📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 দুর্দশাগ্রস্তদের কথা ভেবে সান্ত্বনা লাভ করুন

📄 দুর্দশাগ্রস্তদের কথা ভেবে সান্ত্বনা লাভ করুন


আপনার ডানে-বামে-চারপাশে তাকান। আপনি কি দুর্দশাগ্রস্ত ও হতভাগাদের দেখতে পান না? প্রতিটি ঘরেই শোক আছে, বিরহ আছে, কষ্ট আছে। প্রতিটি গাল বেয়েই চোখের পানি ঝরছে। কতই না মুসিবত আর কতই না ধৈর্যশীল লোকজন! আপনি একাই শুধু সমস্যাগ্রস্ত নন। অন্যের সাথে তুলনা করে দেখলে আপনার সমস্যা নেহায়েত কম বলেই মনে হবে।

কত রুগ্ন ব্যক্তিই তো রোগ শয্যায় শুয়ে অবর্ণনীয় যন্ত্রণা ভোগ করছে! কত লোক বন্দি হওয়ার কারণে বছরের পর বছর সূর্যের আলোর মুখ দেখেনি, তারা জেলখানার চৌহদ্দি ছাড়া আর কোন কিছুই চেনে না! কত নারী-পুরুষ তাদের সন্তানদেরকে ভরা যৌবনে বা অকালে হারিয়েছে! কত লোকই না সমস্যাগ্রস্ত, অভাবগ্রস্ত ও নিপীড়িত!

যারা আপনার চেয়ে শোচনীয় অবস্থায় আছে, তাদের কথা মনে করে সান্ত্বনা লাভ করুন। জেনে রাখুন যে, এ দুনিয়া ঈমানদারদের জন্য জেলখানার মতোই একটি দুঃখ ও বিষণ্ণতার ঘর। সকালবেলা প্রাসাদগুলো মানুষে ভরা থাকে, আর মুহূর্তেই দুর্বিপাকে পড়ে সেগুলো বিরান হয়ে যায়! কখনো জীবন শান্তিময়, দেহ সুস্থ, সম্পদ অঢেল, সন্তান সুস্থ-সবল হতে পারে, আবার কয়েকদিনের বা ক্ষণিকের মধ্যেই দারিদ্র্য, মৃত্যু, বিচ্ছেদ ও অসুস্থতাও ঘটতে পারে।

“আর তোমরা তাদের আবাসস্থলেই বসবাস করতে, যারা নিজের উপর অত্যাচার করেছিল এবং আমি তাদের সাথে কী আচরণ করেছিলাম তা তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট ছিল। আর আমি তোমাদের জন্য অনেক দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছি” (১৪-সুরা ইবরাহীম : আয়াত-৪৫)

অভিজ্ঞ উট যেমন একটি মাত্র পাথরের উপর হাঁটু গেড়ে বসতে পারে। প্রয়োজন হলে আপনাকেও এর মতো প্রতিকূল পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে।

{বাইন মাছ যেমন কাদার মধ্যে থাকে, কিন্তু তার গায়ে কাঁদা জড়িয়ে যায় না, আপনিও তেমনি মন্দ পরিবেশ থেকে ও মন্দ জড়াবেন না। সেই সাথে অন্যেরা ভালো হয় না বিধায় দুঃখবোধ করে নিজেকেও ধ্বংস করে দিবেন না। এ প্রসঙ্গে দেখুন– (২৬-সুরা আশ শুয়ারা : আয়াত-৩) –অনুবাদক।}

আপনাকে অবশ্যই আপনার সমস্যাবলিকে আপনার চারপাশের লোকদের সমস্যাবলির সাথে ও আপনার পূর্ববর্তী লোকদের সাথে তুলনা করে দেখতে হবে। আপনার বুঝা উচিত যে, তাদের তুলনায় আপনি অনেক ভালো অবস্থাতেই আছেন এবং এটাও বুঝা উচিত যে, আপনি শুধু ছোটখাট কিছু সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। সুতরাং আল্লাহ তায়ালার দয়ার জন্য তাঁর প্রশংসা করুন। আপনার জন্য তিনি যা রেখে দিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ দিন, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হোন, তাঁর শুকরিয়া আদায় করুন। তিনি যা ছিনিয়ে নিয়েছেন তার জন্য তাঁর নিকট পুরস্কার চান এবং দুর্দশাগ্রস্তদের কথা ভেবে সান্ত্বনা খোঁজ করুন।

