📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আপনার যদি একটি অঙ্গহানি হয়ে থাকে তবুও...

📄 আপনার যদি একটি অঙ্গহানি হয়ে থাকে তবুও...


আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন– “আল্লাহ যদি আমার চোখের জ্যোতি দূর করে দেন, তবুও আমার জিহ্বা ও কানে আলো আছে। আমার হৃদয় বুদ্ধিদৃপ্ত আর আমার মন বক্র নয়, আর আমার জিহ্বা বীরযোদ্ধার তরবারীর মতো ধারালো।”

আপনার যদি কোনো ক্ষতি হয় তবে সম্ভবতঃ এরপরের্ই আপনার কোনো লাভ আছে- আর তা এমন লাভ যা আপনি বুঝতে পারেন না।

وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ
“এমনও হতে পারে যে তোমরা যা অপছন্দ কর তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২১৬)

বাশার ইবনে বুরদ বলেছেন– “আমার শত্রুরা আমাকে অসম্মান করে অথচ দোষ তাদের মাঝেই। আর এটা এমন কোনো অপমান নয় যাকে দোষণীয় বলা যায়। কোনো লোক যদি সাহস ও সত্যকে দেখতে পায় তবে চোখের অন্ধত্ব প্রতিবন্ধক হবে না। অকস্মাৎ মাঝে আমি পুরস্কার, সঞ্চয় ও রক্ষা দেখতে পাই, আর এ তিনটি জিনিস আমার খুবই দরকার।"

যা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন অথবা যা বাশার বলেছেন তার মাঝে এবং যা সালেহ ইবনে আব্দুল কুদ্দুস অন্ধ হওয়ার পরে বলেছেন তার মাঝে তুলনা করে দেখুন-
"বিদায় পৃথিবী! যে বৃদ্ধ অন্ধ, এ জীবনে তার কোনো অংশই নেই। সে মরে অথচ মানুষ তাকে জীবিত মনে করে। তত্ত্ব থেকেই মিথ্যা আশা তাকে প্রতারিত করেছে।"

সকল স্বর্গীয় বিধানই ঘটবে- যে এটা স্বীকার করে তারও ঘটবে আর যে এসব অস্বীকার করে তারও ঘটবে। পার্থক্য হলো এই যে, যে এটা স্বীকার করে সে পুরস্কার পাবে আর যে এটা অস্বীকার করে সে পাপী হবে ও কষ্ট পাবে। উমার ইবনে আব্দুল আজীজ (রহ) মাইমুন ইবনে মেহরানের নিকট লিখেছেন :
"আব্দুল মালেককে হারানোর কারণে আপনি আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য লিখেছেন। এমন একটা ঘটনার জন্যই আমি অপেক্ষা করতে ছিলাম এবং যখন এমনটা সত্যিই ঘটে গেল তখন আমার আর কোনো সন্দেহেই রইল না।"

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আল্লাহ্র প্রশস্ত জমিনে ভ্রমণ করুন

📄 আল্লাহ্র প্রশস্ত জমিনে ভ্রমণ করুন


একথা সঠিকভাবে বলা হয়েছে যে, ভ্রমণ উদ্বিগ্নতা ও দুশ্চিন্তা বিতাড়িত করে। রামাহরমুষি তার "The Noble Scholar of Hadeeth (الْمُحَدِّثُ الْفَاضِلُ)" নামক কিতাবে ইল্ম তলবের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের উপকারিতার কথা ধারাবাহিক বর্ণনা করেছেন। পৃথিবী ভ্রমণ করে কোনো বোধগম্য উপকারিতা নেই- একথা যারা বলে তিনি তাদের যুক্তি-তর্ক খণ্ডন করতেছিলেন।

তিনি বলেছেন-
"নতুন নতুন ভূমি ও ঘর-বাড়ি দেখে, সুন্দর সুন্দর বাগ-বাগিচা, মাঠ-ঘাট দেখে, ভিন্ন ভিন্ন মুখ দেখে এবং বিভিন্ন ভাষা ও বর্ণের সান্নিধ্যে এসে এবং বিভিন্ন দেশের নানান আশ্চর্য জিনিস প্রত্যক্ষ করে অনেক উপকারিতা লাভ করা যায়। বৃহৎ বৃক্ষের ছায়ায় বসে যে শান্তি পাওয়া যায় তা অনুপম। মসজিদে মসজিদে খানা খাওয়া, ঝর্ণাধারা থেকে পানি পান করা এবং যেখানে রাত সেখানে কাত (অর্থাৎ ঘুমায়ানো)- এসব কিছু ব্যক্তির মনে ধীরে ধীরে অমায়িকতা এবং বিনয় ও নম্রতা সঞ্চারিত করে।

