📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ছদ্মবেশে কল্যাণ

📄 ছদ্মবেশে কল্যাণ


“এবং আমি অবশ্যই তোমাদের আশে পাশের জনপদসমূহ ধ্বংস করেছিলাম।” (৪৬-সূরা আল আহকাফ : আয়াত-২৭)

বারমাক পরিবারে বেদনাদায়ক উদাহরণ রয়ে গেছে। এ পরিবার সমৃদ্ধ, আরামের ও অতিরিক্ত ব্যয়বহুল জীবনযাপন করত। যাহোক, তাদের ধ্বংস তাদের পরবর্তী সকল আরবদের জন্য শিক্ষা ও উদাহরণ হিসেবে কাজ করেছে। তাদের সময়কার শাসক বাদশা হারুনুর রশীদ বারমাক পরিবার ও তাদের সম্পত্তির ওপর এক অপ্রত্যাশিত আক্রমণের হুকুম জারি করেন। তাদের নিকটতম ব্যক্তিরা হাসতে কোন এক সকাল বেলা তাদের উপর আল্লাহর বিধান জারি হয়ে গেল। তিনি তাদের ঘর-বাড়ি ধ্বংস করে দিলেন, তাদের চাকর-চাকরদের অধিকার (দখল) করে নিলেন এবং তাদের রক্তপাত ঘটালেন। তাদের প্রিয়জনরা ও সন্তানরা তাদের অপমানে কান্নাকাটি করল। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ (উপাস্য) নেই। যারা গল্পটি জানেন তাদের এ দুনিয়ার ক্ষমতার ও সম্পদের ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতিকে বিশেষভাবে অনুধাবন করা উচিত।

فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ
“অতএব হে দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ! তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।” (৫৯-সূরা আল হাশর : আয়াত-২)

তাদের খেল-তামাশার জিন্দেগীতে তারা বড়াই করে চলেছিল। যাহোক, তাদের জন্য এটা দুঃখজনক যে তারা মরীচিকাকে পানি বলে ভুল করেছিল এবং চিরস্থায়ী জীবনের বদলে তারা ইহকালীন জীবনকে বরণ করেছিল। তারা ভুল ভেবেছিল যে, তাদের ওপর ন্যায়বিচার বর্তাবে না এবং অত্যাচারীদের পক্ষে প্রমাণ, ন্যায়বিচার ও প্রতিশোধের ব্যবস্থা করা হবে না।

وَّظَنُّوا أَنَّهُمْ إِلَيْنَا لَا يُرْجَعُونَ
“আর তারা ভেবেছিল যে আমাদেরকে আমার নিকটে ফিরিয়ে আনা হবে না।” (২৮-সূরা আল কাসাস : আয়াত-৩৫)

সেদিন প্রাতে তো তারা আনন্দপূর্বভাবেই জেগে উঠেছিল। কিন্তু রাত গড়াতে গড়াতে তারা তাদের কবরে চলে গিয়েছিল। এক রাতের মুহূর্তে ও খেয়ালের বশে বাদশা হারুনুর রশীদ তাদের ওপর তার ক্ষোভের তরবারী উন্মুক্ত করেছিলেন এবং জা’ফর ইবনে ইয়াহইয়া বারমাকিকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করে তার মৃতদেহকে আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি তার পিতা ইয়াহইয়াকে ও ভাই ফজলকে কারাগারে বন্দী করেছিলেন। তাদের ধন-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। তাদের দুর্দশা নিয়ে অনেক আরব কবি শোকগাথা রচনা করেছেন। একজন আরব কবি বলেছেন-

“আমি যখন জাফরের দেহে তরবারী বিষক্ষয় দেখলাম, আর ইয়াহইয়ার বংশীয় সংবাদ যখন একজন ধোঁকাবাজ বাদশার নিকট ঘোষণা করতে শুনলাম। তখন আমি এ দুনিয়ার জন্য বিলাপ করলাম ও সত্যসত্যই বিশ্বাস করলাম যে নিকট দিগন্তে এমন একটি দিন আছে যেদিন এ পৃথিবী থেকে একটি বালক বিদায় নিবে, এক রাজা আরেক রাজাকে ও এক দেশ আরেক দেশকে উচ্ছেদ করবে মাত্র।

নাজ নেয়ামত ভোগের পরের দুঃখ-দুর্দশা ঘটনা ঘটে, একজন যদি সুউচ্চ রাজপ্রাসাদে বাস করে, তবে আরেকজন দুঃখ-দুর্দশার সর্বনিম্ন গভীরতম প্রদেশে ডুবে থাকে।

কিন্তু এখন হারুনুর রশীদ কোথায় আর বারমাক পরিবারই বা কোথায়? কোথায় হত্যাকারী আর কোথায় বা নিহত ব্যক্তি?

