📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 হিংসা নতুন কিছু নয়

📄 হিংসা নতুন কিছু নয়


আপনি যদি আপনার কানে কিছু রূঢ় কথা-বার্তার শব্দ বাজতে শুনতে পান তবে এতে উদ্বিগ্ন হবেন না—কেননা, হিংসা নতুন কিছু নয়। যেমনটি একজন কবি বলেছেন—
“মহৎ গুণাবলি অর্জন করতে মনোযোগ দাও এবং প্রচেষ্টা কর, যে ব্যক্তি তোমার নিন্দা করে তার হিংসার জ্বালা ঠান্ডা করে তার প্রতি পৃষ্ঠ প্রদর্শন কর। জেনে রাখ যে, জীবনটা নেক আমল করার মওসুম; আর মৃত্যুর পর সব হিংসা বন্ধ হয়ে থাকে।”

আপনি যদি আপনার কানে কিছু রূঢ় কথা-বার্তার শব্দ বাজতে শুনতে পান তবে এতে উদ্বিগ্ন হবেন না—কেননা, হিংসা নতুন কিছু নয়। যেমনটি একজন কবি বলেছেন—
“মহৎ গুণাবলি অর্জন করতে মনোযোগ দাও এবং প্রচেষ্টা কর, যে ব্যক্তি তোমার নিন্দা করে তার হিংসার জ্বালা ঠান্ডা করে তার প্রতি পৃষ্ঠ প্রদর্শন কর। জেনে রাখ যে, জীবনটা নেক আমল করার মওসুম; আর মৃত্যুর পর সব হিংসা বন্ধ হয়ে থাকে।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 হিংসুকের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

📄 হিংসুকের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়


কুরআনের শেষ দু'টি সুরা ‘সুরা ফালাকু ও সুরা নাস’ তেলাওয়াত করুন, আল্লাহর জিকির করুন ও তাঁর নিকট আকুল আবেদন করুন—
“এবং হিংসুক যখন হিংসা করে তখন তার হিংসার ক্ষতি থেকে (আপনার নিকট আশ্রয় চাই)।” (১১৩-সুরা আল ফালাক : আয়াত-৫)

হিংসুক লোকদের থেকে আপনার বিষয়াদি গোপন রাখুন—
“হে আমার পুত্রগণ! (ডাকাত দল বলে মানুষের সন্দেহ হতে পারে এজন্য) তোমরা এক দরজা দিয়ে (শহরে) প্রবেশ করবে না বরং বিভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করবেন।” (১২-সুরা ইউসুফ : আয়াত-৬৭)

যে লোক আপনার ক্ষতি করার উদ্যোগ নেয় তার প্রতি উদার হোন, তাহলে সম্ভবত সে (আপনার ক্ষতি করা থেকে) বিরত হবে।
“উত্তম কিছু দ্বারা মন্দকে দূর করুন।” (২৩-সুরা আল মুমিনুন : আয়াত-৯৬)

কুরআনের শেষ দু'টি সুরা ‘সুরা ফালাকু ও সুরা নাস’ তেলাওয়াত করুন, আল্লাহর জিকির করুন ও তাঁর নিকট আকুল আবেদন করুন—
“এবং হিংসুক যখন হিংসা করে তখন তার হিংসার ক্ষতি থেকে (আপনার নিকট আশ্রয় চাই)।” (১১৩-সুরা আল ফালাক : আয়াত-৫)

হিংসুক লোকদের থেকে আপনার বিষয়াদি গোপন রাখুন—
“হে আমার পুত্রগণ! (ডাকাত দল বলে মানুষের সন্দেহ হতে পারে এজন্য) তোমরা এক দরজা দিয়ে (শহরে) প্রবেশ করবে না বরং বিভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করবেন।” (১২-সুরা ইউসুফ : আয়াত-৬৭)

যে লোক আপনার ক্ষতি করার উদ্যোগ নেয় তার প্রতি উদার হোন, তাহলে সম্ভবত সে (আপনার ক্ষতি করা থেকে) বিরত হবে।
“উত্তম কিছু দ্বারা মন্দকে দূর করুন।” (২৩-সুরা আল মুমিনুন : আয়াত-৯৬)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 নির্ঘুম রাত

