📄 ক্ষণিক ভাবুন
ঈমানদার যখন দুর্যোগাপীড়িত হয় তখন কেবলমাত্র তওবার মাধ্যমেই সে সত্যি সত্যি সংকট থেকে মুক্তির পথ পেতে পারে। ঈমানদারদের উচিত বিপদের কারণ বাহিরে লালন না করে বরং নিজের ভিতরে সন্ধান করা এবং এটা মনে করা যে, সে-ই দোষী এবং তার উপর যে মসিবত এসেছে সে তার যোগ্য। যখন সে এ ধরনের সংবেদনশীলতা লাভ করবে তখনই সে সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে সঠিক প্রতিকার করতে পারবে এবং অতীতের ভুলের জন্য আল্লাহর নিকট তওবা করতে পারবে। আর যখন সে নিজের ভিতরের এসব বিষয়ে খেয়াল রাখবে তখন আল্লাহ্ তার বাইরের বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। এ কথা একেবারে সহজ মনে হতে পারে কিন্তু খুব কম লোকই বাস্তবে এর প্রয়োগ করে (খুব কম লোকই এ কথার উপর আমল করে)।
📄 ক্ষণকাল ভেবে দেখুন
যুরকালির ‘আল-আ'লাম’ (أَعْلَامُ) নামক কিতাবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের (পাশ্চাত্যের) রাজনীতিবিদ, পণ্ডিত, লেখক ও চিকিৎসকগণের জীবনী আলোচনা করা হয়েছে। প্রথমত যে কারণে তাদের সম্বন্ধে লেখা হয়েছে তা তাদের সবার মাঝেই সাধারণ (ব্যাপক) আর তা হলো তাদের প্রত্যেকেরই অন্যদের উপর গভীর প্রভাব ছিল। তাদের জীবনী পড়ার পর আমি আল্লাহর অঙ্গীকার ও কর্মপদ্ধতি বুঝতে শুরু করলাম (আর তা হলো) : এ দুনিয়াতে কেউ কোন কিছু চেয়ে চেষ্টা করলে সে তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিখ্যাত, জনপ্রিয়, ক্ষমতাশালী অথবা ধনী হওয়ার মাধ্যমে তার ন্যায্য অংশ বা অধিকার পায়। (এ দুনিয়াতে যে যা পেতে চায় বা হওয়ার চেষ্টা করে সে তা পায় বা হয়। আর এ পাওয়া বা হওয়া তার চেষ্টার কারণে এবং আল্লাহ্র অঙ্গীকারের কারণে তার ন্যায্য অংশও বটে। — অনুবাদক) আর যে ব্যক্তি পরকালের জন্য চেষ্টা করে সে অন্যের উপকার করার মাধ্যমে ও আল্লাহ্র পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করার মাধ্যমে দুনিয়াতে ও আখেরাতে উভয়ই ফল পাবে।
“আমি এদেরকে এবং তাদেরকে প্রত্যেককেই তোমার প্রতিপালকের দান থেকে সাহায্য করে থাকি। আর তোমার প্রতিপ্রদত্ত দান নিষিদ্ধ নয়।” (১৭-সূরা বনী ইসরাইল: আয়াত-২০)
আমি যুরকালির পুস্তক পড়ার সময় লক্ষ্য করেছি যে, অনেক অমুসলিমরা বিশেষ করে যারা শিল্পকলা নিয়ে চেষ্টা করেছে তারা নিজেদেরকে সুখ না দিয়ে বরং অন্যদেরকে সুখ দিয়েছে। তাদের কেউ কেউ শোচনীয়ভাবে ব্যক্তিগত জীবন যাপন করেছে, অন্যরা সর্বদাই অসুখী ছিল, যখন নাকি কেউ কেউ এমনকি আত্মহত্যাও করেছে। আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করলাম : নিজে শোচনীয় থেকে অন্যদেরকে আনন্দিত বা সন্তুষ্ট করতে কি লাভ?
একজন কবি বলেন— “তুমি অনেককে সুখ দিলে অথচ তুমি নিজে অসুখী, তুমি মানুষদেরকে হাসালে অথচ তুমি নিজে কাঁদলে।”
আমি দেখতে পেলাম যে, আল্লাহ্ তাঁর অঙ্গীকার পূরণ করে তাদের প্রত্যেককে যে যা প্রত্যাশা করেছিল তাই দিয়েছিলেন। তাদের কেউ কেউ নোবেল পুরস্কার পেয়েছিল, কারণ তারা তাই চেয়েছিল এবং এর জন্য চেষ্টাও করেছিল; অন্যরা অর্থ-খ্যাতি পেয়েছিল, কারণ এটাই ছিল তাদের উচ্চতর লক্ষ্য; অন্যরা তাদের বিশ্বস্ততা ও পরিশ্রমের কারণে ধনী হয়েছিল। যা হোক, আল্লাহ্র এমন কিছু ধার্মিক বান্দাও ছিল যারা দুনিয়া ও আখেরাতের পুরস্কার লাভ করেছিল : এরা এমন লোক যারা দুনিয়ায় আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টিই অর্জন করতে চেষ্টা করেছেন।
📄 ক্ষণকাল ভাবুন
ধৈর্য ধরার চেয়ে কঠিন কোন গুণ নেই— হোক তা প্রিয়জনের বিচ্ছেদের পর অথবা অপ্রীতিকর ঘটনার পরবর্তী ধৈর্য (তাতে কোন পার্থক্য নেই, উভয়টার ব্যাপারেই একই কথা প্রযোজ্য)। অপেক্ষার সময় যখন দীর্ঘায়িত হয় অথবা হতাশা যখন পেয়ে বসে তখন ধৈর্য ধরা সবচেয়ে কঠিন। এ সময় প্রতিকার প্রয়োজন, অবস্থাভেদে বিভিন্ন রকম প্রতিকার প্রয়োজন— ১. আপনি যে সংকট অতিক্রম করছেন মাঝে মাঝে তার মাত্রার দিকে তাকানো উচিত এবং বুঝা উচিত যে— অবস্থা আরো অবনতি হতে পারত। ২. এ দুনিয়াতে আপনার ভোগান্তির কারণে (আখেরাতে) আল্লাহ্ আপনাকে প্রতিদান দিবেন আল্লাহ্র নিকট এ আশা করুন। ৩. আখেরাতের পুরস্কারের কথা মনে রাখুন।