📄 একটুখানি ভেবে দেখুন
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। এর অর্থ মহান আল্লাহ ছাড়া কেউ উপাস্য হওয়ার সত্যিকারের যোগ্য নয় বা উপাস্য হওয়ার অধিকার কারো নেই। কেননা, তিনি একাই সেসব পরম গুণের অধিকারী যেগুলোতে সর্বশক্তিমান, ঐশী ও প্রভূত্বের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
এই তাওহীদি কালেমার রহস্য বা মাহাত্ম্য হলো ভালোবাসা, ভয়, আশা, শ্রদ্ধা এবং মাহাত্ম্য বর্ণনা বা মহিমাকীর্তনের জন্য আল্লাহুকে এককভাবে নির্দিষ্ট করে নেয়া। আল্লাহর উপর আমাদের নির্ভরতা তাঁর নিকট আমাদের অনুশোচনাও এর অন্তর্ভুক্ত। অতএব, তাঁকে ছাড়া অন্যকে ভালোবাসা বিতৃষ্ণ নয়। তাঁর প্রতি আমাদের ভালোবাসার ফলেই তিনি ছাড়া অন্য সকলকে ভালোবাসা হয় অথবা তাঁর প্রতি আমাদের ভালোবাসা বাড়ানোর উপায় হিসেবেই।
সুতরাং, আমাদেরকে অবশ্যই একমাত্র তাঁকেই ভয় করতে হবে, আমাদেরকে অবশ্যই একমাত্র তাঁর উপরেই তাওয়াক্কুল করতে হবে, একমাত্র তাঁর মাঝেই আমরা আশা করি এবং একমাত্র তাঁকেই আমরা শ্রদ্ধা করি। একমাত্র তাঁর নামেই আমরা শপথ করি; একমাত্র তাঁর নিকটেই আমরা তওবা করি এবং সব আনুগত্যই তার জন্য। সংকটের সময় আমরা তাঁকে ছাড়া অন্যকে ডাকতে পারি না এবং তাঁর দরবার ছাড়া অন্যের নিকট আমরা আশ্রয় ভিক্ষা চাইতে পারি না। আরও (বলছি) একমাত্র তাঁকেই আমরা সেজদা করি বা একমাত্র তাঁর নিকটেই আমরা মাথা নত করি এবং যখন আমরা কোনো পশু জবেহ করি তখন শুধুমাত্র তাঁর নাম নিয়েই আমরা এটা জবেহ করি।
উপরের সব কথা এক কথায় বলা যায়— আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো উপাস্য হওয়ার অধিকার নেই। এ কালেমা সব ধরনের ইবাদতের অর্থবহ।
📄 একটুখানি ভেবে দেখুন
আসমা বিনতে উমাইসা (রা) বলেছেন : রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বলেছেন— “মুসিবতে পড়লে যে কালিমা তোমার বলা উচিত আমি কি তোমাকে তা শিখিয়ে দিব না? আর তা হল— আল্লাহু, আল্লাহই আমার প্রভু, আমি তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করি না।”
অন্য হাদীসে আছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : রোগ-শোক, অভাব-অনটন-সংকট, দুঃখ-কষ্ট ও বালা-মুসিবতে পড়ে যদি কেউ নিম্নোক্ত কালিমা পাঠ করে তবে সে তা থেকে মুক্তি পাবে।
“আল্লাহ আমার প্রভু, তাঁর কোনো শরীক নেই।”
মাঝে মাঝে কেউ কেউ কঠিন পরীক্ষার মোকাবিলায় পড়েন। সে যদি তখন তাঁর প্রভুর দিকে অভিমুখী হয় এবং তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত না করে তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ করে তাহলে তাঁর সংকট দূর হয়ে যাবে।
📄 খানিক ভাবুন
তোমরা যদি কষ্ট ভোগ করতে থাক তবে তারাও তো তোমাদের মতো কষ্ট ভোগ করছে, অথচ তারা যা আশা করতে পারে না তোমরা আল্লাহর কাছ থেকে তা (জান্নাতে) আশা করতে পারো।
ঈমানদারদের জান্নাত প্রাপ্তির কারণ এ আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সত্যিকারের ঈমানদার যখন দুর্দশাগ্রস্ত হয়, তখন তাদের উচ্চ পর্যায়ের ধৈর্য থাকে। সত্যিকার ঈমানদারদের মাঝে যে সব গুণ পাওয়া যায় তা হলো ধৈর্য, অধ্যবসায়, অটলতা, সৌম্যতা এবং আল্লাহর বান্দা হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনের খাঁটি ইচ্ছা। মা'কাল ইবনে ইয়াসার বর্ণনা করেন যে নবী করীম বলেছেন—
তোমাদের মোবারক, মহান প্রভু বলেন, “হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতে সময় ব্যয় কর, তাহলে আমি তোমাদের অন্তরকে সম্পদে ভরে দিব ও তোমার হাতকে রিযিকে ভরে দিব। হে আদম সন্তান! আমার থেকে দূর হয়ো না, তাহলে আমি তোমাদের অন্তরকে অভাবে ভরে দিব ও তোমার হাতকে (সমস্যা দ্বারা) ব্যস্ততায় ভরে দিব।”
📄 একটু ভেবে দেখুন
আল্লাহকে ভালোবাসা, তাঁকে বুঝা, তাঁকে স্মরণ করা বা তাঁর যিকির করা, তাঁর নিকট শান্তি চাওয়া, পরিপূর্ণ ভালোবাসা, ভয়, আশা ও নির্ভরতার জন্য একমাত্র তাঁরই নির্বাচন করা— যখন কারো মাঝে এসবের ওপর একত্র সমাবেশ হয় তখন পৃথিবীতে তার জন্য জান্নাত তৈরি হয়। যে আল্লাহকে ভালোবাসে এবং শুধু তাঁকে এমন শান্তি বয়ে এনে দেয় তার তুলনা এ পৃথিবীতে নেই।
আস্থা যদি দৃঢ় ও পরিতৃপ্ত থাকে এবং আল্লাহ সাথে যদি আত্মার শব্দ সম্পর্ক থাকে তবে আত্মা থেকে উদ্বিগ্নতা, দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-বেদনা দূর হয়ে যায় এবং এর বিপরীতে বিপরীত অবস্থা অর্থাৎ আত্মার আত্মার সম্পর্ক আল্লাহ ছাড়া অন্যের সাথে, যে আল্লাহর যিকির ভুলে যায় বা যে আল্লাহকে স্মরণ করতে ভুলে যায় এবং যে ব্যক্তি আল্লাহকে যা দান করেছেন তাতে সন্তুষ্ট নয়— তার চেয়ে বেশি আর কেউ দুঃখ-কষ্টে সংকীর্ণ নয়। যারা আমাদের পূর্বে (আগে) অতীত হয়ে গেছে (চলে গেছে) তাদের ঘটনাবলি নিয়ে গবেষণা করে আমরা এ বাস্তবতাকে (সত্য কথাকে) সত্যায়িত করতে পারি।