📄 আশাহারা হবেন না
দুঃখ-কষ্টে আছে এমন কাফেরদের প্রার্থনতে আল্লাহ সাড়া দেন। অতএব, যে মুসলিমগণ আল্লাহর সাথে শরীক করে না তারা কত বেশি আশা করতে পারে? বুদ্ধের পর ভারতে সম্ভবত দ্বিতীয় জনপ্রিয় নেতা মহাত্মা গান্ধী; তিনি যদি তাঁর প্রার্থনার শক্তির উপর স্বাধীন না থাকতেন তবে পদস্খলনের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। একথা আমি কীভাবে জানি? (আমার জানার) কারণ এই যে, তিনি নিজেই বলেছেন "আমি যদি প্রার্থনা না করতাম তবে আমি অনেক আগেই পাগল হয়ে যেতাম।" এ ছিল প্রার্থনার ফল। আর গান্ধী মুসলিমও ছিলেন না। সন্দেহাতীতভাবে তার প্রাপ্তি বিরাট ছিল; কিন্তু যা তাকে নিরাপদ পথে পরিচালিত করেছিল তা ছিল এমন এক পথ বা মত যাকে বলা যায়- কাজের সময় কাজী কাজ ফুরালে পাজি- আর তা কুরআনের ভাষায় নিম্নরূপ -
فَإِذَا رَكِبُوا فِي الْفُلْكِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّهُمْ إِلَى الْبَرِّ إِذَا هُمْ يُشْرِكُونَ
“আর যখন তারা জাহাজে চড়ে তখন তারা বিপদগ্রস্ত হয়ে আল্লাহুকে ডাকে, ফলে যখন তিনি তাদেরকে তীরে পৌছিয়ে উদ্ধার করেন তখন তারা শিরক করে।” (২৯-সূরা আল আনকাবুত : আয়াত-৬৫)
(“তোমরা যাদেরকে আল্লাহুর সাথে শরীক কর তারা ভালো) নাকি তিনি (ভালো) যিনি দুর্দশাগ্রস্তের ডাকে সাড়া দেন- যখন সে তাঁকে ডাকে?” (২৭-সূরা আন শোয়ারা : আয়াত-৬২)
“এবং তারা মনে করে তারা তাতে পরিবেষ্টিত, তারা (তখন) একনিষ্ঠ চিত্তে আল্লাহুকে ডাকে (আর বলে) : “আপনি যদি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে মুক্তি দেন তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞ হব।” (১০-সূরা ইউনুস : আয়াত-২২)
মুসলিম পণ্ডিতবর্গ, মুসলিম ঐতিহাসিকবৃন্দ ও মুসলিম লেখকবৃন্দের জীবনীসমূহকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পাঠ করেও আমি তাদের একজনকেও এমন পাইনি যে সে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, সন্দেহ বাতিকগ্রস্ত ও মানসিকভাবে রোগগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কারণ এই যে, তারা সুখে-শান্তিতে জীবন-যাপন করেছে এবং তারা এমন সরল জীবন-যাপন করত যে তা সব ধরনের আবেগমুক্ত ছিল।
“আর যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে এবং মুহাম্মাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে ঈমান আনে- আর তা (কুরআন) হলো তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য (কিতাব)- তিনি তাদের থেকে তাদের পাপ সমূহকে বিদূরিত করে দিবেন এবং অবস্থা ভালো করে দিবেন। (৪৭-সূরা মুহাম্মাদ বা কেতাল : আয়াত-২)
ইবনে হাজিমের নিম্নোক্ত কথাকে গভীরভাবে ভেবে দেখুন-
“বাদশা ও আমার মাঝে পার্থক্যকারী মাত্র একটি দিনই আছে।”
অতীত সম্বন্ধে আমার কোনো অভিরুচি নেই; তারা এবং আমি উভয়ই ভবিষ্যতে যা ঘটবে তাকে সমভাবে ভয় করি, এভাবে মাত্র আজকের দিনটিই থাকে। আজ কি ঘটবে?”
