📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 পাপের কুফল

📄 পাপের কুফল


নিচে পাপের কিছু কুফলের তালিকা দেয়া হলো–
১. আল্লাহ ও পাপীর মাঝে বাধার সৃষ্টি হয় –
كَلَّا إِنَّهُمْ عَن رَّبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَّمَحْجُوبُونَ
কখনই নয়! নিশ্চয় তারা সেদিন তাদের প্রভুর (দর্শন) হতে আড়ালে থাকবে।” (৮৩-সুরা আল মুতাফফিফীন : আয়াত-১৫)

২. কেউ যখন অনবরত পাপ করতে থাকে তখন সে হতাশ হয়ে যায়। রক্ষা পাওয়ার আশা হারিয়ে ফেলে।

৩. পাপী প্রায়ই হতাশা ও উদ্বিগ্নতায় ভোগে-
لَا يَزَالُ بُنْيَانُهُمُ الَّذِي بَنَوْا رِيبَةً فِي قُلُوبِهِمْ
“তারা যে দালান তৈরি করেছে তা সর্বদাই তাদের মনে সন্দেহের (ও মুনাফিকের) কারণ হয়ে থাকবে।” (৯-সুরা তাওবা : আয়াত-১১০)

৪. পাপীর মনে ভয় প্রবেশ করে : “অচিরেই আমি কাফেরদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করব; কেননা, তারা আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত করেছে।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৫১)

৫. পাপীর জীবন জঘন্য হয়ে যায় : “ফলে অবশ্যই তার জন্য এক সংকটময় জীবন আছে।” (২০-সূরা ত্বাহা : আয়াত-১২৪)

৬. পাপীর অন্তর কালো ও কঠিন হয়ে যায় : “এবং আমি তাদের অন্তরসমূহকে কঠিন করে দিয়েছি।” (৫-সূরা মায়িদা : আয়াত-১৩)

৭. পাপীর চেহারা জ্যোতিহীন ও (রোগীর মতো) বিবর্ণ হয় : “আর যাদের চেহারা কালো হয়ে যাবে তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে : তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফুরি করেছিলে?” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১০৬)

৮. পাপীকে মানুষেরা ঘৃণা করে।

৯. পাপীর পার্থিব অবস্থা দারিদ্র্য পীড়িত হয়ে পড়ে : “আর যদি তারা তাওরাত, ইঞ্জীল এবং (কুরআন নামে বর্তমানে) যা তাদের নিকট তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছে তা অনুযায়ী আমল করত তবে তারা তাদের উপর থেকে এবং তাদের পদতল থেকে আহার্য পেত।” (৫-সূরা মায়িদা : আয়াত-৬৬)

১০. আল্লাহর ক্রোধ, ঈমানের কমতি এবং দুর্বিপাক বা বালা-মুসিবত এসব কিছুই পাপীর ভাগ্যে আছে।
“সুতরাং তারা ক্রোধের উপর ক্রোধের পাত্র হলো।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-৯০)

“বরং তারা যে পাপ কাজ করে তার ফলেই তাদের অন্তরে জং ধরেছে।” (৮৩-সূরা আল মুতাফফিফীন : আয়াত-১৪)

“এবং তারা বলেছিল : “আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-৮৮)
অর্থাৎ কাফেররা বলেছিল যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কোন কথাই তাদের অন্তরে প্রবেশ করবে না।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইলে রহমতের দুয়ার খুলে যায়

📄 আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইলে রহমতের দুয়ার খুলে যায়


ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ বলেছেন-
“যখন আমি একটি ধর্মীয় বিষয় বুঝতে পারছিলাম না তখন অবিলম্বে আমি কম-বেশি এক হাজার বার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলাম। তখন আল্লাহ আমাকে তা বুঝার তাওফীক (বা ক্ষমতা) দান করলেন।

“আমি ভাই (তাদেরকে) বললাম : “তোমরা তোমাদের প্রভুর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় তিনি মহা ক্ষমাশীল। (তাহলে) তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।” (৭০-সূরা আল মা'আরিজ : আয়াত-১০-১১)

