📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 বুঝে-শুনে ও ভেবেচিন্তে বেশি বেশি পড়াশুনা করুন

📄 বুঝে-শুনে ও ভেবেচিন্তে বেশি বেশি পড়াশুনা করুন


বিশাল জ্ঞান ভাণ্ডার লাভ করে ধন্য হতে হলে যা দরকার তা হলো : গবেষক মন, তত্ত্ব অন্বেষণ এবং এমন মেধা বা বুদ্ধি যা কারণ ও উদ্দেশ্য তালাশে পৃষ্ঠদেশের তলদেশের গভীরে ডুব দেয়। আর এগুলোই মনের শান্তি এনে দেয়।

“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবলমাত্র জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে।” (৩৫-সুরা ফাতির : আয়াত-২৮)
“বরং তারা যে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারেনি তারা তা অস্বীকার করেছিল।” (১০-সুরা ইউনুস : আয়াত-৩৯)

আলেম বা জ্ঞানী ব্যক্তির সাধারণত খোলা মন থাকে এবং তিনি শান্তিতে থাকেন। পাশ্চাত্যের এক গবেষক বলেছেন— “আমি আমার টেবিলের ড্রয়ারে একটি বড় খাতা রাখি। এ খাতার ওপরে লেখা আছে, ‘যে সব বোকামি আমি করেছি,’ সারাদিন আমি যে সব বোকামি করি আমি এতে তা লিখে রাখি। আমি আমার ভুলসমূহ জেনে তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যই আমি এ কাজ করি।”

এ বিষয়ে পূর্বের মুসলিম আলেমগণ তাঁকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন। তারা যথাযথভাবে তাঁদের আমলের বিবরণ রাখতেন। “আর আমি আত্ম-তিরস্কারকারী ব্যক্তির শপথ করছি।” (৭৫-সুরা আল কিয়ামাহ : আয়াত-২)

হাসান বসরি (রা) বলেছেন— “একজন ব্যবসায়ী তাঁর অংশীদারের হিসাব যেভাবে রাখে একজন মুসলমান তাঁর নিজের হিসাব তাঁর চেয়েও কঠিনভাবে রাখে।”

রবী’ ইবনে মুসাইয়াব এক তওবা থেকে আরেক তওবা পর্যন্ত যা বলতেন তাঁর সবকিছুরই লিখে রাখতেন। যদি তাতে ভালো কথা পেতেন তবে আল্লাহর প্রশংসা করতেন আর যদি তাতে মন্দ কথা পেতেন, তবে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগের একজন ধার্মিক লোক বলেছেন— “চল্লিশ বছর আগে আমি একটি পাপ করেছি যার জন্য এখনও আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি।” “আর যারা যা দান করার তা দান করে অথচ সে অবস্থায় (আল্লাহর ভয়ে) তাঁদের অন্তরসমূহ প্রকম্পিত থাকে।” (২৩-সুরা মুমিনুন : আয়াত-৬০)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 বিদ্যা

📄 বিদ্যা


ইবনে হাইয়্যাম উল্লেখ করেছেন যে, ইলমের (জ্ঞানের) একটি উপকারিতা এই যে, এটা মন থেকে কুমন্ত্রণাসমূহ দূর করে ও জ্ঞানীকে (আলেমকে) দুশ্চিন্তা ও সমস্যা থেকে মুক্ত করে। এটা নিশ্চিত জ্ঞান চর্চা, পড়াশোনা ও গবেষণা এবং যে অর্জিত বিদ্যাকে বাস্তবে প্রয়োগ করে (আমল করে), তাকেই আলেম (বিদ্যা শিক্ষার্থী) এর উচিত মুখস্থ করা, পড়া, পুনরায় পড়া, (ভুলচুক) খোঁজ করা ও গবেষণা করার মাঝে তাঁর সময়কে ভাগ করে দেওয়া।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 পড়া নিয়ে একটি কথা

📄 পড়া নিয়ে একটি কথা


পাঠ মনকে উন্মুক্ত করে, নৈতিক চরিত্র সংশোধন করতে পরিচালিত করে এবং চিত্তশান্তিকে ধারালো (প্রখর) করে। পঠন নিস্পন্দ ব্যক্তির জন্য সান্ত্বনা, চিন্তাশীল ব্যক্তির জন্য উদ্দীপনাদায়ক এবং পথিকের জন্য বাতি। অপঠন (না পড়া) ব্যক্তিকে তাঁর কথা, চিন্তা ও ব্যক্তিত্বের মধ্যে সীমিত করে দেয়। অধিকাংশ বইয়েরই কিছু না কিছু উপকারিতা আছে, তা জ্ঞানীদের প্রবাদ-প্রবচন, মজাদার গল্প, অদ্ভুত বা বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা অথবা নতুন জ্ঞান যাই হোক না কেন। এটাও বলা যেতে পারে যে পড়ার উপকারিতা গণনার অতীত। আর আমরা আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা বড় মুসিবত দুর্বল সংকল্প ও ইচ্ছাশক্তি থেকে পানাহ চাই।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 জ্ঞানার্জনের জন্য পঠন

📄 জ্ঞানার্জনের জন্য পঠন


জ্ঞানীদের বাণী পাঠ করা ও তা নিয়ে গবেষণা করা মনে আনন্দ বয়ে আনে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px