📄 গণকের কথা বিশ্বাস করবেন না
দুর্ভোগের ভবিষ্যৎবাণী (যা কদাচিত্ ঘটতে পারে) এবং পূর্বকুলক্ষণ (অধিকাংশ সময়েই মিথ্যা) বহু মানুষের মনে ভয়ের সঞ্চার করে। “শয়তান তোমাদেরকে অভাবের ভয় দেখায় এবং তোমাদেরকে (কুকাজ, অবৈধ যৌন ক্রিয়া-কলাপ ও পাপ ইত্যাদি) ফাহেশা কাজ করার জন্য আদেশ করে; অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও দানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময় মহাজ্ঞানী।” (২-সূরা আল বাকারা : আয়াত-২৬৮)
উদ্বিগ্নতা, অনিদ্রা ও ক্ষোভ হলো হতাশা ও দুশ্চিন্তার কুফল। একজন আরব কবি বলেছেন—
“আমাদেরকে শাস্তি দিবেন না। কারণ, আমরা তো আগেই শাস্তি পেয়েছি, দুশ্চিন্তার মাধ্যমে, যা আমাদেরকে গভীর রাত পর্যন্ত জাগিয়ে রাখে।”
📄 এ বিশ্ব জগতের সৌন্দর্য উপভোগ করুন
আল্লাহর সৃষ্টি রহস্য নিয়ে গবেষণা করে ও এর মূল্যায়ন করে আপনি শান্তি পাবেন। মহান আল্লাহ বলেন-
“অতঃপর আমি তা দিয়ে সুশোভিত বাগান উৎপন্ন করি।” (২৭-সূরা আন নামল : আয়াত-৬০)
“বলুন, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা তোমরা দেখ।” (১০-সূরা ইউনুস : আয়াত-১০১)
“আমাদের প্রভু হলেন তিনি যিনি প্রত্যেক বস্তুর আকৃতি দান করেছেন অতঃপর এটাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন।” (২০-সূরা ত্বাহা: আয়াত-৫০)
উজ্জ্বল সূর্য, ঝলমলে তারা, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত, গাছ-পালা ফলমূল, বায়ু ও পানি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন।
“অতএব, সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতইনা বরকতময়।” (২৩-সূরা আল মু'মিনুন : আয়াত-১৪)
একজন আরব কবি বলেছেন-
وَفِي كُلِّ شَيْءٍ لَهُ آيَةٌ * تَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ الْوَاحِدُ.
“প্রত্যেক বস্তুর মাঝে তার নিদর্শন আছে, যা ইঙ্গিত করে যে, তিনি এক।”
প্রসিদ্ধ আরব কবি ইলিয়া আবু মাযী বলেছেন-
أَيُّهَا الشَّاكِي وَمَا بِكَ دَاءٌ * كَيْفَ تَغْدُو إِذَا غَدَوْتَ عَلِيلًا.
أَتَرَى الشَّوْكَ فِي الْوُرُودِ وَتَعْمَى * أَنْ تَرَى فَوْقَهَا النَّدَى إِكْلِيلاً.
وَالَّذِي نَفْسُهُ بِغَيْرِ جَمَالٍ * لَا يَرَى فِي الْوُجُودِ شَيْئًا جَمِيلاً.
১. “হে অভিযোগকারী, (তুমি অভিযোগ করছ) অথচ তোমার তো কোনো অসুবিধা (অভিযোগের কারণ) নেই, তুমি অসুস্থ হয়ে পড়লে কী করবে?! (অথচ তুমি সুস্থ অবস্থায় অভিযোগ করছ!)
২. তুমি কি গোলাপের কাঁটাই শুধু দেখতে পাচ্ছ? আর ফুলের উপরের মালার মত শিশির বিন্দু দেখতে পাচ্ছ না?!