নবী করীম ﷺ-এর মাঝে আপনার জন্য ধৈর্যের পরম উপমা রয়েছে। উটের নাড়িভুড়ি তাঁর মাথায় চাপানো হয়েছিল; তাঁর পা থেকে রক্ত ঝরেছিল; তায়েফবাসী তাঁকে পাথর নিক্ষেপ করে রক্তাক্ত করেছিল; তাঁর চেহারা ফেটে গিয়েছিল; তাঁকে গিরিপথে বন্দী করা হয়েছিল, সেখানে তিনি গাছের পাতা খেতেও বাধ্য হয়েছিলেন; মক্কা থেকে তাঁকে বিতাড়িত করা হয়েছিল; যুদ্ধে তাঁর সামনের দাঁত ভেঙে গিয়েছিল; তাঁর নিষ্পাপ স্ত্রীকে অপবাদ দেওয়া হয়েছিল; তাঁর সত্তর জন সাহাবীকে হত্যা করা হয়েছিল; তিনি তাঁর ছেলের ও অধিকাংশ মেয়েদের মৃত্যুর শোক পেয়েছিলেন; ক্ষুধার জ্বালা নিবারণ করার জন্য তিনি তাঁর পেটে পাথর বেঁধে ছিলেন এবং তাঁকে কবি, জাদুকর, গণক, পাগল হওয়ার অপবাদও দেওয়া হয়েছিল। আর এসবকিছু একই সময়ে ঘটেছিল। এতসব ঘটনার পরও তিনি অটল ধৈর্যধারণ করেছিলেন। এতসব সাংঘাতিক অগ্নিপরীক্ষা ও দুঃখ-কষ্টের মাঝেও মহান আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করেছিলেন।

নবী যাকারিয়া (আ)-কে হত্যা করা হয়েছিল, নবী মূসা (আ)-কে ভীষণ জ্বালাতন করা হয়েছিল; নবী ইব্রাহীম (আ)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং সকল হক ইমামগণও একইভাবে অত্যাচারিত হয়েছিলেন। উমর (রা), উসমান (রা) ও আলী (রা) গুপ্তঘাতক কর্তৃক নিহত হয়েছিলেন। অতীতের অনেক আলেমকে বন্দি ও অত্যাচার করা হয়েছিল।

أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا.
“নাকি তোমরা একথা ভেবে বসে আছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ এখনও তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হয়নি? তারা অভাবগ্রস্ত, রোগগ্রস্ত ও শিহরিত হয়েছিলেন।” (২-সূরা বাক্কারা : আয়াত-২১৪)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 মনমরা হবেন না- পরোপকার করুন

📄 মনমরা হবেন না- পরোপকার করুন


অন্যদের নিকট কাজের হওয়া সুখের দিকে নিয়ে যায়। একটি নির্ভরযোগ্য হাদীসে আছে: নবী করীম ﷺ বলেছেন -

“আল্লাহ তা’য়ালা যখন বিচার দিবসে তাঁর বান্দার বিচার করবেন তখন তিনি নিশ্চয় তাঁর বান্দাকে বলবেন, “হে আদম সন্তান! আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম অথচ তুমি আমাকে খাওয়াওনি।” সে উত্তর দিবে, যখন নাকি আপনি সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক তখন আমি আপনাকে কীভাবে খাওয়াতে পারি? তিনি বলবেন, “তুমি কি জানতে না যে, আমার বান্দা অমুকের পুত্র অমুক ক্ষুধার্ত ছিল কিন্তু তুমি তাকে খেতে দাওনি। হায়! তুমি যদি তাকে খেতে দিতে তবে তুমি তা (অর্থাৎ তার পুরস্কার) আমার নিকট পেতে। হে আদম সন্তান! আমি তৃষ্ণার্ত ছিলাম অথচ তুমি আমাকে কিছু পান করতে দাওনি।”

