📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 লোভ করে লাভ নেই

📄 লোভ করে লাভ নেই


নবী করীম ﷺ বলেছেন– “কেউই তার পূর্ণ রিযিক গ্রহণ করার আগে ও মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময়ের আগে মারা যায় না।”
অতএব কেন উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর কেনই বা লোভ?

وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِمِقْدَارٍ ۚ
“তাঁর বিধানে সব কিছুই নির্দিষ্ট পরিমাণে আছে।” (১৩-সূরা রা’আদ : আয়াত-৮)

“আর আল্লাহর বিধান হলো সুনির্ধারিত বিধান।” (৩৩-সূরা আল আহযাব : আয়াত-৩৮)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আল কুরআন : মোবারক কিতাব

📄 আল কুরআন : মোবারক কিতাব


আপনি যখন কুরআন তেলাওয়াত করেন ও এর অর্থ বুঝার জন্য ধ্যান করেন তখন আপনি সুখ অর্জনের দিকে একটি কার্যকর পদক্ষেপ নিলেন। আল্লাহ কুরআনকে পথ নির্দেশনা, আলো এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্যকর ঔষধ বলেছেন। তিনি এ গ্রন্থকে রহমত ও দয়া বলেছেন।

قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
“তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে (ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ সম্বলিত কুরআন নামে) এক উপদেশ গ্রন্থ এবং অন্তরের (মূর্খতা, সন্দেহ, মোনাফেকি ও বিরোধিতা ইত্যাদি রোগের) আরোগ্য বিধান এসেছে।” (১০-সূরা ইউনুস : আয়াত-৫৭)

“তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখেনা? না কি (কুরআন বুঝার ব্যাপারে) তাদের অন্তরে তালা মারা আছে?” (৪৭-সূরা মুহাম্মদ বা কেতাল : আয়াত-২৪)

“তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখেনা? যদি এ গ্রন্থ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট থেকে আসতো তবে তারা এতে অনেক অসঙ্গতি পেত!” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-৮২)

“এ কিতাব (আল কুরআন) যা আমি আপনার নিকট অবতীর্ণ করেছি তা মোবারক (কিতাব), (আর এটা আমি এ জন্য অবতীর্ণ করেছি) যাতে তারা আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখে।” (৩৮-সূরা ছোয়াদ : আয়াত-২৯)

কুরআন তেলাওয়াত করা যেমন কল্যাণের কাজ, কুরআন অনুযায়ী আমল করা এবং বিচারের জন্য ও পথ নির্দেশনার জন্য এর শরণাপন্ন হওয়া তেমনই কল্যাণের কাজ।

এক ধার্মিক লোক একবার বলেছেন-
“আমি বুঝতে পারলাম যে, হতাশা ও উদ্বিগ্নতার এক মেঘখণ্ড আমার মাথার উপর ঝুলছে। তখন আমি কুরআন নিয়ে কতক্ষণ তেলাওয়াত করলাম। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, তখন আমার হতাশা ও উদ্বিগ্নতা দূর হয়ে গেল ও তার স্থানে সুখ ও প্রশান্তি এল।”

“নিশ্চয় এই কুরআন সুদৃঢ় (অর্থাৎ ন্যায়সঙ্গত ও সঠিক) পথ প্রদর্শন করে।” (১৭-সূরা বনী ইসরাইল: আয়াত-৯)

“আর (হে মুহাম্মদ!) এভাবে আমি তোমার নিকট আমার আদেশ থেকে রুহ (তথা প্রত্যাদেশ ও করুণা) অহীর মাধ্যমে পাঠিয়েছি।” (৪২-সূরা আশ শুরা: আয়াত-৫২)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 কাফেররাও বিভিন্ন স্তরের

📄 কাফেররাও বিভিন্ন স্তরের


জর্জ বুশ তার স্মারক গ্রন্থ "অফিসার হু এন্ড Moving Ahead"-এ উল্লেখ করেছেন যে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভের সহকারে উপস্থিত হয়েছিলেন। বুশ বলেছেন যে, "আমি সরকারের কাজকে অন্ধকার ও খারাপ দেখলাম, এটা ঈমানহীন এবং আত্মাহীন ছিল।" তিনি খ্রিস্টান ছিলেন আর তারা ছিল নাস্তিক তাই তিনি একথা বলেছিলেন。

