📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 কৃত্রিমতা পরিহার করুন

📄 কৃত্রিমতা পরিহার করুন


একবার আমি আবু রীশার’র একটি কবিতা পড়লাম আর সাথে সাথে তার কথার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেলাম। আমি কবিতাটি মুখস্থ করলাম এবং আবুরীশাহ’র ঢং নিয়ে গবেষণা করলাম। এর অল্প কিছু দিন পরেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবৃত্তি অনুষ্ঠানে আমাকে কবিতা উপস্থাপন করতে হয়েছিল। তখন আমি আবু রীশার’র স্টাইলকে অনুকরণ করতে চেষ্টা করলাম- কিন্তু একমাত্র সমস্যা ছিল যে, আমি আবু রীশাহ্ নই। এইরকম যেসব কথা বেরিয়ে এলো তা ছিল অসংখ্য এবং ব্যাপক অর্থে কবিতা ছিল বাসি, নীরস ও স্বাদহীন। সেদিনের পর থেকে আমি অন্য লোকের স্টাইলকে অনুকরণ করা বন্ধ করে দিলাম। আমি যা ভাবতাম তা অনুসারে আমি লিখতে শুরু করলাম আর এভাবেই আমি স্বতস্ফূর্তভাবে আমার কাজে আমার ব্যক্তিত্বকে সম্মিলিত করতে পারলাম।

একবার আমি জেদ্দাতে এক ইমামের পিছনে সালাত পড়লাম। তিনিও এক বিখ্যাত আবৃত্তিকারের অনুকরণ করতে চেষ্টা করেছিলেন, তবুও তিনি কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করার ধারে কাছেও ছিলেন না। তার কণ্ঠস্বর বিখ্যাত আবু’রিফার কণ্ঠস্বরের চেয়ে খুবই ভিন্ন রকমের ছিল এবং তার অনুকরণের চেষ্টা ঠিকঠাকই বা নিখুঁতভাবে কৃত্রিম মনে হয়েছিল। তার চেষ্টা আমার পক্ষে সহজ ছিল না; কারণ, বরাবরই আমি অনুভব করছিলাম যে, সাদৃশ্য খোঁজার জন্য সে কত কঠোর প্রচেষ্টা করছিল (অর্থাৎ সেই বিখ্যাত আবৃত্তিকারের মত (সদৃশ) করে আবৃত্তি করার জন্য সে প্রাণপণ চেষ্টা করছিল যা আমি বুঝতে পারছিলাম এবং আমার কাছে তা হাস্যকর ও বিরক্তিকর লাগছিল)।

আমি বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহ প্রত্যেক লোককে বিশেষ গুণাবলি, বৈশিষ্ট্য ও মেধা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।
“তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি বিধান ও স্পষ্ট (বা সরল) পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি।” (৫-সূরা مায়িদা: আয়াত-৪৮)
আপনি যদি কোনো কিছুতে চমৎকার হতে চান তবে এমন এক পদ্ধতির অনুসরণ করুন যা আপনার প্রকৃতি ও ক্ষমতা (বা দক্ষতা) উভয়ের সাথে খাপ খায়।

فَكُلٌّ يَعْمَلُ عَلَى شَاكِلَتِهِ
“(হে মুহাম্মাদ !) আপনি বলে দিন, 'প্রত্যেকেই নিজ নিজ প্রকৃতি অনুসারে কাজ করে।” (১৭-সূরা বনী ইসরাঈল: আয়াত-৮৪)

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية