📄 একটু ভাবুন
বিষণ্ণ হবেন না : কারণ, অসুস্থতা জীবের সাময়িক অবস্থা মাত্র; পাপ মাফ করা হবে; ঋণ পরিশোধ (করা) হবে; বন্দী মুক্তি পাবে; আপনার প্রিয় প্রবাসী ব্যক্তি ফিরে আসবে; পাপী অনুতপ্ত হবে এবং গরীবরা ধনী হবে।
দুঃখিত হবেন না : এজন্য যে, আপনি কি দেখতে পান না যে, কিভাবে কালো মেঘ চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় এবং প্রচণ্ড ঝঞ্ঝা বায়ু কিভাবে প্রশমিত হয়ে যায়? আপনার কষ্টের পরেই শান্তি আসবে এবং আপনার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।
দুশ্চিন্তা করবেন না : কারণ সূর্যের উষ্ণ কিরণ প্রচুর ছায়ায় দূর হয়ে যাবে, দুপুর-রোদের তৃণা শীতল পানিতে মিটে যাবে, ক্ষুধার জ্বালা উষ্ণ খাবারে মিটে যাবে এবং নিদ্রাহীনের উদ্বিগ্নতা গভীর ঘুমে দূর হয়ে যাবে বা উদ্বিগ্ন ব্যক্তির অনিদ্রার পর গভীর ঘুম আসবে। স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধারের পর অসুস্থ ব্যক্তি যাতনার কথা শীঘ্রই ভুলে যাবে। আপনার কর্তব্য শুধু অল্প সময়ের জন্য সহ্য করা এবং কয়েক মুহূর্তের জন্য ধৈর্যশীল হয়ে থাকা। আলী ইবনে জাবালা বলেছেন— সম্ভবত : একটি উদ্ধারের পথ পাওয়া যাবে, সম্ভবত : আমরা সম্ভাবনার দ্বারা সান্ত্বনা পাব। সুতরাং তোমার মনকে দমন করে যে দুশ্চিন্তা তার মোকাবিলায় তুমি হতাশ হয়ে যেয়ো না, কারণ, মানুষ যখন সব আশা হারিয়ে ফেলে তখন সবচেয়ে নিকটবর্তী সত্তা (আল্লাহ) উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসবেন।”
আল্লাহ আপনার জন্য যা পছন্দ করেছেন আপনিও আপনার জন্য তা পছন্দ করুন। তিনি যদি আপনাকে দাঁড়াতে বলে তবে আপনি দাঁড়িয়ে থাকুন এবং তিনি যদি আপনাকে বসতে বলে তবে আপনি বসে থাকুন। তিনি যদি আপনাকে দরিদ্র বানিয়ে থাকেন, তবে ধৈর্য প্রদর্শন করুন। আর তিনি যদি আপনাকে ধনী বানিয়ে থাকেন তবে কৃতজ্ঞ হোন। একথাগুলো বুঝে আসে একথার দ্বারা যে— “প্রভু হিসেবে আল্লাহকে, ধর্ম হিসেবে ইসলামকে এবং নবী হিসেবে মুহাম্মদ কে মেনে নিয়েছি।”
এবং একজন আরব কবি বলেছেন— “তোমার জন্য কোন পরিকল্পনা করিও না, কেননা, পরিকল্পনাকারীরা ধ্বংসপ্রাপ্ত; আর আমার হুকুমে রাজি হয়ে যাও। আমি পরিকল্পনার জন্য তোমার চেয়ে অধিক যোগ্য।”
📄 একটু ভাবুন
দুঃখিত হবেন না : কেননা, আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করছেন এবং ফেরেশতারা আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। মুমিনগণ প্রতি সালাতে তাদের দোয়ায় আপনাকে অংশীদার করছে (অর্থাৎ আপনার জন্য দোয়া করছে)। নবী করীম ﷺ ইমানদারদের জন্য সুপারিশ করবে...। আল-কুরআন মজীদ ভালো ভালো উপদেশে ভরা, সর্বোপরি পরম করুণাময়ের দয়াতে আছেই।
বিপন্ন হবেন না : নেক আমলকে দশগুণ এমনকি সাতশতগুণ বা তারও বেশি বর্ধিত করা হবে। অপরপক্ষে যখন নাকি বদ আমলকে বর্ধিত করা বা গুণ করা হবে না এবং আপনার প্রতি তা ক্ষমা করেও দিতে পারেন। কতবারইনা আমরা আল্লাহর মহানুভবতা লক্ষ্য করেছি। এ মহানুভবতা, উদারতা ও দয়া অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও অতুলনীয়। অন্য কারোও বদান্যতা তাঁর বদান্যতার এমনকি নিকটও পৌঁছতে পারে না।
যদি আপনি আল্লাহর সাথে কোন শরীক না করেন, আপনি সত্য ধর্মে বিশ্বাস স্থাপন করেন বা দ্বীনে হকের উপর ঈমান রাখেন, আপনি যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসেন তবে আপনার ভয়ের কোন কারণ নেই। যদি আপনি আপনার মন্দ কাজের জন্য অনুতাপ করেন এবং সওয়াবের কাজ করার পর যদি আপনার খুশি লাগে তাহলে আপনার দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। আপনার সাথে অনেক কল্যাণ আছে যা আপনি বুঝতে পারেন না।