“এবং যারা আমরা, ইমানদারগণ; আপনি তাদেরকে ভালোবাসার দিক থেকে ইমানদারদের নিকটবর্তী পাবেন।” (৫-সুরা মায়িদা : আয়াত-৮২)

তবে দেখুন যে, যদিও পথভ্রষ্ট তবুও তিনি তাদের মিথ্যা ও অসাড়তাকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। এভাবেই বিষয়গুলো বিষণ্নমূলক (হয়)। যদি তিনি আল্লাহর সত্য ধর্ম ইসলাম (সঠিকভাবে) জানতেন তবে ব্যাপার স্যাপার কতইনা ভিন্ন ধরনের হতো।

“আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম তালাশ করে, তার পক্ষ থেকে তা কখনই গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-৮৫)

এ ঘটনায় ইমাম ইবনে তাইমিয়ার একটি কথা আমার মনে পড়ে গেল। তিনি এক ভক্ত সুফীর সাথে কথা বলতে ছিলেন। লোকটি ইবনে তাইমিয়াকে বলল “যখন আমরা তোমাদের আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের লোকদের নিকট আসি তখন কেন আমাদের যাদু বা অলৌকিক ক্ষমতা কাজ করে না। কিন্তু যখন আমরা মঙ্গোলিয়ান কাফের তাতারদের নিকট যাই তখন আমাদের অলৌকিক ক্ষমতা কাজ করে (কেন)?”

ইবনে তাইমিয়া বললেন-
“তুমি কি তোমাদের তাতারদের ও আমাদের নমুনা জান? আমরা সাদা ঘোড়ার মতো, তোমরা সাদা কালো ছোপওয়ালা ঘোড়ার মতো আর তাতাররা কাল ঘোড়ার মতো। যখন কোন সাদা কালো ছোপযুক্ত ঘোড়া কালো ঘোড়ার পাশে প্রবেশ করে তখন এটাকে সাদা দেখায় আর যখন এটা সাদা ঘোড়ার পাশে প্রবেশ করে তখন এটাকে কালো দেখায়। এখন তোমাদের সামান্য আলোর (নূরের) লেশ আছে। যখন তোমরা কাফেরদের সাথে মিশ তখন তোমাদের সে নূরের লেশ দেখা যায়। কিন্তু যখন তোমরা আমাদের অধিকতর শক্তিশালী আলো অর্থাৎ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের লোকদের নিকট আস তখন তোমাদের অন্ধকার প্রকাশিত হয় (অর্থাৎ আলো নিভে যায়) আর এটাই তোমাদের, তাতারদের ও আমাদের উদাহরণ।”

“আর যাদের মুখমণ্ডলসমূহ উজ্জ্বল হবে তারা (জান্নাতে) আল্লাহ্র রহমতের মাঝে থাকবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১০৭)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 নিজের হিসাব রাখুন

📄 নিজের হিসাব রাখুন


আপনার নিকট একটি নোটবুক রাখুন এবং এতে আপনার কাজকর্মের বিবরণ লিখে রাখুন। আপনার ব্যক্তিত্বের ও কাজকর্মের ক্ষতিকর বা নেতিবাচক বা অনাকাঙ্ক্ষিত দিকগুলোকে তাতে লিখে রাখুন এবং তা থেকে নিজেকে কিভাবে মুক্ত করবেন তার সমাধানের উপায় নিয়ে পরে ভেবে দেখবেন。

উমর (রা) বলেছেন : “(আল্লাহ) তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগেই তোমরা তোমাদের নিজেদের হিসাব নাও। এবং কিয়ামতের দিনের মহা প্রদর্শনীর পূর্বে নেক আমল দ্বারা নিজেদেরকে সুসজ্জিত কর।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px