📄 লৌহ-দৃঢ় ইচ্ছা
একটি মুসলিম দেশ থেকে একজন ছাত্র লন্ডনে পড়াশোনা করতে গিয়েছিল। তাঁর ভাগ্যগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সে এক ব্রিটিশ পরিবারের সাথে থাকত। সে তার ধর্মের মূলনীতির প্রতিও একনিষ্ঠ ছিল এবং প্রতিদিন ভোররাত্রে ফজরের সালাত পড়ার জন্য উঠে পড়ত। সে অযু করত, সালাতের জায়গায় যেত, তাঁর প্রভুর উদ্দেশ্যে সেজদা করত (আল্লাহর) মহিমা গাইতো ও তাঁর প্রশংসা করত। সে বাড়ির এক বৃদ্ধা মহিলা এ ছাত্রটির এ আশ্চর্য অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করার জন্য আগ্রহী হল। কয়েকদিন পর বৃদ্ধা ছাত্রটিকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কি করছ?” “আমার ধর্ম আমাকে এরূপ করার আদেশ করে-” উত্তরে ছাত্রটি একথা বলল। পরিপূর্ণ বিশ্রাম করে আরেকটু পরে তুমি এ সালাত পড়তে পার না? ছাত্রটি এ কথার উত্তরে বলল, “কিন্তু আমি যদি সালাতের নির্ধারিত সময়ের পরে তা আদায় করি তবে আমার প্রভু আমার পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করবেন না।” তখন বৃদ্ধা মাথা নেড়ে বিস্ময়ে চিৎকার করে বলল, “এ এমন ইচ্ছা যা লৌহকেও ভেঙে চুরমার করে দেয়।”
رِجَالٌ لَّا تُلْهِيْهِمْ تِجَارَةٌ وَّ لَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللّٰهِ وَ اِقَامِ الصَّلٰوةِ وَ اِيْتَآءِ الزَّكٰوةِ ۚ
“এমন কিছু লোক আছে যাদেরকে না ব্যবসা, আর না বিক্রয়, কোনটাই আল্লাহর যিকির থেকে ও সালাত আদায় করা থেকে ভুলিয়ে রাখতে পারে না।” (২৪-সূরা আন নূর: আয়াত-৩৭)
এ ধরনের কাজ কেবলমাত্র দৃঢ় ঈমান থেকে উৎসারিত হয় যা ফেরাউনদের যাদুকরদিগকে (ঈমান আনতে) প্ররোচিত করেছিল। যখন মূসা (আ) ও ফেরাউন একে অপরের সাথে তর্ক করছিল তখন তারা সবকিছুর প্রভু আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে প্ররোচিত হয়েছিল। তারা ফেরাউনকে বলেছিল–
“আমাদের নিকট যে স্পষ্ট নিদর্শন এসেছে তার উপর এবং যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর উপর আপনাকে আমরা কখনোই প্রাধান্য দিব না, সুতরাং আপনার যা মনে চায় সে ফায়সালাই করুন।” (২০-সূরা ত্বাহা: আয়াত-৭২)
এটা ফেরাউনদের বিরুদ্ধে এমন এক চ্যালেঞ্জ ছিল যা সে মুহূর্তের আগ পর্যন্ত (কেউ কখনও) শুনেনি। উন্মত্ত নাস্তিকের ইসলামের সত্য ও শক্তিশালী বার্তাকে পৌঁছে দেওয়ায় হঠাৎ করে (তত্ক্ষণাৎ) তাদের প্রভুত্ব লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। হাবীব ইবনে যাযিদ (রা) মুসায়লামাকে ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়েছিলেন। উত্তরে মুসায়লামা তরবারি দিয়ে হাবীব (রা)-এর দেহ থেকে এক এক করে এক এক অঙ্গ কেটে ফেলতে লাগল। সে হাবীব (রা)-এর ভোগান্তি বাড়ানোর জন্য ওরূপে ধীরে ধীরে তাকে কাটতে ছিল। এ সময় হাবীব (রা) কাঁদাকাটি, চেঁচামেচি ও নড়াচড়া করেননি, অবশেষে শহীদ হয়ে তাঁর প্রভুর সাথে সাক্ষাৎ করতে চলে গেলেন।
وَ الشُّهَدَآءُ عِنْدَ رَبِّهِمْ لَهُمْ اَجْرُهُمْ وَ نُوْرُهُمْ ؕ
