📄 রাগ করবেন না
“আর যদি তোমার মনে শয়তানের পক্ষ থেকে কোন কুমন্ত্রণা আসে তবে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।” (৭-সূরা আল আ'রাফ : আয়াত-২০০)
নবী কারীম ﷺ তাঁর একজন সাহাবীকে এই বলে উপদেশ দিয়েছিলেন যে, “তুমি রাগ করিও না!” একথা তিনি তিনবার বলেছিলেন। নবী কারীম ﷺ-এর সামনে যখন এক লোক রাগান্বিত হয়েছিল তখন তিনি ﷺ তাকে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাইতে আদেশ করেছিলেন। “এবং আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, হে আমার প্রতিপালক! যাতে শয়তানরা আমার নিকট হাজির হতে না পারে।” (২৩-সূরা আল মু'মিনুন : আয়াত-৯৮)
“নিশ্চয় যারা মুত্তাকী, তাদেরকে যখন শয়তান কুমন্ত্রণা দেয় তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে, ফলে তৎক্ষণাৎ তাদের অন্তরদৃষ্টি খুলে যায়।” (৭-সূরা আল আ'রাফ : আয়াত-২০১)
যা মানুষকে হতাশ ও বিষণ্ণ করে ক্রোধও তার মধ্যে একটি। নিচে রাগ দমন করার কয়েকটি পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-
১. রাগকে আপনার শত্রু মনে করে তা দমন করার জন্য প্রতিযোগিতা করুন। “এবং ক্রোধ সংবরণকারীগণ এবং মানুষদেরকে ক্ষমাকারীগণ, আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালোবাসেন।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৩৪)
“আর যখন তারা ক্রুদ্ধ হয় তখন তারা ক্ষমা করে দেয়।” (৪২-সূরা আশ শুরা : আয়াত-৩৭)
“আর যখন মূসার রাগ পড়ল তখন তিনি ফলকগুলো তুলে নিলেন।” (৭-সূরা আল আ'রাফ : আয়াত-১৫৪)
২. অজু করুন, কেননা ক্রোধ আগুনের একটি কণা, এটাকে পানি দ্বারা নিভানো যায়।
৩. আপনি দাঁড়ানো থাকলে বসে পড়ুন আর বসা অবস্থায় থাকলে শুয়ে পড়ুন।
৪. ক্রুদ্ধ অবস্থায় চুপ থাকুন।
৫. যারা রাগ দমন করে ও যারা ক্ষমা করে তাদের পুরস্কারের কথা স্মরণ করুন।
📄 আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি বা জন্মগত স্বভাব-প্রকৃতি
যখন প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া বয়, বজ্র গর্জন করে ও অন্ধকারে আকাশ ছেয়ে যায় তখন সাহায্য চাওয়ার জন্য আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়ার মানুষের সহজাত প্রয়োজন সুপ্ত অবস্থা থেকে জেগে ওঠে।
“তখন এর নিকটে (জাহাজের নিকটে) ঝঞ্ঝা যুক্ত বায়ু আসে এবং তাদের নিকট সর্বাধিক ঢেউ আসে। তারপর তারা ভাবতে থাকে যে, তারা এ সবে্র মাঝে আটকা পড়ে গেছে, তখন তারা আল্লাহকে তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে আহ্বান করে।” (১০-সূরা ইউনুস: আয়াত-২২)
তাছাড়া মুসলমানরা সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায়ই তাদের প্রভুকে আহ্বান করে।
“যদি সে (ইউনুস নবী) আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা না করত তবে তাকে কিয়ামতৈর দিন পর্যন্তও মরতে হতো।” (১০-সূরা আল আম্বিয়া: আয়াত-১৪৩-১৪৪)
অধিকাংশ লোকই প্রয়োজনের সময় আল্লাহর নিকট সাহায্য চায়, আর যখন তাদের আশা শেষ হয়ে যায় তখন তারা প্রভুদের তাদের পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে। তারা কি মনে করে যে, আল্লাহকে ধোঁকা দিলে তারা সত্য ও সুন্দর সৃষ্ট দুর্বল সব।
