📄 ভ্রমণ করুন
নানা জায়গায় ভ্রমণ করা ও বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করা মনে সুখ বয়ে আনে—একথা আমি এ পুস্তকের প্রথম দিকেও কোন এক অধ্যায়ে বলেছি। মহান আল্লাহ বলেছেন-
قُلِ انْظُرُوْا مَاذَا فِى السَّمٰوَاتِ وَالْاَرْضِ
“ (হে মুহাম্মাদ!) আপনি বলে দিন, “আসমানসমূহে ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তোমরা তা দেখ।” (১০-সুরা ইউনুস: আয়াত-১০১)
فَسِيْرُوْا فِى الْاَرْضِ فَانْظُرُوْا
“(হে মুহাম্মাদ!) আপনি বলে দিন, “তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর ও দেখ।”
যে ব্যক্তি ইবনে বতুতার ভ্রমণ বৃত্তান্ত পড়বে সে আল্লাহর সৃষ্টি রহস্য জেনে বিষয়াবিভুত হয়ে যাবে যদিও উক্ত পুস্তকে কিছু বাড়াবাড়ি আছে। ভ্রমণ ও সৃষ্টির খোলা পুস্তক পাঠের মাধ্যমে উন্নয়নস্বরূপ রাজনৈতিক শিক্ষা লাভ করতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন-
فَسِيْحُوْا فِى الْأَرْضِ
“অতএব তোমরা স্বাধীনভাবে পৃথিবীতে ভ্রমণ কর।” (৯-সুরা তাওবা: আয়াত-২)
حَتّٰى إِذَا بَلَغَ مَغْرِبَ الشَّمْسِ-
“এমনকি যখন তিনি সূর্যাস্তগমনের স্থানে পৌঁছে গেলেন।” (১৮-সুরা আল কাহাফ: আয়াত-৮৬)
لَا أَبْرَحُ حَتّٰى أَبْلُغَ مَجْمَعَ الْبَحْرَيْنِ أَوْ أَمْضِيَ حُقُبًا-
“যতক্ষণ পর্যন্ত না দু'সাগরের সঙ্গমস্থলে আমি পৌঁছব ততক্ষণ আমি (ভ্রমণ) ছাড়ব না অথবা (উদ্দিষ্ট স্থানে না পৌঁছতে পারলে) আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব।” (১৮-সুরা আল কাহাফ: আয়াত-৬০)
📄 দরিদ্র হওয়াতে দুঃখ করবেন না; কারণ,
আলী (রা) বলেছেন, “মানুষ যে ভালো কাজ করে তা অনুপাতেই তার (প্রকৃত) মূল্য নির্ধারণ করা হয়।”
অতএব, এক জ্ঞানী, বিজ্ঞ, পণ্ডিত ও আলেম ব্যক্তির মূল্য তার জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, তার জ্ঞান কি বিশাল এবং যে সে কি পরিমাণে তার জ্ঞানকে প্রসারিত করে তার উপর ভিত্তি করে তার মূল্য নির্ধারিত হয়। অনুরূপভাবে কবির মূল্যয়ন হয় তার কবিতার মানের উপর এবং একুশটি প্রবন্ধ প্রতিটি পেশাদার প্রতিটি লোকের জন্যই প্রযোজ্য। যে যে কাজ করে তার সৌন্দর্যের হারাই জনগণের নিকট তার মূল্য নিরূপিত হয়। পেশা অনুসারে নয় বরং ধর্ম অনুসারে এবং সাধারণ জীবন অনুসারে প্রত্যেকেরই উচিত, ভালো কাজ করে, তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার স্তর বৃদ্ধি করে, তাদের মনকে সংস্কৃতিসম্পন্ন ও সভাবত্তা করে এবং তাদের ব্যক্তিত্বের মহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে উন্নত করে তাদের মূল্য বৃদ্ধি করার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা করা।
📄 সুস্থতা ও অবসরের সুবিধা ভোগ করুন