“আর শহীদগণ তাদের প্রভুর সান্নিধ্যে থাকবে, (সেখানে) তাদের জন্য রয়েছে তাদের পুরস্কার ও তাদের নূর।” (৫৭-সূরা আল হাদীদ: আয়াত-১৯)
📄 শুভ পরিণতির জন্য কঠোর পরিশ্রম করুন
ওয়ালিদ ইবনে মুগীরা, উমাইয়া ইবনে খালাফ এবং আস ইবনে ওয়ালা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের ধন-সম্পদ অকাতরে খরচ করেছিল।
فَسَيُنْفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ ۗ
“অতএব তারা ধন-সম্পদ ব্যয় করতে থাকবে অতঃপর তা তাদের জন্য যাতনার কারণ হবে, অতঃপর তারা পরাজিত হবে।” (৮-সুরা আনফাল : আয়াত-৩৬)
অথচ অনেক মুসলমান কৃপণের মতো তাদের ধন-সম্পদ মজুদ করছে এবং সেগুলোকে কল্যাণকর কাজে খরচ করছে না।
“আর যে ব্যক্তি কৃপণতা করছে সে তো শুধুমাত্র নিজের ব্যাপারেই কৃপণতা করছে (অর্থাৎ নিজেরই ক্ষতি করছে)।” (৪৭-সুরা মুহাম্মাদ বা কেতাল : আয়াত-৩৮)
গোন্ড মেয়ারের “হিসাব-বিদ্বেষ” নামক স্মারক গ্রন্থে ইহুদি লেখিকা লিখেছেন যে, জীবনে একপলকে তিনি বিরতিহীন ষোল (১৬) ঘণ্টা কাজ করতেন। কিন্তু কী পরিণতির জন্য তিনি কাজ করেছিলেন? তিনি কাজ করেছিলেন তার মিথ্যা মূলনীতি ও ভ্রান্ত ধারণার সেবা করে। সে ও বেন গুরিয়ান খাটতে খাটতে শেষ পর্যন্ত একটি দেশ প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
এরপর আমি সে সব হাজার হাজার মুসলমানের কথা ভাবলাম যারা দিনে এক ঘণ্টাও কাজ করে না। বরং তারা হেসে খেলে, পানাহার করে ও নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করে চলছে।
“তোমাদের কি হলো যে, তোমাদেরকে যখন বলা হয় যে, তোমরা আল্লাহর রাস্তায় বের হও, তখন তোমরা শক্ত করে পা গেড়ে বসে থাকো।” (৯-সুরা তওবা : আয়াত-৩৮)
উমর (রা) দিন-রাত অবিচল কাজ করে যেতেন, সামান্য ঘুমাতেন। তাঁর স্ত্রী বা পরিবারের লোকেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “আপনি ঘুমান না?” তিনি উত্তর দিলেন, “আমি যদি রাতে (ইবাদত বাদ দিয়ে) ঘুমিয়ে থাকি তবে আমার আত্মা ধ্বংস হয়ে যাবে, আর যদি দিনে (আমার প্রজাদের খোঁজ-খবর না নিয়ে) ঘুমিয়ে থাকি তবে আমার প্রজারা ধ্বংস হয়ে যাবে।”
শুভ ঘাতক মুদিয়া দিয়ানের স্মারক গ্রন্থ ‘তরবারি ও শাসন’ সে কিভাবে দিন রাত এক দেশ থেকে আরেক দেশে পালিয়ে বেড়াত, (সাথে সাথে) বিভিন্ন সভা-সম্মেলনে ধোপ নিয়ে সর্বদা হুড়োহুড়ি করে বেড়াত- এসব বর্ণনায় ভরা।
আমি ভাবলাম এটা কতইনা লজ্জার কথা যে, যে লোক এততোগুলো মন্দ ধারণা করার দায়িত্ব নিয়েছে সে কিনা এতটা বীরত্বপূর্ণ সহিষ্ণুতা দেখাল অথচ কত মুসলমানরাই না দুর্বলমনা ও অক্ষম হয়ে আছে। এখানে আবারও আমার উমর (রা)-এর কাঙ্ক্ষিত পাপীদের সহিষ্ণুতা ও দুর্বল আত্মবিশ্বাসগুলোর কথা মনে পড়ে গেল।
উমর (রা)-এর শাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় বা রক্ষণাবেক্ষণে অলসতা ও অকর্মণ্যতা সহ্য করা হতো না। যে সব যুবক মসজিদে বাস করত একবার তিনি তাদেরকে আইন করে মসজিদ থেকে বের করে দিয়েছিলেন। তিনি তাদেরকে শাস্তি দিয়ে বলেছিলেন, “বের হয়ে গিয়ে রিযিক তালাশ কর। কেননা, আকাশ থেকে সোনা-রূপার বৃষ্টি হবে না।” অলসতা দুশ্চিন্তা, হতাশা ও বিভিন্ন মানসিক রোগের জন্ম দেয়, পক্ষান্তরে কাজ-কর্ম তৃপ্তি ও সুখের জন্ম দেয়। আমাদের যা করার কথা আমরা সবাই যদি তা করি তবে উপরোল্লেখিত সব রোগ সমূলে বিনাশ হয়ে যাবে এবং আমাদের সমাজ বঞ্চিত উৎপাদন ও উন্নতির মাধ্যমে উপকৃত হবে।
قُلِ اعْمَلُوا ۖ
“এবং আপনি বলে দিন, “তোমরা কাজ কর।” (৯-সুরা তাওবা : আয়াত-১০৫)
فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ ۖ
“তোমরা জমিনে (রিযিক তালাশে) ছড়িয়ে পড়।” (৬২-সুরা আল জুম‘আ : আয়াত-১০)
سَابِقُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ
“তোমাদের প্রচুর ক্ষমার জন্য এবং জান্নাতের জন্য তোমরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা কর।” (৫৭-সুরা আল হাদীদ : আয়াত-২১)
“তোমাদের প্রচুর ক্ষমার জন্য এবং জান্নাতের জন্য তোমরা দ্রুত গতিতে ধাবমান হও।” (৩-সুরা আলে ইমরান : আয়াত-১৩৩)
নবী করীম ﷺ বলেছেন: দাউদ নবী নিজ হাতের উপার্জন খেতেন।
একথা আপাতদৃষ্টিতে আত্মবিরোধী মনে হলেও সত্য বিরোধী নয় যে, বহু লোক জীবিকাও অসম্ভব ও মৃত। তাদের জীবিকার উদ্যোগ সাধনে উপায় নেই এবং তারা তাদের নিজেদের জন্য বা পরের জন্য কিছুই করে না।
“যারা (যে মহিলারা) পিছনে (ঘরে) বসে থাকে তারা তাদের সাথেও থাকতে রাজি।” (৯-সুরা তাওবা : আয়াত-৮৭)
“যে সব মুমিন অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে এবং যারা আল্লাহর পথে (নিজেদের জান-মাল দিয়ে) জিহাদ করে তারা (এ দু’দল) সমান নয়।” (৪-সুরা আন নিসা : আয়াত-৯৫)
যে কালো-চামড়ার নারী নবী করীম ﷺ-এর মসজিদ পরিষ্কার করেছিল সে তার জীবনের ভূমিকা তৎপরতার সাথে ও উদ্দেশ্য বুঝে পালন করেছিলেন। আর তাই সে জান্নাতে প্রবেশ করেছিল।
“এবং অবশ্যই একজন মুমিন দাসী একজন মুশরিক নারী থেকে উত্তম, যদিও মুশরিক নারীর রূপ তোমাদেরকে তাক লাগিয়ে দেয়।” (২-সুরা বাকারা : আয়াত-২২১)
অনুরূপভাবে যে ছেলেটি নবী করীম ﷺ-এর মিম্বর বানিয়ে দিয়েছিল সে তাঁর সাহায্যার্থে একজন অবদান রেখেছিল। আর এজন্য সে তার পুরস্কারও পেয়েছিল। কাঠমিস্ত্রির কাজে তার দক্ষতা ছিল আর সে এ দক্ষতার সুবিধা ভোগ করেছিল।
“আর যারা তাদের শ্রম ছাড়া অন্য কিছু (আল্লাহর রাস্তার ব্যয় করার মতো) পায় না।” (৯-সুরা তাওবা : আয়াত-৭১)
১৮৮৫ সালে আমেরিকান সরকার মুসলিম ধর্মপ্রচারকদেরকে কয়েদীদের নিকট ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য জেলখানার দরজা খুলে দেন। উদ্দেশ্য ছিল যেসব অপরাধীরা, মাদক ব্যবসায়ীরা ও খুনীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে উৎপাদনশীল ও ভালো মানুষ হয়ে সমাজে প্রবেশ করবে।
“যে ব্যক্তি মৃত ছিল (অর্থাৎ ঈমানের আলো না থাকাতে মৃতবৎ ছিল) পরে আমি তাকে জীবিত করেছি এবং আমি তার জন্য আলো সৃষ্টি করেছি যার সাহায্যে সে মানুষের মাঝে হেঁটে বেড়ায় সে কি তার মতো যে (কুফরির) অন্ধকারে আছে?” (৬-সুরা আল আন’আম : আয়াত-১২২)
ইহজীবনের প্রতি চরম আসক্তি, দীর্ঘ জীবনের জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা ও মৃত্যুর প্রতি সীমাহীন বিরাগের ফলে উদ্বিগ্নতা, দুশ্চিন্তা ও নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়। এ পার্থিব জীবনের প্রতি ভীষণ আসক্তির কারণে আল্লাহ ইহুদীদেরকে নিন্দা করেছেন।
