📄 একটি খুঁত আরেকটি চমৎকার গুণের কারণ হতে পারে
لَا تَحْزَن لَكُمْ سِرٌّ ۚ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ.
“এটাকে তোমাদের জন্য ক্ষতিকর মনে করিও না, বরং এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।” (২৪-সূরা আন নূর : আয়াত-১১)
এমন অনেক লোক আছেন যাদেরকে তাদের মাহাত্ম্যের কারণে বর্তমানে স্মরণ করা হয়। এসব মনীষীদেরকে তাদের চলার পথে বহু বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। তাদের অধ্যবসায় বা ধৈর্য ছিল নাছোড় বান্দার মতো। তাদের কোনোও এক বিষয়ে দুর্বলতা ছিল যা অন্য গুণ দ্বারা পূরণ হওয়ার দরকার ছিল (এবং তা হয়েছিলও বটে)। আতা, সাঈদ ইবনে যুবাইর, কাতাদা, বুখারী, তিরমিযী ও আবু হানীফা (রা) এদের মতো ইসলামের অনেক বড় বড় আলেমগণ প্রকৃতপক্ষে আমাদৃত গোলাম ছিলেন। অনেক ইসলামী পণ্ডিত যাদের জ্ঞানের বিশালতা মহাসাগরসমূহের মতো ছিল তারা অন্ধ ছিলেন। তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজনর নাম উল্লেখ করছি। যেমন- ইবনে আব্বাস (রা), কাতাদা, ইবনে উম্মে মাকতুম (রা), আল আ'মাশ ও ইয়াজীদ ইবনে হারুন।
আধুনিক আলেমদের মধ্যে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহীম আল শাইখ, শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনে হুমাইদ এবং শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনে বায এরা সবাই অন্ধ।
অনেক বড় বড় আলেমগণ কোন না কোনভাবে প্রতিবন্দ্বী ছিলেন, কেউ কেউ ছিলেন অন্ধ, কেউ কেউ ছিলেন বধির, আবার অনেকে ছিলেন অস্বহীন। এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তারা পরবর্তী প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছিলেন এবং তারা মানব জাতির জন্য অবদান রাখতে পেরেছিলেন।
"তিনি তোমাদেরকে আলো দান করবেন যার সাহায্যে তোমরা (সোজা পথে) হাঁটবে।” ( ৫৭-সূরা আল হাদীদ : আয়াত-২৮)
একটি নামকরা বা বিখ্যাত ইউনিভার্সিটর ডিগ্রিমা ডিগ্রিই সব কিছুই নয়। কোন ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি অর্জন করতে পারেননি বলে হতাশ হবেন না। এমনকি কোনরূপ ডিগ্রি অর্জন না করেই আপনি প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন এবং মানব জাতির জন্য বিশাল অবদান রাখতে পারবেন। অনেক বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ লোক আছেন যাদের কোন ডিগ্রি নেই। তারা তাদের জীবন চলার পথ করে নিয়েছেন এবং লৌহদৃঢ় মনোবল ও শত প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে তারা দুর্লঙ্ঘনীয় বাধা-বিপত্তি লঙ্ঘন বা অতিক্রম করেছেন।
বর্তমান কালের আলেমদেরকে কথা বলতে গেলে বলতে হয় যে, ডিগ্রি ছাড়া অনেক অনেক বিশিষ্ট ও বিখ্যাত ব্যক্তি রয়েছেন। শাইখ ইবনে বায, মালিক ইবনে নাবি, আল আক্কাদ, আবু তাহ্ভাত্বী, আবি যাহরাহ, আবুল আ'লা মওদূদী, আল্লামা ইদ্রীস এবং সরবরহী প্রসঙ্গ উদাহরণস্বরূপ মনে পড়ে; এরা ছাড়াও আরো অনেকে এমন রয়েছেন।
অপর পক্ষে ইসলামী বিশ্বে হাজার হাজার PHD ডিগ্রিধারী পণ্ডিত রয়েছেন যারা অজ্ঞাতই রয়েছেন এবং সমাজে যাদের কোন প্রভাবও নেই।
