📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 মুমিন ব্যক্তি দৃঢ় ও স্থির সংকল্প

📄 মুমিন ব্যক্তি দৃঢ় ও স্থির সংকল্প


“মুমিন তো শুধুমাত্র যারা আল্লাহ্র প্রতি ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস (ঈমান) রাখে অতঃপর সন্দেহ করে না।” (৪৯-সূরা আল হুজরাত : আয়াত-১৫)

অন্যদের সম্পর্কে (অর্থাৎ মুনাফিকদের সম্বন্ধে) বলা হয়েছে : “অতএব তারা তাদের সন্দেহে দোদুল্যমান।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৪৫)

একলোক চার বছর যাবৎ সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি যে, সে তার অসত্য ও ঝগড়াটে স্ত্রীকে তালাক দিবে কি না, অবশেষে সে উপদেশ চাওয়ার জন্য একজন জ্ঞানী লোকের নিকট গেল। জ্ঞানী লোকটি তাকে জিজ্ঞেস করল যে, কতদিন যাবৎ সে তাকে (ঐ মহিলাকে) বিয়ে করেছে, আর লোকটি উত্তর দিল- “চার বছর।” জ্ঞানী লোকটি বিস্মিত হয়ে বলল, “এখন পর্যন্ত চার বছর যাবৎ তুমি দ্বিধাদ্বন্দ্বে করে আসছ!”

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পর্যাপ্ত গল্পের সদ্গুণ অবস্থাতেই ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু কখন পর্যন্ত (উভয়) যে অবস্থায় আমরা বলি, ‘যথেষ্ট হয়েছে’ (সে পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে হয়)। একজন সচেতন মানুষের ভালো ধারণা আছে যে, এ ধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করা ভালো না মন্দ, এবং তখন সে পদক্ষেপ নেয়। সন্দেহ ও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব মানুষকে বিভিন্ন অবস্থায় আক্রমণ করে। কিন্তু বিশেষ করে নিম্নোক্ত চার অবস্থায়-

১. গুরুত্বপূর্ণ পড়াশোনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে; যে ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নিতে দুর্বল কোন বিষয়ে (তাকে) ভর্তি হতে হবে সে বিষয়ে সে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। কেউ কেউ রেজিস্ট্রেশনের সময় পার হয়ে যাবার পরও সিদ্ধান্তহীন থাকে। আবার কেউ কেউ এক বিষয়ে দু’ এক বছর পড়ার পর অন্য বিষয়ে বদলী (ট্রান্সফার) হয়ে যায়; (যেমন) প্রথমে তারা ইসলামিক স্টাডিজের দিকে ঝুঁকে পড়বে, তারপর অর্থনীতির দিকে, তার পর চিকিৎসা বিদ্যার দিকে। এ দ্বিধা ধীরে ধীরে তাদের জীবনকে শেষ করে দেয়। একই ব্যক্তি যদি অন্যান্য জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করত এবং আল্লাহ্র নিকট সঠিক পথ প্রার্থনা করত তবে সে তার সময়কে উত্তমরূপে কাজে লাগাতে পারত।

২. যথাযথ কাজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে। কিছু লোক তাদের স্বভাবের সাথে সর্বাপেক্ষা মানানসই (তাদের মেজাজের সাথে সবচেয়ে বেশি খাপ খায় এমন) কাজকে নির্ধারণ করতে পারে না। তারা এ কাজ ছেড়ে সে কাজ ধরে, সর্বদা আগের কাজের প্রতি অতৃপ্ত থাকে। অবশেষে তারা ব্যর্থতা পাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ধরণের অস্থির সংকল্প প্রায়ই অর্থনৈতিক অস্থিরশীলতার দিকে নিয়ে যায়। এমন লোকদেরকে আমি বলি, “আপনি যে কাজ করছেন এতে যদি আপনি স্বস্তির সাথে টাকা রোজগার করতে থাকেন তবে আপনার উচিতও এ কাজে লেগে থাকা।”

