📄 পাপ মার্জনা দু’টি রহস্য
কিছু কিছু বিদ্বজন উল্লেখ করেছেন যে-
১. পাপ থেকে তওবা করার পর আত্ম-গরিমা ও কৃত্রিম ধার্মিকভাব দূরীভূত হয়ে যায়।
২. আল্লাহ্র রহীম (পরম করুণাময়), গফুর (পরম ক্ষমাশীল) ও তাওয়াব (তওবা কবুলকারী) ইত্যাদি নাম ও গুণ তাঁর অন্যান্য নাম ও গুণের তুলনায় পাপ থেকে তওবাকারীর নিকট অধিক অর্থবহ বা কার্যকর বা উপকারী। (অর্থাৎ এসব নামের দোহাই দিয়ে তওবা করলে আল্লাহ পাপ মার্জনা করে দেন।) [অনুবাদবাদক]
(ইংরেজি অনুবাদক অনুরোধ করে বলেন) আপনি এ দু'টি রহস্য জানা সত্ত্বেও যেন পাপ না করেন।
📄 ভাইদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করা
خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَهِلِينَ.
“ক্ষমা কর, সৎ কাজের আদেশ দাও এবং মূর্খদেরকে উপেক্ষা কর।” (অর্থাৎ তাদেরকে শাস্তি দিও না) (৭-সূরা আল আ’রাফ : আয়াত-১৯৯)
আপনার ভাইয়ের দু’একটি ভুলের জন্য তাকে ত্যাগ করা আপনার উচিত নয়; বিশেষ করে, যদি তার বাদ বাকি চরিত্রাবলী প্রশংসনীয় হয়। যেহেতু আমরা জানি, আমাদের যে কোন লোকের পক্ষেই একেবারে নির্ভুল চরিত্রের অধিকারী হওয়া অসম্ভব। আলক্বিশি বলেছেন- “তুমি কিভাবে আশা কর যে তোমার বন্ধু এক বিশেষ চরিত্রের অধিকারী হোক যখন নাকি তোমার নিজের আত্মা-যা নাকি তোমার সবচেয়ে নিকটতম সে-ই তোমার কথা সর্বদা মানে না। তাহলে অন্যের আত্মা তোমার ইচ্ছার অনুসরণ করুক ও আশাও করার কী অধিকার তোমার আছে?”
كذَلِكَ كُنتُم مِّن قَبْلُ فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَتَبَيَّنُوا.
“তোমরা তো পূর্বে এমনই ছিলে, অতপর আল্লাহ্ তোমাদেরকে করুণা করেছেন (তোমাদেরকে ইসলামের পথ প্রদর্শন করেছেন)।” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-৯৪)
“অতএব তুমি নিজের পবিত্রতা বর্ণনা করো না। তিনি জানেন কে তোমাদের মধ্যে অধিক মোত্তাকী।” (৫৩-সূরা আন নাজম : আয়াত-৩২)
এটা আপনার জন্য যথেষ্ট যে আপনি আপনার ভাইয়ের চরিত্রের প্রধান অংশের প্রতি সন্তুষ্ট।
আবু দারদা (র) বলেছেন-
مُعَاتَبَةُ الْأَخِ خَيْرٌ مِنْ فَقْدِهِ.
“কোন দোষের কারণে তোমার ভাইকে একেবারে পরিত্যাগ করার চেয়ে তাকে বরং তিরস্কার করা ই ভালো।”
কোন কোন অভিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন- “আমরাই আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট নই, সুতরাং অন্যের প্রতি সন্তুষ্ট হওয়ার আশা আমরা কিভাবে করতে পারি?”