নিচের হাদীসে যেমনটি আছে তেমনভাবে যদি আপনি আপনার জীবনের ভারসাম্যতা বজায় রাখতে পারেন তাহলে আপনার কোন ভয় নেই। মুমিনের অবস্থা কতইনা চমৎকার! তাঁর সকল কাজই তাঁর জন্য কল্যাণকর। ঈমানদার ছাড়া অন্য কারো জন্য এমনটি নয়। যদি সুখী হওয়ার মতো কিছু ঘটে তবে সে কৃতজ্ঞ হয়। আর এটা তার জন্য মঙ্গলজনক। আর যদি তিনি সমস্যা বা অভাব-অনটনে পড়েন তবে তিনি ধৈর্য ধরেন এবং এটা তাঁর জন্য উপকারী।”
📄 একটুখান ভেবে দেখুন
উমর (রা) বলেছেন— “আমরা যে উত্তম জীবন লাভ করেছি তা ধৈর্যের মাধ্যমেই এসেছে।”
তিনি আরো বলেছেন— “আমরা যে উত্তম জীবনের অভিজ্ঞতা লাভ করেছি তা ধৈর্যের জীবন এবং ধৈর্য যদি মানুষ হতো তবে সে সবচেয়ে বেশি উদার হতো।”
আলী (রা) বলেন— “বাস্তবিকই ঈমানের জন্য ধৈর্য হলো এমনটি যেমনটি নাকি দেহের জন্য মাথা। মাথা কাটা গেলে দেহ ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।” অর্থাৎ ধৈর্য না থাকলে ঈমান বা বিশ্বাসও নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তিনি উচ্চস্বরে বলেছেন— “নিশ্চয়, যার ধৈর্য নেই তার ঈমানও নেই।” তিনি আরো বলেন— “ধৈর্য এমন এক বাহন যা কখনও হোঁচট খায় না।”
হাসান (রা) বলেছেন— “ধৈর্য এমন এক কল্যাণের ভান্ডার যা আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে যোগ্য মনে করেন শুধুমাত্র তাকেই দান করেন।”
উমর ইবনে আব্দুল আজীজ (র) বলেছেন— “আল্লাহ তা’আলা যদি তাঁর কোন বান্দাকে কোন নেয়ামত দিয়ে তা ছিনিয়ে নিয়ে তার বদলে তাঁকে ধৈর্য প্রদান করেন তবে ধৈর্যই (ঐ ছিনিয়ে নেওয়া নেয়ামতের চেয়ে) উত্তম।”
সুলাইমান ইবনুল কাসিম বলেছেন— “ধৈর্য ছাড়া সকল কাজের প্রতিদানই জানা আছে।”
“একমাত্র ধৈর্যশীলদেরকেই তাঁদের প্রতিদান অধিক মাত্রায় বেহিসাবে দেয়া হবে।” (৩৯-সূরা আয যুমার : আয়াত-১০)
📄 এ আয়াতগুলো নিয়ে একটু ভাবুন
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তাঁর নিষ্কৃতির পথ করে দিবেন। আর তাকে এমনভাবে বা এমন উৎস হতে রিযিক দান করবেন যে সে তার ধারণাও করতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা রাখে আল্লাহই তাঁর জন্য যথেষ্ট।” (৬৫-সূরা আত তালাক : আয়াত-৩)
“আল্লাহ কষ্টের পর (অভাবের পর) আরাম (স্বচ্ছলতা) দিবেন।” (৬৫-সূরা আত তালাক : আয়াত-৭)
নবী করীম ﷺ বলেছেন— “এবং জেনে রাখ যে, ধৈর্যের মাধ্যমে বিজয় আসে এবং সংকটের পরেই স্বচ্ছলতা আসে আর কষ্টের পরেই স্বস্তি আসে।”
অন্য হাদীসে নবী করীম ﷺ বলেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন— “বান্দা আমার প্রতি যেরূপ ধারণা করে আমি তার সাথে সেরূপ আচরণ করি; সুতরাং, তার যেমন মনে চায় আমার প্রতি তেমনই ধারণা করুক।”
“তাদের বিরুদ্ধে তোমার পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট হবে। তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞানী।” (২-সূরা বাকারা : আয়াত-১৩৭)
“এবং (এমন) চিরজীবের উপর নির্ভর কর যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না।” (২৫-সূরা আল ফুরকান : আয়াত-৫৮)
“আশা করা যায় যে, আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে বিজয় অথবা কোনো সিদ্ধান্ত দিবেন।” (৫-সূরা মায়েদা : আয়াত-৫২)
“আল্লাহ ছাড়া এটাকে কেউ প্রতিহত, অপসারিত, ব্যাহত, স্থগিত, বিলম্বিত অথবা প্রকাশিত করতে পারবে না।” (৫৩-সূরা আন নাজম : আয়াত-৫৮)