📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ব্যথার দান

📄 ব্যথার দান


দুঃখ-বেদনা সর্বদাই ঋণাত্মক শক্তি নয় এবং এমন কিছু নয় যাকে সর্বদা আপনার ঘৃণা করা উচিত। কখনো কখনো মানুষ ব্যথাবোধ করে উপকৃত হয়।

আপনি স্মরণ করতে পারেন যে, কখনও কখনও আপনি দুঃখবোধ করলে আল্লাহর নিকট আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করেছেন ও তাঁকে স্মরণ করেছেন। ছাত্র থাকাকালে প্রায়ই বিরাট বোঝার বেদনা (আতঙ্ক) বোধ করে। মাঝে মাঝে সম্ভবত একঘেয়েমির বোঝার আতঙ্কে ভোগে, তবুও অবশেষে সে ছাত্র জীবনের এ স্তর শেষ করে। শুরুতে সে ব্যথা-ভারাক্রান্তবোধ করে। কিন্তু শেষে সে প্রসিদ্ধি লাভ করে।

প্রচন্ড আবেগের ব্যথা-বেদনা, দারিদ্র্য; অন্যের অবজ্ঞা, ঘৃণা, অবিচার পেয়ে অত্যাচারিত হয়ে হতাশা ও ক্রোধ এসব কিছুই কবিকে সাবলীল ও বিমোহিতকারী কবিতার চরণ লিখতে বাধ্য করে। কারণ, সে তার হৃদয়ে, তার মজ্জাতে যাতনা বোধ করে, ফলে তার কাজের (কবিতার) মাধ্যমে সে একই আবেগ অন্যের অন্তরে সঞ্চারিত করতে সক্ষম হয়। উত্তম লেখকদের কতই না বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা লাভ করতে হয়েছে- যে সব অভিজ্ঞতা চমৎকার কাজের (কবিতার, গল্পের, উপন্যাস ইত্যাদির) অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে-যেসব কাজ থেকে আজও উত্তর পুরুষেরা অনবরত আনন্দ ও উপকার লাভ করছে।

যে ছাত্র আরাম-আয়েশের জীবন কাটায় ও কষ্টভোগ করেনি বা যে ছাত্র কখনও দুর্দশাগ্রস্ত হয়নি সে অনুপযোগী, অলস ও নিকৃষ্ট হবে।

বাস্তবিক, যে কবি কোন দুঃখ-বেদনার কথা জানে না, কখনও আশা ভঙ্গের তীব্র অভিজ্ঞতার স্বাদ গ্রহণ করেনি, সে অতি অবশ্যই সাদা শব্দের গাদাগাদা স্তূপ রচনা করবে। এটা এ কারণে যে, তার শব্দাবলী তার মুখ থেকে বেরোয়- তার আবেগ-অনুভূতি থেকে নিঃসৃত হয় না এবং যা সে লিখেছে, যদিও সে তা বুঝে তবুও তার দেহ-মন জীবনে অভিজ্ঞতা লাভ করেনি।

প্রাথমিক যুগের মুমিনদের জীবন পূর্বোল্লিখিত উদাহরণসমূহের সাথে অধিকতর উপযুক্ত ও যুক্তিসঙ্গত। তারা কুরআন অবতীর্ণকালে জীবন যাপন করছিলেন এবং মানবজাতি চিরকালের দৃষ্ট সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বাস্তবিকপক্ষে, পরবর্তীকালের তুলনায় তাদের অধিকতর বেশি ঈমান, মহত্তর আত্মা, অধিকতর সত্যবাদী জবান এবং গভীরতর জ্ঞান ছিল- তাঁদের এসব থাকার কারণ হলো- তাঁরা দুঃখ-কষ্ট ও ভোগান্তির মধ্য দিয়ে বেঁচে ছিলেন। দুঃখ-কষ্ট ও ভোগান্তি এতদুভয়ই মহাবিপ্লবের প্রয়োজনীয় সহগামী। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, প্রত্যাখ্যান, গালি-গালাজ, বাড়ি-ঘর ও স্বদেশ থেকে বিতাড়ন, সকল আনন্দ বিসর্জন, আঘাত, অত্যাচার ও মৃত্যু যন্ত্রণা তাঁরা ভোগ করেছিলেন। সত্যিই তাঁরা বাছাইকৃত, মানবজাতির সর্বাধিক অভিজাত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁরা বিশুদ্ধতা, মহত্ত্ব ও উৎসর্গের নমুনা ছিলেন।

ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ لَا يُصِيبُهُمْ ظَمَأٌ وَلَا نَصَبٌ وَلَا مَخْمَصَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَطَئُونَ مَوْطِئًا يَغِيظُ الْكُفَّارَ وَلَا يَنَالُونَ مِنْ عَدُوٍّ نَيْلًا إِلَّا كُتِبَ لَهُم بِهِ عَمَلٌ صَالِحٌ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ .

‘‘কারণ আল্লাহর পথে তাদের তৃষ্ণা, ক্লান্তি, ক্ষুধায় কাতর হওয়া, কাফেরদের ক্রোধ উদ্রেক করে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং শত্রুদের পক্ষ থেকে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া তাদের আমলনামায় সৎকর্মরূপে লিখিত হয়। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের কর্মফল নষ্ট করেন না।’’ (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-১২০)

পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন, যারা তাদের মহত্তম কর্ম (রচনা) দুঃখকষ্ট ও ভোগান্তির অভিজ্ঞতা লাভ করার কারণেই সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন। আরবী বিখ্যাত কবি মুতানাব্বি যখন সাংঘাতিক জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন তখন তিনি তার কিছু উত্তম কাব্য রচনা করেছিলেন। নুমান ইবনে মুনযির যখন নাবিগাহকে মৃত্যু ভয় দেখিয়েছিলেন, তখনই নাবিগাহ তার কিছু সর্বোত্তম কাব্য রচনা করেছিলেন। যে প্রসিদ্ধ পংক্তিটি তিনি বলেছিলেন তা হলো-

فَإِنَّكَ شَمْسٌ وَالْمُلُوكُ كَوَاكِبٌ * إِذَا أَظْلَمَتْ لَمْ يَبْدُ مِنْهُنَّ كَوْكَبُ.

ভাবানুবাদ: আপনি হলেন সূর্য আর সব রাজারা তারকা, উদিত হলে সূর্য, দেখা যায় না একটিও তারকা।

বাস্তবিক, যাতনার অভিজ্ঞতা লাভ করার ফল যারা সাফল্যমন্ডিত হয়েছে ও কৃতিত্ব অর্জন করেছে তাদের অনেক উদাহরণ আছে।

সুতরাং, যখন আপনি যাতনার কথা ভাবেন, তখন অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হয়ে যাবেন না। এমনটা যুক্তিসঙ্গতভাবেই হতে পারে যে, দুঃখ-কষ্ট ও ভোগান্তির মধ্য দিয়ে আপনি আরো শক্তিশালী হবেন। তাছাড়া আপনার জন্য দমিত, জলন্ত ও আবেগপ্রবণ আস্থা নিয়ে বেঁচে থাকা শীতল আস্থা ও অদূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গীযুক্ত লোকের উদাসীন অস্তিত্ব নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে অধিকতর পবিত্র ও মহৎ।

“কিন্তু আল্লাহ তাদের অভিযানে প্রেরিত হওয়াকে অপছন্দ করলেন। তাই তাদেরকে পিছনে বসিয়ে রাখলেন এবং তাদেরকে বলা হলো, ‘যারা বসে আছে তাদের সাথে বসে থাক’।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৪৬)

আবেগে ভরপুর ওয়াজ-নসিহতের শব্দাবলি সাধারণত এই কারণে অন্তরের অন্তঃস্থলে পৌঁছে যেতে পারে যে, নসিহতকারী নিজেই দুঃখ-কষ্ট ও ভোগান্তির অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন।

“তিনি তাদের অন্তরে যা ছিল তা জেনেছেন এবং তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ করেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরস্কার দিলেন।” (৪৮-সূরা আল ফাতহ : আয়াত-১৮)