নবী করীম বলেছেন-
“হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট আজকের দিনের কল্যাণ চাই এর বরকত সাহায্য, নূর ও হেদায়েত চাই।”
“হে মুমিনগণ! সতর্কতা অবলম্বন কর”। (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-৭১)
“আর সে যেন সতর্ক থাকে এবং তোমাদের সম্বন্ধে কাউকে ও জানতে না দেয়।” (১৮-সূরা আল কাহাফ : আয়াত-১৯)
“তারা শুধু একথাই বলেছিল যে, “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পাপসমূহকে এবং আমাদের কাজে আমাদের সীমালঙ্ঘনকে আপনি ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের কদমকে (পদক্ষেপকে) দৃঢ় রাখুন এবং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৪৭)
📄 খসরু ও বৃদ্ধা
বুজুর্গজামের নামে পারস্যের এক বিজ্ঞ ব্যক্তি খসরু ও এক বৃদ্ধা রমণীর গল্প বলেছেন। বৃদ্ধার সম্পদ বলতে ছিল একটি মুরগির বাচ্চা ও একটি কুঁড়ে ঘর। কুঁড়ে ঘরখানা রাজপ্রাসাদের পাশে ছোট এক টুকরো জমির উপর ছিল। একদিন বৃদ্ধাকে (বিশেষ কাজে) পাশের গ্রামে যেতে হলো। যাবার আগে সে প্রার্থনা করেছিল, “হে আমার প্রভু! আমি মুরগি ছানাটিকে আপনার নিকট সোপর্দ করছি (আপনি এটাকে হেফাজত করুন)।” বৃদ্ধা যখন তাঁর বাড়িতে ছিল না তখন রাজা খসরু তার রাজপ্রাসাদের বাগান বানানোর জন্য বৃদ্ধার সম্পত্তিকে জবর দখল করে নিল। খসরুর সেনাবাহিনী বৃদ্ধার মুরগি ছানাটিকে জবাই করে ফেলল আর কুঁড়ে ঘরটিকে ধ্বংস করে দিল। বৃদ্ধা ফিরে এসে যখন এই হৃদয়বিদারক কীর্তি দেখল তখন সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, “হে আমার প্রভু! আমি তো অনুপস্থিত ছিলাম। কিন্তু তুমি কোথায় ছিলে?” তখন সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের প্রস্তাব কবুল করলেন। খসরুর ছেলে একটি ছুরি দিয়ে তার পিতাকে হত্যা করে ফেলল। (ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ:) তাঁর আল মুনতাযাম (الْفَهْرَسْتُ) নামক কিতাবে এরূপ একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন যে, বৃদ্ধার অভিশাপের পর আল্লাহ রাজাকে দুধার করে দিয়েছিলেন। –অনুবাদক)
“আল্লাহ কি তার বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? (অবশ্যই যথেষ্ট) অথচ তারা তোমাকে আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদের ভয় দেখায়। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোন পথ প্রদর্শক নেই।” (৩৯-সূরা আয যুমার : আয়াত-৩৬)
কতইনা ভালো হতো! আমরা যদি আদম (আ)-এর দু'পুত্রের সে একজনের মতো হতাম যে তার ভাইকে বলেছিল- “যদি তুমি আমাকে হত্যা করার জন্য হাত বাড়িয়ে থাক তবে আমি তোমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে হাত বাড়াবো না। নিশ্চয় আমি সমগ্র বিশ্ব জগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।” (৫-সূরা মায়িদা : আয়াত-২৮)
নবী করীম ﷺ বলেছেন-
كُنْ عَبْدَ اللَّهِ الْمَقْتُولَ وَلاَ تَكُنْ عَبْدَ اللَّهِ الْقَاتِلَ
অর্থাৎ, “আল্লাহর নিহত বান্দা হইও কিন্তু আল্লাহর হত্যাকারী বান্দা হইও না।”
মুসলমানদের একটি ত্রুটি ও একটি (বড়) বাণী আছে যা প্রতিশোধ, হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।
📄 একটি খুঁত আরেকটি চমৎকার গুণের কারণ হতে পারে
لَا تَحْزَن لَكُمْ سِرٌّ ۚ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ.
