📄 প্রতিশোধ গ্রহণের মোহ বিষ বিশেষ, যা রুগ্ন আত্মায় প্রবাহিত হয়
ইতিহাসে যারা শূলে চড়েছেন (The Crucified ones in History) (الْمَنْصُورُونُ فِي التَّارِيخِ) নামক বইটি সে সব প্রতিশোধ গ্রহণকারীদের গল্পে ভরা যারা তাদের শত্রুদেরকে কঠোর শাস্তি দিয়েছে। বইটি যখন কেউ পড়ে তখন বুঝতে পারে যে, শত্রুদেরকে হত্যা করাই প্রতিশোধ গ্রহণের তৃপ্তি মেটাতে যথেষ্ট নয়। গ্রন্থকার যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তা হলো ক্রুদ্ধ লোকের দেহ থেকে আত্মা বের হয়ে যাওয়ার পর সে আর যন্ত্রণা অনুভব করতে পারে না।
অথচ প্রতিশোধ গ্রহণকারী হত্যাকারী কখনও সুখ-শান্তি পাবে না, একারণে যে, প্রতিশোধ গ্রহণের আগুন তাকে আত্মস্থ করে ফেলেছে বা তার সর্বসত্তাকে দখল করে ফেলেছে। এই পুস্তকে আব্বাস গোত্রের কিছু নেতার জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে। তারা উমাইয়া গোত্রের মধ্য থেকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ পায়নি শুধুমাত্র এ কারণে যে, আব্বাস গোত্র ক্ষমতা দখলের পূর্বেই উমাইয়া গোত্রের প্রতিপক্ষরা মারা গিয়েছিল। (এতেও তাদের রাগ কমেনি) তখনও ক্রুদ্ধ এমন একজন তার শত্রুকে কবর থেকে তুলে চাবুক মেরে শূলে চড়িয়ে শেষে আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে।
অতএব, একথা বলুন : প্রতিশোধ গ্রহণকারী সর্বদাই তার প্রতিপক্ষ থেকে বেশি দুঃখ-কষ্ট ভোগ করবে; কারণ, সে শান্তি ও সৌম্যতা উভয়ই হারিয়েছে। একজন আরবী কবি বলেন— “মূর্খ নিজে তার যতটা ক্ষতি করে—শত্রুরা তার ততটা ক্ষতি করতে পারে না।”
“আর যখন তারা তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করে তখন (তারা) বলে, 'আমরা ঈমানদার!' আর যখন একাকী থাকে বা নিভৃতে মিলিত হয় তখন তারা তোমাদের আঙুলের ডগা কামড়ায়। আপনি বলুন, 'তোমাদের ক্রোধে তোমরা মরো।'” (৩-সুরা আলে ইমরান : আয়াত-১১০)
ইতিহাসে যারা শূলে চড়েছেন (The Crucified ones in History) (الْمَنْصُورُونُ فِي التَّارِيخِ) নামক বইটি সে সব প্রতিশোধ গ্রহণকারীদের গল্পে ভরা যারা তাদের শত্রুদেরকে কঠোর শাস্তি দিয়েছে। বইটি যখন কেউ পড়ে তখন বুঝতে পারে যে, শত্রুদেরকে হত্যা করাই প্রতিশোধ গ্রহণের তৃপ্তি মেটাতে যথেষ্ট নয়। গ্রন্থকার যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তা হলো ক্রুদ্ধ লোকের দেহ থেকে আত্মা বের হয়ে যাওয়ার পর সে আর যন্ত্রণা অনুভব করতে পারে না।
অথচ প্রতিশোধ গ্রহণকারী হত্যাকারী কখনও সুখ-শান্তি পাবে না, একারণে যে, প্রতিশোধ গ্রহণের আগুন তাকে আত্মস্থ করে ফেলেছে বা তার সর্বসত্তাকে দখল করে ফেলেছে। এই পুস্তকে আব্বাস গোত্রের কিছু নেতার জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে। তারা উমাইয়া গোত্রের মধ্য থেকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ পায়নি শুধুমাত্র এ কারণে যে, আব্বাস গোত্র ক্ষমতা দখলের পূর্বেই উমাইয়া গোত্রের প্রতিপক্ষরা মারা গিয়েছিল। (এতেও তাদের রাগ কমেনি) তখনও ক্রুদ্ধ এমন একজন তার শত্রুকে কবর থেকে তুলে চাবুক মেরে শূলে চড়িয়ে শেষে আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে।