“নিশ্চয় মুনাফিকরা আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চেষ্টা করে। কিন্তু তিনিই তাঁদেরকে ধোঁকা দিয়ে ফেলেন।” (৪-সূরা আন নিসা: আয়াত-১৪২) (আল্লাহ মুনাফিকদেরকে ধোঁকা দিলেন এর অর্থ হলো তিনি তাঁদেরকে ধোঁকাবাজির কারণে শাস্তি দিয়ে দিলেন। কেননা আল্লাহর পক্ষে ধোঁকা দেওয়া শোভা পায় না। – অনুবাদক)
যারা কেবলমাত্র বিপদের সময়েই আল্লাহর মুখাপেক্ষী হয় তারা তো ফেরাউনদের শিষ্য। ফেরাউন যখন সময় পার হয়ে যাবার পর ঈমান এনেছিল তখন তাকে বলা হয়েছিল–
“অথচ তুমি পূর্বে অবাধ্যতা করেছ (ঈমান আনতে অস্বীকার করেছ) এবং তুমি ফাসাদকারী ছিলে।” (১০-সূরা ইউনুস: আয়াত-৯১)
আমি BBC রেডিওতে খবর শুনেছি যে, ইরাক যখন কুয়েত দখল নিয়েছিল তখন মার্গারেট থ্যাচার কলোরাডোতে ছিল, তখন তিনি অতি দ্রুত চার্চে গিয়ে সেজদা করেছিলেন।
এ একমাত্র ব্যাখ্যা আমি মনে করি যে, তার সহজাত প্রকৃতি জেগে গিয়েছিল ও তিনি কুফুরী ও পথভ্রষ্টতা সত্ত্বেও তার প্রভুর মুখাপেক্ষী হয়েছিলেন। মানুষের মাঝে স্বভাবজাত বলতে কিছু একটা আছে যা তাদেরকে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে সাহায্য করে।
كُلُّ مَوْلُوْدٍ يُوْلَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَاَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهٖ اَوْ يُنَصِّرَانِهٖ اَوْ يُمَجِّسَانِهٖ
“প্রতিটি শিশুই স্বভাব ধর্মের উপর (ঈমান ও ইসলামের উপর) জন্মগ্রহণ করে; পরে তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদী, খ্রিস্টান বা অগ্নিউপাসক বানায়।”
📄 প্রধান বৈশিষ্ট্য দ্বারাই মানুষকে গণ্য করা হয়
সফল হওয়ার অর্থ হলো আপনার এমন ভালো গুণাবলী থাকতে হবে, যা আপনার মন্দ গুণাবলীকে সংখ্যায় ছাড়িয়ে যাবে ও সেগুলোকে ম্লান করে দিবে। আপনার জীবনে এ অবস্থা যখন বাস্তব রূপ নিবে তখন জনগণ আপনাকে তপের মালা পরিয়ে দিবে এমনকি যে গুণ আপনার নেই তার জন্যও। জনগণ আপনার সম্বন্ধে কোনরূপ সমালোচনাও গ্রহণ করবে না; যদি আপনার সম্বন্ধে যা বলা হচ্ছে তা সত্যি। (ব্যাপারটি তেমনই যেমন নাকি) একটি পাহাড়ের একটি পাথর বাড়লে বা কমলে পাহাড়ের কিছুই কমে বা বাড়ে না。
যদিও আমি এখানে ইবনে মহান উদার ও বদান্য আরবের কায়সের এবং বিখ্যাত নেতা কুতাইবা ইবনে মুসলিমের কিছু সমালোচনা পড়েছি তবুও আমি সেসব লোকের সেসব সমালোচনা ও নিন্দাকে পুস্তকাবলিতে ব্যাপক আকারে পাইনি এবং সেগুলো জগতের নিকট গৃহীতও হয়নি। এর কারণ এই যে, তাদের মন্দ গুণাবলী হারিয়ে গেছে এবং তা তাদের ভালো গুণাবলীর অতলে তলিয়ে গেছে। অপরপক্ষে, হাজ্জাজ, আবু মুসলিম খোরাসানী ও উবাইদায়ী সম্বন্ধেও আমি ভালো কিছু পড়েছি।
কিন্তু কেউ সে সব প্রশংসার কথা মনে করে না এবং কেউ বিশ্বাস করে না যে, এমন ধরনের লোকের মাঝে ভালো গুণ ছিল। এর কারণ হল তাদের বিপুল মন্দ কাজের মাঝে এসব ভালো গুণ হারিয়ে গেছে। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ব্যাপার নিয়ন্ত্রণে কতই না নিপুণ ও ন্যায়পরায়ণ!
