📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ভয় করো না তুমিই বিজয়ী হবে

📄 ভয় করো না তুমিই বিজয়ী হবে


“ভয় করো না, নিশ্চয় তুমিই বিজয়ী হবে।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-৬৮)

১. নবী মূসা (আ) তিনবার সমস্যায় পড়েছিলেন-
২. যখন তিনি দুষ্ট ও দুর্বৃত্ত ফেরাউনের দরবারে প্রবেশ করেছিলেন: “হে আমাদের প্রভু! নিশ্চয় আমরা ভয় করি পাছে সে (ফেরাউন) উত্তেজিত হয়ে আমাদেরকে কষ্ট দেয় বা সীমালঙ্ঘন (জুলুম) করে।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-৪৫)
قَالَ لَا تَخَافَا ۖ إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَىٰ
“তিনি (আল্লাহ) বললেন, “ভয় করো না, নিশ্চয় আমি তোমাদের দুজনের সাথে আছি, সবকিছু শুনছি ও দেখছি।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-৪৬)
“আমি তোমাদের সাথে সাথে আছি, সবকিছু শুনছি ও দেখছি, কথাটি সর্বদা মুসলমানের মনে রাখা উচিৎ।

২. যখন যাদুকররা তাদের জাদুর রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল তখন সর্বশক্তিমান বললেন-
إِنَّكَ أَنتَ الْأَعْلَىٰ
“ভয় করো না, নিশ্চয় তুমিই বিজয়ী হবে।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-৬৮)

৩. যখন ফেরাউন ও সেনাবাহিনী মূসা (আ)-কে ধাওয়া করছিল তখন আল্লাহ বলেছিলেন-
اضْرِب بِّعَصَاكَ الْبَحْرَ
“তোমার লাঠি দিয়ে সাগরে আঘাত কর।” (২৬-সুরা আশ শোয়ারা: আয়াত-৬৩)
মূসা (আ) বললেন-
كَلَّا ۖ إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ
“কখনো না! নিশ্চয় আমার সাথে আমার প্রভু আছেন, তিনি আমাকে সঠিক পথ-প্রদর্শন করবেন।” (২৬-সুরা আশ শোয়ারা: আয়াত-৬২)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 সান্ত্বনার দু’টি মহান বাণী

📄 সান্ত্বনার দু’টি মহান বাণী


ইমাম আহমদ (র)-কে যখন কঠিন সময়ে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল ও অত্যাচার করা হচ্ছিল তখন তাকে দু’টি কথা বলা হয়েছিল যা তিনি বর্ণনা করেছেন। মদ পান করার কারণে এক লোককে জেলখানায় বন্দী করা হয়েছিল। যখন সে ইমাম আহমদ (র)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিল তখন সে তাঁকে বলেছিল– "হে আহমদ, দৃঢ় চিত্ত হয়ে থাকুন, কেননা আপনি সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণে চাবুকের বাড়ি খাবেন। আর আমি মদ পান করার কারণে বহুবার চাবুকের বাড়ি খেয়েছি অথচ ধৈর্য ধরেছি।"
(অর্থাৎ আমি অন্যায়ের কারণে শাস্তি পেয়েও ধৈর্য ধরেছি; সুতরাং ন্যায়ের কারণে আপনি শাস্তি পেলে অবশ্যই ধৈর্য ধারণ করবেন - অনুবাদক।)
আর এটিই সে দু’টি কথার প্রথমটি।

فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَا يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ
"অতএব ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয় আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি সত্য। আর যারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না, তারা যেন আপনাকে বিচলিত না করে।" (৩০-সূরা আর রুম: আয়াত-৬০)

"যদি তোমরা যন্ত্রণা ভোগ কর তবে তারাও তো তোমাদের মত যন্ত্রণা ভোগ করে অথচ তারা যা আশা করতে পারে না তোমরা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তা (পুরস্কার তথা জান্নাত) আশা করতে পার।" (৪-সূরা আন নিসা: আয়াত-১০৪)

আর দ্বিতীয় বাণীটি হলো- যখন ইমাম আহমদ (র)-কে শিকল পরিয়ে জেলখানায় আনা হচ্ছিল তখন একজন বেদুইন তাকে দেখে বলেছিল– “হে আহমদ! ধৈর্য ধরুন কেননা, এ দুর্ঘটনায় যদি আপনার মৃত্যু হয় তবে এ ঘটনার কারণেই আপনি জান্নাতে যাবেন।”

“তাদেরকে তাদের প্রভু নিজের পক্ষ থেকে একটি করুণা, সন্তুষ্টি ও তাদের জন্য অনেক জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন যেখানে (তাদের জন্য) রয়েছে চিরস্থায়ী সুখ শান্তি।” (৯-সূরা আনফাল: আয়াত-২৬)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 দুঃখ-কষ্টের কিছু উপকারিতা

