📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ভদ্রতা সংঘর্ষ এড়ায়

📄 ভদ্রতা সংঘর্ষ এড়ায়


একজন জাপানী শিক্ষক তার ছাত্রকে বলেছেন- “নমনীয়তা উইলো গাছের মতো আর বিরোধহীনতা ওক গাছের মতো।”

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি হাদীসে বলেছেন- “মুমিন ব্যক্তি (সবুজ) কোমল শস্যের (চারা গাছের) মতো, বায়ু একে ডানে বামে দোলায় (এটা এতটাই কোমল)।”

জ্ঞানী ও বিজ্ঞ ব্যক্তি পানির মতো; কেননা, পানি পাথরের সাথে সংঘর্ষ করে না, বরং পানি পাথরের ডান, বাম, উপর ও নিচ দিয়ে চলে যায়。

অন্য একটি হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “মুমিন ব্যক্তি হলো উটের মতো; এটাকে লাগাম পরিয়ে পাথরে বসিয়ে রাখলে এটা তাই করবে অর্থাৎ পাথরেই হাঁটু গেড়ে বসে থাকবে।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 সদাচার

📄 সদাচার


সদাচার সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যায়, পক্ষান্তরে, কদাচার দুঃখ-দুর্দশার পথে নিয়ে যায়। একটি হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “সদাচরণের মাধ্যমে ঐ লোকের মর্যাদা লাভ করা যায় যে নাকি দিনভর নফল রোযা রাখে ও রাতভর নফল সালাত পড়ে।”

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন- “আমি কি তোমাদেরকে সে লোকের কথা বলব না যে নাকি আমার নিকট সবচেয়ে বেশি প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে কাছে থাকবে? তারা হলো ; তোমাদের মাঝে যাদের আচরণ সর্বোত্তম।”

وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ
“এবং নিশ্চয়ই আপনি (হে মুহাম্মদ!) মহান চরিত্রের অধিকারী।” (৬৮-সূরা আল কালাম : আয়াত-৪)

“তখন আপনি (হে মুহাম্মদ!) আল্লাহর রহমতে তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন; আর যদি আপনি কর্কশ-কঠোরাত্মা হতেন তবে তারা আপনার পাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চলে যেত।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৫৯)

“আর তোমরা মানুষের সাথে ভালো কথা বল।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-৮৩)

আয়েশা (রা) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র সম্বন্ধে বলেছেন- “তাঁর চরিত্র ছিল কুরআনেরই জীবন্ত বা বাস্তব রূপ।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 রাগ করবেন না

📄 রাগ করবেন না


“আর যদি তোমার মনে শয়তানের পক্ষ থেকে কোন কুমন্ত্রণা আসে তবে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।” (৭-সূরা আল আ'রাফ : আয়াত-২০০)

নবী কারীম ﷺ তাঁর একজন সাহাবীকে এই বলে উপদেশ দিয়েছিলেন যে, “তুমি রাগ করিও না!” একথা তিনি তিনবার বলেছিলেন। নবী কারীম ﷺ-এর সামনে যখন এক লোক রাগান্বিত হয়েছিল তখন তিনি ﷺ তাকে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাইতে আদেশ করেছিলেন। “এবং আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, হে আমার প্রতিপালক! যাতে শয়তানরা আমার নিকট হাজির হতে না পারে।” (২৩-সূরা আল মু'মিনুন : আয়াত-৯৮)

“নিশ্চয় যারা মুত্তাকী, তাদেরকে যখন শয়তান কুমন্ত্রণা দেয় তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে, ফলে তৎক্ষণাৎ তাদের অন্তরদৃষ্টি খুলে যায়।” (৭-সূরা আল আ'রাফ : আয়াত-২০১)

যা মানুষকে হতাশ ও বিষণ্ণ করে ক্রোধও তার মধ্যে একটি। নিচে রাগ দমন করার কয়েকটি পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-

১. রাগকে আপনার শত্রু মনে করে তা দমন করার জন্য প্রতিযোগিতা করুন। “এবং ক্রোধ সংবরণকারীগণ এবং মানুষদেরকে ক্ষমাকারীগণ, আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালোবাসেন।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৩৪)
“আর যখন তারা ক্রুদ্ধ হয় তখন তারা ক্ষমা করে দেয়।” (৪২-সূরা আশ শুরা : আয়াত-৩৭)
“আর যখন মূসার রাগ পড়ল তখন তিনি ফলকগুলো তুলে নিলেন।” (৭-সূরা আল আ'রাফ : আয়াত-১৫৪)

