📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 বিশ্বজগৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন

📄 বিশ্বজগৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন


সৃষ্টির মাঝে যে নিদর্শনাবলি আছে তা দেখুন ও তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করুন। নদী-নালা, গাছ-পালা, ফুল, পাহাড়, আসমান-জমিন, চন্দ্র-সূর্য ও রাত-দিন এ সব কিছুই আপনাকে সব কিছুর স্রষ্টার কথা মনে করিয়ে দিবে। এভাবে আপনার ধার্মিকতার (দ্বীনদারীর) মাত্রাও বৃদ্ধি পাবে।

“অতএব, হে দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিরা তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।” (৫৯-সূরা আল হাশর : আয়াত-২)

ইসলাম গ্রহণকারী এক দার্শনিক বলেছেন— “সবকিছু যখন আমাকে ঘিরে রেখেছিল তখন আমি বিশ্বজনীন পুস্তকে (অর্থাৎ পৃথিবীর দিকে) তাকিয়ে দেখতাম, যার সৃষ্টিশৈলী আমাকে বিস্ময়কর ও পরম দক্ষতার কথা বলত। তখন আমার ঈমান শুধুমাত্র স্বাভাবিকই হতো না, অধিকন্তু তা বেড়েও যেত।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 একটু খানি ভেবে দেখুন

📄 একটু খানি ভেবে দেখুন


পাপ ও আল্লাহ্র যিকির সম্বন্ধে গাফেল হওয়ার নিম্নবর্ণিত কুফলগুলো ভেবে দেখুন : একাকীত্ব, প্রার্থনার উত্তর না পাওয়া, হৃদয়ের কঠোরতা, স্বাস্থ্য ও সম্পদ বরকতহীনতা, জান্নাতের বাধাপ্রাপ্ত হওয়া, অপমান, উদ্বিগ্নতা (টেনশন) এবং মন্দ সাথী যারা আত্মাকে কলুষিত করে তাদের দ্বারা পরীক্ষিত হওয়া। উপরোল্লিখিত ফলাফলের পরে পাপ কাজ বাড়ে যেমন নাকি পানি দেয়া হলে গাছ বাড়ে। তাহলে এগুলোই যদি পাপের ফল হয় তবে একমাত্র তাওবার মধ্যেই ঔষধ নিহিত আছে।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ক্ষণিক ভাবুন

📄 ক্ষণিক ভাবুন


ঈমানদার যখন দুর্যোগাপীড়িত হয় তখন কেবলমাত্র তওবার মাধ্যমেই সে সত্যি সত্যি সংকট থেকে মুক্তির পথ পেতে পারে। ঈমানদারদের উচিত বিপদের কারণ বাহিরে লালন না করে বরং নিজের ভিতরে সন্ধান করা এবং এটা মনে করা যে, সে-ই দোষী এবং তার উপর যে মসিবত এসেছে সে তার যোগ্য। যখন সে এ ধরনের সংবেদনশীলতা লাভ করবে তখনই সে সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে সঠিক প্রতিকার করতে পারবে এবং অতীতের ভুলের জন্য আল্লাহর নিকট তওবা করতে পারবে। আর যখন সে নিজের ভিতরের এসব বিষয়ে খেয়াল রাখবে তখন আল্লাহ্ তার বাইরের বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। এ কথা একেবারে সহজ মনে হতে পারে কিন্তু খুব কম লোকই বাস্তবে এর প্রয়োগ করে (খুব কম লোকই এ কথার উপর আমল করে)।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ক্ষণকাল ভেবে দেখুন

📄 ক্ষণকাল ভেবে দেখুন


যুরকালির ‘আল-আ'লাম’ (أَعْلَامُ) নামক কিতাবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের (পাশ্চাত্যের) রাজনীতিবিদ, পণ্ডিত, লেখক ও চিকিৎসকগণের জীবনী আলোচনা করা হয়েছে। প্রথমত যে কারণে তাদের সম্বন্ধে লেখা হয়েছে তা তাদের সবার মাঝেই সাধারণ (ব্যাপক) আর তা হলো তাদের প্রত্যেকেরই অন্যদের উপর গভীর প্রভাব ছিল। তাদের জীবনী পড়ার পর আমি আল্লাহর অঙ্গীকার ও কর্মপদ্ধতি বুঝতে শুরু করলাম (আর তা হলো) : এ দুনিয়াতে কেউ কোন কিছু চেয়ে চেষ্টা করলে সে তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিখ্যাত, জনপ্রিয়, ক্ষমতাশালী অথবা ধনী হওয়ার মাধ্যমে তার ন্যায্য অংশ বা অধিকার পায়। (এ দুনিয়াতে যে যা পেতে চায় বা হওয়ার চেষ্টা করে সে তা পায় বা হয়। আর এ পাওয়া বা হওয়া তার চেষ্টার কারণে এবং আল্লাহ্র অঙ্গীকারের কারণে তার ন্যায্য অংশও বটে। — অনুবাদক) আর যে ব্যক্তি পরকালের জন্য চেষ্টা করে সে অন্যের উপকার করার মাধ্যমে ও আল্লাহ্র পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করার মাধ্যমে দুনিয়াতে ও আখেরাতে উভয়ই ফল পাবে।

“আমি এদেরকে এবং তাদেরকে প্রত্যেককেই তোমার প্রতিপালকের দান থেকে সাহায্য করে থাকি। আর তোমার প্রতিপ্রদত্ত দান নিষিদ্ধ নয়।” (১৭-সূরা বনী ইসরাইল: আয়াত-২০)

আমি যুরকালির পুস্তক পড়ার সময় লক্ষ্য করেছি যে, অনেক অমুসলিমরা বিশেষ করে যারা শিল্পকলা নিয়ে চেষ্টা করেছে তারা নিজেদেরকে সুখ না দিয়ে বরং অন্যদেরকে সুখ দিয়েছে। তাদের কেউ কেউ শোচনীয়ভাবে ব্যক্তিগত জীবন যাপন করেছে, অন্যরা সর্বদাই অসুখী ছিল, যখন নাকি কেউ কেউ এমনকি আত্মহত্যাও করেছে। আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করলাম : নিজে শোচনীয় থেকে অন্যদেরকে আনন্দিত বা সন্তুষ্ট করতে কি লাভ?

একজন কবি বলেন— “তুমি অনেককে সুখ দিলে অথচ তুমি নিজে অসুখী, তুমি মানুষদেরকে হাসালে অথচ তুমি নিজে কাঁদলে।”

আমি দেখতে পেলাম যে, আল্লাহ্ তাঁর অঙ্গীকার পূরণ করে তাদের প্রত্যেককে যে যা প্রত্যাশা করেছিল তাই দিয়েছিলেন। তাদের কেউ কেউ নোবেল পুরস্কার পেয়েছিল, কারণ তারা তাই চেয়েছিল এবং এর জন্য চেষ্টাও করেছিল; অন্যরা অর্থ-খ্যাতি পেয়েছিল, কারণ এটাই ছিল তাদের উচ্চতর লক্ষ্য; অন্যরা তাদের বিশ্বস্ততা ও পরিশ্রমের কারণে ধনী হয়েছিল। যা হোক, আল্লাহ্র এমন কিছু ধার্মিক বান্দাও ছিল যারা দুনিয়া ও আখেরাতের পুরস্কার লাভ করেছিল : এরা এমন লোক যারা দুনিয়ায় আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টিই অর্জন করতে চেষ্টা করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px