“(হে মুহাম্মাদ!) আপনি কি তাদের কাউকে খুঁজে পান বা তাদের ফিসফিসানি শুনতে পান? (১-সূরা মারইয়াম : আয়াত-৯৬)
যে ব্যক্তি যে কোন পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট থাকে আপনি দিবা-তীরে তা-ই মেনে চলবেন তাতে আপনার এক বিশাল ধন-ভাণ্ডার আছে।
একটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম ﷺ বলেছেন-
اِرْضَمْ بِمَا قَسَمَ اللهُ لَكَ تَكُنْ أَغْنَى النَّاسِ
“আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যা বন্টন করে দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাক, তাহলেই তুমি সবচেয়ে ধনী মানুষ হবে।”
আপনার পরিবার, আত্ম-রোজগার ও কাজের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন। আপনি যদি এসবের প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন তবে আপনি সুখ-শান্তি পাবেন। অন্য একটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম ﷺ বলেছেন-
اَلْغِنَى عَنِ النَّاسِ
“আমার ধনাঢ্যতাই (প্রকৃত) ধনাঢ্যতা।”
রাসূল ﷺ আরো বলেছেন: হে আল্লাহ! তাঁর অন্তরে তাঁর সম্পদ বা ধনাঢ্যতা সৃষ্টি করে দিন।
এক লোক বলেছেন যে, একবার তিনি এয়ারপোর্টে এক টেক্সিতে উঠে ড্রাইভারকে বলেন যে শহরে নিয়ে যেতে। তিনি বলেন-
"আমি লক্ষ্য করলাম যে, ড্রাইভারটি সুখী ও খোশ মেজাজী ছিল। সে সর্বদা আল্লাহর প্রশংসা করছিল, তাঁর শোকরিয়া আদায় করছিল ও তাঁর যিকির করছিল। আমি তাঁকে তাঁর পরিবার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন যে, তাঁকে দু পরিবারের খোরাক যোগাতে হয়। অথচ তাঁর মাসিক বেতন হলো ৮০০ (আটশত) রিয়ালএর মতো যা এক নগণ্য অঙ্ক। তিনি ও তাঁর পরিবারকে একটি ভাঙা দালানে বাস করতে হয়। তবুও তাঁর মনে শান্তি ছিল। কেননা, আল্লাহ তাঁর জন্য যা বরাদ্দ করেছেন তাঁর জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।"
আমি এক ধনকুবেরকে চিনতাম যার শত শত মিলিয়ন রিয়াল ছিল ও অনেকগুলো প্রাসাদ ছিল। তিনি তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্কে শোচনীয় ছিলেন। সর্বদা রাগে টগবগ করতেন ও হতাশায় বুঁদ হয়ে থাকতেন। তিনি তাঁর পরিবার হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে (দূরে কোথাও) মারা যান। আল্লাহ তাঁকে যা দিয়েছিলেন তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না বিধায় তিনি এসব দুর্ভোগ পোহাতে ছিলেন。
"অতপর সে আশা করে যে আমি তাকে আরো দিই। কক্ষনো নয়; নিশ্চয়ই সে আয়াতসমূহের উদ্ধত বিদ্রূপকারী বা বিরোধীতাকারী।" (৭৪-সূরা আল মুদ্দাছছির : আয়াত-১৬, ১৮)
শত শত বছর আগে আরবের মরুভূমিতে নিরালায় শান্তি খুঁজে পেত। শান্তি খুঁজে পেত মরুভূমিতে ও মানবীয় কাজ কারবার থেকে বহুদূরে। একজন (আরব) কবি বলেছেন-
عَرِى الذِّئْبُ فَاشْتَاشَبْتُ بِالذَّنْبِ أَدْعِوى وَصَوْتُ إِنْسَانٍ فَكَبَدْتُ أَبْشُرُ
"নেকড়ে বাঘ ডাকছে আর আমার সে ডাক ভালো লাগছে, কিন্তু মানুষ আওয়াজ করে, সে আওয়াজ শুনে (গুনাহ) আমি পালাবার উপক্রম করি।"
তৎকালীন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস সুফিয়ান সাওরী (রা) বলেছেন-
"আমার মনে চায় কোন এক অজ্ঞাত উপত্যকায় থাকি যেন কেউ আমাকে চিনতে না পারে।"