সে বলবে, আপনি হলেন সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক, আপনাকে আমি কীভাবে পান করতে দিতে পারি? তিনি বলবেন, “তুমি কি জানতে না যে আমার বান্দা অমুকের পুত্র অমুক পিপাসার্ত ছিল, কিন্তু তুমি তাকে পান করতে কিছু দাওনি। হায়! যদি তুমি তাকে পান করাতে তবে তার পুরস্কার আমার নিকট পেতে। হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে দেখতে আসনি।” সে বলবে, “আমি আপনাকে কীভাবে দেখতে আসতে পারি? আপনি তো সারা বিশ্বজগতের প্রতিপালক।” তিনি বলবেন, “তুমি কি জানতে না যে, আমার বান্দা অমুকের পুত্র অমুক অসুস্থ ছিল, কিন্তু, তুমি তাকে দেখতে যাওনি। হায়! যদি তুমি তাকে দেখতে যেতে, তবে তুমি আমাকে তার নিকট পেতে।”

এখানে একটি মজার বিষয় হলো যে, হাদীসটির শেষ তৃতীয়াংশে “তুমি তার নিকট আমাকে পেতে।” কথাটি আছে। একথাটি হাদীসটির প্রথম দু'অংশের মতো নয়। সেসব স্থানে আছে –
“তুমি তা (অর্থাৎ খাদ্য খেতে দেওয়ার ও পানীয় পান করতে দেওয়ার পুরস্কার) আমার নিকট পেতে।”

পার্থক্যের কারণ হলো এই যে, পরম করুণাময় আল্লাহ তাদের সাথে থাকেন যাদের মন দুর্দশাগ্রস্ত, যেমনটি অসুস্থ ব্যক্তির মন। এবং আরেকটি হাদীসে নবী কারীম ﷺ বলেছেন–
“প্রতিটি তাজা কলিজাতে পুরস্কার আছে (অর্থাৎ যে কোন জীবিত সৃষ্টির বা জীবের সেবাতেই পুরস্কার পাওয়া যাবে।)”

আরো জেনে রাখুন যে, একটি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে বনী ইসরাঈলের এক বেশ্যা মহিলাকে আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন। সুতরাং যে অন্য মানুষদেরকে খাদ্য দিয়ে, পানি দিয়ে এবং তাদের কষ্ট ক্লেশ অভাব-অনটন দূর করে তাদের সেবা করে তার (পুরস্কারের) বিষয়টা কতই না সুন্দর হবে!

একখানি সহীহ হাদীসে আছে নবী করীম ﷺ বলেছেন– “যার নিকট অতিরিক্ত পাথেয় আছে, সে যেন এর থেকে যার কোন পাথেয় নেই তাকে দেয়। এবং যার একটি অতিরিক্ত বাহন আছে সে যেন তা তাকে দেয় যার কোন বাহন নেই।”

হাতেম তাই তাঁর চাকরকে মেহমান তালাশের আদেশ দিয়ে তাঁর সুন্দর এক কবিতার কয়েকটি পঙক্তিতে বলেছেন-
“আগুন জ্বালাও, কেননা রাত্রিটি অবশ্যই ঠান্ডা, তুমি যদি আমাকে একজন মেহমান এনে দিতে পার তবে তুমি মুক্ত।”

এবং তিনি তাঁর স্ত্রীকে বলেছেন-
“যখন তুমি খাদ্য প্রস্তুত করবে তখন একজন ক্ষুধার্তের তালাশ করিও, কেননা, আমি একাকী খাই না।”

