📄 গোটা জীবনটাই পরিশ্রম
আপনার জীবনের উত্থান-পতন নিয়ে দুঃখ করবেন না; কারণ, আপনি দুঃখ-কষ্ট এড়াতে পারবেন না।
জীবন সাধারণত কাজ ও দায়িত্বের সাথে সম্পর্ক রাখে; জীবনের অর্থই হলো- কাজ ও দায়িত্ব। দুঃখ হলো একটি ব্যতিক্রম বা একটি ক্ষণস্থায়ী পর্ব, যা নিশ্চিতভাবে আসে যায়। আপনি এ জীবনের আইন করেন, অথচ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য একটা স্থায়ী আবাস হওয়া পছন্দ করেন না।
এ পৃথিবী যদি পরীক্ষার স্থান না হতো তবে এটা রোগ-বালাই ও দুঃখ-কষ্ট মুক্ত হতো। সর্বশ্রেষ্ঠ মানব নবী রাসূলগণের জন্য এটা আরামদায়ক আবাস হতো। আদম (আ) এ পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার দিন পর্যন্ত দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যার মোকাবিলা করেছেন। নূহ (আ)-এর স্বজাতি তাকে উপহাস করেছে। নবী ইবরাহীম (আ) আগুন দ্বারা ও নিজের পুত্রকে জবাই করার হুকুম (আদেশ) দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছেন। নবী ইয়াকুব (আ) তাঁর পুত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন এবং কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। নবী মূসা (আ) ফেরাউনের অত্যাচার সহ্য করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তার স্বজাতির অবাধ্যতাও সহ্য করেছিলেন। ঈসা (আ) দারিদ্র্য ছিলেন। নবী মুহাম্মদ ﷺ দারিদ্র্যতা ও তাঁর স্বজাতির দুষ্টতা সহ্য করেছিলেন এবং তাঁর প্রিয় চাচা হামজা (রা)-এর (মৃত্যু-জনিত) বিয়োগ ব্যথা তীব্রভাবে অনুভব করেছিলেন।
নবী করীম ﷺ বলেছেন– اَلدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ
“দুনিয়া মুমিনের জেলখানা ও কাফেরের জান্নাত।”
আর আখেরাতে অবশ্যই ঈমানের কারণে মুত্তাকী, আলেম ও সিদ্দীকদের কারাবন্দী হওয়ার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।
📄 গবেষণালব্ধ পরিকল্পনার অনুসরণ করুন
আল্লামা শাওকানী (রহ) বলেছেন- "কিছু সংখ্যক আলেম আমাকে উপদেশ দিয়েছেন যে, লেখা ছেড়ে দেয়া আমার কখনও উচিত হবে না, যদি সে লেখা প্রতিদিন দু'লাইনও হয়। আমি এ উপদেশ অনুসারে কাজ করেছি এবং এর ফলও ভোগ করেছি।"
আর নিয়োগ হাদীসের এটাই অর্থ -
خَيْرُ الْعَمَلِ مَا دَادَمَ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ وَإِنْ قَلَّ
ভাবার্থ: “উত্তম আমল হলো তা যা আমলকারী নিয়মিত করে, যদিও তা অল্প।”
আর এককথা বলা হয় যে, ফোঁটা ফোঁটা পানি (জমেই) মহাপ্রবাহন ঘটায়।
আমরা সবকিছু একই সময়ে বা একসাথে করতে চাইলে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যাবে। তখন ফল যা হবে তা হলো বিরক্তি, ক্লান্তি ও সর্বাপেক্ষা খারাপ যা ঘটবে তাহলো কর্মত্যাগ। আমরা যদি আমাদের কাজকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে এক সময়ে একটি মাত্র স্তরের কাজ করি বা একটি পদক্ষেপ নেই তবে আমরা অনেক বেশি অর্জন করতে পারবো। সালাতের কথা ভেবে দেখুন। একদিনে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত বিভিন্ন সময়ে আমাদেরকে আদায় করতে আদেশ করা হয়েছে। বিভিন্ন সালাতের মধ্যবর্তী বিরতিসমূহের কারণে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি অন্যান্য কাজ করার সুযোগ পায় এবং এক সালাত থেকে অপর সালাতের মাঝে ঠিক ততটা পর্যাপ্ত সময় থাকে যতটুকু সময়ের মধ্যে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি উৎসাহভরে আবার আরেক সালাতের জন্য ফিরে আসতে পারে। সকল সালাত যদি একই সময়ে পড়া বাধ্যতামূলক হতো তাহলে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে যেত।