নিজের প্রাসাদে বিছানায় শুয়ে শুয়ে যিনি হত্যার আদেশ দিয়েছিলেন তিনি কোথায়? আর যাকে শূলে চড়ানো হয়েছিল তিনিই বা কোথায়? অতীত ও অতীতের কর্মীরা উভয়েই অতীত হয়ে গেছে। কিন্তু সর্বাপেক্ষা ন্যায়বিচারক তাদের মাঝে এমন একদিন ন্যায়বিচার করবেন। যেদিন সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নেই, যে দিনটি এমন একদিন, যেদিন কোন অন্যায়-অবিচার বিচার হবে না।

“ওটার জ্ঞান আমার প্রভুর নিকট নবিপত্রে লিপিবদ্ধ আছে; আমার প্রভু ভুল করেন না এবং তিনি ভুলে ও যান না।” (২০-সুরা ত্বাহা : আয়াত-৫২)

“সেদিন সকল মানুষ সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে (হিসাব-নিকাশ দেওয়ার জন্য) দাঁড়াবে।” (৬০-সুরা আল মুতাফ্ফিক্বীন : আয়াত-৬)

“সেদিন তোমাদেরকে (বিচারের জন্য) হাজির করা হবে, তোমাদের কোন কিছুই গোপন থাকবে না।” (৬৯-সুরা আল হাক্কাহ : আয়াত-১৮)

ইয়াহইয়া ইবনে বাদেদ বারমাকিয়াকে এই মুসিবতের কারণ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “আপনি কি এর কারণ জানেন? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, “সম্ভবত আমরা কোন লোকের উপর অত্যাচার করেছিলাম এটা তার ফরিয়াদ যা রাতারাতি তাদের অভ্যাসারের (আসল জায়গায়) পৌঁছে গিয়েছিল।”

আব্দুল্লাহ ইবনে মুয়াফিয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর জলহাওয়ার থেকে তার বাণী হওয়া সম্বন্ধে বলেছেন:
“আমরা দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি, অথচ এখনও আমরা দুনিয়ার অধিবাসী।”
আমরা না মৃত, না জীবিত; কোন না কোন কারণে যদি কারারুদ্ধি ভিতরে আসে, আমরা বিস্মিত হয়ে বলি; এ কোন পৃথিবী থেকে এসেছে। কোন স্বপ্ন দেখলে আমরা অতি আনন্দিত হই কেননা, যখন আমরা জেগে উঠি তখন আমাদের অধিকাংশ আলাপই আমরা যে স্বপ্ন দেখেছি তা নিয়ে হয়।

তা যদি ভালো স্বপ্ন হয় তবে তা খুবই ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হয়। আর যদি তা দুঃস্বপ্ন হয় তবে তা অপেক্ষা না করে দ্রুত এসে পড়ে।

শেষের দু’লাইনে অনেকটা নৈরাশ্য ও হতাশা আছে; এ সম্বন্ধে আমার জাহিরের কথা মনে পড়ে গেল।
“ডাক পিয়ন যখন আমাদের নিকট মন্দ ঘটনার সংবাদ নিয়ে আসে তখন সে সময় নষ্ট না করে দ্রুত এসে পড়ে। এভাবে ঘটনা মন্দ হলে একদিন এক বক্তি পরেই তা এসে পড়ে, আর ঘটনা ভালো হলে সময় নিয়ে এক সপ্তাহ পরেই আসে।”

সমৃদ্ধি ও অপচয়ের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছার পর আন্দালুসের সুলতান ইবনে আব্বাদ (বাদশা) সংকটের সম্মুখীন হলো। যখন চপলতা, বাধ্যবাধ ও নর্তকী তার রাজপ্রাসাদ প্রবল আকার ধারণ করল তখন রোমকগণ তাকে আক্রমণ করে বসল আর তাই সে মরক্কোর সুলতান ইবনে তাশকীনদের নিকট সাহায্য চাইল। ইবনে তাশকীন তার সেনাবাহিনী নিয়ে মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ইবনে আব্বাদকে বিজয় এনে দিল। কিন্তু ইবনে তাশকীন আব্বাদকে সিংহের মত শিকারী দৃষ্টিকোণ মনোভাব নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছিল। এবং তার অন্যান্য মতলব ছিল।