মনের ভিতরে শান্তি পাওয়ার একটি পথ হলো সর্বদা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা। ঈমানদার যদি কোন পাপ করে পরে অনুতাপ সহকারে তাঁর প্রভুর নিকট তাওবা করে তবে সে পাপই পুণ্য বা সওয়াবে পরিণত হয়।

মুসনাদে আহমদে একটি হাদীস আছে। তাতে বলা হয়েছে— “আল্লাহ তাঁর বান্দার জন্য যাই করেন না কেন তা তার ভালোর জন্য করেন।”

এ হাদীস সম্বন্ধে ইমাম ইবনে তাইমিয়াহকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “পাপ কি তার ভালোর জন্য?” তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, “হ্যাঁ, যদি পাপ করার পর তওবা, অনুশোচনা, অনুতাপ এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়ে থাকে।”

“যখন তারা আপনার নিকট আসল যদিও তারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল- ও আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন, তখন তারা আল্লাহকে অবশ্যই পাপ ক্ষমাকারী ও দয়ালু হিসেবে পেল।” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-৬৪)

وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ -
“এবং দিনসমূহও অনুরূপ (ভালো ও মন্দ); আমি পর্যায়ক্রমে মানুষের মাঝে ওগুলোকে আবর্তন করি।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৪০)

“সেদিন তাদের মনে হবে, তারা যেন (পৃথিবীতে) শুধুমাত্র এক সন্ধ্যা বা এক সকাল অবস্থান করেছিল।” (৭৯-সূরা আন নাযি'আত : আয়াত-৪৬)

আমি কতিপয় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব নিয়ে যখন ভাবি তখন আশ্চর্যবোধ করি। যদিও তারা সংকটের মুখে পড়েছেন তবুও তাদের কাছে যে সংকট যেন পানির ফোঁটার মতো স্বাভাবিক মনে হয়েছে। এই অভিজাত সম্প্রদায়ের একবারে পুরোভাগে রয়েছেন সৃষ্টির নেতা মুহাম্মাদ ﷺ।

আবু বকর (রা)-কে সাথে নিয়ে তিনি গুহাতে ছিলেন আর তখন তাঁর শত্রুরা কাছেই ছিল তবুও তিনি (বিচলিত না হয়ে) তাঁর সাথীকে বললেন : “হতাশ হবেন না (বা ভয় করবেন না), নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৪০)

بُشْرَى مِنَ الْغَيْبِ أَلْقَتْ فِي فَمِ النَّارِ وَخَبَا وَأَفْضَتْ إِلَى الدُّنْيَا بِأَسْرَارِ -
“গুহার মুখে গায়েব হতে ওহী আকারে সুসংবাদ এলো এবং সারা জাহানে সুখের ঢল বয়ে গেল।”

বদরের যুদ্ধের ঠিক আগ মুহূর্তে নবী করীম ﷺ সাগ্রহে তাঁর বর্ম পরিধান করে নিলেন আর তখন বলতে ছিলেন-
سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ.
“এই দলতো অচিরেই পরাজিত হবে এবং পিঠ দেখিয়ে (পালিয়ে) যাবে।” (৫৪-সূরা আল ক্বামার : আয়াত-৪৫)

ওহুদের যুদ্ধে তাঁর কিছু সাহাবী শহীদ ও কিছু সাহাবী আহত হওয়ার পর নবী করীম ﷺ তাঁর সাহাবীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন : “তোমরা আমার পিছনে কাতার বন্দী হয়ে দাঁড়াও যাতে আমি আমার প্রভুর প্রশংসা করতে পারি।”

একজন নবীর প্রতিজ্ঞা ও ইচ্ছা শক্তি এমনই ছিল যা পাহাড়-পর্বতকেও কাঁপিয়ে দিতে পারত।

