📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 রূপের প্রেমে মুগ্ধ হওয়া থেকে সাবধান!

📄 রূপের প্রেমে মুগ্ধ হওয়া থেকে সাবধান!


রূপের প্রেমে পড়া থেকে সাবধান! এ ধরনের প্রেম দুশ্চিন্তা ও চির দুর্দশার জন্ম দেয়। এটা একজন মুসলমানের জন্য আশীর্বাদ যে, গানে যে সব প্রচণ্ড ভালোবাসার খবর, জাতীয় অন্যান্য ভালোবাসার খবর অথবা কারো প্রেম বিচ্ছেদের কাহিনী পাওয়া যায় তা থেকে সে দূরে থাকে।

“তবে কি আপনি তাকে দেখেননি যে নিজের প্রবৃত্তিকে নিজের উপাস্য প্রভু (ইলাহ) হিসেবে গ্রহণ করেছে আর (তাই) আল্লাহ জেনে শুনেই তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার শ্রবণশক্তির ওপর ও তার হৃদয়ের ওপর মোহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার দৃষ্টির আবরণ রেখে দিয়েছেন।” (৪৫-সূরা জাসিয়াহ্ : আয়াত-২৩)

নিজেকে তিরস্কার করে এক আরব কবি লিখেছিলেন-
أَنَا الَّذِي جَلَبَ الْمَنِيَّةَ طَرْقَهُ * فَمَنْ الْمُطَالِبُ وَالْقَتِيلُ الْقَاتِلُ.
“আমিইতো মৃত্যুর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, সুতরাং নিহত ব্যক্তি নিজেই যখন নিজের হত্যাকারী তখন কে দোষী?”

অবশেষে সে (কবি) বুঝতে পারছে যে, সে আবেগতাড়িত প্রেমে পড়েছে এবং এর থেকে বের হতে পারছে না। আর তার দুঃখ-দুর্দশার জন্য সে নিজেই দোষী। তাই সে যে চির দুঃখ কষ্ট ভোগ করবে তার জন্য সে নিজেকেই দোষোরাপ করবে।

وإمَّا يَنزغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزعٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ. “আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে তোমার মনে কুমন্ত্রণা আসে তবে তুমি আল্লাহ নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর।”

إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُم مُّبْصِرُونَ- “মুতাক্বীদেদের (খোদাভীরুদের) মনে যখন শয়তানের পক্ষ থেকে কুমন্ত্রণা আসে তখন নিশ্চয় তারা আল্লাহকে স্মরণ করে আর তখনই তারা (সঠিক পথ) দেখতে পায়।”

ইবনুল কায়্যিম তাঁর “রোগ ও চিকিৎসা” (الداء والدواء) কিতাবে এ বিষয়ের উপর ব্যাখ্যামূলক আলোচনা করেছেন। যেসব কারণে মানুষ মরিয়া হয়ে অদম্য প্রেমে পড়ে তিনি তার কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন। নিচে সে সবের কয়েকটি উল্লেখ করা হলো-
১. এমন এক শূন্য হৃদয় যাতে আল্লাহকে ভালোবাসা নেই, তাঁর জিকির নেই ও তাঁর ভয় নেই।
২. যথেচ্ছা দৃষ্টিপাত করা। চক্ষু হলো অনুক্ষণকারী, যা অন্তরে দুঃখ-কষ্ট বয়ে আনতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন- قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ “মু’মিনদেরকে বলে দিন যে তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে।” (২৪-সূরা নূর: আয়াত-৩৬) দৃষ্টি হলো শয়তানের একটি তীর।

একজন আরব কবি বলেছেন-
وَأَنْتَ مَتَى أَرْسَلْتَ طَرْفَكَ رَائِدًا * إِلَى كُلِّ عَيْنٍ أَتْعَبَتْكَ الْمَنَاظِرُ.
رَأَيْتَ الَّذِي لَا كُلُّهُ أَنْتَ قَادِرٌ * عَلَيْهِ وَلَا عَنْ بَعْضِهِ أَنْتَ صَابِرُ.
“যখন তুমি তোমার দৃষ্টিকে অনুক্ষণকারীর মতো সকল চোখের দিকে যথেচ্ছ তাকাতে দিবে, তখন তোমার দৃষ্টি ক্লান্ত হয়ে যাবে। তখন তুমি এমন অনেক কিছু দেখবে যার পুরোটা তুমি আয়ত্ত করতে সক্ষম নও এবং এবং আংশিক আয়ত্ত করার ধৈর্যও তোমার নেই।

৩. ইবাদতে অবহেলা করা। বিশেষ করে জিকির, দোয়া ও সালাতে। إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ. “নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখে।” (২৯-সূরা আনকাবুত: আয়াত-৪৫)
এখানে অশ্লীল (فَحْشَا') কাজ বলতে সকল প্রকার অবৈধ যৌন ক্রিয়া ও নির্লজ্জ ও বেহায়া ক্রিয়াকলাপকে বুঝায় এবং নিষিদ্ধ, অপছন্দনীয় ও মন্দ (مُنْكَرُ) কাজ বলতে কুফুরী, শেরেকী ও সকল প্রকার মন্দ কাজকে বুঝায়।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 প্রচণ্ড ও অদম্য প্রেমের কিছু ঔষধ

📄 প্রচণ্ড ও অদম্য প্রেমের কিছু ঔষধ


১. “আমি তাঁর থেকে মন্দ কর্ম ও অশ্লীলতা দূরে রাখার জন্য এরূপ নিদর্শন দেখিয়েছিলাম।” (১২-সূরা ইউসুফ: আয়াত-২৪)