📄 দুঃখ-কষ্টের কিছু উপকারিতা


কষ্টের কারণে মানুষ বিনীতভাবে তার প্রভুর প্রতি মুখাপেক্ষী হয়। কেউ একবার বলেছিলেন, “আল্লাহ্ই কষ্ট দেন ও তিনিই (বান্দাকে) কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে দোয়া করান।” বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ্ তার কোনো বান্দাকে কোন এক বিষয়ে পরীক্ষা করে ফেরেশতাদেরকে বললেন, “তার কথা (দোয়া, প্রার্থনা, আবেদন) শোনার জন্য এ পরীক্ষা ছিল” অভাব-অনটন ও সংকটের কারণে মনে নম্রতা আসে (আর বিনীত-নম্রতাকে আল্লাহ্ পছন্দ করেন। –অনুবাদক)।

كَلَّا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَى أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى
“বরং মানুষ নিশ্চয় সীমালঙ্ঘন করে, কেননা, সে নিজেকে অভাবমুক্ত দেখে বা স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে।” (৯৬-সূরা আল আলাক্ব: আয়াত-৬-৭)

দুর্দশাগ্রস্ত লোকেদেরকে মানুষেরা সান্ত্বনা দেয় এবং তার বা তাদের জন্য দোয়া করে। এভাবে সংকটের সময় মুমিনরা ভ্রাতৃত্ববোধে দুর্দশাগ্রস্ত লোকের পাশে এসে দাঁড়ায়। একটি মুসিবত বহু আরেকটিকে মুসিবত থেকে রক্ষা করে বিধায় মুসিবতও লোকের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। অধিকন্তু (এ ছাড়া) বিপদাপদের কারণে অনেক পাপ মোচন হয়। যখন আল্লাহ্র কোন বান্দা এ বিষয় (কথা)গুলো বুঝতে পারবে তখন সে কৃতজ্ঞ হয়।

إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ
“কেবলমাত্র ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের পুরস্কার পূর্ণমাত্রায় বেহিসাবে দেওয়া হবে।” (৩৯-সূরা আয় যুমার: আয়াত-১০)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আশাপ্রদ মনোভাবের গুরুত্ব

📄 আশাপ্রদ মনোভাবের গুরুত্ব


একজন লেখক যথার্থই বলেছিলেন, “আশা মানুষকে নিশ্চয় ধৈর্য ধরতে সাহায্য করে এবং ধৈর্যের পথে পরিচালিত করে। আল্লাহ্ও সবরকম সুধারণা থেকেই আশার সঞ্চার হয়। আল্লাহ্র নিকট আশা ব্যর্থতার সম্ভাবনাকে প্রতিহত করে। কিন্তু কেন আমাদেরকে এভাবে হতাশ হতে হবে যে– আশা ব্যর্থতার সম্ভাবনাকে বাধা দেয়? আবার যদি মহামানবদের চরিত্র নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করতাম তবে আমরা দেখতাম যে- যারা সাহায্যের জন্য তাদের শরণাপন্ন হতে তাদের কথা খুব ভালো ভাবে ভাবত, তারা তাদের বিশেষ যত্ন নিত। যারা তাদেরও মহৎ কামনা করত তারা তাদের অভিপ্রায়ে চলার প্রবণতাও দেখাত। যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো- যারা সাহায্যের জন্য তাদেরকে নির্বাচন করত তারা তাদেরকে আশাহত করত না। (সাহায্য প্রার্থীদেরকে তারা সাহায্য না দিয়ে ফিরিয়ে দিত না বরং তারা তাদেরকে সাহায্য করত। –অনুবাদক) (এই যদি মানুষের অবস্থা হয়) তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালুর অবস্থা কেমন, যার রাজ্য সামান্যতমও কমে না যখন কোন আশাবাদী প্রথম তাঁর নিকট আশা করে তখন তিনি তাকে তাঁর আশার চেয়েও বেশি দান দেবেন।”

একলোক জটিল-কঠিন অবস্থা থেকে মুক্তির কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তিনি (অবশেষে আল্লাহ্র সাহায্য পাওয়ার পর) আল্লাহ্র এক বান্দার প্রতি (তার নিজের প্রতি অর্থাৎ 'এক বান্দা' বর্ণনাকারী নিজেই) তাঁর (আল্লাহ্র) সর্বাপেক্ষা মর্মভেদী উদারতা, বাধ্যতা ও পথ-নির্দেশ প্রদর্শনের বর্ণনা দেন। সাহায্যের জন্য তিনি যাদের কাছে গিয়েছিলেন তাদের সকলের নিকট তাঁর সব আশা হারানোর পর তিনি ভাবতে বাধ্য হলেন যে, একটি দরজা খোলা আছে এবং একমাত্র মহান আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো কাছে আশা করা উচিত নয়। তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে, প্রথমত আল্লাহ্র নিকট আশা না করার কারণে তাকে সংশোধন করার জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং তখনই (আল্লাহ্র পক্ষ থেকে) সাহায্য ও শান্তি আসল।

“নিশ্চয় আল্লাহ্কে ছাড়া তোমরা যাদেরকে আহ্বান কর, তারা তোমাদের মতই (আল্লাহ্র) বান্দা। অতএব, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক তবে তারা যাতে তোমাদের আহ্বানে সাড়া দেয় এজন্য তাদেরকে আহ্বান করে দেখ (তারা সাড়া দেয় কি-না) (যদি আহ্বান কর তবে দেখবে যে তারা সাড়া দিতে পারে না)।” (৭-সুরা আল আ'রাফ : আয়াত-১৯৪)

ফন্ট সাইজ
15px
17px