ইবনে মুবারক (রা)-এর প্রতিবেশী একজন ইহুদী ছিল। তিনি নিজের সন্তানদেরকে খাওয়ানোর পূর্বেই সর্বদা সে ইহুদীকে খাওয়াতেন এবং প্রথমে তাকে কাপড় দেওয়ার পর তাঁর সন্তানদেরকে কাপড়-চোপড় দিতেন। এক সময় কিছু লোক ইহুদীকে বলেছিল যে, “আমাদের নিকট তোমার বাড়িটি বিক্রি করে দাও।” সে উত্তর করল যে, “আমার বাড়ির দাম দু’হাজার দিনার, এক হাজার বাড়ির মূল্য আরেক হাজার ইবনে মুবারক (রা) প্রতিবেশী হওয়ার কারণে।” আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রা) একথা শুনে পরমানন্দে চিৎকার দিয়ে বলেন, “হে আল্লাহ! তাকে ইসলামের পথ দেখান।” তারপর সে আল্লাহর ইচ্ছায় ইসলাম কবুল করেছিল।

আরেক বার আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক হজ্জ কাফেলার সাথে মক্কায় হজ্জ করতে যাচ্ছিলেন। তিনি কাফেলার এক মহিলাকে নোংরা আবর্জনার স্থান থেকে একটি মরা কাক তুলে নিতে দেখলেন। তিনি তাঁর খাদেমকে এ বিষয়ের তত্ত্ব-তালাশ করার জন্য পাঠালেন। সে যখন মহিলাটিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করল তখন মহিলাটি উত্তর দিল, “তিনদিন যাবৎ আমাদের কিছুই নেই তাই বাধ্য হয়ে একাজ করেছি।” আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক যখন একথা শুনলেন তাঁর নয়ন যুগল তখন অশ্রুতে ভরে গেল। তিনি তাঁর সব পাথেয়কে সকল সদস্যের মাঝে বণ্টন করে দিতে আদেশ দিলেন এবং যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার মতো কোন পাথেয় না থাকায় তিনি বাড়ি ফিরে গেলেন এবং সে বছরের জন্য হজ্জ মুলতবি রাখলেন। পরে তিনি দেখলেন যে, কেউ একজন বলছে, “তোমার হজ্জ কবুল হয়েছে, যেমনটি হয়েছে তোমার অন্যান্য নেক আমলও এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।”

মহান আল্লাহ বলেন-
وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ.
“সে সব জিনিসের অভাব থাকা সত্ত্বেও তারা অন্যকে নিজের উপর প্রাধান্য দেয়।” (৫৯-সূরা আল হাশর : আয়াত-৯)

একজন কবি বলেছেন- “আমি যদি এমন ব্যক্তি হই যে তার বন্ধু থেকে বহুদূরে থাকে, তবুও তাকে আমার সাহায্য দেওয়ার প্রস্তাব করি এবং তার কষ্ট লাঘব করার ইচ্ছা রাখি। যদি সে চমৎকার নতুন পোশাকে সাজসজ্জা করে তবে আমি বলব না যে, “হায়! সে যে পোশাক পরে আছে তা পরে আমি যদি ধন্য হতাম।” আল্লাহ্‌র কসম! কতইনা উত্তম আচরণ এবং কতইনা উদার হৃদয়।

ভালো কাজে বাড়াবাড়ি করলেও কেউ অনুতপ্ত হয় না। অনুতাপ অনুশোচনা শুধু ভুলের জন্য এবং অন্যায় কৃতকর্মের জন্যই, এমনকি সে অন্যায় যদি ছোট খাট অন্যায়ও হয় তবুও।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অন্যদেরকে সাহায্য করার চেষ্টা করুন

📄 অন্যদেরকে সাহায্য করার চেষ্টা করুন


অ্যারিস্টটল বলেছেন- “আদর্শ ব্যক্তি তিনিই যিনি অন্যদের সেবা করতে আনন্দ পান এবং অন্যরা তাঁর সেবা করলে তিনি লজ্জিত হন; কেননা, দয়া প্রদর্শন মাহাত্ম্যের লক্ষণ, পক্ষান্তরে দয়া গ্রহণ ব্যর্থতার লক্ষণ।”

নিম্নোক্ত হাদীসটি এ বিষয়ে অধিকতর অর্থসহ ও যথাযথ- اَلْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌمِّنَ الْيَدِ السُّفْلٰى –
“নিচের হাতের চেয়ে উপরের হাত উত্তম।”

উপরের হাত বলতে দানকারী (হাত) বুঝায় আর নিচের হাত বলতে দান গ্রহণকারী (হাত) বুঝায়।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 দান দাতার জন্য শান্তি বয়ে আনে

