📄 দৃঢ় প্রত্যয় অলঙ্ঘনীয় বাধাকেও অতিক্রম করতে পারে
যখন কারো মহান দৃঢ় ইচ্ছা থাকে, তখন সে আল্লাহ্র ইচ্ছায় পুণ্যের সুমহান উচ্চতায় আরোহণ করতে পারে। একজন মুসলমানের একটি চরিত্র দৃঢ় যে, তার কেবলমাত্র উচ্চ ও মহৎ উদ্দেশ্য থাকে তাই নয়, বরং তার দৃঢ় ইচ্ছা ও কেননা, দৃঢ় প্রত্যয় হলো এমন এক বাহন যা তাকে উচ্চতর সঙ্গে উচ্চাবলির দিকে চালিত করে। আল্লাহ্ ইচ্ছার স্থির সংকল্প বা দৃঢ় সংকল্প আপনাকে মহাকল্যাণ বয়ে এনে দিবে। লোকজন আপনাকে এমন দেখতে পাবে যে নাকি শিখছে, ভালো কাজ করছে, উচ্চতর উদ্দেশ্যের জন্য কাজ করছে যায়েত অথবা মূলত যে নাকি সাফল্য অর্জন করছে। যে নাকি, দৃঢ় প্রত্যয়কে উচ্চতর সঙ্গে উচ্চাবলি দিয়েই কেল্লার তুলে পতিত হবেন না। এ দৃঢ়ের মাঝে আসমান জমিন ফারাক বিদ্যমান। যার স্থির সংকল্প আছে সে প্রতিটি হারানো সুযোগের জন্য অনুতপ্ত হয় এবং সে তার লক্ষ্য পৌঁছার জন্য অনবরত নিজেকে সম্মুখে চালিত করে। দৃঢ় সংকল্প বা পাকা নিয়ত ধার্মিক, ন্যায়পরায়ণ ও একনিষ্ঠের চরিত্র। পক্ষান্তরে, উদ্ধততা হলো অসহুয়তা যা অত্যাচারী ও হতভাগাদের মাঝে প্রাধান্য বিস্তার করে (যারা অত্যাচারী, ফলে পরকালে হতভাগা তাদের প্রধান চরিত্র হলো ঔদ্ধত্য)। স্থির সংকল্প মানুষকে উর্ধ্বে বহন করে নিয়ে যায়। অথচ উদ্ধততা মানুষকে অধঃপতিত করে তাকে অপযশ ও কলঙ্কের গভীরতম প্রদেশে নিয়ে যায়। হে জ্ঞানী জ্ঞানপিপাসু ছাত্ররা! তোমরা যে পথে আছ, তাতে দৃঢ় ও দৃঢ় সংকল্প থাকা এবং ভয়ে পদস্খলন (পিছলে পড়া) হয়ো না।
📄 কোন কিছু করার স্থির সিদ্ধান্ত নিন ও পরে তা করুন
এ পুস্তকে আমি কুরআনের যেসব আয়াত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস, কবিতার পঙ্ক্তি, গল্প ও জ্ঞানীদের কথা, বাণী ও প্রবাদ-প্রবচন লিখেছি— এসবকিছুই আপনাকে এমন এক জীবন শুরু করতে আহ্বান করে, যা শুভ ও কল্যাণময় সামাজিক আশ্রয় দেয়। যা হোক সত্যিকার স্থির সঙ্কল্প, দৃঢ় সঙ্কল্প এবং মনকে দৃঢ়, নিশ্চিত ও স্বাভাবিকতা বা ভয়ভীতি থেকে মুক্ত করার একনিষ্ঠ ইচ্ছা ছাড়া আপনি এ পুস্তক থেকে উপকৃত হতে পারবেন না এবং আপনি একথা মনে রাখলে ভালো করবেন যে, আল্লাহ্ সেসব নবীদেরকে আলাদা মর্যাদা দান করেছেন যাদের দৃঢ় ইচ্ছা শক্তি ছিল।
“অতএব (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনি তেমনি ধৈর্য ধারণ করুন যেমন নাকি দৃঢ়-সঙ্কল্প নবী-রাসূলগণ ধৈর্য ধরেছেন।” (৪৬-সূরা আল আহকাফ : আয়াত-৩৫) আদম (আ) তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। “কিন্তু সে ভুলে গেল এবং আমি তার কোন দৃঢ়-সঙ্কল্প পেলাম না।” (১০-সূরা ইউনুস : আয়াত-১২)
এবং তাঁর সন্তানদের ঘটনাও অনুরূপ। পিতার অনুকরণ করা অন্যায় নয়। কিন্তু একপক্ষে পাপ করে অপরপক্ষে তওবা না করে তাঁকে অনুকরণ করা কারো উচিত নয়। আর একমাত্র আল্লাহ্ই আমাদেরকে সাহায্য করেন।
📄 গোটা জীবনটাই পরিশ্রম
আপনার জীবনের উত্থান-পতন নিয়ে দুঃখ করবেন না; কারণ, আপনি দুঃখ-কষ্ট এড়াতে পারবেন না।
জীবন সাধারণত কাজ ও দায়িত্বের সাথে সম্পর্ক রাখে; জীবনের অর্থই হলো- কাজ ও দায়িত্ব। দুঃখ হলো একটি ব্যতিক্রম বা একটি ক্ষণস্থায়ী পর্ব, যা নিশ্চিতভাবে আসে যায়। আপনি এ জীবনের আইন করেন, অথচ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য একটা স্থায়ী আবাস হওয়া পছন্দ করেন না।