অতএব, একথা বলুন : প্রতিশোধ গ্রহণকারী সর্বদাই তার প্রতিপক্ষ থেকে বেশি দুঃখ-কষ্ট ভোগ করবে; কারণ, সে শান্তি ও সৌম্যতা উভয়ই হারিয়েছে। একজন আরবী কবি বলেন— “মূর্খ নিজে তার যতটা ক্ষতি করে—শত্রুরা তার ততটা ক্ষতি করতে পারে না।”
“আর যখন তারা তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করে তখন (তারা) বলে, 'আমরা ঈমানদার!' আর যখন একাকী থাকে বা নিভৃতে মিলিত হয় তখন তারা তোমাদের আঙুলের ডগা কামড়ায়। আপনি বলুন, 'তোমাদের ক্রোধে তোমরা মরো।'” (৩-সুরা আলে ইমরান : আয়াত-১১০)
📄 শত্রুতার আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিভিয়ে ফেলুন
আমার জীবন ভর আমি দেখেছি যে, যখনই আমি আমার বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের বিরোধিতা করেছিলাম তখনই এর প্রধান ফল হলো ক্ষতি ও অনুশোচনা। প্রথমে আমি মনে করতাম যে, যখন কেউ আমার সমালোচনা করল তখন আমার উচিত সব কিছু ঠিক করা; হোক সে সমালোচনা মৌখিক বা লিখিত। যাহোক, অবশেষে আমি দেখতে পেলাম যে, বিপরীতটাই সত্য। নিজেকে বাঁচাতে যাওয়ার ফলে আরো শত্রুতা সৃষ্টি হয়েছে এবং আমার সমালোচক ও আমার মাঝে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করার পরিবর্তে তিনি বরং আমাকে আরো বেশি দোষী করার চেষ্টা করেছেন। অবশেষে আমি এই কামনা করতাম যে, আমি যদি প্রথমে কখনও তাঁর বিরোধিতা না করতাম! ক্ষমা করা, সহ্য করা, ধৈর্য দেখানো এবং তাঁর মানসিক মন্দতাকে অগ্রাহ্য করাই ভালো হতো। সর্বোপরি কুরআন আমাদেরকে এটাই শিক্ষা দেয়।
“ক্ষমা প্রদর্শন করো, সব কাজের আদেশ দাও এবং মূর্খদের (ভুলত্রুটি) থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।” (৭-সূরা আ’রাফ : আয়াত-১৯৯)
(মূর্খদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অর্থ হলো তাদের ভুল-ত্রুটিকে উপেক্ষা করা, ওসবের দিকে ভ্রূক্ষেপ না করা এবং ওসবের জন্য তাদেরকে শাস্তি না দেওয়া।)
“তারা যেন (তাদেরকে) ক্ষমা করে এবং (তাদের ভুল-ত্রুটিকে) উপেক্ষা করে।” (২৪-সূরা আন নূর : আয়াত-২২)
“তারাই (মুত্তাকী) যারা ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৩৪)
“আর যখন তারা রাগান্বিত হয় তখন তারা ক্ষমা করে দেয়।” (৪২-সূরা আশ শুরা : আয়াত-৩৭)
“মূর্খরা যখন তাদেরকে মন্দ ভাষায় ডাকে বা মন্দ ভাষায় তাদের সাথে কথা বলে তখন তারা তাদের সাথে শান্তিদায়কভাবে কথা বলে বা তাদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়।” (২৫-সূরা আল ফুরকান : আয়াত-৬৩)