“এটাকে তোমাদের জন্য ক্ষতিকর মনে করিও না, বরং এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।” (২৪-সূরা আন নূর : আয়াত-১১)
এমন অনেক লোক আছেন যাদেরকে তাদের মাহাত্ম্যের কারণে বর্তমানে স্মরণ করা হয়। এসব মনীষীদেরকে তাদের চলার পথে বহু বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। তাদের অধ্যবসায় বা ধৈর্য ছিল নাছোড় বান্দার মতো। তাদের কোনোও এক বিষয়ে দুর্বলতা ছিল যা অন্য গুণ দ্বারা পূরণ হওয়ার দরকার ছিল (এবং তা হয়েছিলও বটে)। আতা, সাঈদ ইবনে যুবাইর, কাতাদা, বুখারী, তিরমিযী ও আবু হানীফা (রা) এদের মতো ইসলামের অনেক বড় বড় আলেমগণ প্রকৃতপক্ষে আমাদৃত গোলাম ছিলেন। অনেক ইসলামী পণ্ডিত যাদের জ্ঞানের বিশালতা মহাসাগরসমূহের মতো ছিল তারা অন্ধ ছিলেন। তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজনর নাম উল্লেখ করছি। যেমন- ইবনে আব্বাস (রা), কাতাদা, ইবনে উম্মে মাকতুম (রা), আল আ'মাশ ও ইয়াজীদ ইবনে হারুন।
আধুনিক আলেমদের মধ্যে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহীম আল শাইখ, শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনে হুমাইদ এবং শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনে বায এরা সবাই অন্ধ।
অনেক বড় বড় আলেমগণ কোন না কোনভাবে প্রতিবন্দ্বী ছিলেন, কেউ কেউ ছিলেন অন্ধ, কেউ কেউ ছিলেন বধির, আবার অনেকে ছিলেন অস্বহীন। এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তারা পরবর্তী প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছিলেন এবং তারা মানব জাতির জন্য অবদান রাখতে পেরেছিলেন।
"তিনি তোমাদেরকে আলো দান করবেন যার সাহায্যে তোমরা (সোজা পথে) হাঁটবে।” ( ৫৭-সূরা আল হাদীদ : আয়াত-২৮)
একটি নামকরা বা বিখ্যাত ইউনিভার্সিটর ডিগ্রিমা ডিগ্রিই সব কিছুই নয়। কোন ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি অর্জন করতে পারেননি বলে হতাশ হবেন না। এমনকি কোনরূপ ডিগ্রি অর্জন না করেই আপনি প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন এবং মানব জাতির জন্য বিশাল অবদান রাখতে পারবেন। অনেক বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ লোক আছেন যাদের কোন ডিগ্রি নেই। তারা তাদের জীবন চলার পথ করে নিয়েছেন এবং লৌহদৃঢ় মনোবল ও শত প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে তারা দুর্লঙ্ঘনীয় বাধা-বিপত্তি লঙ্ঘন বা অতিক্রম করেছেন।
বর্তমান কালের আলেমদেরকে কথা বলতে গেলে বলতে হয় যে, ডিগ্রি ছাড়া অনেক অনেক বিশিষ্ট ও বিখ্যাত ব্যক্তি রয়েছেন। শাইখ ইবনে বায, মালিক ইবনে নাবি, আল আক্কাদ, আবু তাহ্ভাত্বী, আবি যাহরাহ, আবুল আ'লা মওদূদী, আল্লামা ইদ্রীস এবং সরবরহী প্রসঙ্গ উদাহরণস্বরূপ মনে পড়ে; এরা ছাড়াও আরো অনেকে এমন রয়েছেন।
অপর পক্ষে ইসলামী বিশ্বে হাজার হাজার PHD ডিগ্রিধারী পণ্ডিত রয়েছেন যারা অজ্ঞাতই রয়েছেন এবং সমাজে যাদের কোন প্রভাবও নেই।
