📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 মন যখন আনমনা

📄 মন যখন আনমনা


টমাস এডিসন বলেছেন- “চিন্তা থেকে পলায়ন করার কোনো ফন্দি নেই।”

অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই বর্ণনার যথার্থতার নিশ্চয়তা দিতে পারা যায়। কারণ, এমনকি লেখা-পড়ার সময়ও মানুষ অনবরত বেঠিক চিন্তা-ভাবনা থেকে সরে আসে। এ ধরনের (বেঠিক) চিন্তা-ভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি উত্তম পন্থা হলো- এমন কোনো কাজে রত থাকা যা একই সময়ে আনন্দদায়ক ও উপকারীও বটে।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 পৃথিবীটা এমনই

📄 পৃথিবীটা এমনই


একজন বিজ্ঞতম রোম সম্রাট ‘মার্কাস অরেলিয়াস’ একদিন বলেছেন– “আজ আমি এমন কিছু লোকের সাথে সাক্ষাৎ করব যারা বেশি কথা বলে, স্বার্থপর, বিরক্তি উৎপাদক তথা জঘন্য এবং যারা শুধুমাত্র নিজেদেরকেই ভালোবাসে। তবুও আমি বিরক্ত বা বিস্মিত হব না; কেননা, বাকি জগতটাকে আমি অন্যরকম মনে করি না।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 জীবনকে যতটা সংক্ষিপ্ত মনে করেন, তার চেয়েও সংক্ষিপ্ত

📄 জীবনকে যতটা সংক্ষিপ্ত মনে করেন, তার চেয়েও সংক্ষিপ্ত


ডেল কার্নেগী এক ক্ষতযুক্ত রোগীর গল্প বর্ণনা করেছিলেন, সে রোগীর ক্ষত বেড়ে গিয়ে মারাত্মক পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল, চিকিৎসকগণ তাকে বলেছিল যে, তার জীবনের খুব অল্প সময়ই আছে (অর্থাৎ সে খুব কম সময় বাঁচবে)। তারা তাকে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দাফন-কাফনের প্রস্তুতি গ্রহণ করাই তার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

হঠাৎ করে রোগী হানী (রোগীর নাম-হানী) এক স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল : সে মনে মনে ভাবল যে, জীবনে যদি তার এত অল্পসময়ই অবশিষ্ট থেকে থাকে তবে কেন এটাকে সর্বোচ্চ উপভোগ করব না? সে ভাবল, কতবারইনা আমার মৃত্যুর পূর্বেই পৃথিবীকে ভ্রমণ করার ইচ্ছা করেছি। আমার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার এটাই নিশ্চিত সুযোগ।” সে তার টিকেট ক্রয় করে নিল।

চিকিৎসকগণ যখন তার পরিকল্পনার কথা জানতে পারল তখন তারা বিস্মিত হয়ে গেল এবং তারা তাকে বলল, “আমরা বিধিমতে আপনার বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানাচ্ছি এবং আপনাকে সতর্ক করে দিচ্ছি : যদি আপনি এই ভ্রমণে অগ্রসর হন তবে আপনি মহাসাগরের তলদেশে কবরস্থ হবেন।” তাদের যুক্তি তর্ক বৃথা হয়ে গেল এবং তিনি শুধু বলেছিলেন “না, এমন কিছুই ঘটবে না। আমার পরিবারের সদস্যদেরকে আমি প্রতিজ্ঞাপূর্ণ চিত্তে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে আমি পারিবারিক গোরস্থানে কবরস্থ হওয়ার জন্য ফিরে আসব।”

এভাবে সে তার পরমোৎসাহ ও আনন্দের যাত্রা শুরু করল। সে তার স্ত্রীকে একথা বলে চিঠি লিখল যে, "আমি ভ্রমণ-জাহাজের সর্বাপেক্ষা মনোরম খাবার খাই। আমি কাব্য পড়ি এবং এ যাবত আমি যে সুস্বাদু চর্বিযুক্ত খাবার খেতাম না তা এখন খাই। আমি আমার পূর্বের গোটা জীবনে যে আনন্দ করছি এখন আমি তার চেয়ে বেশি জীবনকে উপভোগ করছি।"

