📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 নবীর সঙ্গী-সাথীদের সৌভাগ্য

📄 নবীর সঙ্গী-সাথীদের সৌভাগ্য


আমাদের নবী মুহাম্মাদ ﷺ সকল মানুষের নিকট জান্নাতী পয়গাম নিয়ে আগমন করেছেন। তিনি পার্থিব আকাঙ্ক্ষা দ্বারা পরিচালিত হতেন না। ব্যয় করার জন্য তার কোন ধন-ভাণ্ডার ছিল না। খাবার জন্য চমৎকার কোন (খেজুর) বাগান ছিল না; আর বসবাস করার জন্য কোন সুন্দর প্রাসাদ ও ছিল না। এতসব সত্ত্বেও তাঁর প্রিয় অনুসারীরা তার প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার দিয়েছেন, অবিচল থেকেছেন। সমস্যা-সঙ্কুল এক কঠিন জীবন সহ্য করেছেন। তারা ছিলেন গুটি কয়েকজন ও দুর্বল, তাদের প্রতিবেশীদের দ্বারা সমূলে বিনাশ হয়ে যাবার ফয়ে ভীত, তবুও তাঁরা নবী করীম ﷺ-কে পুরোপুরি ভালোবাসতেন।

তাঁদেরকে গিরিপথে বন্দি করা হয়েছিল। আর সে সময়ে তাঁদের নিকট অল্প খাদ্য ছিল বা কোন খাদ্য ছিল না। তাঁদের সুখ্যাতি আক্রান্ত হয়েছিল; তাঁদের নিজেদের আত্মীয়রাই তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছিল, তবুও নবী করীম ﷺ-এর প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ছিল নিষ্কলুষ।

তাঁদের কাউকে মরুভূমির তপ্ত বালুর উপর ফেলে হেঁচড়ানো হয়েছিল, কিছু লোককে বন্দি করা হয়েছিল আর অন্যরা নতুন নতুন ও অদ্ভুত অদ্ভুত শাস্তির শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এসব শাস্তিই তাঁদেরকে কাফেররা দিয়েছিল। তাঁরা ঐসব শাস্তি সহ্য করতে বাধ্য হয়েও তাঁকে সর্বান্তকরণে মন খুলে ভালোবেসেছিলেন।

তাঁরা ঘর-বাড়ি, স্বদেশ, পরিবার ও সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। তাঁরা তাদের বাল্যকালের খেলার মাঠ ও ফত বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। এসব ভোগান্তি সত্ত্বেও তাঁকে স্বাধীনভাবে ভালোবেসেছেন তাঁরা।

তাঁর (নবুয়তের) সংবাদের কারণেই ঈমানদারগণ অগ্নিপরীক্ষার শিকার হয়েছিলেন। তাঁদের পদতলের ভূমি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠেছিল। তবুও তাঁর প্রতি তাঁদের ভালোবাসা অনবরত বাড়ছিলই।

তাঁদের যৌবনের বসন্ত শত্রুর শিরোপরি সদা বিপজ্জনকভাবে তরবারি ঝুলন্ত ছিল। তাঁরা শুধুমাত্র তাঁকে নিঃশর্তভাবে ভালোবাসত বলেই এমন মৃদুভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে (যুদ্ধের ময়দানে) মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেছেন, যেন তাঁরা প্রমোদ ভ্রমণে বা অবসর যাপনে ছিলেন।

একজন সাহাবীকে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের সংবাদ বিদেশে এক রাজার নিকট নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হলো। অথচ তিনি জানতেন যে, এটা এমন এক কাজ যা থেকে তিনি ফিরে আসবেন না। আরেকজন সাহাবীকে এক কাজে পাঠানো হলো। তিনি জানতেন যে, এটা তাঁর মৃত্যুর কারণ হবে, তবুও তিনি সন্তুষ্টচিত্তে সে কাজে গেলেন। কারণ, তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিরঙ্কুশ ভালোবাসতেন।

কিন্তু কেন তাঁরা তাঁকে ভালোবাসতেন এবং কেন তাঁরা তাঁর নবুওয়তে এত সন্তুষ্ট ও তাঁর আদর্শে এত পরিতুষ্ট ছিলেন? কেন তাঁরা তাঁকে অনুসরণ করাতে যে দুঃখ-কষ্ট ও ভোগান্তি হয়েছে তা ভুলে গিয়েছেন?

