📄 দান দাতার জন্য শান্তি বয়ে আনে
যে সব বিষয় শাস্তি বয়ে আনে তার মধ্যে অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা ও অন্যকে দান করা অন্যতম।
“আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা থেকে ব্যয় কর।” (২-সুরা বাক্বারা : আয়াত-২৫৪)
“যে সব নারী-পুরুষ দান করে।” (৩৩-সুরা আল আহযাব : আয়াত-৩৫)
“যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এবং (আল্লাহর নিকট তাদের দানের পুরস্কার পাবেন এই) দৃঢ় আশাসহ আল্লাহর রাস্তায় দান করেন তাদের উদাহরণ ঐ বাগানের মতো যা উচ্চস্থানে, অতঃপর সেখানে মুষলধারে বৃষ্টি হয় ফসল এবং ফলমূল ভীষণ উৎপাদিত হয়, যদি সেখানে মুষলধারে বৃষ্টিপাত নাও হয় তবে অল্প বৃষ্টিই যথেষ্ট হয়।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২৬৫)
“এবং (কৃপণের মতো) তোমার হাতকে তোমার ঘাড়ে নিকট গুটিয়ে রেখো না।” (১৭-সূরা বনী ইসরাঈল : আয়াত-২৯)
কৃপণ লোকের অবস্থা শোচনীয় এবং সর্বদা অশান্তিবোধ করে, তারা আল্লাহর রহমতের ভাগ নিতে ব্যয়কুণ্ঠ বা কৃপণ। (অর্থাৎ তারা কৃপণ হওয়ার কারণে দান করতে পারে না ফলে আল্লাহর রহমতও অর্জন করতে পারে!)
কৃপণ ব্যক্তি যদি শুধুমাত্র একথা জানতো যে, গরীবদের জন্য টাকা-পয়সা খরচ করে সে সুখ অর্জন করতে পারবে তবে সে অবশ্যই দানের প্রতিযোগিতা করত।
“যদি তোমরা আল্লাহকে করযে হাসানাহ্ দিতে তবে আল্লাহ তা তোমাদের জন্য দ্বিগুণ করে দিতেন এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন।” (৬৪-সূরা আত্ব তাগাবুন : আয়াত-১৭)
“আর যাকে তার কার্পণ্য বা লোভ থেকে রক্ষা করা হয়; ফলত তারাই সফলকাম।” (৫৯-সূরা আল হাশর : আয়াত-৯)
“এবং তারা যারা আমি তাদেরকে যা দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-৩)
অর্থাৎ তারা যাকাত দেয়; নিজেদের জন্য, তাদের পিতা-মাতার জন্য, তাদের সন্তানদের জন্য, তাদের স্ত্রীদের জন্য, ইত্যাদি নানা বিষয়ে তাদের সম্পদ ব্যয় করে এবং গরীবদেরকে দান করে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে যথা জিহাদ ইত্যাদি কাজে দান করে।
হাতেম তাই তার স্ত্রীকে বলেছিলেন-
إِذَا صَنَعْتَ الزَّادَ فَالْتَمِسِي لَهُ * أَكُولًا فَإِنِّي لَسْتُ آكُلُهُ وَحْدِي
“যখন তুমি খাদ্য তৈরি করবে তখন একজন খাদককে দাওয়াত করিও, কেননা আমি তা একাকী খাব না।”
তারপর তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট তাঁর দর্শন ব্যক্ত করে বলেছেন-
أَرِينِي كَرِيْمًا مَّاتَ مِنْ قَبْلِ حِيْنِهِ * فَيَرْضَى فُؤَادِي أَوْ بَخِيلًا مُّخَلَّدًا .