“এবং আপনি অবশ্যই (অর্থাৎ ইহুদীদেরকে) জীবনের প্রতি সকল মানুষের চেয়ে বেশি এমনকি মুশরিকদের চেয়েও বেশি লোভী দেখতে পাবেন। তাদের প্রত্যেকই আকাঙ্ক্ষা করে যে, যদি তাকে হাজার বছর দীর্ঘ জীবন দান করা হতো (তবে কতইনা ভালো হতো!) কিন্তু দীর্ঘ জীবন তো তাকে শাস্তি থেকে রেহাই দিতে পারবে না। আর তারা যা করছে আল্লাহ তার সব কিছু দেখবেন।” (২-সুরা বাকারা : আয়াত-৯৬)
এ আয়াতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা করা দরকার। প্রথমত : আল্লাহ উল্লেখ করেছেন তাদের প্রত্যেকই দীর্ঘ জীবন কামনা করে। অন্য কথায় তারা যে মানের জীবন যাপনই করুক না কেন তাতে তাদের কিছু আসে যায় না, তারা মূল্যহীন, তুচ্ছ বা তেমন নয় (অর্থাৎ মূল্যহীন ও তুচ্ছ নয়) যেমন জীবন যাপনই করুক না কেন তার বাছবিচার না করেই তারা এ পৃথিবীতে দীর্ঘকাল থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে।
দ্বিতীয় : “হাজার বছর” কথাকে নির্বাচন বা বাছাই করার বিষয়। ইহুদীরা একে অপরের সাথে সাক্ষাৎকালে তাদের অভিবাদন ছিল হাজার বছর বেঁচে থাকো। সম্ভবত এ কারণেই এ কথাকে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। এমন দীর্ঘ জীবন আশা করার কারণে আল্লাহ তাদের তিরস্কার করেছেন। আর তাছাড়া মনে করুন যে, তারা হাজার বছরই বাঁচবে, কিন্তু তাদের শেষ পরিণতি কি হবে? তবুও তাদের শেষ পরিণতি হবে জাহান্নামের দণ্ডকারী আগুন।
“আর আখেরাতের শাস্তি অবশ্যই সবচেয়ে বেশি অপমানকর, আর তাদেরকে কোনরূপ সাহায্য করা হবে না।” (৪১-সুরা হা-মীম-আস-সাজদাহ : আয়াত-১৬)
নিম্নোক্ত আরবী প্রবাদ খানি কতইনা সুন্দর : لَا مَلَلَ وَلَا بَدَلَ
“যখন নাকি আল্লাহকে ডাকা হচ্ছে, দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই।”
অর্থাৎ আমরা আল্লাহকেই কল্যাণের জন্য আহ্বান করি, সুতরাং আমাদেরকে দুশ্চিন্তা করতে হবে কেন? যদি আপনি আপনার দুশ্চিন্তার বিষয়ে আল্লাহর উপর নির্ভর করেন তবে তিনি আপনার দুশ্চিন্তা দূর করে দিবেন।
“(তোমাদের দেবতারা ভালো?) না কি তিনি ভালো যিনি বিপদসমূহের ডাকে সাড়া দেন এবং বিপদ দূর করেন?” (২৭-সুরা আন নামল : আয়াত-৬২)
“আর (হে মুহাম্মাদ!) যখন আমার বান্দাগণ আপনাকে আমার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে তখন (আপনি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে উত্তর দিন) নিশ্চয় আমি (তাদের) নিকটে থাকি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমার নিকট প্রার্থনা করে তখন আমি কোনরূপ মধ্যস্থতাকারী বা উকিল ছাড়াই (অর্থাৎ কৃত্রিম দেবতা বা মূর্তির সাহায্য ছাড়াই) প্রার্থনাকারীর প্রার্থনায় সাড়া দেই।” (২-সুরা বাকারা : আয়াত-১৮৬)
একজন আরব কবি বলেছেন :
أَغْلَقَ بَابَ الصَّبْرِ أَنْ يَخْطِي بِحَاجِبِهِ وَمِنَ الْفَرَجِ أَبْوَابٌ أَنْ يُلْجَا
“ধৈর্যশীল ব্যক্তি কতইনা উত্তম রূপে তার উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারে!