আমি বহু কাব্যগ্রন্থ পড়েছি এবং তাদের অধিকাংশই আবেগহীন, প্রাণহীন বা প্রেরণাহীন। এর কারণ হলো যে, এসব গ্রন্থের রচয়িতারা কখনও কষ্টভোগ করেননি এবং এ কারণে যে ঐ পুস্তকগুলো আরামদায়ক পরিবেশে সৃজন করা হয়েছে। এ কারণেই এ ধরনের লেখকদের লেখা বরফ খণ্ডের মতো ঠাণ্ডা।

ওয়াজ-নসিহতে ভরা এমন অনেক কিতাব আমি পড়েছি যেগুলো শ্রোতার শরীরের একটি পশমেও শিহরণ জাগাতে পারে না এবং সেগুলোর এক অণু পরিমাণ ওজনও নেই। বক্তা (যার ওয়াজ ছাপানো হয়েছে) আবেগ-অনুভূতি নিয়ে অন্য কথায় ব্যথা-বেদনাসহ কথা বলছেন না (তাই এমনটি হচ্ছে)।

يَقُولُونَ بِأَفْوَاهِهِم مَّا لَيْসَ فِي قُلُوبِهِمْ ۚ
“তাদের অন্তরে যা নেই তা তারা মুখে বলে।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৮৭)

আপনি যদি আপনার কথা, কাব্য অথবা কাজ দ্বারাও অন্যদেরকে প্রভাবিত করতে চান, তবে প্রথমে আপনার অন্তরের আবেগকে অনুভব করুন। অন্যকে আপনি যা জানাতে চাচ্ছেন, তা দিয়ে আপনার নিজেকে অবশ্যই শিহরিত হতে হবে। কেবলমাত্র তখনই আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনি অন্যদের উপর প্রভাব ফেলছেন।

“কিন্তু, যখন আমি এর উপর বৃষ্টি বর্ষণ করলাম, তখন এটা নড়ে-চড়ে, ফুলে-ফেঁপে উদ্গত হলো।” (২২-সূরা আল হাজ্জ : আয়াত-৫)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 নবীর সঙ্গী-সাথীদের সৌভাগ্য

📄 নবীর সঙ্গী-সাথীদের সৌভাগ্য


আমাদের নবী মুহাম্মাদ ﷺ সকল মানুষের নিকট জান্নাতী পয়গাম নিয়ে আগমন করেছেন। তিনি পার্থিব আকাঙ্ক্ষা দ্বারা পরিচালিত হতেন না। ব্যয় করার জন্য তার কোন ধন-ভাণ্ডার ছিল না। খাবার জন্য চমৎকার কোন (খেজুর) বাগান ছিল না; আর বসবাস করার জন্য কোন সুন্দর প্রাসাদ ও ছিল না। এতসব সত্ত্বেও তাঁর প্রিয় অনুসারীরা তার প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার দিয়েছেন, অবিচল থেকেছেন। সমস্যা-সঙ্কুল এক কঠিন জীবন সহ্য করেছেন। তারা ছিলেন গুটি কয়েকজন ও দুর্বল, তাদের প্রতিবেশীদের দ্বারা সমূলে বিনাশ হয়ে যাবার ফয়ে ভীত, তবুও তাঁরা নবী করীম ﷺ-কে পুরোপুরি ভালোবাসতেন।

তাঁদেরকে গিরিপথে বন্দি করা হয়েছিল। আর সে সময়ে তাঁদের নিকট অল্প খাদ্য ছিল বা কোন খাদ্য ছিল না। তাঁদের সুখ্যাতি আক্রান্ত হয়েছিল; তাঁদের নিজেদের আত্মীয়রাই তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছিল, তবুও নবী করীম ﷺ-এর প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ছিল নিষ্কলুষ।

তাঁদের কাউকে মরুভূমির তপ্ত বালুর উপর ফেলে হেঁচড়ানো হয়েছিল, কিছু লোককে বন্দি করা হয়েছিল আর অন্যরা নতুন নতুন ও অদ্ভুত অদ্ভুত শাস্তির শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এসব শাস্তিই তাঁদেরকে কাফেররা দিয়েছিল। তাঁরা ঐসব শাস্তি সহ্য করতে বাধ্য হয়েও তাঁকে সর্বান্তকরণে মন খুলে ভালোবেসেছিলেন।