📄 মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য
নবী করীম ﷺ বলেছেন-
كُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ
ভাষার্থ : “যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয় তার জন্য সে কাজ সহজ।” তাহলে প্রতিভাকে কেন অগ্রাহ্য করা হয়েছে? সবচেয়ে শোচনীয় ব্যাসনা সে ব্যক্তি, যে নাকি (নিজের দক্ষতা বাদ দিয়ে) অন্যকে জয়ী হতে চায় (নতুবা অন্যের অনুসরণও করতে চেষ্টা করে)। বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী সে ব্যক্তি যে নাকি নিজেকে নিয়ে গবেষণা করে এবং তাকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে তা পূর্ণ করে। যদি ড্রাইভার হওয়ার কথা থাকে তবে গাড়ি চালাবে। যদি কৃষক হওয়ার কথা থাকে তবে সে চাষাবাদ করবে। আরবী ব্যাকরণবিদ ‘সীবওয়াইহ’ হাদীসশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু এ শাস্ত্র তাঁর কাছে কঠিন লাগল। তাই তিনি (আরবী) ব্যাকরণ নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন এবং শুধুমাত্র দক্ষই হলেন না, অধিকন্তু, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ একজন (আরবী) ব্যাকরণবিদ হয়ে গেলেন।
একজন জ্ঞানী লোক বলেছেন, “যে ব্যক্তি এমন কাজ করতে চেষ্টা করে যা তাকে মানায় না সে ঐ লোকের মতো যে-নাকি দামেস্কের খেজুর গাছ লাগায় অথবা তার মতো যে নাকি আরব উপদ্বীপে লেবুগাছ লাগায়।”
তবে দেখুন : হাসসান বিন সাবিত (রা) -এর গলার আওয়াজ মুয়াজ্জিন হওয়ার উপযোগী ছিল না। কেননা তিনি বিলাল (রা) ছিলেন না এবং খালেদ বিন ওয়ালিদ (রা) যুদ্ধের সম্পদ বণ্টনও করেন না কারণ তিনি যায়েদ বিন সাবিত (রা) ছিলেন না। {যায়েদ বিন সাবিত (রা) ইসলামী উত্তরাধিকার আইনে সুবিজ্ঞ ছিলেন।} অতএব, বিষয়ের পরিকল্পনায় আপনার অবস্থান তালাশ করে তা নির্দিষ্ট করুন। (অর্থাৎ, আপনার জন্য উপযুক্ত কাজটি- আপনার জন্য বেছে নিন।)
একজন আরব কবি বলেছেন-
وَلِلْمَعَارِفِ أَبْطَالٌ خُلِقُوا * وَلِلْوِدَادِ أَوْحَابُ حِسَابُ وَكِتَابِ
ভাষার্থ : যুদ্ধের জন্য বীর (সৃষ্টি করা) আছে আর বইয়ের জন্য লেখক ও কবি (সৃষ্টি করা) আছে।” (ইংরেজিতে পুস্তক অনুবাদ করা হলো।)