আর যে ব্যক্তি অনবরত ধৈর্য ধরে খট খট শব্দ করতে থাকে সে কতইনা উত্তম রূপে ভিতরে প্রবেশ করতে পারে!”
📄 মহৎ কাজই সুখের উপায়
অন্যজনের কল্যাণ হোক এটা যদি আপনি চান তবে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আপনার জন্য এক মহা পুরস্কার আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন- “আমার মাঝে তিনটি গুণ আছে।
প্রথমটি : যখনই বৃষ্টি হয় তখনই আমি আল্লাহ্র প্রশংসা করি। এ নেয়ামতের জন্য আমি খুশি হই, যদিও আমার কোন উট নেই বা কোন ছাগল-বকরী নেই, যা বৃষ্টি থেকে (উৎপন্ন ঘাস খেয়ে) উপকৃত হতে পারে।
দ্বিতীয়টি : আমি যখন কোন ন্যায়বিচারকের কথা শুনি তখন তার জন্য আল্লাহ্র কাছে দোয়া করি। যদিও তার নিকট আমার কোন বিচার বা অভিযোগ থাকে না।
তৃতীয়টি : যখন আমি কুরআনের কোন আয়াতের অর্থ বুঝতে পারি তখন আমি চাই যে, আমি যা বুঝি অন্যরাও তা বুঝুক।”
এসব কটি গুণই অন্যের কল্যাণের জন্য এক সত্যিকার আকাঙ্ক্ষার প্রতি ইঙ্গিত করে। আল্লাহ্ এর বিপরীত স্বভাবের লোকদের পরিচয়ে বলেছেন-
الَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَيَكْتُمُونَ مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ
“যারা কৃপণতা করে ও মানুষকে কৃপণতার আদেশ করে এবং আল্লাহ্ তাদেরকে যে কল্যাণ দান করেছেন তা তারা গোপন রাখে।” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-৩৭)
📄 সতর্ক থাকুন, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করুন
যখন কোন মুসলমান বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে কোন কিছু করা শুরু করে তখন তাকে অবশ্যই নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে হবে-
তাকে অবশ্যই সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করতে হবে এবং তাকে অবশ্যই আল্লাহর উপর নির্ভর করতে হবে। নবী করীম ﷺ-এর তো অন্য যে কোন মানুষের চেয়ে বেশি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ছিল এবং স্বয়ং আল্লাহও তাঁকে ক্ষমা করতেন তবুও তিনি একবার আল কারকারে যুদ্ধের সময় বর্ম পরেছিলেন।
“(একবার) এক লোক নবী করীম ﷺ কে জিজ্ঞাসা করল, “আমার উটকে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা উচিত নাকি আল্লাহর উপর নির্ভর করা উচিত?” নবী করীম ﷺ উত্তর দিলেন, “এটাকে বেঁধে রেখে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল কর।”
আপনার লক্ষ্য পৌঁছার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নিলে এবং একই সাথে আল্লাহর উপর নির্ভর করলে আপনি ইসলামি একত্ববাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিকে বাস্তবায়িত করলেন বা দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি পালন করলেন। লক্ষ্য অর্জনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করে আল্লাহর উপর ভরসা করা হলো ধর্মের অবহেলায় ভুল বুঝাবুঝি। আর আল্লাহর উপর নির্ভর না করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা অর্থ হলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের অভাব। একজন আরব দেশীয় কবি বলেছেন-
فَتَدْبِيرُ الْمُتَانِي بَعْضُ حَاجَةٍ * وَقَدْ يَكُونُ مَعَ الْمُتَعَجِّلِ الزَّلَلُ
“ধীর স্থির ব্যক্তির অতি কিছু প্রয়োজন মেটাতে পারে, তাড়াহুড়া করা ব্যক্তির স্খলন হতে পারে।”
সতর্ক থাকার মাধ্যমে তকদীরের (প্রতি বিশ্বাসের) বিরোধিতা করা হয় না বরং তকদীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পালন করা হয়।
وَلْيَتَلَطَّفْ
“এবং সে যেন সতর্ক থাকে” (১৮-সুরা কাহাফ : আয়াত-১৯)
وَجَعَلَ لَكُمْ سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ وَسَرَابِيلَ تَقِيكُمْ بَاسَكُمْ
“এবং তিনি তোমাদেরকে তাপ থেকে রক্ষা করার জন্য পোশাক ও যুদ্ধ থেকে রক্ষা করার জন্য বর্ম সৃষ্টি করেছেন।” (১৬-সুরা আন নাহল : আয়াত-৮১)