আপনি অবশ্যই আপনার সুস্থতা ও অবসর সময় নষ্ট করবেন না। অতীব ভালো কাজের উপর নির্ভরতা ফলস্বরূপ আপনার প্রচুর আনুগত্যের কার্য সম্পাদন অনুলোমযোগী হবেন না। কাজ করে ও প্রচেষ্টা চালিয়ে আপনার সুস্থতা ও অবসর সময়ের সুবিধা গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন যে, আপনি সর্বদা হারানো সময়কে পুষিয়ে নিতে পারবেন না এবং আপনি যে সময়কে অলসতায় নষ্ট করেছেন তার জন্য দু'দিন আগে বা পরে আপনি আফসোস (অনুতাপ) করবেন。
রাজবংশীয়ার বলেছেন, “কাজ যদি কাউকে ক্লান্ত করে তবে কর্মহীনতা তাকে ধ্বংস করবে।”
একজন বিজ্ঞলোক বলেছেন, এমন কাজ করে আপনার দিন নষ্ট করবেন না, যা আপনার কোন উপকারে আসবে না এবং আপনার সম্পদকে কোন প্রকল্পে বিনিয়োগ না করে অলস পড়ে থাকতে দিবেন না। কেননা, কারো জীবনে সময় এত অল্প যে, এটাকে অনু Oਕਾਰੀ কোন কিছুর উপর নিক্ষেপ করা যায় না (অর্থাৎ এটাকে বাজে কাজে নষ্ট করা উচিত নয়)। (-অনুবাদক)
এবং কারো টাকা-পয়সার সরবরাহ এত কম নয় যে, এটাকে কোন কাজে বিনিয়োগ করা যায় না। অতএব, জ্ঞানী ব্যক্তি এতটাই বিচক্ষণ যে, সে তার সময়কে বাজে কাজে নষ্ট করতে পারে না এবং তার টাকা-পয়সাকে এমন কাজে ব্যয় করতে পারে না, যা কোন লাভ বয়ে আনবে না।” এর চেয়ে আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ঈসা (আ)-এর বাণী: “ধার্মিকতার প্রমাণ তিন কাজ-কথা, দর্শন ও নীরবতায়। যার কথা আল্লাহ্র স্মরণ ছাড়া অন্য বিষয়ে হয় তার কথা বাজে কথা। যে কোন কিছু শিক্ষা করার চেষ্টা ছাড়া দেখে (তাকায়) সে (তার আসল উদ্দেশ্য) ভুলে যায় এবং যার নীরবতা ধ্যান-গবেষণাহীন সে অসতর্ক ও অমনোযোগী।”
📄 আর আমি যখন অসুস্থ হই তিনিই আমাকে সুস্থ করেন
وَاِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِيْنِ
“এবং আমি যখন অসুস্থ হয়ে পড়ি তখন তিনিই আমাকে সুস্থ করেন।” (২৬-সূরা আশ শোয়ারা: আয়াত-৮০)
এখানে বিভিন্ন বিষয়ে এমন কিছু উপদেশ দেওয়া হলো, যেগুলি জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিকট থেকে আমাদের নিকট এসেছে। আবক্বাবাতো বলেছেন, “কঠোর পরিশ্রম করে, অলসতা পরিহার করে, মদ্যাসক্তি ত্যাগ করে এবং অতিরিক্ত বা বেশি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থেকে দীর্ঘকাল সুস্থ থাকুন।”
কোন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন, “যে সুস্থতা কামনা করে তার উচিত যথাযথভাবে ও উত্তমরূপে আহার করা। তার পরিমিত পানি পান করা উচিত। দুপুরের আহারের পর সামান্য সময় বিশ্রাম করা ও রাতের খাবারের পর কিছুক্ষন হাঁটা উচিত। পেট ভরে আহার করার ঠিক পরেই গোসল করা থেকে সাবধান থাকতে হবে।”
আল হারিবীতো বলেছেন, “যে ব্যক্তি সুস্থ থাকতে চায় তার উচিত দুপুরের খাবার ও রাতের খাবার আড়ালে গ্রহণ করা (খাওয়া)।”
প্লেটো বলেছেন, “পাঁচটি জিনিস শরীরকে দুর্বল করে : এমনকি মাঝে মাঝে মারাত্মকও হয়ে যায়।
১. দরিদ্র হওয়া।
২. প্রিয়জন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া।
৩. টক পানীয় পান করা (অল্প পরিমাণ টক পানীয় অবশ্যই শরীরের পক্ষে ভালো আর বেশি পরিমাণে টক পানীয় পান করা ক্ষতিকর। -অনুবাদক)
৪. উপদেশ প্রত্যাখ্যান করা এবং