মাত্র তিনদিন পরেই ইবনে তাশকীন ও তার সেনাবাহিনী আন্দালুসের দুর্বল রাজাকে আক্রমণ করে বসল। ইবনে আব্বাদকে বন্দী করে তার সম্পদকে বাজেয়াপ্ত করা হলো। তার প্রাসাদ ও বাগানকে ধ্বংস করে দিয়ে তাকে তার জন্মভূমি আগমাত প্রদেশে বন্দী হিসেবে চালান করা হলো।

“আর দিনসমূহ তো এমনই (ভালোবাসা বা মন্দ), এগুলোকে আমি মানুষের মাঝে পালাক্রমে দিই।” (৩-সুরা আল ইমরান : আয়াত-১৪০)

আন্দালুসের রাজত্ব ইবনে তাশকীনদের হাতে এসে পড়ল। তিনি দাবি করলেন যে, (আন্দালুসের) নেতৃত্ব ন্যায়সঙ্গতভাবেই তার। কারণ আন্দালুসের জনপথই প্রথমে তাকে মরক্কো থেকে তার কাছে এনেছে।

দীর্ঘদিন পরে একদিন ইবনে আব্বাদের মেয়েরা তাকে জেলখানায় এসে দেখার সুযোগ পেল। তারা নগ্নপদে, ক্ষুধার্ত অবস্থায়, শীর্ণ দেহে ও অশ্রুসজল নয়নে (তাকে দেখতে) আসল। ইবনে আব্বাদ যখন তার মেয়েদের এ করুণ অবস্থা দেখল, তখন আর্তনাদ করে উঠল।

“আমার অতীত জীবন এনে আমি বিশেষ ঘনঘটা করে আমোদ করতাম, কিন্তু আগমাতে বন্দি অবস্থায় এ কী শোচনীয় ঘটনা!
তুমি তোমার মেয়েদেরকে শীর্ণ ও ক্ষুধার্ত দেখছ, তারা মানুষের সূতা কেটে দেয় আর তাদের কিছুই নেই। তারা ভীত-সন্ত্রস্ত ও দুর্বল অবস্থায়, বিষণ্ণ নয়নে ও জীর্ণ হৃদয়ে, নগ্নপায়ে কাদা মাড়িয়ে তোমাকে দেখতে এসেছে, যেন তারা কচ্ছ দাসী সুগন্ধি ও গোলাপ মাড়ানি।”

“অতএব যখন আমার আদেশ এলো তখন আমি (সমকামপ্রবণ নগরীসমূহকে) উল্টিয়ে দিলাম।” (১১-সুরা হুদ : আয়াত-৮২)

“দুনিয়ার উদাহরণ তো এরূপ যেমন নাকি আকাশ থেকে আমি পানি (বৃষ্টি) বর্ষণ করি, তা দিয়ে ভূমির উদ্ভিদ ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে জন্মায়, যা মানুষ ও চতুষ্পদ জন্তু খায়। এমনকি যখন ভূমি সুশোভিত হয় ও নয়নাভিরাম হয় তখন এর মালিকেরা মনে করে যে, তারা এগুলোর উপর ক্ষমতাবান (বা এগুলো তাদের আয়ত্তাধীন), এমন সময় কোন এক রাতে বা দিনে আমার নির্দেশ এসে পড়ে তখন আমি সেগুলোকে নির্মূল করে দিই যেন ওগুলোর অস্তিত্বও গতকালও ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য আমার নিদর্শনাবলিকে বিশদভাবে বর্ণনা করি।” (১০-সুরা ইউনুস : আয়াত-২৪)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অন্বেষণকারীর পথের নিশানা

📄 অন্বেষণকারীর পথের নিশানা


“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন।” (৫৮-সূরা আল মুজাদালা: আয়াত-১১)

