদের উপর যে শৃঙ্খল ছিল তা দূর করবেন।” (৭-সূরা আল্ আরাফ : আয়াত-১৫৭)

فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا - إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
“অতএব নিশ্চয় কঠোরতার পরে স্বস্তি আছে। নিশ্চয় কঠোরতার পরে স্বস্তি আছে।” (৯৪-সূরা ইনশিরাহ : আয়াত-৫-৬)

অর্থাৎ, একটি কঠোরতার সাথে দু'টি স্বস্তি আছে; সুতরাং একটি কঠোরতা দু'টি স্বস্তিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না। কঠোরতা শব্দটি اَلْ যোগে আছে আর স্বস্তি শব্দটি اَلْ ছাড়া (يُسْرَى) আছে, সুতরাং আরবী ব্যাকরণ অনুসারে اَلْ যোগে কোন একটি শব্দ ব্যবহার করা হলেও নির্দিষ্ট একটিই বুঝায় আর اَل্ ছাড়া শব্দ একাধিকবার উল্লেখ হলে প্রতিবার একটি একটি করে বুঝায়; এভাবে اَلْ ছাড়া يُসْرَى উল্লেখ হওয়াতে দু'টি স্বস্তি (يُসْرَى) বুঝা যায়; পক্ষান্তরে اَلْ সহ الْعُسْرِ দু'বার উল্লেখিত হওয়া সত্ত্বেও দু'টি কঠোরতা (الْعُسْرُ) বুঝা যায় না। —অনুবাদক

“হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি, তবে আপনি আমাদেরকে (শাস্তি দেয়ার জন্য) পাকড়াও করবেন না। “হে আমাদের প্রভু! আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেরূপ বোঝা চাপিয়েছিলেন আমাদের উপর সেরূপ বোঝা চাপাবেন না। হে আমাদের প্রভু! আর আমাদের উপর এমন বোঝা চাপাবেন না যা বহন করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আর আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর আমাদেরকে দয়া করুন। আপনিই আমাদের মাওলা (অভিভাবক), অতএব কাফের সম্প্রদায়ের উপর আপনি আমাদেরকে বিজয়ী করুন।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২৮৬)

নবী করীম ﷺ বলেছেন-
رُفِعَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأُ وَالنِّسْيَانُ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ
“ভুল, বিস্মরণ ও জোর-জবরদস্তির কারণে কৃত পাপ আমার উম্মত থেকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।”

নবী করীম ﷺ বলেছেন-
إِنَّ الدِّينَ يُسْرٌ وَلَنْ يُشَادَّ الدِّينَ أَحَدٌ إِلَّا غَلَبَهُ.
“নিশ্চয় এ দ্বীন সহজ, যখন কেউ এ দ্বীনকে অতি কঠিন করে তখন সে নিজেই ব্যর্থ হয় (অর্থাৎ সে এ দ্বীনকে অতি কঠিন বানাতে পারে না)।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px