একটি হাদীসে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম ﷺ বলেছেন-
"অচিরেই মুসলমানদের উত্তম সম্পদ হবে ছাগল-ভেড়া যা নিয়ে সে ফেতনার ভয়ে তার দ্বীন (ধর্ম) রক্ষাকল্পে বৃষ্টি বহুল এলাকায় ও পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায় পালিয়ে বেড়াবে।" মুসলমানের নিজেদের মাঝে ফেতনা ফাসাদের সময় একজন মুসলমানের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ প্রস্তাব (কাজ) হলো তাদের থেকে দূরে থাকা। যখন উমর (রা)-কে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছিল তখন ইবনে উমর (রা), উসামা ইবনে যায়েদ (রা) ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিমাহ্ আশ্রয় ফিতনা থেকে দূরে ছিলেন।
আমি এমন কিছু লোককে চিনি যারা অভাব, দুর্দশা ও হতাশাপ্রস্ত। তাদের প্রত্যেকের কারণ হলো তারা আল্লাহ্ থেকে অনেক দূরে। আপনি দেখবেন যে, তাদের একজন ধনী, সুখী ও সুসুস্থ। কিন্তু পরে সে তার প্রভুর আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। সে সালাত আদায় করতে অবহেলা করতে শুরু করল ও পরে সে বড় বড় কাজ করতে লাগল। অতএব সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ তার স্বাস্থ্য ও সম্পদ ছিনিয়ে নিলেন এবং তার বদলে দিলেন সংকট, অভাব, দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগবনা। সে দুর্দশা থেকে দুর্দশায় পড়ল ও নিরুপায় থেকে আরো নিরুপায় হয়ে চলে গেল।
"আর যে ব্যক্তিই আমার যিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তার জন্য রয়েছে সংকটময় জীবন।” (২০-সূরা ত্ব-হা : আয়াত-১২৪)
"তা এ কারণে যে, আল্লাহ কোন জাতিকে যে নেয়ামত দান করেছেন তা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করেন।" (৮-সূরা আনফাল : আয়াত-৫৩)
وَمَا أَصَابَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُوا عَن كَثِيرٍ
"এবং তোমাদের উপর যে সব বিপদ আসে তা তোমাদের নিজ হাতে কৃতকর্মের ফলেই আসে এবং তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন।" (৪২-সূরা আশ্ শূরা : আয়াত-৩০)
"আর তারা যদি সত্য পথে প্রতিষ্ঠিত থাকত তবে আমি প্রচুর বৃষ্টি দান করে তাদের সমৃদ্ধ করতাম।" (৭২-সূরা আল জ্বীন : আয়াত-১৬)
আমি যদি যাদু ক্ষমতা থাকতো তবে আমি আপনার সমস্যা ও দুঃখ দূর করে দিতাম। যা হোক আমার সে ক্ষমতা না থাকার কারণে আপনার জন্য এমন একটি চিকিৎসা সংক্রান্ত শ্রেণিক্ষেপণ দেওয়া আমার জন্য যথেষ্ট যে যে প্রেক্ষাপান মুসলিম আলেমগণ দিয়েছেন। তা হলো কোন শরীক সাব্যস্ত না করে আল্লাহ্র ইবাদত করা, আপনার রিযিকের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, সংযমী থাকা ও এ দুনিয়ায় জন্য আপনার আশা আকাঙ্ক্ষাকে কমানো।
বিখ্যাত আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম জেমসের নিম্নোক্ত কথাগুলো আমার মনোযোগ আকর্ষণ করে-
"আমরা মানব জাতি আমাদের যা নেই তার চিন্তায় বিভোর হয়ে থাকি এবং আমাদের যা আছে তার জন্য আমরা আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই না। আমরা সর্বদা আমাদের জীবনের দুঃখজনক দিক নিয়ে ভাবি কিন্তু আমরা আমাদের জীবনের আলোকিত দিকটির দিকে দেখি না। আমাদের জীবনে আমরা যা হারিয়েছি তার জন্য আমরা অনুতাপ করি কিন্তু আমাদের জীবনে যা আছে তা নিয়ে আমরা সুখী নই।"