ভ্রমণকারী বা পরিব্রাজক আল্লাহর উদ্দেশ্যে যাদের ভালোবাসে সে তাদেরকে তাঁর বন্ধু বানিয়ে নেয় এবং তোষামোদ করার বা কৃত্রিম হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা তাঁর নেই। এসব উপকারিতার সাথে সেসব সুখকে যোগ করে নিন যেসব সুখ ভ্রমণকারী বা পর্যটক তার লক্ষ্যস্থলে পৌঁছার পর তার অন্তরে অনুভব করে এবং সে শিহরণকেও যোগ করে নিন যে শিহরণ সে পথের সব বাধা অতিক্রম করার পর অনুভব করে। যারা তাদের মাতৃভূমি ছেড়ে বের হতে নারাজ তারা যদি এসব কথা জানত তবে তারা বুঝতে পারত যে পৃথিবীর সকল স্বতন্ত্র আনন্দ ভ্রমণের মহান স্মৃতির মাঝেই নিহিত। ভ্রমণকারীর নিকট সুন্দর সুন্দর দৃশ্য ও আল্লাহর প্রশস্ত জমিনে ভ্রমণের অংশ আশ্চর্য সব ক্রিয়াকলাপের চেয়ে অধিক উপভোগ্য আর কিছুই নেই। কিন্তু অপরিভ্রাজক এসব কিছু থেকে বঞ্চিত।"

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 মাটিই ছিল সুফিয়ান সাওরির বালিশ

📄 মাটিই ছিল সুফিয়ান সাওরির বালিশ


অতীতের আলেমদের জীবন বিনয় ও নম্রতার শিক্ষায় ভরপুর। হজ্জের মওসুমে সুফিয়ান সাওরি রাতে বিশ্রাম করার আশায় ছোট একটি মাটির টিবিকে শিয়ানে বানালেন। লোকজন তাঁকে বললেন, “আপনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস হওয়া সত্ত্বেও মাটির টিবিকে বালিশ বানিয়েছেন!” তিনি উত্তর দিলেন, “আমার এ বালিশ অবশ্যই খলিফা আবূ জাফর মনসুরের বালিশের চেয়ে উত্তম।”

“বলুন, ‘আল্লাহ্ আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া অন্য কোন কিছুই আমাদের ঘটবে না।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৫১)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 উত্তম জীবন

📄 উত্তম জীবন


সুখ সম্বন্ধে আমরা পূর্বে অধ্যায়গুলোতে যা কিছু আলোচনা করেছি তা এক কথায় প্রকাশ করা যায়। আর তা হলো :
সবকিছুর প্রভু আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখা। এ পর্যন্ত অন্য যা কিছু আমরা আলোচনা করেছি তা সবই বৃথা যদি আপনার আল্লাহর প্রতি ঈমান না থাকে। আল্লাহকে প্রভু হিসেবে, মুহাম্মাদ ﷺ-কে আল্লাহর রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করা এবং ইসলামকে জীবন-বিধান হিসেবে গ্রহণ করা অবশ্যই ভিত্তি (প্রধান কাজ) হতে হবে。

“(তাওহীদ বা ইসলামী একত্ববাদে বিশ্বাসী) যে কোন ঈমানদার নর-নারী নেক আমল করবে আমি অবশ্যই তাকে (এ পৃথিবীতে সম্মান, পরিতৃপ্তি ও হালাল রিযিক সম্বলিত) উত্তম জীবন দান করব এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে তাদের নেক আমল অনুযায়ী (পরকালে জান্নাত) পুরস্কার দিব।” (১৬-সূরা আন নাহল : আয়াত-৯৭)

উত্তম জীবনের জন্য দু’টি শর্ত আছে। আর তা হলো–
১. আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখা,
২. আমলে সালেহ করা।

“নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও আমলে সালেহ্ করে পরম করুণাময় (আল্লাহ্ মুমিনদের অন্তরে) তাদের জন্য অচিরেই ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিবেন।” (১৯-সূরা মারইয়াম : আয়াত-৯৬)

যে আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে ও নেক আমল করে সে দু'টি উপকার পায়–
১. ইহকালে ও পরকালে এক সুখী-সমৃদ্ধ উত্তম জীবন।
২. মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশাল পুরস্কার।

“দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে শুভ সংবাদ।” (১০-সূরা ইউনুস : আয়াত-৬৪)

ফন্ট সাইজ
15px
17px