১. যে যত বেশি আমলে সালেহ করে সে তত বেশি সতর্ক, ভীত ও মোত্তাকী হয়। এ আশঙ্কায় যে সে ভুল থেকে (নিজেকে) নিরাপদ পা মুক্ত ভাব নাবে, যেমন নাকি কথার ভুল, অন্তরের পরিবর্তন (পাপ চিন্তা)। সে সর্বদা নিজেকে পাহারা দেয় ও সতর্ক থাকে। সে সতর্ক পাখির মতো : যখনই সে গাছের কোন ডালে বসে তখনই সে দক্ষ শিকারী ও তার তলির ভয়ে এটাকে ছেড়ে আরেক ডালে উড়ে চলে যায়।
২. যে যত বেশি বঞ্চক বা বৃদ্ধ হয় এ দুনিয়ায় প্রতি তার তত কম লোভী হওয়া উচিত। কেননা সে নিশ্চয় বুঝতে পারছে যে, তার সময় শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে।
৩. যে যত বেশি সম্পদশালী হয়, তার অন্যের প্রতি তত বেশি বদান্য ও উদার হওয়া উচিত। একজন ধনী মুসলিমের বুঝা উচিত যে, তার সম্পদ তাকে আমানতস্বরূপ দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ্ তাকে সে সম্পদের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন এ মনোভাব পোষণ করা।
৪. সমাজে যার যত বেশি পদমর্যাদা হয়, জনগণের প্রতি বিনয় প্রদর্শন করে ও তাদের প্রয়োজন পূরণ করে তার তত বেশি তাদের নিকটবর্তী হওয়া উচিত।

কিছু অবনতির চিহ্নও আছে
১. যে যত বেশি জ্ঞানার্জন করে সে তত বেশি উদ্ধত হয়। এ ধরনের লোকের জ্ঞান কল্যাণকর নয়। তার হৃদয় শূন্য ও তার সঙ্গ দুর্বিষহ।
২. যে যত বেশি কাজের হয়, তত বেশি সে গর্বিত হয় এবং তত বেশি সে অন্যদেরকে অবজ্ঞা করে। সে শুধুমাত্র নিজেকেই সন্দেহের কলাপ (ক্ষতি ও ধ্বংস- অনুবাদক) দান করে। এভাবে সে ভাবে যে, সেই শুধুমাত্র মুক্তি অর্জন করছে। আর অন্যেরা সবাই ধ্বংস হতে বাধ্য।
৩. যে যত বেশি বয়স্ক হয় তত বেশি কৃপণতা ও অর্থ-লিপ্সা তার চরিত্রের অংশ হয়। সে সঞ্চয় করে কিন্তু সে কখনওও বিলি করে না। দুর্ভোগ-দুর্দশাক ইত্যাদি তাকে অন্যদের প্রতি বদান্য হতে নাড়া দিতে ব্যর্থ হয়।
৪. সমাজে তার যত মর্যাদা হয়, তার উদ্ধততার মাত্রাও ততবেশি হয়। নবী করীম ﷺ বলেছেন-
يَحْشُرُ الْمُتَكَبِّرُوْنَ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ فِيْ صُوْرَةِ الذَّرِّ يَرْبَطُهُمُ النَّاسُ بِاَقْدَامِهِمْ
ভাবার্থ: “বিচার দিবসে অহংকারীদেরকে পিঁপড়ার আকারে জমায়েত করা হবে। মানুষেরা তাদেরকে পদদলিত করবে।”

উপরে বর্ণিত প্রতিটি বিষয়ে আমি আল্লাহ্ এমন কিছু কল্যাণের কথা উল্লেখ করেছি। যা দ্বারা আল্লাহ্ তার বান্দাদেরকে পরীক্ষা করেন, সে সব বান্দাদের কিছু বান্দা পরীক্ষায় পাস করবে অন্যেরা হবে ব্যর্থ।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আশাবাদ

📄 আশাবাদ


ইবনে আবি দুনাইয়ার ‘হুসনূযযুন্ন বিল্লাহ বা আল্লাহর প্রতি সুধারণা’ নামক কিতাবে (পুস্তকে) কুরআন-হাদীস থেকে দেড়শতাধিক পাঠ সন্নিবেশিত আছে, যেহেতু ঈমানদারকে অনুরোধ করে আশাবাদী হতে, হতাশাকে ছুঁড়ে ফেলতে এবং কাজের মাধ্যমে কল্যাণের জন্য প্রচেষ্টা করতে এবং একটি আশাব্যঞ্জক ব্যাপার হলো- নেক আমলের কারণে কল্যাণ পাওয়া যাবে -এ অঙ্গীকার প্রদানকারী আয়াতের সংখ্যা সে সব আয়াতের সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি, যেসব আয়াত পাপকাজ করার কারণে আসন্ন শাস্তির হুমকি দেয়। আর মহান আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য পরিমাণ (তকদীর বা বিধান) তৈরি করেছেন।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ত্বরিত প্রতিদান