“(হে মুহাম্মাদ!) আপনি কি তাদের কাউকে খুঁজে পান বা তাদের ফিসফিসানি শুনতে পান? (১-সূরা মারইয়াম : আয়াত-৯৬)
যে ব্যক্তি যে কোন পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট থাকে আপনি দিবা-তীরে তা-ই মেনে চলবেন তাতে আপনার এক বিশাল ধন-ভাণ্ডার আছে।
একটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম ﷺ বলেছেন-
اِرْضَمْ بِمَا قَسَمَ اللهُ لَكَ تَكُنْ أَغْنَى النَّاسِ
“আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যা বন্টন করে দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাক, তাহলেই তুমি সবচেয়ে ধনী মানুষ হবে।”
আপনার পরিবার, আত্ম-রোজগার ও কাজের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন। আপনি যদি এসবের প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন তবে আপনি সুখ-শান্তি পাবেন। অন্য একটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম ﷺ বলেছেন-
اَلْغِنَى عَنِ النَّاسِ
“আমার ধনাঢ্যতাই (প্রকৃত) ধনাঢ্যতা।”
রাসূল ﷺ আরো বলেছেন: হে আল্লাহ! তাঁর অন্তরে তাঁর সম্পদ বা ধনাঢ্যতা সৃষ্টি করে দিন।
এক লোক বলেছেন যে, একবার তিনি এয়ারপোর্টে এক টেক্সিতে উঠে ড্রাইভারকে বলেন যে শহরে নিয়ে যেতে। তিনি বলেন-
"আমি লক্ষ্য করলাম যে, ড্রাইভারটি সুখী ও খোশ মেজাজী ছিল। সে সর্বদা আল্লাহর প্রশংসা করছিল, তাঁর শোকরিয়া আদায় করছিল ও তাঁর যিকির করছিল। আমি তাঁকে তাঁর পরিবার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন যে, তাঁকে দু পরিবারের খোরাক যোগাতে হয়। অথচ তাঁর মাসিক বেতন হলো ৮০০ (আটশত) রিয়ালএর মতো যা এক নগণ্য অঙ্ক। তিনি ও তাঁর পরিবারকে একটি ভাঙা দালানে বাস করতে হয়। তবুও তাঁর মনে শান্তি ছিল। কেননা, আল্লাহ তাঁর জন্য যা বরাদ্দ করেছেন তাঁর জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।"
আমি এক ধনকুবেরকে চিনতাম যার শত শত মিলিয়ন রিয়াল ছিল ও অনেকগুলো প্রাসাদ ছিল। তিনি তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্কে শোচনীয় ছিলেন। সর্বদা রাগে টগবগ করতেন ও হতাশায় বুঁদ হয়ে থাকতেন। তিনি তাঁর পরিবার হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে (দূরে কোথাও) মারা যান। আল্লাহ তাঁকে যা দিয়েছিলেন তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না বিধায় তিনি এসব দুর্ভোগ পোহাতে ছিলেন。
"অতপর সে আশা করে যে আমি তাকে আরো দিই। কক্ষনো নয়; নিশ্চয়ই সে আয়াতসমূহের উদ্ধত বিদ্রূপকারী বা বিরোধীতাকারী।" (৭৪-সূরা আল মুদ্দাছছির : আয়াত-১৬, ১৮)
শত শত বছর আগে আরবের মরুভূমিতে নিরালায় শান্তি খুঁজে পেত। শান্তি খুঁজে পেত মরুভূমিতে ও মানবীয় কাজ কারবার থেকে বহুদূরে। একজন (আরব) কবি বলেছেন-
عَرِى الذِّئْبُ فَاشْتَاشَبْتُ بِالذَّنْبِ أَدْعِوى وَصَوْتُ إِنْسَانٍ فَكَبَدْتُ أَبْشُرُ
"নেকড়ে বাঘ ডাকছে আর আমার সে ডাক ভালো লাগছে, কিন্তু মানুষ আওয়াজ করে, সে আওয়াজ শুনে (গুনাহ) আমি পালাবার উপক্রম করি।"