📄 দান দাতার জন্য শান্তি বয়ে আনে


যে সব বিষয় শাস্তি বয়ে আনে তার মধ্যে অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা ও অন্যকে দান করা অন্যতম।

“আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা থেকে ব্যয় কর।” (২-সুরা বাক্বারা : আয়াত-২৫৪)

“যে সব নারী-পুরুষ দান করে।” (৩৩-সুরা আল আহযাব : আয়াত-৩৫)

“যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এবং (আল্লাহর নিকট তাদের দানের পুরস্কার পাবেন এই) দৃঢ় আশাসহ আল্লাহর রাস্তায় দান করেন তাদের উদাহরণ ঐ বাগানের মতো যা উচ্চস্থানে, অতঃপর সেখানে মুষলধারে বৃষ্টি হয় ফসল এবং ফলমূল ভীষণ উৎপাদিত হয়, যদি সেখানে মুষলধারে বৃষ্টিপাত নাও হয় তবে অল্প বৃষ্টিই যথেষ্ট হয়।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২৬৫)

“এবং (কৃপণের মতো) তোমার হাতকে তোমার ঘাড়ে নিকট গুটিয়ে রেখো না।” (১৭-সূরা বনী ইসরাঈল : আয়াত-২৯)

কৃপণ লোকের অবস্থা শোচনীয় এবং সর্বদা অশান্তিবোধ করে, তারা আল্লাহর রহমতের ভাগ নিতে ব্যয়কুণ্ঠ বা কৃপণ। (অর্থাৎ তারা কৃপণ হওয়ার কারণে দান করতে পারে না ফলে আল্লাহর রহমতও অর্জন করতে পারে!)

কৃপণ ব্যক্তি যদি শুধুমাত্র একথা জানতো যে, গরীবদের জন্য টাকা-পয়সা খরচ করে সে সুখ অর্জন করতে পারবে তবে সে অবশ্যই দানের প্রতিযোগিতা করত।

“যদি তোমরা আল্লাহকে করযে হাসানাহ্ দিতে তবে আল্লাহ তা তোমাদের জন্য দ্বিগুণ করে দিতেন এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন।” (৬৪-সূরা আত্ব তাগাবুন : আয়াত-১৭)

“আর যাকে তার কার্পণ্য বা লোভ থেকে রক্ষা করা হয়; ফলত তারাই সফলকাম।” (৫৯-সূরা আল হাশর : আয়াত-৯)

“এবং তারা যারা আমি তাদেরকে যা দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-৩)

অর্থাৎ তারা যাকাত দেয়; নিজেদের জন্য, তাদের পিতা-মাতার জন্য, তাদের সন্তানদের জন্য, তাদের স্ত্রীদের জন্য, ইত্যাদি নানা বিষয়ে তাদের সম্পদ ব্যয় করে এবং গরীবদেরকে দান করে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে যথা জিহাদ ইত্যাদি কাজে দান করে।

হাতেম তাই তার স্ত্রীকে বলেছিলেন-
إِذَا صَنَعْتَ الزَّادَ فَالْتَمِسِي لَهُ * أَكُولًا فَإِنِّي لَسْتُ آكُلُهُ وَحْدِي
“যখন তুমি খাদ্য তৈরি করবে তখন একজন খাদককে দাওয়াত করিও, কেননা আমি তা একাকী খাব না।”

তারপর তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট তাঁর দর্শন ব্যক্ত করে বলেছেন-
أَرِينِي كَرِيْمًا مَّاتَ مِنْ قَبْلِ حِيْنِهِ * فَيَرْضَى فُؤَادِي أَوْ بَخِيلًا مُّخَلَّدًا .
“আমাকে এমন একজন দয়ালু দেখাও যে নাকি (দান করে অভাবে পড়ে না খেয়ে) তার মৃত্যুর সময়ের আগেই মারা গেছে। অথবা এমন একজন কৃপণ দেখাও যে নাকি (দান না করে ধনী হয়ে) চিরকাল বেঁচে থাকবে, তবেই আমার মন শান্তি পাবে।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px