ডেল কার্নেগী দাবি করেন যে, লোকটি তার রোগ থেকে মুক্ত হয়েছিল এবং সে যে উদ্দীপক পন্থা গ্রহণ করেছিল তা রোগ-শোক ও ব্যথা-বেদনা দূর করতে সক্ষম।

উপদেশ : সুখ, আনন্দ-স্ফূর্তি এবং শান্ত ভাব ও সৌম্যতা প্রায়ই চিকিৎসকদের বড়ির চেয়েও বেশি উপকারী।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 দিন বদলের সাথে ভালো-মন্দ পালাক্রমে আসে

📄 দিন বদলের সাথে ভালো-মন্দ পালাক্রমে আসে


বর্ণিত আছে যে, ইমাম আহমদ (রহ) বাকী ইবনে মুখাল্লিদকে তাঁর অসুস্থের সময় দেখতে গেলেন এবং তাঁকে বললেন-
"হে বাকী! আল্লাহর পুরস্কারের শুভ সংবাদে খুশি হও! সুস্থ থাকাকালীন দিনগুলো অসুস্থতা থেকে মুক্ত আর অসুস্থ থাকাকালীন দিনগুলো সুস্থতা থেকে মুক্ত।"

অর্থাৎ সুস্থতার সময়ে কেউ অসুস্থতার কথা কল্পনাও করে না, কেননা, তখন যেমনটি আশা করে তেমনটিই পরিকল্পনা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়। যাহোক, সাংঘাতিক অসুস্থতার সময়ে মানুষ সুস্থতার সময়ের বিষয়াদি ভুলে যায়।

দুর্বল হতাশা অসুস্থ আত্মার ভিতরেই পরিবেষ্টিত থাকে এবং এভাবেই হতাশা প্রবল হয়।

মহান আল্লাহ বলেছেন : "আর যদি আমি মানুষকে আমার পক্ষ থেকে রহমত আস্বাদন করাই, অতঃপর তার থেকে তা ছিনিয়ে নেই, তবে সে অবশ্যই হতাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়। আর যদি দুঃখ-কষ্ট তাকে স্পর্শ করার পর আমি তাকে সুখ-শান্তি আস্বাদন করাই তবে সে অবশ্যই বলবে যে, "আমার কাছ থেকে সব দুঃখ দূর হয়ে গেছে।" তখন সে নিশ্চয় উচ্ছৃঙ্খল ও অহংকারী হয়। তবে যারা ধৈর্য ধরে ও আমলে সালেহ করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।"

এ আয়াত কয়টির ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসীর লিখেছেন– "আল্লাহ মানুষের মন্দ চরিত্র সম্বন্ধে বর্ণনা দিচ্ছেন; তবে যেসব মুমিন বান্দাগণের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন তারা এর ব্যতিক্রম। সাধারণত মানুষ যদি স্বচ্ছলতার পর অভাব-অনটনে পড়ে তবে সে ভবিষ্যতে আদৌ কল্যাণ দেখা থেকে হতাশ হয়ে যায়। সে অতীত সম্বন্ধে ঘৃণা প্রদর্শন করে- যেন সে কখনো সুদিন ভোগ করেনি- এবং সে ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে হতাশ হয়ে যায় যেন সে কখনো উদ্ধার ও মুক্তির আশা করে না।"

যখন সে দুঃখ-কষ্ট অভাব-অনটনের পর স্বচ্ছলতার অভিজ্ঞতা লাভ করে তখন তার অবস্থা নিম্নরূপই হয়–

ذَهَبَ السَّيئَاتُ عَنِّي
“আমার কাছ থেকে সব দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে গেছে। (১১-সূরা হুদ : আয়াত-১০) অন্যকথায়, এরপর আমার উপর মন্দ কোনো কিছু‌ই আপতিত হবে না।”

“নিশ্চয় সে উচ্ছৃঙ্খল ও অহংকারী হয়।” (১১-সূরা হুদ : আয়াত-১০)

“তবে যারা ধৈর্য ধরে এবং আমলে সালেহ করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। (১১-সূরা হুদ : আয়াত-১১)

ফন্ট সাইজ
15px
17px