একটি বিশেষ হাদীসের অর্থ এই যে, যে ব্যক্তি দীর্ঘ যাত্রাপথে তার ঘোড়াকে পূর্ণ বেগে দৌড়ানো জন্য বোঁচা মারে সে শুধুমাত্র ঘোড়া হারাবে তা-ই নয়, অধিকন্তু সে তার গন্তব্যস্থলেও পৌঁছতে পারবে না।
📄 কাজকর্মে অগোছালো হবেন না
ঋণ, পার্থিব দায়িত্ব ও পাওনা পরিশোধে বিশ্বস্ততা ও উন্মুক্ততা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে তিনটি মূলনীতি আছে- যা আমাদেরকে অবশ্যই বুঝতে হবে ও প্রয়োগ বা বাস্তবায়িত করতে হবে।
১. বিচক্ষণ লোক অন্যের উপর নির্ভর করবে না। প্রয়োজন মাফিক খরচ করে ও অপচয় না করে যে ব্যক্তি ব্যয় করবে, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য পাবে।
إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ
“নিশ্চয় অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (১৭-সূরা বনী ইসরাঈল: আয়াত-২৭)
“আর তারা যখন ব্যয় করে তখন তারা অপচয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না বরং তারা এতদুভয়ের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে।” (২৫-সূরা আল নূর: আয়াত-৬৭)
২. হালাল উপায়ে আপনার রিযিক উপার্জনের চেষ্টা করুন। কেননা, আল্লাহ নিজে পবিত্র এবং পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু কবুল করেন না। হারাম উপায়ে অর্জিত রিযিকে আল্লাহ বরকত দেন না।
وَلَوْ أَعْجَبَكَ كَثْرَةُ الْخَبِيثِ
“খবিস ও মন্দ বিষয়ের আধিক্য তোমাকে চকিত করে।” (৫-সূরা মায়িদা: আয়াত-১০০)
৩. হালাল উপায়ে সম্পদ উপার্জনের জন্য অধ্যবসায়ের সাথে কাজ করে যান এবং অকর্মণ্য ও অলস হওয়া পরিহার করুন। আব্দুল্লাহ ইবনে আউফ (রা) যখন মদীনায় হিজরত করেন, তখন তিনি তার সঙ্গে কিছুই নেননি। মদীনার আনসারদের একজন তাঁকে তাঁর সম্পদের অর্ধেক দেওয়ার প্রস্তাব করলেন। কারণ নবী করীম ﷺ তাঁর মাঝে ও ইবনে আউফ (রা)-এর মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছিলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আউফ (রা) এই উদার উপহারকে নিতে নারাজ হলেন এবং শুধুমাত্র বললেন, “আমাকে বাজারের পথ দেখিয়ে দিন।”
📄 যে কাজ করতে আপনার আনন্দ লাগে সে কাজ চালিয়ে যান
আল্লামা ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (র) বলেন- “একবার আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম আর চিকিৎসকগণ আমাকে বলে যে, পাঠ করা ও পাঠদান করা শুধুমাত্র আমার (অসুস্থ) অবস্থাকে আরো খারাপ করবে। আমি তাকে বললাম যে, আমি সে সব কাজ বাদ দিতে পারব না এবং যদি সম্ভব হয় তবে আমি তার নিজের জ্ঞানকে আমাদের মাঝে বিচারক বানাতে চাইলাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে, ব্যাপার কি এ নয় যে, মন সুস্থ ও আনন্দবোধ করে তবে দেহ শক্তিশালী হয় ও রোগ দূর হয়ে যায়? চিকিৎসকগণ হ্যাঁ বাচক উত্তর দিলেন। আমি তাকে বললাম, অতএব, আমার আত্মা জ্ঞান চর্চায় আনন্দ, আরাম ও শক্তি পায়। চিকিৎসকগণ আত্মসমর্পণ করলেন এবং স্বীকার করলেন যে আমার অবস্থা তার চিকিৎসা শাস্ত্রের চৌহদ্দির বাইরে।”
لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَكُمْ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَكُمْ
“এটাকে তোমাদের জন্য খারাপ বা ক্ষতিকর মনে করো না; বরং এটা তোমাদের জন্য উত্তম বা উপকারী। (২৪-সূরা আন নূর: আয়াত-১১)”