২. অধিকতরও একনিষ্ঠ হয়ে আপনার ইবাদতকে উন্নত করার জন্য কঠোর সাধনা করুন।

৩. আপনার দৃষ্টিকে নত (বা নিচের দিকে) রাখুন। وَيَحفظُوا فُرُوجَهُمْ ... “আর যে সব নর-নারীরা নিজেদের যৌনাঙ্গকে (অবৈধ যৌনক্রিয়া থেকে) হেফাজত রাখে।” (২৩-সূরা নূর: আয়াত-৩০-৩১) আপনার প্রেমাস্পদকে দূরে কোথাও চলুন।

৪. আমলে সালেহ, নেক আমল, পুণ্যকর্ম, সৎকাজ বা ভালো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। “নিশ্চয় তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত, আমাকে আশা ও ভয়ের সাথে ডাকত এবং তারা আমার তরে বিনীত ছিল।” (২১-সূরা আম্বিয়া: আয়াত-৯০)

৫. বৈধ আমোদ-আহলাদ করুন। অর্থাৎ শরীয়তসম্মত আনন্দ-ফূর্তি করুন।
فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ. “তাহলে তোমাদের পছন্দনীয় নারীকে বিবাহ কর।” (৪-সূরা নিসা: আয়াত ৩)

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا. “এবং তাঁর নিদর্শনাবলির একটি এই যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন যাতে করে তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও।” (৩০-সূরা আর রুম: আয়াত-২১)

নবী করীম ﷺ বলেছেন- يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ. “হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ভ্রাতৃত্বের অধিকার

📄 ভ্রাতৃত্বের অধিকার


আপনার মুসলিম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতকালে তার প্রিয় নামে তাকে ডাকুন এবং হাসিমুখে তাকে সালাম দিন।

تَبَسُّمُكَ فِي وَجْهِ أَخِيكَ صَدَقَةٌ. “আপনার ভাইয়ের সামনে আপনার হাসিমুখ সদকাতুল্য।”

আপনার সাথে কথা বলতে তাকে উৎসাহ দিন অর্থাৎ তার সম্বন্ধে ও তার জীবন সম্বন্ধে কথা বলতে তাকে সুযোগ দিন। তাকে তার অবস্থা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করুন, তবে শুধুমাত্র সেসব বিষয় সম্বন্ধেই জিজ্ঞাসা করুন যেগুলো তাকে অপ্রস্তুত ও অপ্রতীত করবে না。

مَّن لَّমْ يَهْتَمَّ بِأَمْرِ الْمُسْلِمِينَ فَلَيْسَ مِنْهُمْ. “যে ব্যক্তি মুসলমানদের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করেনা বা খোঁজ-খবর নেয় না সে তাদের দলভুক্ত নয়।” (মুসলমান নয়)

وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ. “মু'মিন নর-নারীরা একে অপরের বন্ধু, সাহায্যকারী, রক্ষাকারী ও অভিভাবক।”

তাকে তিরস্কার বা গালি দিবেন না বা অতীত ভুলের খোঁটা দিবেন না এবং তাকে নিয়ে তামাসা করে কষ্ট দিবেন না।

لَا تُمَارِ أَخَاكَ وَلَا تُمَازِحْهُ وَلَا تَعِدْهُ مَوْعِدًا فَتُخْلِفَهُ. “আপনার ভাইয়ের সাথে তর্ক করবেন না, তাকে নিয়ে তামাসা করবেন না এবং ওয়াদা দিয়ে তা ভঙ্গ করবেন না।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 নারী জাতির প্রতি কোমল থাকুন

📄 নারী জাতির প্রতি কোমল থাকুন


وَعَاشِرُوْهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ. “এবং তাদের সাথে তোমরা সদ্ভাবে বা সম্মানজনকভাবে জীবন যাপন কর।” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-১৯)

"এবং তিনি তোমাদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা ও করুণার সৃষ্টি করেছেন!" (৩০-সূরা আর রুম : আয়াত-২১)

আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন- اِسْتَوْصُوْا بِالنِّসَاءِ خَيْرًا فَإِنَّهُনَّ عِنْدَكُمْ عُوَانٍ. ভাবার্থ : “নারীদের হিতাকাঙ্ক্ষী হও, কেননা, তারা তোমাদের হাতে বন্দী।”

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي.
ভাবার্থ : “তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম যে তার পরিবারের জন্য ভালো আর আমি আমার পরিবারের জন্য তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।”

সুখী পরিবার প্রেম-ভালোবাসা, সন্তুষ্টি ও পরিতৃপ্তি এবং মহান আল্লাহ্র ভয়ে পূর্ণ থাকে।

“তবে কি সে উত্তম যে নাকি আল্লাহ্র ভয় ও সংশ্লিষ্ট তাঁর সন্তুষ্টির উপর নিজের ভিত্তি স্থাপন করে, নাকি সে উত্তম যে নাকি খাদ্যশস্য বিহীন সুদৃঢ় কিনারায় তার ভিত্তি স্থাপন করে, ফলে তা তাকে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে ঝলসে পড়ে? আর আল্লাহ্ জালিমদের হিদায়াতও (সঠিক পথ প্রদর্শন) করেন না।” (৬-সূরা তাওবা : আয়াত-১০৯)

জালিম বলতে বুঝায় নিষ্ঠুর, হিংস্র, অহংকারী, মুশরিক (বহু ইশ্বরবাদী বা অংশীবাদী) এবং অন্যায়কারী ও অত্যাচারী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px