📄 মহৎ কাজই সুখের উপায়
অন্যজনের কল্যাণ হোক এটা যদি আপনি চান তবে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আপনার জন্য এক মহা পুরস্কার আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন- “আমার মাঝে তিনটি গুণ আছে।
প্রথমটি : যখনই বৃষ্টি হয় তখনই আমি আল্লাহ্র প্রশংসা করি। এ নেয়ামতের জন্য আমি খুশি হই, যদিও আমার কোন উট নেই বা কোন ছাগল-বকরী নেই, যা বৃষ্টি থেকে (উৎপন্ন ঘাস খেয়ে) উপকৃত হতে পারে।
দ্বিতীয়টি : আমি যখন কোন ন্যায়বিচারকের কথা শুনি তখন তার জন্য আল্লাহ্র কাছে দোয়া করি। যদিও তার নিকট আমার কোন বিচার বা অভিযোগ থাকে না।
তৃতীয়টি : যখন আমি কুরআনের কোন আয়াতের অর্থ বুঝতে পারি তখন আমি চাই যে, আমি যা বুঝি অন্যরাও তা বুঝুক।”
এসব কটি গুণই অন্যের কল্যাণের জন্য এক সত্যিকার আকাঙ্ক্ষার প্রতি ইঙ্গিত করে। আল্লাহ্ এর বিপরীত স্বভাবের লোকদের পরিচয়ে বলেছেন-
الَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَيَكْتُمُونَ مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ
“যারা কৃপণতা করে ও মানুষকে কৃপণতার আদেশ করে এবং আল্লাহ্ তাদেরকে যে কল্যাণ দান করেছেন তা তারা গোপন রাখে।” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-৩৭)
📄 সতর্ক থাকুন, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করুন
যখন কোন মুসলমান বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে কোন কিছু করা শুরু করে তখন তাকে অবশ্যই নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে হবে-
তাকে অবশ্যই সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করতে হবে এবং তাকে অবশ্যই আল্লাহর উপর নির্ভর করতে হবে। নবী করীম ﷺ-এর তো অন্য যে কোন মানুষের চেয়ে বেশি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ছিল এবং স্বয়ং আল্লাহও তাঁকে ক্ষমা করতেন তবুও তিনি একবার আল কারকারে যুদ্ধের সময় বর্ম পরেছিলেন।
“(একবার) এক লোক নবী করীম ﷺ কে জিজ্ঞাসা করল, “আমার উটকে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা উচিত নাকি আল্লাহর উপর নির্ভর করা উচিত?” নবী করীম ﷺ উত্তর দিলেন, “এটাকে বেঁধে রেখে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল কর।”
আপনার লক্ষ্য পৌঁছার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নিলে এবং একই সাথে আল্লাহর উপর নির্ভর করলে আপনি ইসলামি একত্ববাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিকে বাস্তবায়িত করলেন বা দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি পালন করলেন। লক্ষ্য অর্জনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করে আল্লাহর উপর ভরসা করা হলো ধর্মের অবহেলায় ভুল বুঝাবুঝি। আর আল্লাহর উপর নির্ভর না করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা অর্থ হলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের অভাব। একজন আরব দেশীয় কবি বলেছেন-
فَتَدْبِيرُ الْمُتَانِي بَعْضُ حَاجَةٍ * وَقَدْ يَكُونُ مَعَ الْمُتَعَجِّلِ الزَّلَلُ
“ধীর স্থির ব্যক্তির অতি কিছু প্রয়োজন মেটাতে পারে, তাড়াহুড়া করা ব্যক্তির স্খলন হতে পারে।”
সতর্ক থাকার মাধ্যমে তকদীরের (প্রতি বিশ্বাসের) বিরোধিতা করা হয় না বরং তকদীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পালন করা হয়।