এ পৃথিবী যদি পরীক্ষার স্থান না হতো তবে এটা রোগ-বালাই ও দুঃখ-কষ্ট মুক্ত হতো। সর্বশ্রেষ্ঠ মানব নবী রাসূলগণের জন্য এটা আরামদায়ক আবাস হতো। আদম (আ) এ পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার দিন পর্যন্ত দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যার মোকাবিলা করেছেন। নূহ (আ)-এর স্বজাতি তাকে উপহাস করেছে। নবী ইবরাহীম (আ) আগুন দ্বারা ও নিজের পুত্রকে জবাই করার হুকুম (আদেশ) দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছেন। নবী ইয়াকুব (আ) তাঁর পুত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন এবং কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। নবী মূসা (আ) ফেরাউনের অত্যাচার সহ্য করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তার স্বজাতির অবাধ্যতাও সহ্য করেছিলেন। ঈসা (আ) দারিদ্র্য ছিলেন। নবী মুহাম্মদ ﷺ দারিদ্র্যতা ও তাঁর স্বজাতির দুষ্টতা সহ্য করেছিলেন এবং তাঁর প্রিয় চাচা হামজা (রা)-এর (মৃত্যু-জনিত) বিয়োগ ব্যথা তীব্রভাবে অনুভব করেছিলেন।
নবী করীম ﷺ বলেছেন– اَلدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ
“দুনিয়া মুমিনের জেলখানা ও কাফেরের জান্নাত।”
আর আখেরাতে অবশ্যই ঈমানের কারণে মুত্তাকী, আলেম ও সিদ্দীকদের কারাবন্দী হওয়ার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।
📄 গবেষণালব্ধ পরিকল্পনার অনুসরণ করুন
আল্লামা শাওকানী (রহ) বলেছেন- "কিছু সংখ্যক আলেম আমাকে উপদেশ দিয়েছেন যে, লেখা ছেড়ে দেয়া আমার কখনও উচিত হবে না, যদি সে লেখা প্রতিদিন দু'লাইনও হয়। আমি এ উপদেশ অনুসারে কাজ করেছি এবং এর ফলও ভোগ করেছি।"
আর নিয়োগ হাদীসের এটাই অর্থ -
خَيْرُ الْعَمَلِ مَا دَادَمَ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ وَإِنْ قَلَّ
ভাবার্থ: “উত্তম আমল হলো তা যা আমলকারী নিয়মিত করে, যদিও তা অল্প।”
আর এককথা বলা হয় যে, ফোঁটা ফোঁটা পানি (জমেই) মহাপ্রবাহন ঘটায়।
আমরা সবকিছু একই সময়ে বা একসাথে করতে চাইলে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যাবে। তখন ফল যা হবে তা হলো বিরক্তি, ক্লান্তি ও সর্বাপেক্ষা খারাপ যা ঘটবে তাহলো কর্মত্যাগ। আমরা যদি আমাদের কাজকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে এক সময়ে একটি মাত্র স্তরের কাজ করি বা একটি পদক্ষেপ নেই তবে আমরা অনেক বেশি অর্জন করতে পারবো। সালাতের কথা ভেবে দেখুন। একদিনে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত বিভিন্ন সময়ে আমাদেরকে আদায় করতে আদেশ করা হয়েছে। বিভিন্ন সালাতের মধ্যবর্তী বিরতিসমূহের কারণে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি অন্যান্য কাজ করার সুযোগ পায় এবং এক সালাত থেকে অপর সালাতের মাঝে ঠিক ততটা পর্যাপ্ত সময় থাকে যতটুকু সময়ের মধ্যে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি উৎসাহভরে আবার আরেক সালাতের জন্য ফিরে আসতে পারে। সকল সালাত যদি একই সময়ে পড়া বাধ্যতামূলক হতো তাহলে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে যেত।
একটি বিশেষ হাদীসের অর্থ এই যে, যে ব্যক্তি দীর্ঘ যাত্রাপথে তার ঘোড়াকে পূর্ণ বেগে দৌড়ানো জন্য বোঁচা মারে সে শুধুমাত্র ঘোড়া হারাবে তা-ই নয়, অধিকন্তু সে তার গন্তব্যস্থলেও পৌঁছতে পারবে না।