📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 একটুখান ভেবে দেখুন

📄 একটুখান ভেবে দেখুন


উমর (রা) বলেছেন— “আমরা যে উত্তম জীবন লাভ করেছি তা ধৈর্যের মাধ্যমেই এসেছে।”

তিনি আরো বলেছেন— “আমরা যে উত্তম জীবনের অভিজ্ঞতা লাভ করেছি তা ধৈর্যের জীবন এবং ধৈর্য যদি মানুষ হতো তবে সে সবচেয়ে বেশি উদার হতো।”

আলী (রা) বলেন— “বাস্তবিকই ঈমানের জন্য ধৈর্য হলো এমনটি যেমনটি নাকি দেহের জন্য মাথা। মাথা কাটা গেলে দেহ ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।” অর্থাৎ ধৈর্য না থাকলে ঈমান বা বিশ্বাসও নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তিনি উচ্চস্বরে বলেছেন— “নিশ্চয়, যার ধৈর্য নেই তার ঈমানও নেই।” তিনি আরো বলেন— “ধৈর্য এমন এক বাহন যা কখনও হোঁচট খায় না।”

হাসান (রা) বলেছেন— “ধৈর্য এমন এক কল্যাণের ভান্ডার যা আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে যোগ্য মনে করেন শুধুমাত্র তাকেই দান করেন।”

উমর ইবনে আব্দুল আজীজ (র) বলেছেন— “আল্লাহ তা’আলা যদি তাঁর কোন বান্দাকে কোন নেয়ামত দিয়ে তা ছিনিয়ে নিয়ে তার বদলে তাঁকে ধৈর্য প্রদান করেন তবে ধৈর্যই (ঐ ছিনিয়ে নেওয়া নেয়ামতের চেয়ে) উত্তম।”

সুলাইমান ইবনুল কাসিম বলেছেন— “ধৈর্য ছাড়া সকল কাজের প্রতিদানই জানা আছে।”

“একমাত্র ধৈর্যশীলদেরকেই তাঁদের প্রতিদান অধিক মাত্রায় বেহিসাবে দেয়া হবে।” (৩৯-সূরা আয যুমার : আয়াত-১০)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 এ আয়াতগুলো নিয়ে একটু ভাবুন

📄 এ আয়াতগুলো নিয়ে একটু ভাবুন


“আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তাঁর নিষ্কৃতির পথ করে দিবেন। আর তাকে এমনভাবে বা এমন উৎস হতে রিযিক দান করবেন যে সে তার ধারণাও করতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা রাখে আল্লাহই তাঁর জন্য যথেষ্ট।” (৬৫-সূরা আত তালাক : আয়াত-৩)

“আল্লাহ কষ্টের পর (অভাবের পর) আরাম (স্বচ্ছলতা) দিবেন।” (৬৫-সূরা আত তালাক : আয়াত-৭)

নবী করীম ﷺ বলেছেন— “এবং জেনে রাখ যে, ধৈর্যের মাধ্যমে বিজয় আসে এবং সংকটের পরেই স্বচ্ছলতা আসে আর কষ্টের পরেই স্বস্তি আসে।”

অন্য হাদীসে নবী করীম ﷺ বলেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন— “বান্দা আমার প্রতি যেরূপ ধারণা করে আমি তার সাথে সেরূপ আচরণ করি; সুতরাং, তার যেমন মনে চায় আমার প্রতি তেমনই ধারণা করুক।”

“তাদের বিরুদ্ধে তোমার পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট হবে। তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞানী।” (২-সূরা বাকারা : আয়াত-১৩৭)

“এবং (এমন) চিরজীবের উপর নির্ভর কর যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না।” (২৫-সূরা আল ফুরকান : আয়াত-৫৮)

“আশা করা যায় যে, আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে বিজয় অথবা কোনো সিদ্ধান্ত দিবেন।” (৫-সূরা মায়েদা : আয়াত-৫২)

“আল্লাহ ছাড়া এটাকে কেউ প্রতিহত, অপসারিত, ব্যাহত, স্থগিত, বিলম্বিত অথবা প্রকাশিত করতে পারবে না।” (৫৩-সূরা আন নাজম : আয়াত-৫৮)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 এ কথা কয়টি একটু ভেবে দেখুন

📄 এ কথা কয়টি একটু ভেবে দেখুন


বিষণ্ণ না না-তাহযান : কেননা, বিষণ্ণতা আপনাকে অতীত নিয়ে আক্ষেপ করতে, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি বা সন্দেহ করতে এবং আপনার বর্তমানকে নষ্ট করে দিতে বাধ্য করবে।

দুঃখিত হবেন না; কেননা, এটি হৃদয়কে সংকুচিত করে, মুখমণ্ডলকে কুঁচকিয়ে দেয়, মনোবলকে দুর্বল করে দেয় এবং আশা ভরসাকে দূর করে দেয়।