২. অজু করুন, কেননা ক্রোধ আগুনের একটি কণা, এটাকে পানি দ্বারা নিভানো যায়।

৩. আপনি দাঁড়ানো থাকলে বসে পড়ুন আর বসা অবস্থায় থাকলে শুয়ে পড়ুন।

৪. ক্রুদ্ধ অবস্থায় চুপ থাকুন।

৫. যারা রাগ দমন করে ও যারা ক্ষমা করে তাদের পুরস্কারের কথা স্মরণ করুন।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি বা জন্মগত স্বভাব-প্রকৃতি

📄 আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি বা জন্মগত স্বভাব-প্রকৃতি


যখন প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া বয়, বজ্র গর্জন করে ও অন্ধকারে আকাশ ছেয়ে যায় তখন সাহায্য চাওয়ার জন্য আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়ার মানুষের সহজাত প্রয়োজন সুপ্ত অবস্থা থেকে জেগে ওঠে।

“তখন এর নিকটে (জাহাজের নিকটে) ঝঞ্ঝা যুক্ত বায়ু আসে এবং তাদের নিকট সর্বাধিক ঢেউ আসে। তারপর তারা ভাবতে থাকে যে, তারা এ সবে্র মাঝে আটকা পড়ে গেছে, তখন তারা আল্লাহকে তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে আহ্বান করে।” (১০-সূরা ইউনুস: আয়াত-২২)

তাছাড়া মুসলমানরা সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায়ই তাদের প্রভুকে আহ্বান করে।

“যদি সে (ইউনুস নবী) আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা না করত তবে তাকে কিয়ামতৈর দিন পর্যন্তও মরতে হতো।” (১০-সূরা আল আম্বিয়া: আয়াত-১৪৩-১৪৪)

অধিকাংশ লোকই প্রয়োজনের সময় আল্লাহর নিকট সাহায্য চায়, আর যখন তাদের আশা শেষ হয়ে যায় তখন তারা প্রভুদের তাদের পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে। তারা কি মনে করে যে, আল্লাহকে ধোঁকা দিলে তারা সত্য ও সুন্দর সৃষ্ট দুর্বল সব।

“নিশ্চয় মুনাফিকরা আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চেষ্টা করে। কিন্তু তিনিই তাঁদেরকে ধোঁকা দিয়ে ফেলেন।” (৪-সূরা আন নিসা: আয়াত-১৪২) (আল্লাহ মুনাফিকদেরকে ধোঁকা দিলেন এর অর্থ হলো তিনি তাঁদেরকে ধোঁকাবাজির কারণে শাস্তি দিয়ে দিলেন। কেননা আল্লাহর পক্ষে ধোঁকা দেওয়া শোভা পায় না। – অনুবাদক)

যারা কেবলমাত্র বিপদের সময়েই আল্লাহর মুখাপেক্ষী হয় তারা তো ফেরাউনদের শিষ্য। ফেরাউন যখন সময় পার হয়ে যাবার পর ঈমান এনেছিল তখন তাকে বলা হয়েছিল–

“অথচ তুমি পূর্বে অবাধ্যতা করেছ (ঈমান আনতে অস্বীকার করেছ) এবং তুমি ফাসাদকারী ছিলে।” (১০-সূরা ইউনুস: আয়াত-৯১)

আমি BBC রেডিওতে খবর শুনেছি যে, ইরাক যখন কুয়েত দখল নিয়েছিল তখন মার্গারেট থ্যাচার কলোরাডোতে ছিল, তখন তিনি অতি দ্রুত চার্চে গিয়ে সেজদা করেছিলেন।

এ একমাত্র ব্যাখ্যা আমি মনে করি যে, তার সহজাত প্রকৃতি জেগে গিয়েছিল ও তিনি কুফুরী ও পথভ্রষ্টতা সত্ত্বেও তার প্রভুর মুখাপেক্ষী হয়েছিলেন। মানুষের মাঝে স্বভাবজাত বলতে কিছু একটা আছে যা তাদেরকে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে সাহায্য করে।

كُلُّ مَوْلُوْدٍ يُوْلَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَاَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهٖ اَوْ يُنَصِّرَانِهٖ اَوْ يُمَجِّسَانِهٖ
“প্রতিটি শিশুই স্বভাব ধর্মের উপর (ঈমান ও ইসলামের উপর) জন্মগ্রহণ করে; পরে তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদী, খ্রিস্টান বা অগ্নিউপাসক বানায়।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px