"তোমরা যদি (আমার) শুকরিয়া আদায় কর তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরো অধিক (নিয়ামাত) দান করব।" (১৪-সূরা ইবরাহীম : আয়াত-৭)
নবী করীম ﷺ দোয়া করেছেন-
وَاَعُوذُ بِاللهِ مِنْ نَفْسٍ لَّا تَشْبَعُ
"এবং আমি আল্লাহ্র নিকট এমন আত্মা থেকে পানাহ চাই যা তুষ্ট হয় না।"
যখন কারো প্রধান চিন্তা হয় পরকাল তখন আল্লাহ্ তাঁর সব কিছু ভালো করে দেন এবং তাঁর অন্তরে ধনাঢ্যতা দান করেন এবং দুনিয়াকে তার নিকট নিয়ে আসেন। আর যার প্রধান চিন্তা হয় দুনিয়া আল্লাহ্ তাঁর কাজকর্মকে এলোমেলো করে দেন এবং তাঁর চোখের সামনে একবিন্দু প্রকৃত করে দেন। আর তাঁর ভাগ্যে যা লিখিত আছে তা ছাড়া দুনিয়া থেকে অতিরিক্ত কিছু তাঁর নিকট আসবে না।
📄 ভয় করো না তুমিই বিজয়ী হবে
“ভয় করো না, নিশ্চয় তুমিই বিজয়ী হবে।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-৬৮)
১. নবী মূসা (আ) তিনবার সমস্যায় পড়েছিলেন-
২. যখন তিনি দুষ্ট ও দুর্বৃত্ত ফেরাউনের দরবারে প্রবেশ করেছিলেন: “হে আমাদের প্রভু! নিশ্চয় আমরা ভয় করি পাছে সে (ফেরাউন) উত্তেজিত হয়ে আমাদেরকে কষ্ট দেয় বা সীমালঙ্ঘন (জুলুম) করে।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-৪৫)
قَالَ لَا تَخَافَا ۖ إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَىٰ
“তিনি (আল্লাহ) বললেন, “ভয় করো না, নিশ্চয় আমি তোমাদের দুজনের সাথে আছি, সবকিছু শুনছি ও দেখছি।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-৪৬)
“আমি তোমাদের সাথে সাথে আছি, সবকিছু শুনছি ও দেখছি, কথাটি সর্বদা মুসলমানের মনে রাখা উচিৎ।
২. যখন যাদুকররা তাদের জাদুর রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল তখন সর্বশক্তিমান বললেন-
إِنَّكَ أَنتَ الْأَعْلَىٰ
“ভয় করো না, নিশ্চয় তুমিই বিজয়ী হবে।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-৬৮)
৩. যখন ফেরাউন ও সেনাবাহিনী মূসা (আ)-কে ধাওয়া করছিল তখন আল্লাহ বলেছিলেন-
اضْرِب بِّعَصَاكَ الْبَحْرَ
“তোমার লাঠি দিয়ে সাগরে আঘাত কর।” (২৬-সুরা আশ শোয়ারা: আয়াত-৬৩)
মূসা (আ) বললেন-
كَلَّا ۖ إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ
“কখনো না! নিশ্চয় আমার সাথে আমার প্রভু আছেন, তিনি আমাকে সঠিক পথ-প্রদর্শন করবেন।” (২৬-সুরা আশ শোয়ারা: আয়াত-৬২)
📄 সান্ত্বনার দু’টি মহান বাণী
ইমাম আহমদ (র)-কে যখন কঠিন সময়ে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল ও অত্যাচার করা হচ্ছিল তখন তাকে দু’টি কথা বলা হয়েছিল যা তিনি বর্ণনা করেছেন। মদ পান করার কারণে এক লোককে জেলখানায় বন্দী করা হয়েছিল। যখন সে ইমাম আহমদ (র)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিল তখন সে তাঁকে বলেছিল– "হে আহমদ, দৃঢ় চিত্ত হয়ে থাকুন, কেননা আপনি সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণে চাবুকের বাড়ি খাবেন। আর আমি মদ পান করার কারণে বহুবার চাবুকের বাড়ি খেয়েছি অথচ ধৈর্য ধরেছি।"