৩. বিয়ের ব্যাপারে : তাদের সঙ্গী নির্বাচন করা কঠিন দেখে অনেক লোকই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগে। এ ব্যাপারে কেউ সহজেই অন্যদের মতামতকে প্রভাবিত হতে পারে, মাঝে মাঝে পিতা হয়েও কোন মেয়েকে (ছেলের) বিয়ের যোগ্য মনে করেন অথচ মাতা আপত্তি তোলেন। (স্ত্রী নির্বাচনের দৃঢ়তা সীমাহীন)। বিশেষ করে বিয়ের ব্যাপারে আমার উপদেশ হলো- যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি মেয়ের ধর্ম, রূপ ও চরিত্র সম্বন্ধে সন্তুষ্ট হবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার অপেক্ষা করা উচিতও। কেননা, বিয়ের ব্যাপারে (কথা বলার অর্থ হলো) আমরা একটি মহিলার জীবনের ব্যাপারে কথা বলছি- এমন কোন তুচ্ছ বিষয় কথা বলছি না যাকে বিরক্ত হলেই ছুঁড়ে ফেলা যায়।

৪. দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ও স্থির সংকল্পের অভাব সাধারণত সেসব লোকের মাঝে দেখা দেয় যারা তালাকের কথা চিন্তা-ভাবনা করে। স্বামী হয়ত একদিন সিদ্ধান্ত নিল যে, বিচ্ছেদই ভালো, আরেক দিন সিদ্ধান্ত নেয় সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। এ ধরণের দ্বিধা-দ্বন্দ্বের ফলে জীবনে যে অশান্তির সৃষ্টি হয় তা স্ত্রীর সংকল্পের মাধ্যমে সারাতে হয়। জীবন সংক্ষিপ্ত, তাই জীবনে প্রতিটি মুহূর্তকে সুখী করার জন্য আমাদের ভূমিকা রাখার চেষ্টা করা উচিত। (আমাদের নিজেদের জীবনকে সুখী করার জন্য এবং আমাদের প্রতিবেশীদের জীবনকেও সুখী করার জন্য আমাদের চেষ্টা করা উচিত।)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আপনি যদি সত্যিই কোন কিছু করতে না পারেন তবে তা করা বাদ দিন

📄 আপনি যদি সত্যিই কোন কিছু করতে না পারেন তবে তা করা বাদ দিন


আবহা’র পীঠিতে আমি জুমু’আর খুতবা দিলাম। আমার অধিকাংশ খুতবাই ছিল নবী করীম ﷺ-এর জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। আমার বৈশিষ্ট্যও হয়ে গিয়েছিল এবং কাজে আমি স্বস্তি (বা আরাম) বোধ করতাম। কর্মবর্ধমান সীমাহীন যৌতুক প্রবণতা সম্বন্ধে খুতবা দেওয়ার জন্য একজন আমাকে অনুরোধ জানালেন। সেই অনুরোধ অনুসারে কাজ করতে আমার মন টানছিল না। কারণ, নবী করীম ﷺ-এর জীবনী সম্বন্ধে কথা বলতে আমি বেশি আরাম (বা স্বস্তি) বোধ করতাম। তবুও অনুরোধকৃত বিষয়ের উপর আমি উপযুক্ত বক্তৃতা দিলাম। আমি কুরআনের আয়াত ও নবী করীম ﷺ-এর হাদীসের উদ্ধৃতি দিলাম। আমি এলোমেলোভাবে, জোড়াতালি দিয়ে কোন রকম বিষয়টি পূর্ণ করছিলাম; আর যখন আমি বক্তৃতা দিচ্ছিলাম তখন আমার কপাল ঘেমে যাচ্ছিল। আমার খুতবা শেষ হওয়ার পর আমার মনে হয়েছিল যে, বিষয়টি সম্বন্ধে কথা বলা আমি এক যেনতেন কাজ করলাম এবং সেকারণেই আমি যে বিষয়ে চমৎকারিত্ব অর্জন করেছি সেদিকে লাগার দৃঢ় সংকল্প করলাম। "আর আমি ভানকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই!" আমাদের প্রত্যেকের উচিত স্বীয় ক্ষেত্রে স্বীয় কাজ করা।

إِنَّ اللَّهَ تَعَالَىٰ يُحِبُّ إِذَا عَمِلَ أَحَدُكُمْ عَمَلًا أَنْ يُتْقِنَهُ
"তোমাদের মধ্যে থেকে যে ব্যক্তি নিখুঁতভাবে কোন কাজ করে নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।" (জামে' ছগীর, হাদীস নং-১৮৬৭, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-১০২৬)

ফন্ট সাইজ
15px
17px