📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 সিদ্ধান্ত নিতে দৃঢ় প্রত্যয়ী হোন

📄 সিদ্ধান্ত নিতে দৃঢ় প্রত্যয়ী হোন


“তাহলে তুমি যখন দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে তখন তুমি আল্লাহ্র উপর নির্ভর করিও।” (৩-সূরা আল ইমরান : আয়াত-১৫৯)

“নিশ্চয় আল্লাহ্ তাদেরকে ভালোবাসেন যারা আল্লাহ্র উপর ভরসা রাখে।” (৩-সূরা আল ইমরান : আয়াত-১৫৯)

যখন সিদ্ধান্ত নিতে হয় তখন আমাদের অনেকেই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগে ও ফল প্রায়ই মাথা ব্যথা হয়। যখন পছন্দের বিষয় আসে বা পছন্দের ব্যাপার ঘটে তখন মুসলমানের উচিত অন্যদের (মুসলিমদের) সাথে পরামর্শ করা এবং ইস্তেখারা সালাত পড়া (সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এ সালাতের বিধান দেওয়া হয়েছে)। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বা কোন দিকে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার মতো ব্যাপার নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে দেখে আপনার উচিত; কিন্তু, যদি নিশ্চিত হন যে এ পথ অপরটির চেয়ে ভালো তবে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই আপনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। তখন পরামর্শ ও পরিকল্পনার সময় শেষ এবং কাজের সময় শুরু।

আল্লাহ্র রাসূল ﷺ উহুদের যুদ্ধের দিন মুসলমানের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। তাঁরা রাসূল ﷺ-কে যুদ্ধে বের হওয়ার পরামর্শ দিলেন আর তাই রাসূল ﷺ তাঁর যুদ্ধবর্ম পরিধান করলেন ও তাঁর তরবারী (হাতে) নিলেন। যখন তাঁর সাহাবীগণ বললেন, “হে আল্লাহ্র রাসূল ﷺ! আমরা সম্ভবত আপনাকে বের হওয়ার জন্য জোর করলাম।” তখন তিনি উত্তর দিলেন।
مَا كَانَ لِنَبِيٍّ إِذَا لَبِسَ لَأْمَتَهُ أَن يَنزِعَهَا حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ عَدُوِّهِ.
“কোন নবীর শোভা পায় না যে সে যুদ্ধের জন্য বর্ম পরিধান করে এবং আল্লাহ্ তাঁর মাঝে ও তাঁর শত্রুর মাঝে কোন ফয়সালা করার আগেই সে তা খুলে ফেলে।”

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বের হওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর জন্য বিশেষ বিবেচনার প্রয়োজন ছিল না, বরং দৃঢ়প্রত্যয় বা দৃঢ় ইচ্ছা, কাজ, নেতৃত্ব ও বীরত্বের প্রয়োজন ছিল।

অনুরূপভাবে বদরের যুদ্ধের আগেও আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন।
“আর কাজের বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করুন।” (৩-সূরা আল ইমরান : আয়াত-১৫৯)
“আর তাদের কাজ হলো তাদের মাঝে পারস্পরিক পরামর্শ করা (অর্থাৎ তারা পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে তাদের কাজ নির্ধারণ করে)।” (৪২-সূরা আশ শুরা : আয়াত-৩৮)

তারা তাদের মতামত জানালেন, দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়া হলো এবং তারা তখন যুদ্ধ করতে এগিয়ে গেলেন। সর্বদা দ্বিধাগ্রস্ত করা চরিত্রের দোষ বিশেষ এবং প্রায়ই (একাজ) মানুষকে ব্যর্থতার পথে নিয়ে যায়। আমি এমন কিছু লোকের কথা জানি যারা বহুবছর ধরে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব করেছে। অথচ সে সব কাজ নিয়মিত ও সহজ হওয়া উচিত ছিল। তারা নিজেরাই ব্যর্থতা ও হতাশাকে তাদের জীবনে প্রবেশ করার জন্য নিমন্ত্রণ (আমন্ত্রণ দাওয়াত) করেছে। আপনার পরিকল্পনা ও ধারণার বাস্তবতার বিষয়ে আপনার গবেষণা করা উচিত। বিষয়াদি সম্বন্ধে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ভেবে দেখার জন্য নিজেকে সময় দিন, অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী লোকের নিকট পরামর্শ চান এবং একাধিক পদক্ষেপের মাঝে সর্বোত্তম দিকের দিকে আপনাকে পথ-প্রদর্শন করার জন্য আপনার প্রভুর নিকট আপনি প্রার্থনা করুন। কিন্তু অবশেষে কাজের পদক্ষেপ নিন এবং সিদ্ধান্ত করতে বিলম্ব করবেন না।

আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করার পর অনেক আরব গোত্র যাকাত প্রদান করতে অস্বীকার করল। আবু বকর (রা) এ অবস্থায় কী করা যায় সে বিষয়ে জনগণের সাথে পরামর্শ করলেন। উমর (রা) সহ লোকজন তাকে এসব গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা না করার পরামর্শ দিলেন। বিভিন্ন তর্ক-বিতর্কপূর্ণ বিবেচিত হওয়া সত্ত্বেও আবু বকর (রা) সিদ্ধান্ত নিলেন যে তাদের বিরুদ্ধে তাদেরকে যুদ্ধ করতে হবে।

আবু বকর (রা) স্থির সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তিনি একটুও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব করেননি। তিনি বলেছিলেন : “যার হাতে আমার জীবন তাঁর কসম করে বলছি, যে ব্যক্তি সালাত ও যাকাতের মাঝে কোনরূপ পার্থক্য করবে আমি তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। আল্লাহ্র কসম, আল্লাহ্র রাসূলের কাছে তারা যে লাগাম (বা পশুর গলার রশি) দিত তাও যদি তারা দিতে অস্বীকার করে তবে এর জন্য আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব।” উমর (রা) বললেন, “তখন আমি বুঝতে পারলাম যে আল্লাহ্ আবু বকর (রা)-এর অন্তরকে (জিহাদ করার জন্য) খুলে দিয়েছেন বা প্রশস্ত করে দিয়েছেন, আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি সঠিক ছিলেন।

বিভিন্ন মতামতের মূল্য নির্ধারণ করার পর আবু বকর (রা) সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তারা মুরতাদদের (ধর্মত্যাগীদের) সাথে জিহাদ করে বিজয়ী হলেন。

মুনাফিকদের একটা চরিত্র হলো যা করা যেত তাকে সীমাহীন প্রশ্ন করে নস্যাৎ করা এবং যা আরো বিশেষভাবে বিবেচিত (বিলম্বিত) হওয়ার কথা তা (তাড়াতাড়ি) করার জন্য অনুরোধ করে তা নস্যাৎ করা। “যদি তারা তোমাদের সাথে (জিহাদে) বের হতো তবে তারা শুধুমাত্র তোমাদের (মাঝে) বিশৃঙ্খলাহ ব‌ৃদ্ধি করত এবং ফিতনা করার জন্য তোমাদের মাঝে তারা অস্থায়ী ছোঁড়াছুড়ি করত।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৪৭) “তারাই তাদের মৃত ভাইদের সম্বন্ধে বলেছিল, “যদি তারা আমাদের কথা শুনত তবে তারা নিহত হতো না।” অথচ তারা ঘরে বসেছিল। (হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম !) আপনি বলে দিন, “যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক তবে তোমরা তোমাদের নিজেদের থেকে মৃত্যুকে ফিরিয়ে রাখ।”” (৩-সূরা আল ইমরান : আয়াত-১৬৮)

তাদের প্রিয় শব্দ হলো ‘যদি’, ‘হায়!’ এবং ‘সম্ভবত’। তারা নড়বড়বড়ে ভিত্তির উপর সর্বদা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগে।
“তারা দোদুল্যমান, না এদের দিকে না ওদের দিকে।” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-১৪৩)

মাঝে মাঝে তারা আমাদের সাথে আর মাঝে মাঝে তারা ওদের সাথে। সংকটের সময় তারা বলে- “যদি আমরা জানতাম যে, যুদ্ধ হবে তবে অবশ্যই আমরা তোমাদের অনুসরণ করতাম।” (৩-সূরা আল ইমরান : আয়াত-১৬৭) তারা সর্বদা মিথ্যা কথা বলে। সুসময়ে তারা উপস্থিত, কিন্তু যদি জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েই যায় তবে তারা হাত গুটিয়ে থাকে নয়তো পালায়। তাদের কেউ বলে- “আমাকে (যুদ্ধ থেকে) অব্যাহতি দিন এবং আমাকে বিপদে ফেলবেন না।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৪৯) কর্তব্য থেকে পালানোর জন্য তারা আহযাবের যুদ্ধের আগে বলেছিল : “(শত্রুদের নিকট) আমাদের ঘর-বাড়ি সত্যিই উন্মুক্ত (অরক্ষিত) পড়ে আছে। অথচ সেগুলো খোলা (অরক্ষিত) ছিল না।” (৩৩-সূরা আহযাব : আয়াত-১৩)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 মুমিন ব্যক্তি দৃঢ় ও স্থির সংকল্প