(অর্থাৎ আমি অন্যায়ের কারণে শাস্তি পেয়েও ধৈর্য ধরেছি; সুতরাং ন্যায়ের কারণে আপনি শাস্তি পেলে অবশ্যই ধৈর্য ধারণ করবেন - অনুবাদক।)
আর এটিই সে দু’টি কথার প্রথমটি।
فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَا يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ
"অতএব ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয় আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি সত্য। আর যারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না, তারা যেন আপনাকে বিচলিত না করে।" (৩০-সূরা আর রুম: আয়াত-৬০)
"যদি তোমরা যন্ত্রণা ভোগ কর তবে তারাও তো তোমাদের মত যন্ত্রণা ভোগ করে অথচ তারা যা আশা করতে পারে না তোমরা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তা (পুরস্কার তথা জান্নাত) আশা করতে পার।" (৪-সূরা আন নিসা: আয়াত-১০৪)
আর দ্বিতীয় বাণীটি হলো- যখন ইমাম আহমদ (র)-কে শিকল পরিয়ে জেলখানায় আনা হচ্ছিল তখন একজন বেদুইন তাকে দেখে বলেছিল– “হে আহমদ! ধৈর্য ধরুন কেননা, এ দুর্ঘটনায় যদি আপনার মৃত্যু হয় তবে এ ঘটনার কারণেই আপনি জান্নাতে যাবেন।”
“তাদেরকে তাদের প্রভু নিজের পক্ষ থেকে একটি করুণা, সন্তুষ্টি ও তাদের জন্য অনেক জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন যেখানে (তাদের জন্য) রয়েছে চিরস্থায়ী সুখ শান্তি।” (৯-সূরা আনফাল: আয়াত-২৬)
📄 দুঃখ-কষ্টের কিছু উপকারিতা
কষ্টের কারণে মানুষ বিনীতভাবে তার প্রভুর প্রতি মুখাপেক্ষী হয়। কেউ একবার বলেছিলেন, “আল্লাহ্ই কষ্ট দেন ও তিনিই (বান্দাকে) কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে দোয়া করান।” বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ্ তার কোনো বান্দাকে কোন এক বিষয়ে পরীক্ষা করে ফেরেশতাদেরকে বললেন, “তার কথা (দোয়া, প্রার্থনা, আবেদন) শোনার জন্য এ পরীক্ষা ছিল” অভাব-অনটন ও সংকটের কারণে মনে নম্রতা আসে (আর বিনীত-নম্রতাকে আল্লাহ্ পছন্দ করেন। –অনুবাদক)।
كَلَّا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَى أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى
“বরং মানুষ নিশ্চয় সীমালঙ্ঘন করে, কেননা, সে নিজেকে অভাবমুক্ত দেখে বা স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে।” (৯৬-সূরা আল আলাক্ব: আয়াত-৬-৭)
দুর্দশাগ্রস্ত লোকেদেরকে মানুষেরা সান্ত্বনা দেয় এবং তার বা তাদের জন্য দোয়া করে। এভাবে সংকটের সময় মুমিনরা ভ্রাতৃত্ববোধে দুর্দশাগ্রস্ত লোকের পাশে এসে দাঁড়ায়। একটি মুসিবত বহু আরেকটিকে মুসিবত থেকে রক্ষা করে বিধায় মুসিবতও লোকের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। অধিকন্তু (এ ছাড়া) বিপদাপদের কারণে অনেক পাপ মোচন হয়। যখন আল্লাহ্র কোন বান্দা এ বিষয় (কথা)গুলো বুঝতে পারবে তখন সে কৃতজ্ঞ হয়।
إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ
“কেবলমাত্র ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের পুরস্কার পূর্ণমাত্রায় বেহিসাবে দেওয়া হবে।” (৩৯-সূরা আয় যুমার: আয়াত-১০)