“উত্তম জিনিসের মাধ্যমে মন্দকে দূর কর; তখন দেখবে যে, তোমার মাঝে ও তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে তার মাঝে অর্থাৎ তোমার মাঝে ও তোমার শত্রুর মাঝে এমন মধুর সম্পর্ক হয়ে যাবে যে, যেন সে (তোমার) অন্তরঙ্গ বন্ধু।” (৪১-সূরা হা-মীম-আস সাজদাহ : আয়াত-৩৪) (অর্থাৎ আল্লাহ মুমিনদেরকে আদেশ দিয়েছেন রাগের সময়ে ধৈর্য ধরতে এবং তাদের সাথে যারা খারাপ আচরণ করে তাদেরকে ক্ষমা করে দিতে।)
তাই, যদি আপনি কারো কাছ থেকে বিদ্বেষমূলক কথা শুনেন তবে প্রত্যুত্তর করবেন না; যদি জবাব দেন তবে এক কথায় বিপরীত ফল কথা শুনতে হবে।
আমার জীবন ভর আমি দেখেছি যে, যখনই আমি আমার বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের বিরোধিতা করেছিলাম তখনই এর প্রধান ফল হলো ক্ষতি ও অনুশোচনা। প্রথমে আমি মনে করতাম যে, যখন কেউ আমার সমালোচনা করল তখন আমার উচিত সব কিছু ঠিক করা; হোক সে সমালোচনা মৌখিক বা লিখিত। যাহোক, অবশেষে আমি দেখতে পেলাম যে, বিপরীতটাই সত্য। নিজেকে বাঁচাতে যাওয়ার ফলে আরো শত্রুতা সৃষ্টি হয়েছে এবং আমার সমালোচক ও আমার মাঝে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করার পরিবর্তে তিনি বরং আমাকে আরো বেশি দোষী করার চেষ্টা করেছেন। অবশেষে আমি এই কামনা করতাম যে, আমি যদি প্রথমে কখনও তাঁর বিরোধিতা না করতাম! ক্ষমা করা, সহ্য করা, ধৈর্য দেখানো এবং তাঁর মানসিক মন্দতাকে অগ্রাহ্য করাই ভালো হতো। সর্বোপরি কুরআন আমাদেরকে এটাই শিক্ষা দেয়।
“ক্ষমা প্রদর্শন করো, সব কাজের আদেশ দাও এবং মূর্খদের (ভুলত্রুটি) থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।” (৭-সূরা আ’রাফ : আয়াত-১৯৯)
(মূর্খদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অর্থ হলো তাদের ভুল-ত্রুটিকে উপেক্ষা করা, ওসবের দিকে ভ্রূক্ষেপ না করা এবং ওসবের জন্য তাদেরকে শাস্তি না দেওয়া।)
“তারা যেন (তাদেরকে) ক্ষমা করে এবং (তাদের ভুল-ত্রুটিকে) উপেক্ষা করে।” (২৪-সূরা আন নূর : আয়াত-২২)
“তারাই (মুত্তাকী) যারা ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৩৪)
“আর যখন তারা রাগান্বিত হয় তখন তারা ক্ষমা করে দেয়।” (৪২-সূরা আশ শুরা : আয়াত-৩৭)
“মূর্খরা যখন তাদেরকে মন্দ ভাষায় ডাকে বা মন্দ ভাষায় তাদের সাথে কথা বলে তখন তারা তাদের সাথে শান্তিদায়কভাবে কথা বলে বা তাদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়।” (২৫-সূরা আল ফুরকান : আয়াত-৬৩)
“উত্তম জিনিসের মাধ্যমে মন্দকে দূর কর; তখন দেখবে যে, তোমার মাঝে ও তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে তার মাঝে অর্থাৎ তোমার মাঝে ও তোমার শত্রুর মাঝে এমন মধুর সম্পর্ক হয়ে যাবে যে, যেন সে (তোমার) অন্তরঙ্গ বন্ধু।” (৪১-সূরা হা-মীম-আস সাজদাহ : আয়াত-৩৪) (অর্থাৎ আল্লাহ মুমিনদেরকে আদেশ দিয়েছেন রাগের সময়ে ধৈর্য ধরতে এবং তাদের সাথে যারা খারাপ আচরণ করে তাদেরকে ক্ষমা করে দিতে।)
তাই, যদি আপনি কারো কাছ থেকে বিদ্বেষমূলক কথা শুনেন তবে প্রত্যুত্তর করবেন না; যদি জবাব দেন তবে এক কথায় বিপরীত ফল কথা শুনতে হবে।