وَلْيَتَلَطَّفْ
“এবং সে যেন সতর্ক থাকে” (১৮-সুরা কাহাফ : আয়াত-১৯)
وَجَعَلَ لَكُمْ سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ وَسَرَابِيلَ تَقِيكُمْ بَاسَكُمْ
“এবং তিনি তোমাদেরকে তাপ থেকে রক্ষা করার জন্য পোশাক ও যুদ্ধ থেকে রক্ষা করার জন্য বর্ম সৃষ্টি করেছেন।” (১৬-সুরা আন নাহল : আয়াত-৮১)
📄 দৃঢ় প্রত্যয় অলঙ্ঘনীয় বাধাকেও অতিক্রম করতে পারে
যখন কারো মহান দৃঢ় ইচ্ছা থাকে, তখন সে আল্লাহ্র ইচ্ছায় পুণ্যের সুমহান উচ্চতায় আরোহণ করতে পারে। একজন মুসলমানের একটি চরিত্র দৃঢ় যে, তার কেবলমাত্র উচ্চ ও মহৎ উদ্দেশ্য থাকে তাই নয়, বরং তার দৃঢ় ইচ্ছা ও কেননা, দৃঢ় প্রত্যয় হলো এমন এক বাহন যা তাকে উচ্চতর সঙ্গে উচ্চাবলির দিকে চালিত করে। আল্লাহ্ ইচ্ছার স্থির সংকল্প বা দৃঢ় সংকল্প আপনাকে মহাকল্যাণ বয়ে এনে দিবে। লোকজন আপনাকে এমন দেখতে পাবে যে নাকি শিখছে, ভালো কাজ করছে, উচ্চতর উদ্দেশ্যের জন্য কাজ করছে যায়েত অথবা মূলত যে নাকি সাফল্য অর্জন করছে। যে নাকি, দৃঢ় প্রত্যয়কে উচ্চতর সঙ্গে উচ্চাবলি দিয়েই কেল্লার তুলে পতিত হবেন না। এ দৃঢ়ের মাঝে আসমান জমিন ফারাক বিদ্যমান। যার স্থির সংকল্প আছে সে প্রতিটি হারানো সুযোগের জন্য অনুতপ্ত হয় এবং সে তার লক্ষ্য পৌঁছার জন্য অনবরত নিজেকে সম্মুখে চালিত করে। দৃঢ় সংকল্প বা পাকা নিয়ত ধার্মিক, ন্যায়পরায়ণ ও একনিষ্ঠের চরিত্র। পক্ষান্তরে, উদ্ধততা হলো অসহুয়তা যা অত্যাচারী ও হতভাগাদের মাঝে প্রাধান্য বিস্তার করে (যারা অত্যাচারী, ফলে পরকালে হতভাগা তাদের প্রধান চরিত্র হলো ঔদ্ধত্য)। স্থির সংকল্প মানুষকে উর্ধ্বে বহন করে নিয়ে যায়। অথচ উদ্ধততা মানুষকে অধঃপতিত করে তাকে অপযশ ও কলঙ্কের গভীরতম প্রদেশে নিয়ে যায়। হে জ্ঞানী জ্ঞানপিপাসু ছাত্ররা! তোমরা যে পথে আছ, তাতে দৃঢ় ও দৃঢ় সংকল্প থাকা এবং ভয়ে পদস্খলন (পিছলে পড়া) হয়ো না।
📄 কোন কিছু করার স্থির সিদ্ধান্ত নিন ও পরে তা করুন
এ পুস্তকে আমি কুরআনের যেসব আয়াত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস, কবিতার পঙ্ক্তি, গল্প ও জ্ঞানীদের কথা, বাণী ও প্রবাদ-প্রবচন লিখেছি— এসবকিছুই আপনাকে এমন এক জীবন শুরু করতে আহ্বান করে, যা শুভ ও কল্যাণময় সামাজিক আশ্রয় দেয়। যা হোক সত্যিকার স্থির সঙ্কল্প, দৃঢ় সঙ্কল্প এবং মনকে দৃঢ়, নিশ্চিত ও স্বাভাবিকতা বা ভয়ভীতি থেকে মুক্ত করার একনিষ্ঠ ইচ্ছা ছাড়া আপনি এ পুস্তক থেকে উপকৃত হতে পারবেন না এবং আপনি একথা মনে রাখলে ভালো করবেন যে, আল্লাহ্ সেসব নবীদেরকে আলাদা মর্যাদা দান করেছেন যাদের দৃঢ় ইচ্ছা শক্তি ছিল।
“অতএব (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনি তেমনি ধৈর্য ধারণ করুন যেমন নাকি দৃঢ়-সঙ্কল্প নবী-রাসূলগণ ধৈর্য ধরেছেন।” (৪৬-সূরা আল আহকাফ : আয়াত-৩৫) আদম (আ) তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। “কিন্তু সে ভুলে গেল এবং আমি তার কোন দৃঢ়-সঙ্কল্প পেলাম না।” (১০-সূরা ইউনুস : আয়াত-১২)
এবং তাঁর সন্তানদের ঘটনাও অনুরূপ। পিতার অনুকরণ করা অন্যায় নয়। কিন্তু একপক্ষে পাপ করে অপরপক্ষে তওবা না করে তাঁকে অনুকরণ করা কারো উচিত নয়। আর একমাত্র আল্লাহ্ই আমাদেরকে সাহায্য করেন।