তৎকালীন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস সুফিয়ান সাওরী (রা) বলেছেন-
"আমার মনে চায় কোন এক অজ্ঞাত উপত্যকায় থাকি যেন কেউ আমাকে চিনতে না পারে।"
একটি হাদীসে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম ﷺ বলেছেন-
"অচিরেই মুসলমানদের উত্তম সম্পদ হবে ছাগল-ভেড়া যা নিয়ে সে ফেতনার ভয়ে তার দ্বীন (ধর্ম) রক্ষাকল্পে বৃষ্টি বহুল এলাকায় ও পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায় পালিয়ে বেড়াবে।" মুসলমানের নিজেদের মাঝে ফেতনা ফাসাদের সময় একজন মুসলমানের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ প্রস্তাব (কাজ) হলো তাদের থেকে দূরে থাকা। যখন উমর (রা)-কে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছিল তখন ইবনে উমর (রা), উসামা ইবনে যায়েদ (রা) ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিমাহ্ আশ্রয় ফিতনা থেকে দূরে ছিলেন।
আমি এমন কিছু লোককে চিনি যারা অভাব, দুর্দশা ও হতাশাপ্রস্ত। তাদের প্রত্যেকের কারণ হলো তারা আল্লাহ্ থেকে অনেক দূরে। আপনি দেখবেন যে, তাদের একজন ধনী, সুখী ও সুসুস্থ। কিন্তু পরে সে তার প্রভুর আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। সে সালাত আদায় করতে অবহেলা করতে শুরু করল ও পরে সে বড় বড় কাজ করতে লাগল। অতএব সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ তার স্বাস্থ্য ও সম্পদ ছিনিয়ে নিলেন এবং তার বদলে দিলেন সংকট, অভাব, দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগবনা। সে দুর্দশা থেকে দুর্দশায় পড়ল ও নিরুপায় থেকে আরো নিরুপায় হয়ে চলে গেল।
"আর যে ব্যক্তিই আমার যিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তার জন্য রয়েছে সংকটময় জীবন।” (২০-সূরা ত্ব-হা : আয়াত-১২৪)
"তা এ কারণে যে, আল্লাহ কোন জাতিকে যে নেয়ামত দান করেছেন তা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করেন।" (৮-সূরা আনফাল : আয়াত-৫৩)
وَمَا أَصَابَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُوا عَن كَثِيرٍ
"এবং তোমাদের উপর যে সব বিপদ আসে তা তোমাদের নিজ হাতে কৃতকর্মের ফলেই আসে এবং তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন।" (৪২-সূরা আশ্ শূরা : আয়াত-৩০)
"আর তারা যদি সত্য পথে প্রতিষ্ঠিত থাকত তবে আমি প্রচুর বৃষ্টি দান করে তাদের সমৃদ্ধ করতাম।" (৭২-সূরা আল জ্বীন : আয়াত-১৬)
আমি যদি যাদু ক্ষমতা থাকতো তবে আমি আপনার সমস্যা ও দুঃখ দূর করে দিতাম। যা হোক আমার সে ক্ষমতা না থাকার কারণে আপনার জন্য এমন একটি চিকিৎসা সংক্রান্ত শ্রেণিক্ষেপণ দেওয়া আমার জন্য যথেষ্ট যে যে প্রেক্ষাপান মুসলিম আলেমগণ দিয়েছেন। তা হলো কোন শরীক সাব্যস্ত না করে আল্লাহ্র ইবাদত করা, আপনার রিযিকের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, সংযমী থাকা ও এ দুনিয়ায় জন্য আপনার আশা আকাঙ্ক্ষাকে কমানো।