এক কথায় বা সহজভাবে এর কারণ বলতে হয় যে, তিনি বদান্যতার ও ধার্মিকতার সর্বোচ্চ শিখর অধিকার করেছিলেন। তাঁরা তাঁর মাঝে সত্য ও বিশুদ্ধতার সব লক্ষণ দেখতে পেয়েছিলেন। যাঁরা মহত্তর জিনিসের সন্ধান করেছিলেন, তিনি তাদের জন্য নমুনা ছিলেন। তিনি তাঁর কোমলতার দ্বারা মানুষের মনের হিংসা-বিদ্বেষ, ঘৃণা ও তিক্ততা শীতল করে দিয়েছিলেন। সত্য বাণী দিয়ে তিনি তাঁদের অন্তরকে শান্ত করে দিয়েছিলেন ও তাঁর রিসালাত দ্বারা তিনি তাঁদের অন্তরসমূহকে শান্তিতে ভরে নিয়েছিলেন।

তিনি তাঁদের অন্তরে এত শান্তি ঢেলে দিয়েছিলেন যে, তাঁরা তাঁর পাশে থাকার কারণে যে যাতনা ভোগ করেছিলেন, তা তাঁরা তুচ্ছ মনে করেছিলেন। তিনি তাঁদের অন্তরে এমন ঈমান বা বিশ্বাস সঞ্চার করেছিলেন যে, তাঁরা যে আঘাত ও প্রতিকূল অবস্থা সহ্য করতে বাধ্য হয়েছিলেন, তা তাঁরা ভুলে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের ভিতরকে হিদায়াতের আলো দ্বারা ঝলমলে চকচকে করে দিয়েছিলেন ও তাঁদের চক্ষুসমূহকে তাঁর নূরে নূরান্বিত বা তাঁর আলোতে আলোকিত করে দিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের থেকে মূর্খতার বোঝা, মূর্তিপূজার বিকৃত কৃষ্টি এবং বহু-ঈশ্বরবাদের কুফল দূর করে দিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষের আগুন নিভিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁদের অন্তরে ঈমানের পানি ঢেলে দিয়েছেন। এভাবে তাঁদের দেহমন প্রশান্ত হয়েছিল ও তাঁদের আত্মা শান্তি পেয়েছিল।

তারা নবী করীম ﷺ-এর সাথে থেকে জীবনের স্বাদ উপলব্ধি করেছেন এবং তাঁরা তাঁর সাহচর্যে পুলক বোধ করেছিলেন বা আনন্দ পেয়েছিলেন। তাঁরা তাঁর পাশে থেকে সুখ এবং তাঁর অনুসরণে নিরাপত্তা, মুক্তি ও আত্মসমৃদ্ধি পেয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন-

“এবং আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ) সারা বিশ্বের জন্য রহমত বা করুণাস্বরূপ প্রেরণ করেছি।” (২১-সূরা : আল আম্বিয়া : আয়াত-১০৭)

“এবং অবশ্যই তুমি (মানবজাতিকে) সরল পথ দেখাও।” (৪২-সূরা আশ শূরা : আয়াত-৫২)

“এবং তিনি স্বেচ্ছায় তাঁদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে (নিয়ে যান)।” (৫-সূরা মায়িদা : আয়াত-১৬)

“তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে তাঁদের মাঝে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন যিনি তাঁদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করেন, তাঁদেরকে (কুফুরি ও শিরক থেকে) পবিত্র করেন এবং তাঁদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং নিশ্চয় তারা পূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল।” (৬২-সূরা আল জুমুআ : আয়াত-২)

“তাদের উপরে যে বোঝা ও শৃঙ্খলা ছিল, তিনি তাদের থেকে তা সরিয়ে দেন।” (৭-সূরা আল আ’রাফ : আয়াত-১৫৭)

“যখন তিনি তোমাদেরকে এমন বিষয়ের দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদের প্রাণ সঞ্চার করে তখন তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আহ্বানে সাড়া দাও।” (৮-সূরা আনফাল : আয়াত-২৪)

তারা তাঁদের নেতার সাথে থেকে সত্যিই সুখী ছিলেন এবং তাঁরা যথার্থই সুখী হওয়ার যোগ্য ছিলেন।

হে আল্লাহ! বিপথ গমনের শৃঙ্খল হতে আত্মার মুক্তিদাতা ও মিথ্যার অভিশাপ থেকে আত্মার উদ্ধারকারী মুহাম্মাদের উপর করুণা ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং তাঁর মহান সাহাবীদের সংগ্রাম ও প্রচেষ্টার প্রতিদানস্বরূপ তাঁদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 মন যখন আনমনা

📄 মন যখন আনমনা


টমাস এডিসন বলেছেন- “চিন্তা থেকে পলায়ন করার কোনো ফন্দি নেই।”

অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই বর্ণনার যথার্থতার নিশ্চয়তা দিতে পারা যায়। কারণ, এমনকি লেখা-পড়ার সময়ও মানুষ অনবরত বেঠিক চিন্তা-ভাবনা থেকে সরে আসে। এ ধরনের (বেঠিক) চিন্তা-ভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি উত্তম পন্থা হলো- এমন কোনো কাজে রত থাকা যা একই সময়ে আনন্দদায়ক ও উপকারীও বটে।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 পৃথিবীটা এমনই

📄 পৃথিবীটা এমনই


একজন বিজ্ঞতম রোম সম্রাট ‘মার্কাস অরেলিয়াস’ একদিন বলেছেন– “আজ আমি এমন কিছু লোকের সাথে সাক্ষাৎ করব যারা বেশি কথা বলে, স্বার্থপর, বিরক্তি উৎপাদক তথা জঘন্য এবং যারা শুধুমাত্র নিজেদেরকেই ভালোবাসে। তবুও আমি বিরক্ত বা বিস্মিত হব না; কেননা, বাকি জগতটাকে আমি অন্যরকম মনে করি না।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 জীবনকে যতটা সংক্ষিপ্ত মনে করেন, তার চেয়েও সংক্ষিপ্ত

📄 জীবনকে যতটা সংক্ষিপ্ত মনে করেন, তার চেয়েও সংক্ষিপ্ত


ডেল কার্নেগী এক ক্ষতযুক্ত রোগীর গল্প বর্ণনা করেছিলেন, সে রোগীর ক্ষত বেড়ে গিয়ে মারাত্মক পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল, চিকিৎসকগণ তাকে বলেছিল যে, তার জীবনের খুব অল্প সময়ই আছে (অর্থাৎ সে খুব কম সময় বাঁচবে)। তারা তাকে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দাফন-কাফনের প্রস্তুতি গ্রহণ করাই তার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

হঠাৎ করে রোগী হানী (রোগীর নাম-হানী) এক স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল : সে মনে মনে ভাবল যে, জীবনে যদি তার এত অল্পসময়ই অবশিষ্ট থেকে থাকে তবে কেন এটাকে সর্বোচ্চ উপভোগ করব না? সে ভাবল, কতবারইনা আমার মৃত্যুর পূর্বেই পৃথিবীকে ভ্রমণ করার ইচ্ছা করেছি। আমার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার এটাই নিশ্চিত সুযোগ।” সে তার টিকেট ক্রয় করে নিল।

চিকিৎসকগণ যখন তার পরিকল্পনার কথা জানতে পারল তখন তারা বিস্মিত হয়ে গেল এবং তারা তাকে বলল, “আমরা বিধিমতে আপনার বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানাচ্ছি এবং আপনাকে সতর্ক করে দিচ্ছি : যদি আপনি এই ভ্রমণে অগ্রসর হন তবে আপনি মহাসাগরের তলদেশে কবরস্থ হবেন।” তাদের যুক্তি তর্ক বৃথা হয়ে গেল এবং তিনি শুধু বলেছিলেন “না, এমন কিছুই ঘটবে না। আমার পরিবারের সদস্যদেরকে আমি প্রতিজ্ঞাপূর্ণ চিত্তে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে আমি পারিবারিক গোরস্থানে কবরস্থ হওয়ার জন্য ফিরে আসব।”

এভাবে সে তার পরমোৎসাহ ও আনন্দের যাত্রা শুরু করল। সে তার স্ত্রীকে একথা বলে চিঠি লিখল যে, "আমি ভ্রমণ-জাহাজের সর্বাপেক্ষা মনোরম খাবার খাই। আমি কাব্য পড়ি এবং এ যাবত আমি যে সুস্বাদু চর্বিযুক্ত খাবার খেতাম না তা এখন খাই। আমি আমার পূর্বের গোটা জীবনে যে আনন্দ করছি এখন আমি তার চেয়ে বেশি জীবনকে উপভোগ করছি।"

ডেল কার্নেগী দাবি করেন যে, লোকটি তার রোগ থেকে মুক্ত হয়েছিল এবং সে যে উদ্দীপক পন্থা গ্রহণ করেছিল তা রোগ-শোক ও ব্যথা-বেদনা দূর করতে সক্ষম।

উপদেশ : সুখ, আনন্দ-স্ফূর্তি এবং শান্ত ভাব ও সৌম্যতা প্রায়ই চিকিৎসকদের বড়ির চেয়েও বেশি উপকারী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px