মনঃক্ষুণ্ন হবেন না; কেননা, আপনার মনঃক্ষুণ্নতা আপনার শত্রুকে আনন্দিত করে, আপনার বন্ধুদেরকে ক্রুদ্ধ করে এবং হিংসুকদেরকে স্ফুর্তি করায়।

মনঃক্ষুণ্ন হবেন না; কেননা, মনঃক্ষুণ্ন হয়ে আপনি স্বর্গীয় বিধান বা তকদীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন এবং আপনার ভাগ্যলিপির বিরুদ্ধে বিরক্তি প্রকাশ করছেন।

ভগ্নহৃদয় বা মনমরা হবেন না; কেননা, মনমরা ভাব যা হারিয়ে গেছে বা চলে গেছে তা আপনাকে এনে দিতে পারবে না, এটা মৃতকে পুনর্জীবন দান করতে পারবে না, ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারবে না অথবা কোনো উপকারই করতে পারবে না।

ব্যথিত বা ভাঙামন হবেন না; কেননা, মর্মবেদনা প্রায়ই শয়তানের (ধোঁকা) থেকে (উৎপন্ন) হয় এবং তা এক ধরনের হতাশা।

“ (হে মুহাম্মাদ!), আমি কি তোমার জন্য তোমার মনকে প্রশস্ত করে দেইনি? এবং যা তোমার পিঠকে ভেঙে দিয়েছে আমি তোমা থেকে তোমার সে ভার অপসারণ করেছি এবং আমি তোমার স্মরণ বা খ্যাতিকে সমুচ্চ করেছি। অতএব, কষ্টের পরেই আরাম আছে। নিশ্চয় কষ্টের পরেই স্বস্তি আছে। অতএব, যখনই অবসর পাও তখনই (আল্লাহর) ইবাদত করিও এবং তোমার প্রভুর দিকে প্রার্থনার জন্য মনোনিবেশ করিও।” (৯৪- সূরা আল ইনশিরাহ্ : আয়াত-১-৮)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 নবীর এ বাণীগুলো একটু ভেবে দেখুন

📄 নবীর এ বাণীগুলো একটু ভেবে দেখুন


“আল্লাহ যদি কোনো জাতিকে ভালোবাসেন তবে তিনি তাদেরকে পরীক্ষা করেন; এতে যে সন্তুষ্ট থাকে তার জন্য রয়েছে সন্তুষ্টি আর এতে যে ক্রুদ্ধ হয় তার জন্য রয়েছে গযব।”

“সর্বাপেক্ষা কঠিন পরীক্ষা করা হয়েছে (সর্বোত্তম মানুষ) নবীদেরকে’ এর পরবর্তী স্তরের লোকদের জন্য এর পরবর্তী স্তরের পরীক্ষা’ মানুষকে তার ধর্মের গুরুত্ব অনুসারে পরীক্ষা করা হয়, যদি তাঁর দীনদারী শক্ত স্তরের হয় তবে তাঁর পরীক্ষাও কঠিন স্তরের হয়। যদি তাঁর দীনদারী দুর্বল স্তরের হয় তবে তাঁর পরীক্ষাও তদানুপাতে (দুর্বল) স্তরের হয়। জমিনের বুকে কোনরূপ ভুল ছাড়া চলার আগ পর্যন্ত বান্দাকে অনবরত পরীক্ষা করা হতে থাকবে।”

“মুমিনের অবস্থা ও কাজ কারবার বড়ই আশ্চর্যজনক। কেননা তাঁর সব কিছুই তাঁর জন্য কল্যাণকর। আর এটা মুমিন ছাড়া অন্য কারো জন্য নয়। যদি তাঁর কোনো কল্যাণ হয় তবে সে শোকরিয়া আদায় করে এবং এটা তাঁর জন্য কল্যাণকর আর যদি তাঁর কোনো ক্ষতি হয় তবে সে ধৈর্য ধরে আর এটা তাঁর জন্য কল্যাণকর হয়ে যায়।”

“মেনে রাখ! যদি সব মানুষ তোমার উপকার করার জন্য একত্রিত হয় তবে তারা তোমার কোনো উপকারই করতে পারবে না– তবে শুধুমাত্র এতটুকু উপকার করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য তকদীরে লিখে রেখেছেন। আর তারা যদি তোমার কোনো ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয় তবে তারা তোমার কোন ক্ষতিই করতে পারবে না– তবে শুধুমাত্র ততটুকু ক্ষতি করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য তকদীরে লিখে রেখেছেন।”

“ধার্মিকদেরকে তাদের স্তর অনুপাতে পরীক্ষা করা হয়।”

“মুমিন ব্যক্তি শস্যের কচি ডগার মতো যা বাতাসে ডানে বামে হেলে দুলে যায়।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px