📄 মুমিন ব্যক্তি দৃঢ় ও স্থির সংকল্প


“মুমিন তো শুধুমাত্র যারা আল্লাহ্র প্রতি ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস (ঈমান) রাখে অতঃপর সন্দেহ করে না।” (৪৯-সূরা আল হুজরাত : আয়াত-১৫)

অন্যদের সম্পর্কে (অর্থাৎ মুনাফিকদের সম্বন্ধে) বলা হয়েছে : “অতএব তারা তাদের সন্দেহে দোদুল্যমান।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৪৫)

একলোক চার বছর যাবৎ সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি যে, সে তার অসত্য ও ঝগড়াটে স্ত্রীকে তালাক দিবে কি না, অবশেষে সে উপদেশ চাওয়ার জন্য একজন জ্ঞানী লোকের নিকট গেল। জ্ঞানী লোকটি তাকে জিজ্ঞেস করল যে, কতদিন যাবৎ সে তাকে (ঐ মহিলাকে) বিয়ে করেছে, আর লোকটি উত্তর দিল- “চার বছর।” জ্ঞানী লোকটি বিস্মিত হয়ে বলল, “এখন পর্যন্ত চার বছর যাবৎ তুমি দ্বিধাদ্বন্দ্বে করে আসছ!”

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পর্যাপ্ত গল্পের সদ্গুণ অবস্থাতেই ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু কখন পর্যন্ত (উভয়) যে অবস্থায় আমরা বলি, ‘যথেষ্ট হয়েছে’ (সে পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে হয়)। একজন সচেতন মানুষের ভালো ধারণা আছে যে, এ ধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করা ভালো না মন্দ, এবং তখন সে পদক্ষেপ নেয়। সন্দেহ ও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব মানুষকে বিভিন্ন অবস্থায় আক্রমণ করে। কিন্তু বিশেষ করে নিম্নোক্ত চার অবস্থায়-

১. গুরুত্বপূর্ণ পড়াশোনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে; যে ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নিতে দুর্বল কোন বিষয়ে (তাকে) ভর্তি হতে হবে সে বিষয়ে সে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। কেউ কেউ রেজিস্ট্রেশনের সময় পার হয়ে যাবার পরও সিদ্ধান্তহীন থাকে। আবার কেউ কেউ এক বিষয়ে দু’ এক বছর পড়ার পর অন্য বিষয়ে বদলী (ট্রান্সফার) হয়ে যায়; (যেমন) প্রথমে তারা ইসলামিক স্টাডিজের দিকে ঝুঁকে পড়বে, তারপর অর্থনীতির দিকে, তার পর চিকিৎসা বিদ্যার দিকে। এ দ্বিধা ধীরে ধীরে তাদের জীবনকে শেষ করে দেয়। একই ব্যক্তি যদি অন্যান্য জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করত এবং আল্লাহ্র নিকট সঠিক পথ প্রার্থনা করত তবে সে তার সময়কে উত্তমরূপে কাজে লাগাতে পারত।

২. যথাযথ কাজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে। কিছু লোক তাদের স্বভাবের সাথে সর্বাপেক্ষা মানানসই (তাদের মেজাজের সাথে সবচেয়ে বেশি খাপ খায় এমন) কাজকে নির্ধারণ করতে পারে না। তারা এ কাজ ছেড়ে সে কাজ ধরে, সর্বদা আগের কাজের প্রতি অতৃপ্ত থাকে। অবশেষে তারা ব্যর্থতা পাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ধরণের অস্থির সংকল্প প্রায়ই অর্থনৈতিক অস্থিরশীলতার দিকে নিয়ে যায়। এমন লোকদেরকে আমি বলি, “আপনি যে কাজ করছেন এতে যদি আপনি স্বস্তির সাথে টাকা রোজগার করতে থাকেন তবে আপনার উচিতও এ কাজে লেগে থাকা।”

