📄 একটু ভেবে দেখুন
যায়েদ ইবনে সাবিত (র) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী করীম ﷺ-কে বলতে শুনেছেন—
“দুনিয়া যার প্রধান উদ্দেশ্য আল্লাহ তার কাজকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিবেন এবং তার চোখের সামনে দরিদ্রতাকে বড় করে ধরবেন আর তার তকদীরে যা আছে, তা ছাড়া দুনিয়া থেকে কোন কিছুই তার নিকট আসবে না (তকদীরের অতিরিক্ত কোন কিছুই সে পাবে না)। আর পরকাল যার উদ্দেশ্য আল্লাহ তার কাজকে সুসংহত করে দিবেন তার অন্তরে ধনাঢ্যতা দান করবেন এবং দুনিয়া লাঞ্ছিত হয়ে (বাধ্য হয়ে) তার নিকট আসবে।”
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী করীম ﷺ-কে বলতে শুনেছেন —
“আর আখেরাতের উদ্দেশ্যই একমাত্র উদ্দেশ্য (হয়) আল্লাহ তাঁর দুনিয়ার উদ্দেশ্যের জন্য যথেষ্ট (হন) আর দুনিয়ার বিভিন্ন বিষয়ে যার উদ্দেশ্য (হয়) সে দুনিয়ার কোন্ উপত্যকায় ধ্বংস হবে, সে বিষয়ে আল্লাহ কোন্ পরোয়া করেন না।”
📄 একটু ভাবুন
যখন আমরা দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন ও শান্তির বিষয় সম্বন্ধে চিন্তা করি তখন আমাদের দুটি বিষয় মনে রাখা উচিত।
প্রথমটি হলো— যখন কেউ আর সংকট সহ্য করতে পারে না, তখন মানুষের নিকট তার কোন আশা থাকে না। ফলে, তার আত্মা একমাত্র আল্লাহর উপরেই নির্ভর করবে।
দ্বিতীয়টি হলো— সত্যিকার মুমিন লোক যখন বুঝতে পারে যে, শান্তি ধীরে আসছে এবং যখন সে বুঝতে পারে যে, তার প্রার্থনার উত্তর দেওয়া হচ্ছে না তখন সে শুধুমাত্র নিজেকেই দোষারোপ করবে। সে নিজেকে বলবে, “একমাত্র তোমার কারণেই আমি এ অবস্থায় আছি।” এ ধরনের আত্ম-তিরস্কার আল্লাহর নিকট বহু নেক আমল থেকেও বেশি প্রিয়। আল্লাহর কোন বান্দা যখন এ প্রক্রিয়ার অনুসরণ ও আত্ম-তিরস্কার করে তখন সে তার প্রভুর সামনে ভাষাবেগে অভিভূত হয়ে ভেঙে গিয়ে নত হয়ে পড়ে, তার ত্রুটি-বিচ্যুতি স্বীকার করে তার উপর যে মসিবত এসেছে সে তার যোগ্য— একথা সে স্বীকার করে এবং এটাও স্বীকার করে যে, সে তার প্রার্থনার উত্তর পাওয়ার যোগ্য নয়। এ অবস্থাতেই তার প্রার্থনার উত্তর দ্রুত আসে এবং তার ওপরের কালোমেঘ অদৃশ্য হয়ে যায়।
📄 একটু ভেবে দেখুন
উবাদাহ ইবনে সামিত (রা) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছেন যে,
“আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ স্থিত থাক; কেননা, তা জান্নাতের একটি দরজা, এর মাধ্যমে আল্লাহ দুঃখিতা ও উদ্বিগ্নতা (টেনশন) দূর করে দিবেন।”
মানুষের উপর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের প্রভাব আমরা স্বীকার নাও করতে পারি; কিন্তু আমাদের বিবেক তা গ্রহণ করে। আত্মা যখন মোসদের সাথে লড়ে না, তখন তার ভয় ও উদ্বিগ্নতার মাত্রা বেড়ে যায়। কিন্তু আত্মা যখন আল্লাহর পক্ষে জিহাদ করে, আল্লাহ তখন তার ভয় ও উদ্বিগ্নতাকে সুখ ও শক্তিতে রূপান্তরিত করে দেন। “তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর, যাতে আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন, তাদেরকে লাঞ্ছিত করতে পারেন, তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করতে পারেন। এবং মুমিনদের অন্তরের ক্রোধ দূর করতে পারেন।” (১৮-সূরা তাওবা : আয়াত-১৫) অতএব, উদ্বিগ্নতা, দুঃখ-কষ্ট ও দুশ্চিন্তার সাথে লড়াই করার জন্য আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী একটি ঔষধ; আর সাহায্যের জন্য আমরা আল্লাহর মুখাপেক্ষী।
📄 একটু ভাবুন
শীতল, বিততূজ জন্য যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, সে অট্টালিকা ও জমকালো গাড়ির জন্যও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হবে না।
গরম রুটি (টাটকা খাবার) খেয়ে যে কৃতজ্ঞ হয় না সে হঠাৎ করে দামী খাবার খেয়েও কৃতজ্ঞ হবে না; কেননা, অকৃতজ্ঞ কম ও বেশিকে একই রকম দেখে। আমাদের পূর্বে বহু লোকই আল্লাহর সাথে বাধ্যবাধকতা অঙ্গীকার করেছে যে, যদি আল্লাহ তাদেরকে নেয়ামত দান করেন, তবে এর বদলে তারা কৃতজ্ঞ হবে ও দান-খয়রাত করবে। যখন তিনি তাদেরকে নিজ অনুগ্রহ থেকে কিছু দান করলেন, তখন তারা সে বিষয়ে কার্পণ্য করল এবং বিরুদ্ধভাবে মুখ ফিরিয়ে নিল।
প্রতিদিনেই আমরা এ ধরনের লোক দেখি, যারা মানসিকভাবে দুঃখিত, অন্তরসংশয়ী ও তাদের প্রতি ভক্তি-বিরক্ত আর তা এ কারণে যে, তিনি তাদেরকে আরো বেশি দান করেননি। তারা সুবস্থায় থাকা সত্ত্বেও এবং তাদের প্রতিদিনের পুষ্টিকর খাবার সত্ত্বেও তারা এ রকমটা ভাবে। তাদের যে সব মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিস আছে তার সবটা উপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তারা এসব জিনিসের জন্য কৃতজ্ঞও নয় এবং তাদের যে অবসর সময় আছে তার জন্যও কৃতজ্ঞ নয়। যদি তাদেরকে প্রাসাদ বা অট্টালিকা দান করা হতো তাহলে কি ঘটনা ঘটত! আসলে তাদের প্রচুর প্রশ্ন এমনকি আরো বেশি বিঘাতত হয়ে যেত এবং তারা আরো বেশি ঔদ্ধত্য ও অবজ্ঞা প্রকাশ করত। যে খালি পায়ে হাঁটে সে বলে, “আমার প্রভুর প্রতি আমি তখন কৃতজ্ঞ হব, যখন তিনি আমাকে জুতো দিয়ে ধন্য করবেন।” অথচ জুতাওয়ালা একটি দামী গাড়ি পাওয়া পর্যন্ত তার কৃতজ্ঞতা স্থগিত রাখতে হয়। আমাদের কল্যাণকে নগদে গ্রহণ করি আর বাকি বিষয়ে কৃতজ্ঞ হই। আল্লাহ্র কাছ থেকে আমাদের আশা অশেষ। অথচ তাঁর আদেশ পালনে আমরা ধীর ও অলস।