📄 ত্বরিত প্রতিদান


ইবনে রজব হাম্বলী (রহ.) ও আরো অনেকে বর্ণনা করেছেন যে, মক্কায় থাকাকালে এক আবাদের সকল সম্পদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তিনি চরম ক্ষুধার্ত হয়ে গেলেন ও বাচোঁর অভাবে মরণাপন্ন হয়ে গিয়েছিলেন। একদিন মক্কার চত্বরে হাঁটতে বেড়ানোর সময় তিনি একটি হার পেলেন। এটাকে তিনি তার আঙ্গিনের ভিতরে রেখে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। পথে একজন মানুষের সাথে তার সাক্ষাৎ হলো যিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে যিনি একটি হার হারিয়েছেন। গরীব লোকটি পরে বলেছেন যে, আমি আমার নিকট এর বিবরণ দেওয়ার জন্য তাকে বললাম।

আর তিনি এত নিখুঁতভাবে এর বিবরণ দিলেন যে এতে সন্দেহের কোন অবকাশ রইল না। আমি তার কাছ থেকে কোনরূপ পুরস্কার গ্রহণ না করে হারটি দিয়ে দিলাম। আমি বললাম : হে আল্লাহ্! আমি এটাকে তোমার কারণে দিয়ে দিয়েছি, অতএব, যা এর চেয়ে উত্তম তা দিয়ে আমাকে প্রতিদান দিন।” এরপর তিনি সাগরে একটি নৌকায় করে যাত্রা শুরু করলেন। অল্প সময় যেতে না যেতেই প্রচন্ড ঝড়ো বায়ুসহ বরফ আর তার (নৌকাটির) ঘূর্ণি শুরু দিল। নৌকাটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল আর লোকটি একটি কাঠের টুকরো ধরে ঝুলে থাকতে বাধ্য হলেন।

প্রচণ্ড যন্ত্রণায় বাবু তাকে বামে নিয়ে গেলেন। অবশেষে তিনি ভাসতে ভাসতে একটি দ্বীপের তীরে গেলেন। সেখানে লোকজন ভরা একটি মসজিদ পেলেন- লোকেরা সেখানে সালাত পড়ছিল, তাই তিনিও তাদের সাথে সালাতে যোগ দিলেন। তিনি অংশ বিশেষ লিখিত কিছু কাগজ পেলেন ও সেগুলো পড়তে শুরু করলেন। দ্বীপের লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করল, “আপনি কি কুরআন পড়েন? তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” তারা বলল, “আমাদের শিশুদেরকে কুরআন শিক্ষা দিন।” তাই তিনি তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া শুরু করলেন ও তাঁর কাজের জন্য তিনি একটি ভাতা (বেতন) গ্রহণ করলেন। একদিন তারা তাকে শিখতে দেখল ও জিজ্ঞেস করল, আপনি কি আমাদের শিশুদেরকে লেখা শেখাবেন? আবারও তিনি “হ্যাঁ” বললেন ও একটি বেতনের বিনিময়ে শিশুদের শিক্ষা দেওয়া শুরু করলেন।

কিছুদিন পর তারা তাকে বলল, “আমাদের নিকট একটি এতিম বালিকা আছে। তার পিতা খুব ভালো মানুষ ছিলেন। আপনি কি তাকে বিয়ে করবেন?” তিনি বিয়েতে রাজী হলেন। তিনি পরে বর্ণনা করেছেন, আমি তাকে বিয়ে করে যখন বাসর রাতে তার দিকে তাকালাম তখন আমি দেখতে পেলাম যে, সে হুবহু একই হার পরে আছে। আমি তাকে বললাম আমাকে হারের গল্প বলতে। সে বলল যে, তার পিতা এটাকে মক্কায় হারিয়ে ফেলেছিল এবং একটি লোক এটাকে পেয়ে তার নিকট এটাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। সে বলল যে, তার পিতা সর্বদা সেজদার সময় তার মেয়ের জন্য দু'আ করত সে যেন ঐ লোকের মতো সৎ স্বামী পেয়ে ধন্য হয়। আমি তখন তাকে জানালাম যে আমিই সে লোক ছিলাম।”

তিনি আল্লাহর জন্য কোন কিছু ত্যাগ করেছেন, তাই আল্লাহ্ তাকে এমন জিনিস দিয়ে প্রতিদান দিলেন যা ছিল আরো ভালো।
إِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ الْعَامِلِينَ الْبَرَّارِينَ
ভাবার্থ : “নিশ্চয় আল্লাহ্ উত্তম ও পবিত্র এবং তিনি উত্তম ও পবিত্র জিনিস ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ (কবুল) করেন না।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px