৩. বিয়ের ব্যাপারে : তাদের সঙ্গী নির্বাচন করা কঠিন দেখে অনেক লোকই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগে। এ ব্যাপারে কেউ সহজেই অন্যদের মতামতকে প্রভাবিত হতে পারে, মাঝে মাঝে পিতা হয়েও কোন মেয়েকে (ছেলের) বিয়ের যোগ্য মনে করেন অথচ মাতা আপত্তি তোলেন। (স্ত্রী নির্বাচনের দৃঢ়তা সীমাহীন)। বিশেষ করে বিয়ের ব্যাপারে আমার উপদেশ হলো- যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি মেয়ের ধর্ম, রূপ ও চরিত্র সম্বন্ধে সন্তুষ্ট হবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার অপেক্ষা করা উচিতও। কেননা, বিয়ের ব্যাপারে (কথা বলার অর্থ হলো) আমরা একটি মহিলার জীবনের ব্যাপারে কথা বলছি- এমন কোন তুচ্ছ বিষয় কথা বলছি না যাকে বিরক্ত হলেই ছুঁড়ে ফেলা যায়।

৪. দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ও স্থির সংকল্পের অভাব সাধারণত সেসব লোকের মাঝে দেখা দেয় যারা তালাকের কথা চিন্তা-ভাবনা করে। স্বামী হয়ত একদিন সিদ্ধান্ত নিল যে, বিচ্ছেদই ভালো, আরেক দিন সিদ্ধান্ত নেয় সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। এ ধরণের দ্বিধা-দ্বন্দ্বের ফলে জীবনে যে অশান্তির সৃষ্টি হয় তা স্ত্রীর সংকল্পের মাধ্যমে সারাতে হয়। জীবন সংক্ষিপ্ত, তাই জীবনে প্রতিটি মুহূর্তকে সুখী করার জন্য আমাদের ভূমিকা রাখার চেষ্টা করা উচিত। (আমাদের নিজেদের জীবনকে সুখী করার জন্য এবং আমাদের প্রতিবেশীদের জীবনকেও সুখী করার জন্য আমাদের চেষ্টা করা উচিত।)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আপনি যদি সত্যিই কোন কিছু করতে না পারেন তবে তা করা বাদ দিন

📄 আপনি যদি সত্যিই কোন কিছু করতে না পারেন তবে তা করা বাদ দিন


আবহা’র পীঠিতে আমি জুমু’আর খুতবা দিলাম। আমার অধিকাংশ খুতবাই ছিল নবী করীম ﷺ-এর জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। আমার বৈশিষ্ট্যও হয়ে গিয়েছিল এবং কাজে আমি স্বস্তি (বা আরাম) বোধ করতাম। কর্মবর্ধমান সীমাহীন যৌতুক প্রবণতা সম্বন্ধে খুতবা দেওয়ার জন্য একজন আমাকে অনুরোধ জানালেন। সেই অনুরোধ অনুসারে কাজ করতে আমার মন টানছিল না। কারণ, নবী করীম ﷺ-এর জীবনী সম্বন্ধে কথা বলতে আমি বেশি আরাম (বা স্বস্তি) বোধ করতাম। তবুও অনুরোধকৃত বিষয়ের উপর আমি উপযুক্ত বক্তৃতা দিলাম। আমি কুরআনের আয়াত ও নবী করীম ﷺ-এর হাদীসের উদ্ধৃতি দিলাম। আমি এলোমেলোভাবে, জোড়াতালি দিয়ে কোন রকম বিষয়টি পূর্ণ করছিলাম; আর যখন আমি বক্তৃতা দিচ্ছিলাম তখন আমার কপাল ঘেমে যাচ্ছিল। আমার খুতবা শেষ হওয়ার পর আমার মনে হয়েছিল যে, বিষয়টি সম্বন্ধে কথা বলা আমি এক যেনতেন কাজ করলাম এবং সেকারণেই আমি যে বিষয়ে চমৎকারিত্ব অর্জন করেছি সেদিকে লাগার দৃঢ় সংকল্প করলাম। "আর আমি ভানকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই!" আমাদের প্রত্যেকের উচিত স্বীয় ক্ষেত্রে স্বীয় কাজ করা।

إِنَّ اللَّهَ تَعَالَىٰ يُحِبُّ إِذَا عَمِلَ أَحَدُكُمْ عَمَلًا أَنْ يُتْقِنَهُ
"তোমাদের মধ্যে থেকে যে ব্যক্তি নিখুঁতভাবে কোন কাজ করে নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।" (জামে' ছগীর, হাদীস নং-১৮৬৭, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-১০২৬)

ফন্ট সাইজ
15px
17px