📄 পড়া নিয়ে একটি কথা
পাঠ মনকে উন্মুক্ত করে, নৈতিক চরিত্র সংশোধন করতে পরিচালিত করে এবং চিত্তশান্তিকে ধারালো (প্রখর) করে। পঠন নিস্পন্দ ব্যক্তির জন্য সান্ত্বনা, চিন্তাশীল ব্যক্তির জন্য উদ্দীপনাদায়ক এবং পথিকের জন্য বাতি। অপঠন (না পড়া) ব্যক্তিকে তাঁর কথা, চিন্তা ও ব্যক্তিত্বের মধ্যে সীমিত করে দেয়। অধিকাংশ বইয়েরই কিছু না কিছু উপকারিতা আছে, তা জ্ঞানীদের প্রবাদ-প্রবচন, মজাদার গল্প, অদ্ভুত বা বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা অথবা নতুন জ্ঞান যাই হোক না কেন। এটাও বলা যেতে পারে যে পড়ার উপকারিতা গণনার অতীত। আর আমরা আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা বড় মুসিবত দুর্বল সংকল্প ও ইচ্ছাশক্তি থেকে পানাহ চাই।
📄 জ্ঞানার্জনের জন্য পঠন
জ্ঞানীদের বাণী পাঠ করা ও তা নিয়ে গবেষণা করা মনে আনন্দ বয়ে আনে।
📄 জ্ঞানই শান্তির চাবিকাঠি
জ্ঞান ও সহজ প্রকৃতি হলো দু'জন অবিচ্ছেদ্য সঙ্গীর মতো: যদি প্রথমটি (জ্ঞান) বর্তমান থাকে তবে দ্বিতীয়টিও (সহজ প্রকৃতি) এর সঙ্গী হয় বলে মনে করা যায়। আপনি যদি ইসলামের মহান পণ্ডিতদের (আলেমদের) জীবনী নিয়ে গবেষণা করে দেখেন তবে আপনি দেখবেন যে, তারা সাধারণ জীবন-যাপন করতেন এবং তারা আচার-আচরণে, কাজ-কারবারে ও লেন-দেনে সহজ ছিলেন। তারা জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছিলেন এবং কোন্ বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন্ বিষয় কম গুরুত্বপূর্ণ তারা তা জানতেন।
যাহোক, আপনি দেখতে পাবেন যে, জ্ঞান না থাকার কারণে কঠোর তাপসেরাই সবচেয়ে বেশি গোঁয়ার। তারা নাযিলকৃত কিতাবাদিতে ভুল বুঝেছে এবং তারা ধর্মীয় বিষয়াবলীতে অজ্ঞ। খারিজীদের দুঃখ-দুর্দশার মূল কারণ হলো জ্ঞান এবং বুদ্ধির স্বল্পতা। তারা এ বিষয় বুঝতে পারেনি যে, এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো আমাদের দ্বীনে (ধর্মে) প্রধান এবং সেগুলো অন্যান্য বিষয়ের উপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে। আর এ কারণেই তারা অপ্রধান বিষয়ে উৎকর্ষতা অর্জন করেছে, যখন নাকি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে—মূল বিষয়াদির কথা তো বাদই থাকল।