বিখ্যাত আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম জেমসের নিম্নোক্ত কথাগুলো আমার মনোযোগ আকর্ষণ করে-
"আমরা মানব জাতি আমাদের যা নেই তার চিন্তায় বিভোর হয়ে থাকি এবং আমাদের যা আছে তার জন্য আমরা আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই না। আমরা সর্বদা আমাদের জীবনের দুঃখজনক দিক নিয়ে ভাবি কিন্তু আমরা আমাদের জীবনের আলোকিত দিকটির দিকে দেখি না। আমাদের জীবনে আমরা যা হারিয়েছি তার জন্য আমরা অনুতাপ করি কিন্তু আমাদের জীবনে যা আছে তা নিয়ে আমরা সুখী নই।"
"তোমরা যদি (আমার) শুকরিয়া আদায় কর তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরো অধিক (নিয়ামাত) দান করব।" (১৪-সূরা ইবরাহীম : আয়াত-৭)
নবী করীম ﷺ দোয়া করেছেন-
وَاَعُوذُ بِاللهِ مِنْ نَفْسٍ لَّا تَشْبَعُ
"এবং আমি আল্লাহ্র নিকট এমন আত্মা থেকে পানাহ চাই যা তুষ্ট হয় না।"
যখন কারো প্রধান চিন্তা হয় পরকাল তখন আল্লাহ্ তাঁর সব কিছু ভালো করে দেন এবং তাঁর অন্তরে ধনাঢ্যতা দান করেন এবং দুনিয়াকে তার নিকট নিয়ে আসেন। আর যার প্রধান চিন্তা হয় দুনিয়া আল্লাহ্ তাঁর কাজকর্মকে এলোমেলো করে দেন এবং তাঁর চোখের সামনে একবিন্দু প্রকৃত করে দেন। আর তাঁর ভাগ্যে যা লিখিত আছে তা ছাড়া দুনিয়া থেকে অতিরিক্ত কিছু তাঁর নিকট আসবে না।
📄 ভয় করো না তুমিই বিজয়ী হবে
“ভয় করো না, নিশ্চয় তুমিই বিজয়ী হবে।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-৬৮)
১. নবী মূসা (আ) তিনবার সমস্যায় পড়েছিলেন-
২. যখন তিনি দুষ্ট ও দুর্বৃত্ত ফেরাউনের দরবারে প্রবেশ করেছিলেন: “হে আমাদের প্রভু! নিশ্চয় আমরা ভয় করি পাছে সে (ফেরাউন) উত্তেজিত হয়ে আমাদেরকে কষ্ট দেয় বা সীমালঙ্ঘন (জুলুম) করে।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-৪৫)
قَالَ لَا تَخَافَا ۖ إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَىٰ
“তিনি (আল্লাহ) বললেন, “ভয় করো না, নিশ্চয় আমি তোমাদের দুজনের সাথে আছি, সবকিছু শুনছি ও দেখছি।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-৪৬)
“আমি তোমাদের সাথে সাথে আছি, সবকিছু শুনছি ও দেখছি, কথাটি সর্বদা মুসলমানের মনে রাখা উচিৎ।
২. যখন যাদুকররা তাদের জাদুর রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল তখন সর্বশক্তিমান বললেন-
إِنَّكَ أَنتَ الْأَعْلَىٰ
“ভয় করো না, নিশ্চয় তুমিই বিজয়ী হবে।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-৬৮)
৩. যখন ফেরাউন ও সেনাবাহিনী মূসা (আ)-কে ধাওয়া করছিল তখন আল্লাহ বলেছিলেন-
اضْرِب بِّعَصَاكَ الْبَحْرَ
“তোমার লাঠি দিয়ে সাগরে আঘাত কর।” (২৬-সুরা আশ শোয়ারা: আয়াত-৬৩)
মূসা (আ) বললেন-
كَلَّا ۖ إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ
“কখনো না! নিশ্চয় আমার সাথে আমার প্রভু আছেন, তিনি আমাকে সঠিক পথ-প্রদর্শন করবেন।” (২৬-সুরা আশ শোয়ারা: আয়াত-৬২)