৫. শুধুমাত্র মূর্খ থাকাই নয় বরং জ্ঞানীদেরকে উপহাস করা।”
চারটি জিনিস শরীরকে দুর্বল করে
১. অতিরিক্ত কথা বলা,
২. অতিরিক্ত ঘুমানো,
৩. অতিরিক্ত খাওয়া এবং
৪. অতিরিক্ত যৌন ক্রিয়া করা।
অতিরিক্ত কথা মস্তিষ্কের শক্তি ও তীক্ষ্ণতাকে দুর্বল করে দেয় এবং মানুষকে দ্রুত বৃদ্ধ করে দেয়। অতিরিক্ত ঘুম অন্তরকে অন্ধ করে দেয় এবং মানুষকে অলস ও নির্লিপ্ত করে দেয়। ঘন ঘন যৌন ক্রিয়া মানুষের শক্তি কমিয়ে ফেলে এবং শরীরের ওপর ব্যাপক ক্ষতির প্রভাব ফেলে।
চারটি জিনিস শরীরকে ধ্বংস করে দেয়
১. উদ্বিগ্নতা, দুশ্চিন্তা বা টেনশন,
২. দুঃখ,
৩. ক্ষুধা এবং
৪. অনিদ্রা বা নিদ্রাহীনতা।
চারটি জিনিস হৃদয়ে প্রশান্তি বয়ে আনে
১. শ্যামলিমতা বা সবুজ গাছ-পালার দিকে তাকানো,
২. প্রবাহিত পানির দিকে তাকানো,
৩. প্রিয়জনের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং
৪. ফলন্ত গাছের ফলের দিকে তাকানো।
চারটি বিষয় বা কাজ চোখের দৃষ্টি শক্তিকে দুর্বল করে দেয়
১. খালি পায়ে হাঁটা।
২. খুব ভোরে ও ঘুমোনোর আগে ভ্রুকুটি করে তাকানো,
৩. ঘন ঘন কাঁদা এবং
৪. ক্ষুদ্রাক্ষরে মুদ্রিত লেখা পাঠ করা।
চারটি জিনিস বা কাজ শরীরকে শক্তিশালী করে
১. কোমল পোশাক পরিধান করা,
২. পরিমিত তাপের পানিতে গোসল করা,
৩. মিষ্টি ও সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া (মিষ্টি খাবার এমনকি যে কোন ধরনের খাবারই অধিক পরিমাণে খাওয়া ক্ষতিকর। –অনুবাদক) এবং
৪. সুঘ্রাণ নেওয়া।
চারটি জিনিস চেহারার হাসি খুশিভাব ও উজ্জ্বলতা হরণ করে
১. মিথ্যা কথা,
২. অহংকার করা
৩. মূর্খের মতো অতিরিক্ত অবান্তর প্রশ্ন করা এবং
৪. ঘন ঘন পাপ কাজ করা।
চারটি জিনিস চেহারার উজ্জ্বলতা ও হাসি খুশিভাব এনে দেয়
১. আত্মসম্মান বোধ;
২. অঙ্গীকার পূরণ করা;
৩. উদারতা, মহানুভবতা ও বদান্যতা; এবং
৪. ধার্মিকতা বা তাকওয়া।
চারটি কারণে অন্যান্য আপনাকে ঘৃণা ও অবজ্ঞা করবে
১. মূর্খতা,
২. হিংসা,
৩. মিথ্যা কথা এবং
৪. অন্যের সম্বন্ধে মিথ্যা গুজব রটানো।
চারটি কারণে আপনার নিকট অবাধে রিযিক আসবে
১. রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত পড়া,
২. গভীর রাতে তওবা করা,
৩. অভ্যাসগতভাবে দান করা এবং
৪. দিনের শুরুতে ও শেষে সর্বশক্তিমান আল্লাহকে স্মরণ করা ও তাঁর যিকির করা।
চারটি জিনিস আপনার নিকট রিযিক আসতে বাধা দেয়
১. সকালে ঘুমানো,
২. ঘন ঘন প্রার্থনা না করা,
৩. আলস্য ও
৪. আমানতের খেয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতা।
চারটি জিনিস মানুষের মন ও বুদ্ধিকে দুর্বল করে দেয়
১. সর্বদা টক খাদ্য ও ফল খাওয়া (অল্প পরিমাণে নিয়মিত টক খাদ্য ও ফল উপকারী। –অনুবাদক)
২. চিৎ হয়ে ঘুমানো
৩. দুশ্চিন্তা এবং
৪. উদ্বিগ্নতা বোধ (টেনশন ফিল) করা।
চারটি জিনিস মানুষের বুদ্ধিশক্তিকে বাড়াতে সাহায্য করে
১. হালকা মন,
২. অতিরিক্ত পানাহার না করা,
৩. খাদ্যে মিষ্ট ও সমৃদ্ধ খাবার যোগকরা এবং
৪. অতিরিক্ত শারীরিক মেদ থেকে মুক্ত হওয়া।