আরবদের মাঝে কায়েস ইবনে আসিম আলমানক্বারী তাঁর ধৈর্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। একদা তিনি তাঁর কতিপয় সঙ্গীদের নিকট একটি গল্প বলতে ছিলেন। এমন সময় একটি লোক এসে কায়েসকে বলল : অমুকের পুত্র আপনার পুত্রকে হত্যা করে ফেলেছে।” কায়েস তার গল্পকে সংক্ষিপ্ত না করে বরং শান্তভাবে তা বর্ণনা করে শেষ করলেন। তারপর তিনি বললেন, “আমার ছেলেকে গোসল দাও, তাকে কাফনের কাপড় পরাও এবং আমাকে তার জানাযার সালাত পড়তে দাও।”

وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ.
“এবং তারা যারা অভাব-অনটনে, রোগ-শোক-দুঃখ-কষ্ট ও সংকটে এবং যুদ্ধের সময় ধৈর্যশীল।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-১৭৭)

মৃত্যুর সময়ে ইকরিমা ইবনে আবু জেহেল (রা)-কে পানি পান করতে দেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, “অমুক অমুককে পানি দাও।” সেখানে (এক যুদ্ধের ময়দানে) অনেকেই মৃত্যুমুখে পতিত ছিল এবং প্রত্যেকেই এভাবে পানি দেওয়া হয়েছিল এবং প্রত্যেকেই পানি পান না করে বরং অন্যের কথা বলেছিল। আর এরকম আশ্চর্যজনক ভ্রাতৃত্ব দেখিয়ে সকলেই ইন্তেকাল করেছিল।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 কষ্টের মাধ্যমে পাপ ক্ষমা হয়

📄 কষ্টের মাধ্যমে পাপ ক্ষমা হয়


আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন– “দুশ্চিন্তা, উদ্বিগ্নতা, বেদনা, ক্লান্তি, অসুস্থতা এমনকি কাঁটা ফোটার দ্বারাও মুমিন ব্যক্তির কিছু গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেন।”

এ পুরস্কার শুধু তার জন্যই যে ধৈর্য ধরে, যে তার পুরস্কার শুধু আল্লাহর কাছেই চায়, যে আল্লাহর নিকট অনুতপ্ত হয় এবং যে একথা বুঝে যে তার সকল কাজ একমাত্র পরম করুণাময় আল্লাহর সাথেই সম্পৃক্ত। বিখ্যাত আরব কবি মুতানাব্বি লিখেছেন।

“যতক্ষণ দেহে আত্মা থাকবে ততক্ষণ কালের আবর্তনে যা ঘটবে তা বিরাগ ভাজন হয়েই গ্রহণ করিও। যা নিয়ে তুমি খুশি থাক তা ক্ষণস্থায়ী। আর দুঃখ বা বিষণ্ণতা তোমার হারানো প্রিয়জনকে ফিরিয়ে এনে দিবে না।”

“যা তোমরা হারিয়েছ তা নিয়ে যাতে তোমরা দুঃখ না কর এবং যা তোমরা পেয়েছ তা নিয়ে তোমরা যাতে আনন্দ-ফুর্তি না কর।” (৫৭-সূরা আল হাদীদ : আয়াত-২৩)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 পাপ মার্জনা দু’টি রহস্য

📄 পাপ মার্জনা দু’টি রহস্য


কিছু কিছু বিদ্বজন উল্লেখ করেছেন যে-
১. পাপ থেকে তওবা করার পর আত্ম-গরিমা ও কৃত্রিম ধার্মিকভাব দূরীভূত হয়ে যায়।
২. আল্লাহ্র রহীম (পরম করুণাময়), গফুর (পরম ক্ষমাশীল) ও তাওয়াব (তওবা কবুলকারী) ইত্যাদি নাম ও গুণ তাঁর অন্যান্য নাম ও গুণের তুলনায় পাপ থেকে তওবাকারীর নিকট অধিক অর্থবহ বা কার্যকর বা উপকারী। (অর্থাৎ এসব নামের দোহাই দিয়ে তওবা করলে আল্লাহ পাপ মার্জনা করে দেন।) [অনুবাদবাদক]

(ইংরেজি অনুবাদক অনুরোধ করে বলেন) আপনি এ দু'টি রহস্য জানা সত্ত্বেও যেন পাপ না করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px