📄 প্রচণ্ড ও অদম্য প্রেমের কিছু ঔষধ
১. “আমি তাঁর থেকে মন্দ কর্ম ও অশ্লীলতা দূরে রাখার জন্য এরূপ নিদর্শন দেখিয়েছিলাম।” (১২-সূরা ইউসুফ: আয়াত-২৪)
২. অধিকতরও একনিষ্ঠ হয়ে আপনার ইবাদতকে উন্নত করার জন্য কঠোর সাধনা করুন।
৩. আপনার দৃষ্টিকে নত (বা নিচের দিকে) রাখুন। وَيَحفظُوا فُرُوجَهُمْ ... “আর যে সব নর-নারীরা নিজেদের যৌনাঙ্গকে (অবৈধ যৌনক্রিয়া থেকে) হেফাজত রাখে।” (২৩-সূরা নূর: আয়াত-৩০-৩১) আপনার প্রেমাস্পদকে দূরে কোথাও চলুন।
৪. আমলে সালেহ, নেক আমল, পুণ্যকর্ম, সৎকাজ বা ভালো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। “নিশ্চয় তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত, আমাকে আশা ও ভয়ের সাথে ডাকত এবং তারা আমার তরে বিনীত ছিল।” (২১-সূরা আম্বিয়া: আয়াত-৯০)
৫. বৈধ আমোদ-আহলাদ করুন। অর্থাৎ শরীয়তসম্মত আনন্দ-ফূর্তি করুন।
فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ. “তাহলে তোমাদের পছন্দনীয় নারীকে বিবাহ কর।” (৪-সূরা নিসা: আয়াত ৩)
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا. “এবং তাঁর নিদর্শনাবলির একটি এই যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন যাতে করে তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও।” (৩০-সূরা আর রুম: আয়াত-২১)
নবী করীম ﷺ বলেছেন- يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ. “হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে।”
📄 ভ্রাতৃত্বের অধিকার
আপনার মুসলিম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতকালে তার প্রিয় নামে তাকে ডাকুন এবং হাসিমুখে তাকে সালাম দিন।
تَبَسُّمُكَ فِي وَجْهِ أَخِيكَ صَدَقَةٌ. “আপনার ভাইয়ের সামনে আপনার হাসিমুখ সদকাতুল্য।”
আপনার সাথে কথা বলতে তাকে উৎসাহ দিন অর্থাৎ তার সম্বন্ধে ও তার জীবন সম্বন্ধে কথা বলতে তাকে সুযোগ দিন। তাকে তার অবস্থা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করুন, তবে শুধুমাত্র সেসব বিষয় সম্বন্ধেই জিজ্ঞাসা করুন যেগুলো তাকে অপ্রস্তুত ও অপ্রতীত করবে না。
مَّن لَّমْ يَهْتَمَّ بِأَمْرِ الْمُسْلِمِينَ فَلَيْسَ مِنْهُمْ. “যে ব্যক্তি মুসলমানদের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করেনা বা খোঁজ-খবর নেয় না সে তাদের দলভুক্ত নয়।” (মুসলমান নয়)
وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ. “মু'মিন নর-নারীরা একে অপরের বন্ধু, সাহায্যকারী, রক্ষাকারী ও অভিভাবক।”
তাকে তিরস্কার বা গালি দিবেন না বা অতীত ভুলের খোঁটা দিবেন না এবং তাকে নিয়ে তামাসা করে কষ্ট দিবেন না।
لَا تُمَارِ أَخَاكَ وَلَا تُمَازِحْهُ وَلَا تَعِدْهُ مَوْعِدًا فَتُخْلِفَهُ. “আপনার ভাইয়ের সাথে তর্ক করবেন না, তাকে নিয়ে তামাসা করবেন না এবং ওয়াদা দিয়ে তা ভঙ্গ করবেন না।”
📄 নারী জাতির প্রতি কোমল থাকুন
وَعَاشِرُوْهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ. “এবং তাদের সাথে তোমরা সদ্ভাবে বা সম্মানজনকভাবে জীবন যাপন কর।” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-১৯)
"এবং তিনি তোমাদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা ও করুণার সৃষ্টি করেছেন!" (৩০-সূরা আর রুম : আয়াত-২১)
আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন- اِسْتَوْصُوْا بِالنِّসَاءِ خَيْرًا فَإِنَّهُনَّ عِنْدَكُمْ عُوَانٍ. ভাবার্থ : “নারীদের হিতাকাঙ্ক্ষী হও, কেননা, তারা তোমাদের হাতে বন্দী।”
خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي.
ভাবার্থ : “তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম যে তার পরিবারের জন্য ভালো আর আমি আমার পরিবারের জন্য তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।”
সুখী পরিবার প্রেম-ভালোবাসা, সন্তুষ্টি ও পরিতৃপ্তি এবং মহান আল্লাহ্র ভয়ে পূর্ণ থাকে।
“তবে কি সে উত্তম যে নাকি আল্লাহ্র ভয় ও সংশ্লিষ্ট তাঁর সন্তুষ্টির উপর নিজের ভিত্তি স্থাপন করে, নাকি সে উত্তম যে নাকি খাদ্যশস্য বিহীন সুদৃঢ় কিনারায় তার ভিত্তি স্থাপন করে, ফলে তা তাকে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে ঝলসে পড়ে? আর আল্লাহ্ জালিমদের হিদায়াতও (সঠিক পথ প্রদর্শন) করেন না।” (৬-সূরা তাওবা : আয়াত-১০৯)
জালিম বলতে বুঝায় নিষ্ঠুর, হিংস্র, অহংকারী, মুশরিক (বহু ইশ্বরবাদী বা অংশীবাদী) এবং অন্যায়কারী ও অত্যাচারী।