৩. যে নিজেই অসুন্দর সে প্রকৃতিতে সুন্দর কোন কিছু দেখতে পায় না।”
“তারা কি উটের দিকে তাকিয়ে দেখে না যে কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে?” (৮৮-সূরা আল গাশিয়া: আয়াত-১৭)
আইনস্টাইন বলেছেন যে- যে ব্যক্তি বিশ্ব জগত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে সে বুঝতে পারে যে, যে সত্তা একে সৃষ্টি করেছেন তিনি মহা জ্ঞানী এবং তিনি খুঁটি দিয়ে জুয়া-পাশা খেলছেন না।
الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُۦۖ
“যিনি প্রতিটি জিনিসকেই উত্তমরূপে সৃষ্টি করেছেন।” (৩২-সূরা আস সাজদাহ : আয়াত-৭)
وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَاعِبِينَ
“আমি আকাশ ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে তা খেলা-তামাশা করে সৃষ্টি করিনি।” (৪৪-সূরা আদ দোখান : আয়াত-৩৮) অর্থাৎ আমি এদেরকে পরীক্ষা করার জন্য সৃষ্টি করেছি যে কে অনুগত আর কে অনুগত নয় আর তার পর অনুগতদেরকে পুরস্কার দিবো ও অবাধ্যদেরকে শাস্তি দিবো।
“তবে কি তোমরা মনে করেছিলে যে আমি তোমাদেরকে অহেতুক সৃষ্টি করেছি?” (২৩-সূরা আল মু’মিনুন : আয়াত-১১৮)
এসব আয়াতের অর্থ এই যে, ঐশী জ্ঞান অনুযায়ী সব কিছুই পরিকল্পিত ও পরিমিত। আর যে ব্যক্তিই সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করে সেই বুঝতে পারে যে, একজন শক্তিমান আল্লাহ আছেন যিনি সবকিছুকে টিকিয়ে রাখেন ও সবকিছুর ব্যবস্থাপনা করেন এবং সবকিছু অবস্থার সাথে মিল রেখে হঠাৎ (যখন যেমন তখন তেমন) ঘটে এ কথা ভুল অর্থাৎ সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী পূর্ব নির্ধারিত বিধিমতে ঘটে একথা সত্য।
“সূর্য ও চন্দ্র হিসাবমত চলে।” (৫৫-সূরা আর রাহমান : আয়াত-৫)
“সূর্যের সাধ্য নেই যে চন্দ্রের নাগাল পায় আর রাতও দিনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না। প্রত্যেকেই (নিজ নিজ) কক্ষ পথে পরিভ্রমণ করছে।” (৩৬-সূরা ইয়াসিন : আয়াত-৪০)
📄 লোভ করে লাভ নেই
নবী করীম ﷺ বলেছেন– “কেউই তার পূর্ণ রিযিক গ্রহণ করার আগে ও মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময়ের আগে মারা যায় না।”
অতএব কেন উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর কেনই বা লোভ?
وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِمِقْدَارٍ ۚ
“তাঁর বিধানে সব কিছুই নির্দিষ্ট পরিমাণে আছে।” (১৩-সূরা রা’আদ : আয়াত-৮)
“আর আল্লাহর বিধান হলো সুনির্ধারিত বিধান।” (৩৩-সূরা আল আহযাব : আয়াত-৩৮)
📄 আল কুরআন : মোবারক কিতাব
আপনি যখন কুরআন তেলাওয়াত করেন ও এর অর্থ বুঝার জন্য ধ্যান করেন তখন আপনি সুখ অর্জনের দিকে একটি কার্যকর পদক্ষেপ নিলেন। আল্লাহ কুরআনকে পথ নির্দেশনা, আলো এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্যকর ঔষধ বলেছেন। তিনি এ গ্রন্থকে রহমত ও দয়া বলেছেন।
قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
“তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে (ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ সম্বলিত কুরআন নামে) এক উপদেশ গ্রন্থ এবং অন্তরের (মূর্খতা, সন্দেহ, মোনাফেকি ও বিরোধিতা ইত্যাদি রোগের) আরোগ্য বিধান এসেছে।” (১০-সূরা ইউনুস : আয়াত-৫৭)
“তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখেনা? না কি (কুরআন বুঝার ব্যাপারে) তাদের অন্তরে তালা মারা আছে?” (৪৭-সূরা মুহাম্মদ বা কেতাল : আয়াত-২৪)
“তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখেনা? যদি এ গ্রন্থ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট থেকে আসতো তবে তারা এতে অনেক অসঙ্গতি পেত!” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-৮২)
“এ কিতাব (আল কুরআন) যা আমি আপনার নিকট অবতীর্ণ করেছি তা মোবারক (কিতাব), (আর এটা আমি এ জন্য অবতীর্ণ করেছি) যাতে তারা আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখে।” (৩৮-সূরা ছোয়াদ : আয়াত-২৯)
কুরআন তেলাওয়াত করা যেমন কল্যাণের কাজ, কুরআন অনুযায়ী আমল করা এবং বিচারের জন্য ও পথ নির্দেশনার জন্য এর শরণাপন্ন হওয়া তেমনই কল্যাণের কাজ।
এক ধার্মিক লোক একবার বলেছেন-
“আমি বুঝতে পারলাম যে, হতাশা ও উদ্বিগ্নতার এক মেঘখণ্ড আমার মাথার উপর ঝুলছে। তখন আমি কুরআন নিয়ে কতক্ষণ তেলাওয়াত করলাম। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, তখন আমার হতাশা ও উদ্বিগ্নতা দূর হয়ে গেল ও তার স্থানে সুখ ও প্রশান্তি এল।”
“নিশ্চয় এই কুরআন সুদৃঢ় (অর্থাৎ ন্যায়সঙ্গত ও সঠিক) পথ প্রদর্শন করে।” (১৭-সূরা বনী ইসরাইল: আয়াত-৯)
“আর (হে মুহাম্মদ!) এভাবে আমি তোমার নিকট আমার আদেশ থেকে রুহ (তথা প্রত্যাদেশ ও করুণা) অহীর মাধ্যমে পাঠিয়েছি।” (৪২-সূরা আশ শুরা: আয়াত-৫২)