📄 একটু ভাবুন
শীতল, বিততূজ জন্য যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, সে অট্টালিকা ও জমকালো গাড়ির জন্যও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হবে না।
গরম রুটি (টাটকা খাবার) খেয়ে যে কৃতজ্ঞ হয় না সে হঠাৎ করে দামী খাবার খেয়েও কৃতজ্ঞ হবে না; কেননা, অকৃতজ্ঞ কম ও বেশিকে একই রকম দেখে। আমাদের পূর্বে বহু লোকই আল্লাহর সাথে বাধ্যবাধকতা অঙ্গীকার করেছে যে, যদি আল্লাহ তাদেরকে নেয়ামত দান করেন, তবে এর বদলে তারা কৃতজ্ঞ হবে ও দান-খয়রাত করবে। যখন তিনি তাদেরকে নিজ অনুগ্রহ থেকে কিছু দান করলেন, তখন তারা সে বিষয়ে কার্পণ্য করল এবং বিরুদ্ধভাবে মুখ ফিরিয়ে নিল।
প্রতিদিনেই আমরা এ ধরনের লোক দেখি, যারা মানসিকভাবে দুঃখিত, অন্তরসংশয়ী ও তাদের প্রতি ভক্তি-বিরক্ত আর তা এ কারণে যে, তিনি তাদেরকে আরো বেশি দান করেননি। তারা সুবস্থায় থাকা সত্ত্বেও এবং তাদের প্রতিদিনের পুষ্টিকর খাবার সত্ত্বেও তারা এ রকমটা ভাবে। তাদের যে সব মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিস আছে তার সবটা উপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তারা এসব জিনিসের জন্য কৃতজ্ঞও নয় এবং তাদের যে অবসর সময় আছে তার জন্যও কৃতজ্ঞ নয়। যদি তাদেরকে প্রাসাদ বা অট্টালিকা দান করা হতো তাহলে কি ঘটনা ঘটত! আসলে তাদের প্রচুর প্রশ্ন এমনকি আরো বেশি বিঘাতত হয়ে যেত এবং তারা আরো বেশি ঔদ্ধত্য ও অবজ্ঞা প্রকাশ করত। যে খালি পায়ে হাঁটে সে বলে, “আমার প্রভুর প্রতি আমি তখন কৃতজ্ঞ হব, যখন তিনি আমাকে জুতো দিয়ে ধন্য করবেন।” অথচ জুতাওয়ালা একটি দামী গাড়ি পাওয়া পর্যন্ত তার কৃতজ্ঞতা স্থগিত রাখতে হয়। আমাদের কল্যাণকে নগদে গ্রহণ করি আর বাকি বিষয়ে কৃতজ্ঞ হই। আল্লাহ্র কাছ থেকে আমাদের আশা অশেষ। অথচ তাঁর আদেশ পালনে আমরা ধীর ও অলস।
📄 বিশ্বজগৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন
সৃষ্টির মাঝে যে নিদর্শনাবলি আছে তা দেখুন ও তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করুন। নদী-নালা, গাছ-পালা, ফুল, পাহাড়, আসমান-জমিন, চন্দ্র-সূর্য ও রাত-দিন এ সব কিছুই আপনাকে সব কিছুর স্রষ্টার কথা মনে করিয়ে দিবে। এভাবে আপনার ধার্মিকতার (দ্বীনদারীর) মাত্রাও বৃদ্ধি পাবে।
“অতএব, হে দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিরা তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।” (৫৯-সূরা আল হাশর : আয়াত-২)
ইসলাম গ্রহণকারী এক দার্শনিক বলেছেন— “সবকিছু যখন আমাকে ঘিরে রেখেছিল তখন আমি বিশ্বজনীন পুস্তকে (অর্থাৎ পৃথিবীর দিকে) তাকিয়ে দেখতাম, যার সৃষ্টিশৈলী আমাকে বিস্ময়কর ও পরম দক্ষতার কথা বলত। তখন আমার ঈমান শুধুমাত্র স্বাভাবিকই হতো না, অধিকন্তু তা বেড়েও যেত।”
📄 একটু খানি ভেবে দেখুন
পাপ ও আল্লাহ্র যিকির সম্বন্ধে গাফেল হওয়ার নিম্নবর্ণিত কুফলগুলো ভেবে দেখুন : একাকীত্ব, প্রার্থনার উত্তর না পাওয়া, হৃদয়ের কঠোরতা, স্বাস্থ্য ও সম্পদ বরকতহীনতা, জান্নাতের বাধাপ্রাপ্ত হওয়া, অপমান, উদ্বিগ্নতা (টেনশন) এবং মন্দ সাথী যারা আত্মাকে কলুষিত করে তাদের দ্বারা পরীক্ষিত হওয়া। উপরোল্লিখিত ফলাফলের পরে পাপ কাজ বাড়ে যেমন নাকি পানি দেয়া হলে গাছ বাড়ে। তাহলে এগুলোই যদি পাপের ফল হয় তবে একমাত্র তাওবার মধ্যেই ঔষধ নিহিত আছে।
📄 ক্ষণিক ভাবুন
ঈমানদার যখন দুর্যোগাপীড়িত হয় তখন কেবলমাত্র তওবার মাধ্যমেই সে সত্যি সত্যি সংকট থেকে মুক্তির পথ পেতে পারে। ঈমানদারদের উচিত বিপদের কারণ বাহিরে লালন না করে বরং নিজের ভিতরে সন্ধান করা এবং এটা মনে করা যে, সে-ই দোষী এবং তার উপর যে মসিবত এসেছে সে তার যোগ্য। যখন সে এ ধরনের সংবেদনশীলতা লাভ করবে তখনই সে সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে সঠিক প্রতিকার করতে পারবে এবং অতীতের ভুলের জন্য আল্লাহর নিকট তওবা করতে পারবে। আর যখন সে নিজের ভিতরের এসব বিষয়ে খেয়াল রাখবে তখন আল্লাহ্ তার বাইরের বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। এ কথা একেবারে সহজ মনে হতে পারে কিন্তু খুব কম লোকই বাস্তবে এর প্রয়োগ করে (খুব কম লোকই এ কথার উপর আমল করে)।