তাঁরা ঘর-বাড়ি, স্বদেশ, পরিবার ও সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। তাঁরা তাদের বাল্যকালের খেলার মাঠ ও ফত বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। এসব ভোগান্তি সত্ত্বেও তাঁকে স্বাধীনভাবে ভালোবেসেছেন তাঁরা।

তাঁর (নবুয়তের) সংবাদের কারণেই ঈমানদারগণ অগ্নিপরীক্ষার শিকার হয়েছিলেন। তাঁদের পদতলের ভূমি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠেছিল। তবুও তাঁর প্রতি তাঁদের ভালোবাসা অনবরত বাড়ছিলই।

তাঁদের যৌবনের বসন্ত শত্রুর শিরোপরি সদা বিপজ্জনকভাবে তরবারি ঝুলন্ত ছিল। তাঁরা শুধুমাত্র তাঁকে নিঃশর্তভাবে ভালোবাসত বলেই এমন মৃদুভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে (যুদ্ধের ময়দানে) মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেছেন, যেন তাঁরা প্রমোদ ভ্রমণে বা অবসর যাপনে ছিলেন।

একজন সাহাবীকে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের সংবাদ বিদেশে এক রাজার নিকট নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হলো। অথচ তিনি জানতেন যে, এটা এমন এক কাজ যা থেকে তিনি ফিরে আসবেন না। আরেকজন সাহাবীকে এক কাজে পাঠানো হলো। তিনি জানতেন যে, এটা তাঁর মৃত্যুর কারণ হবে, তবুও তিনি সন্তুষ্টচিত্তে সে কাজে গেলেন। কারণ, তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিরঙ্কুশ ভালোবাসতেন।

কিন্তু কেন তাঁরা তাঁকে ভালোবাসতেন এবং কেন তাঁরা তাঁর নবুওয়তে এত সন্তুষ্ট ও তাঁর আদর্শে এত পরিতুষ্ট ছিলেন? কেন তাঁরা তাঁকে অনুসরণ করাতে যে দুঃখ-কষ্ট ও ভোগান্তি হয়েছে তা ভুলে গিয়েছেন?

এক কথায় বা সহজভাবে এর কারণ বলতে হয় যে, তিনি বদান্যতার ও ধার্মিকতার সর্বোচ্চ শিখর অধিকার করেছিলেন। তাঁরা তাঁর মাঝে সত্য ও বিশুদ্ধতার সব লক্ষণ দেখতে পেয়েছিলেন। যাঁরা মহত্তর জিনিসের সন্ধান করেছিলেন, তিনি তাদের জন্য নমুনা ছিলেন। তিনি তাঁর কোমলতার দ্বারা মানুষের মনের হিংসা-বিদ্বেষ, ঘৃণা ও তিক্ততা শীতল করে দিয়েছিলেন। সত্য বাণী দিয়ে তিনি তাঁদের অন্তরকে শান্ত করে দিয়েছিলেন ও তাঁর রিসালাত দ্বারা তিনি তাঁদের অন্তরসমূহকে শান্তিতে ভরে নিয়েছিলেন।

তিনি তাঁদের অন্তরে এত শান্তি ঢেলে দিয়েছিলেন যে, তাঁরা তাঁর পাশে থাকার কারণে যে যাতনা ভোগ করেছিলেন, তা তাঁরা তুচ্ছ মনে করেছিলেন। তিনি তাঁদের অন্তরে এমন ঈমান বা বিশ্বাস সঞ্চার করেছিলেন যে, তাঁরা যে আঘাত ও প্রতিকূল অবস্থা সহ্য করতে বাধ্য হয়েছিলেন, তা তাঁরা ভুলে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের ভিতরকে হিদায়াতের আলো দ্বারা ঝলমলে চকচকে করে দিয়েছিলেন ও তাঁদের চক্ষুসমূহকে তাঁর নূরে নূরান্বিত বা তাঁর আলোতে আলোকিত করে দিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের থেকে মূর্খতার বোঝা, মূর্তিপূজার বিকৃত কৃষ্টি এবং বহু-ঈশ্বরবাদের কুফল দূর করে দিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষের আগুন নিভিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁদের অন্তরে ঈমানের পানি ঢেলে দিয়েছেন। এভাবে তাঁদের দেহমন প্রশান্ত হয়েছিল ও তাঁদের আত্মা শান্তি পেয়েছিল।