“আমাকে এমন একজন দয়ালু দেখাও যে নাকি (দান করে অভাবে পড়ে না খেয়ে) তার মৃত্যুর সময়ের আগেই মারা গেছে। অথবা এমন একজন কৃপণ দেখাও যে নাকি (দান না করে ধনী হয়ে) চিরকাল বেঁচে থাকবে, তবেই আমার মন শান্তি পাবে।”
📄 দান কর্ম
আবু বকর (রা) সর্বশিক্ষাকার্ত্থক অর্থ ব্যাপক অর্থবোধকভাবে বলেন-
صَنَائِعُ الْمَعْرُوفِ تَقِي مَصَارِعَ السُّوءِ
ভাবার্থ : “দান কর্ম মানুষকে জীবন-মরণ থেকে রক্ষা করে।” এ কথা ওহী ও সুহুফ যুক্তি দ্বারা সমর্থিত। (ইংরেজী পুস্তকে এভাবেই অনুবাদ করা হয়েছে- এর শাব্দিক অর্থ হবে নেক আমল- দুর্ঘটনা ও বিপদাপদ থেকে রক্ষা করে।” -অনুবাদক)
“যদি না ইউনুস (আ) আল্লাহর তসবীহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে কিয়ামত (পুনরুত্থান) দিবস পর্যন্ত তিনি এর (মাছের) পেটে থাকত।” (৩৭-সূরা আস সাফফাত : আয়াত-১৪৩-১৪۴)
খাদিজা (রা) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেছিলেন: “কখনও নয়, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনও পরিত্যাগ করবেন না। কেননা, নিশ্চয় আপনি আত্মীয়দের নিকট ভালো বা আত্মীয়দের জন্য কল্যাণকর, আপনি অন্যদের বোঝা বহন করেন, আপনি অভাবীদের খাদ্য যোগান এবং এ সব লোকদের দুঃসময় চলছে আপনি তাদেরকে সাহায্য করেন।”
লক্ষ্য করুন যে, তিনি কতটাই বুঝেছিলেন যে, আমলে সালেহ অবশ্যই সুফল বয়ে আনে এবং মহান বা শুভ সূচনার বিজয়ী সমাপ্তি ঘটে।
সাবাহি (আরবী পুস্তকে আছে ‘সাবী’)-এর ‘আলগওয়ারাহ’ ইবনুল জাওযীর ‘আল মুলতা’ফিম’ ও তানুখীর ‘আল ফারাজু বা’দাশ্ শিদ্দাহ’ এসব কটি পুস্তকেই নিম্নোক্ত ঘটনাটি বর্ণনা করা হয়েছে।
ইবনুল ফুরাত নামক এক গর্বব্দা সরদার আবু জাফর ইবনে বিসমাতুর ক্ষতি করতে চাইত। এ কারণে আবু জা’ফর অনেক কষ্ট ভোগ করেছে।
আবু জা’ফর যখন শিশু ছিলেন তখন বাদশাহের নিচে তার মা একটি রুটি রেখে দিত। পরদিন সকালে তার মা তার ছেলের পক্ষ থেকে এ রুটিকে একজন অভাবী লোককে দান করে দিত। পরবর্তী জীবনে আবু জা’ফর কোন না কোন কাজে ইবনুল ফুরাতের নিকট গিয়েছিল। ইবনুল ফুরাত ততক্ষণাৎ বলল, তোমার ও তোমার মায়ের মাঝে রুটি নিয়ে কোন ব্যাপার আছে কি সে উত্তর দিল, “না।”
ইবনুল ফুরাত বলল, “আমার সাথে তোমাকে অবশ্যই সব কথা বলতে হবে।” আবু জা’ফর সম্ভবত কিছুটা বিব্রত হয়ে ঘটনাকে এমন ভঙ্গিমায় পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করল যাতে তার (মায়ের) প্রতি ও সাধারণভাবে নারীর জাতির প্রতি মজা করা হলো। ইবনুল ফুরাত বলল, “এমন (কৌতুকের) চরিত্রে কথা বল না। কেননা, গতরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমি একটি পরিকল্পনা করেছি, তা যদি সফল হতো তবে ভূমি ধ্বংস হয়ে যেত। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম তখন আমি একটি স্বপ্ন দেখলাম, আমি যেন দু’হাতে একটি ঝাপযুক্ত তরবারী উঠিয়ে তোমাকে হত্যা করার জন্য তোমার দিকে দৌড়ে গেলাম।
তোমার মা আমাকে আটকিয়ে দিল আর তার জন্য একটি রুটি ছিল, যা সে তোমাকে আমার কাছ থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করেছিল, ফলে তোমার নিকট পৌঁছতে পারিনি, আর এরপর আমি ঘুম থেকে জেগে উঠলাম। তাদের মাঝে ধীরে যে শত্রুতা গড়ে উঠেছিল তার জন্য আবু জা’ফর তাকে মুখোমুখিভাবে তিরস্কার করল এবং এ ঘটনা তাদের কাজে বিরতির পথ খুলে দিল। ইবনুল ফুরাত আবু জা’ফরকে তার কাজে ব্যাপকভাবে সাহায্য করলেন আর তারা অচিরেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে গেল। এ ঘটনার পর ইবনুল ফুরাতকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “আল্লাহর কসম, এরপর তুমি আমার পক্ষ থেকে কোন ক্ষতি দেখতে পাবে না।”