একথাও বলা হয়েছে যে, “যে ব্যক্তির কোন ভালো চরিত্র ও বিচক্ষণ বিচার আপনাকে প্রভাবিত করে তার ছোট খাটো এমন কোন কোন ভুলের জন্য তার থেকে দূরে থাকবেন না, যা নাকি শুকর মহাসাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত (তার এসব ছোট খাট দোষ ছাড়া ও তার মহাসাগরের মতো বিশাল গুণ আছে। সুতরাং তাকে পরিত্যাগ করা বোকামী –অনুবাদক) আপনি যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন এমন সংস্কৃতি, ভদ্র ও উন্নত একটি লোকও খুঁজে পাবেন না, যা নাকি সকল কলঙ্ক ও পাপ থেকে মুক্ত। নিজের আত্মা সম্বন্ধে তবে দেখুন যে, এটা কত বেশি ভুল করে ও বিচ্যুত হয়। এ ধরনের অন্তর্দর্শন (আত্মদর্শন) অন্যের প্রতি আপনার চাহিদাকে অধিকতর ভারসাম্যপূর্ণ করবে এবং আপনাকে পাপীদের প্রতি সহনশীল করে তুলবে।”
একজন আরব কবি বলেছেন-
وَمَن ذَا الَّذِي تُرْضَى سَجَايَاهُ كُلُّهَا ❁ كَفَى الْمَرْءَ نُبْلًا أَن تُعَدَّ مَعَايِبُه.
ভাবার্থ : “এমন কে আছে যে, যার গোটা চরিত্র নিষ্পাপ? যার দোষ গণনা করা যায় (যার দোষ হাতে গোনা ১০টি বা বার দোষ তলের তুলনায় কম।) এটাই তার মহত্ত্বের জন্য যথেষ্ট। (অর্থাৎ গুণের তুলনায় দোষ কম হওয়া ই) তাহার মহত্ত্বের (পরিচয়) জন্য যথেষ্ট।
বলা হয়েছে যে, ভাইয়ের প্রতি সহনশীল যেন বিচক্ষণতাকে ধ্বংস না করে। জা’ফর ইবনে মুহাম্মাদ তার ছেলেকে বলেছেন, “বৎস! তোমার যে ভাই তোমার প্রতি তিনবার রাগ করেছে এবং প্রতিবারই সে তোমার সম্বন্ধে সত্য কথা বলেছে, তাকে তুমি ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কর।”
হাসান ইবনে ওহাব বলেছেন: “পারস্পরিক ভালোবাসার অর্থ হলো ক্ষমা করা এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অমার্জিতকে উপেক্ষা করা।”
“অতএব তুমি মহান ক্ষমার মাধ্যমে তাদের ভুল-ত্রুটিসমূহকে উপেক্ষা কর।” (১৫-সূরা আন নাজম : আয়াত-৮৫)
ইবনে কুফী বলেছেন:
هُمُ النَّاسُ وَالدُّنْيَا وَلَمْ يُدْمِنْ قَدَى ❁ فَلَمْ يُمْنَغِ الْإِنْصَافِ أَنَّكَ تَبْغِي ❁ الْمُهَذَّبُ فِي الدُّنْيَا وَلَسْتَ الْمُهَذَّبَا.
ভাবার্থ : এ-ই হলো মানুষ ও দুনিয়া, ধূলি-ময়লা লোপ করা অসম্ভব। (ধূলি চোখে যাতনা দেয় ও ময়লা) পানিকে ময়লা করে। দুনিয়াতো তুমি অবিবেচনার মাধ্যমে ভদ্র-সজা মানুষ তালাশ করছ অথচ তুমি নিজেই সংকুত ও উন্নত নও।
وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ مَا زَكَى مِنكُم مِّنْ أَحَدٍ أَبَدًا.
“তোমাদের ওপর আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউ কখনও (পাপ থেকে) পবিত্র হতে পারবে না।” (২৪-সূরা আন নূর: আয়াত-২১)
একজন কবি বলেছেন-
تَرِيدُ مُهَذَّبًا لَا عَيْبَ فِيهِ * وَهَلْ عُودٌ يَفُوحُ بِلَا دُخَانِ.
ভাবার্থ: তুমি নিষ্কলঙ্ক এক সভ্য মানুষ খুঁজছ! কিন্তু মুসকর (ধূপকুমারী) কি ধুঁয়া ছাড়া সুগন্ধি ছড়ায়?
“অতএব নিজেদের পবিত্রতা বর্ণনা করো না, তিনি জানেন কে অধিক মুত্তাকী।” (৫০-সূরা আন নাজ্ম: আয়াত-৩২)