তারা নবী করীম ﷺ-এর সাথে থেকে জীবনের স্বাদ উপলব্ধি করেছেন এবং তাঁরা তাঁর সাহচর্যে পুলক বোধ করেছিলেন বা আনন্দ পেয়েছিলেন। তাঁরা তাঁর পাশে থেকে সুখ এবং তাঁর অনুসরণে নিরাপত্তা, মুক্তি ও আত্মসমৃদ্ধি পেয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন-

“এবং আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ) সারা বিশ্বের জন্য রহমত বা করুণাস্বরূপ প্রেরণ করেছি।” (২১-সূরা : আল আম্বিয়া : আয়াত-১০৭)

“এবং অবশ্যই তুমি (মানবজাতিকে) সরল পথ দেখাও।” (৪২-সূরা আশ শূরা : আয়াত-৫২)

“এবং তিনি স্বেচ্ছায় তাঁদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে (নিয়ে যান)।” (৫-সূরা মায়িদা : আয়াত-১৬)

“তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে তাঁদের মাঝে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন যিনি তাঁদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করেন, তাঁদেরকে (কুফুরি ও শিরক থেকে) পবিত্র করেন এবং তাঁদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং নিশ্চয় তারা পূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল।” (৬২-সূরা আল জুমুআ : আয়াত-২)

“তাদের উপরে যে বোঝা ও শৃঙ্খলা ছিল, তিনি তাদের থেকে তা সরিয়ে দেন।” (৭-সূরা আল আ’রাফ : আয়াত-১৫৭)

“যখন তিনি তোমাদেরকে এমন বিষয়ের দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদের প্রাণ সঞ্চার করে তখন তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আহ্বানে সাড়া দাও।” (৮-সূরা আনফাল : আয়াত-২৪)

তারা তাঁদের নেতার সাথে থেকে সত্যিই সুখী ছিলেন এবং তাঁরা যথার্থই সুখী হওয়ার যোগ্য ছিলেন।

হে আল্লাহ! বিপথ গমনের শৃঙ্খল হতে আত্মার মুক্তিদাতা ও মিথ্যার অভিশাপ থেকে আত্মার উদ্ধারকারী মুহাম্মাদের উপর করুণা ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং তাঁর মহান সাহাবীদের সংগ্রাম ও প্রচেষ্টার প্রতিদানস্বরূপ তাঁদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 মন যখন আনমনা

📄 মন যখন আনমনা


টমাস এডিসন বলেছেন- “চিন্তা থেকে পলায়ন করার কোনো ফন্দি নেই।”

অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই বর্ণনার যথার্থতার নিশ্চয়তা দিতে পারা যায়। কারণ, এমনকি লেখা-পড়ার সময়ও মানুষ অনবরত বেঠিক চিন্তা-ভাবনা থেকে সরে আসে। এ ধরনের (বেঠিক) চিন্তা-ভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি উত্তম পন্থা হলো- এমন কোনো কাজে রত থাকা যা একই সময়ে আনন্দদায়ক ও উপকারীও বটে।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 পৃথিবীটা এমনই

📄 পৃথিবীটা এমনই


একজন বিজ্ঞতম রোম সম্রাট ‘মার্কাস অরেলিয়াস’ একদিন বলেছেন– “আজ আমি এমন কিছু লোকের সাথে সাক্ষাৎ করব যারা বেশি কথা বলে, স্বার্থপর, বিরক্তি উৎপাদক তথা জঘন্য এবং যারা শুধুমাত্র নিজেদেরকেই ভালোবাসে। তবুও আমি বিরক্ত বা বিস্মিত হব না; কেননা, বাকি জগতটাকে আমি অন্যরকম মনে করি না।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px