📄 নির্ঘুম রাত


রাতে যদি আপনার ঘুম না আসে আর আপনি (বিছানায় শুয়ে শুয়ে) এ পাশ ও পাশ করেন বা গড়াগড়ি দিতে থাকেন তবে নিম্নোক্ত আমলগুলো করুন :
১. আল্লাহকে স্মরণ করুন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাৎলানো দোয়ার মাধ্যমে অথবা কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করুন—
“জেনে রাখ! আল্লাহর যিকিরের মাঝেই আত্মা প্রশান্তি লাভ করে।” (১৩-সূরা রা’আদ : আয়াত-২৮)
২. নিক্ষিপ্ত না হলে দিনে ঘুমাবেন না : আল্লাহ তায়ালা বলেন “আর আমি দিনকে জীবিকার জন্য সৃষ্টি করেছি।” (৭৮-সুরা আন নাবা : আয়াত-১১)
৩. ঘুম না আসা পর্যন্ত লেখা-পড়া করুন : “এবং বল, হে আমার প্রভু! আমার ইলম বৃদ্ধি করুন।” (২০-সুরা ত্বাহা : আয়াত-১১৪)
৪. দিনে কঠোর পরিশ্রম করুন : “এবং তিনি দিনকে সমুত্থানের জন্য সৃষ্টি করেছেন।” (২৫-সুরা আল ফুরকান : আয়াত-৪৭)
৫. কফি বা চায়ের মতো কোনো (হালাল) উত্তেজক খাদ্য গ্রহণ করুন। [বি. দ্র. একান্ত প্রয়োজন না হলে উত্তেজক দ্রব্য (খাদ্য বা ঔষধ বা প্রসাধনী ইত্যাদি) ব্যবহার করা (গ্রহণ করা) উচিত নয়—তা হালাল হলেও না। কেননা, উত্তেজক দ্রব্য বিপরীত ক্রিয়ায় (রিয়্যাকশনে) অবসাদ সৃষ্টি করে। –অনুবাদক]

রাতে যদি আপনার ঘুম না আসে আর আপনি (বিছানায় শুয়ে শুয়ে) এ পাশ ও পাশ করেন বা গড়াগড়ি দিতে থাকেন তবে নিম্নোক্ত আমলগুলো করুন :
১. আল্লাহকে স্মরণ করুন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাৎলানো দোয়ার মাধ্যমে অথবা কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করুন—
“জেনে রাখ! আল্লাহর যিকিরের মাঝেই আত্মা প্রশান্তি লাভ করে।” (১৩-সূরা রা’আদ : আয়াত-২৮)
২. নিক্ষিপ্ত না হলে দিনে ঘুমাবেন না : আল্লাহ তায়ালা বলেন “আর আমি দিনকে জীবিকার জন্য সৃষ্টি করেছি।” (৭৮-সুরা আন নাবা : আয়াত-১১)
৩. ঘুম না আসা পর্যন্ত লেখা-পড়া করুন : “এবং বল, হে আমার প্রভু! আমার ইলম বৃদ্ধি করুন।” (২০-সুরা ত্বাহা : আয়াত-১১৪)
৪. দিনে কঠোর পরিশ্রম করুন : “এবং তিনি দিনকে সমুত্থানের জন্য সৃষ্টি করেছেন।” (২৫-সুরা আল ফুরকান : আয়াত-৪৭)
৫. কফি বা চায়ের মতো কোনো (হালাল) উত্তেজক খাদ্য গ্রহণ করুন। [বি. দ্র. একান্ত প্রয়োজন না হলে উত্তেজক দ্রব্য (খাদ্য বা ঔষধ বা প্রসাধনী ইত্যাদি) ব্যবহার করা (গ্রহণ করা) উচিত নয়—তা হালাল হলেও না। কেননা, উত্তেজক দ্রব্য বিপরীত ক্রিয়ায় (রিয়্যাকশনে) অবসাদ সৃষ্টি করে। –অনুবাদক]

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 প্রতিশোধ গ্রহণের মোহ বিষ বিশেষ, যা রুগ্ন আত্মায় প্রবাহিত হয়

📄 প্রতিশোধ গ্রহণের মোহ বিষ বিশেষ, যা রুগ্ন আত্মায় প্রবাহিত হয়


ইতিহাসে যারা শূলে চড়েছেন (The Crucified ones in History) (الْمَنْصُورُونُ فِي التَّارِيخِ) নামক বইটি সে সব প্রতিশোধ গ্রহণকারীদের গল্পে ভরা যারা তাদের শত্রুদেরকে কঠোর শাস্তি দিয়েছে। বইটি যখন কেউ পড়ে তখন বুঝতে পারে যে, শত্রুদেরকে হত্যা করাই প্রতিশোধ গ্রহণের তৃপ্তি মেটাতে যথেষ্ট নয়। গ্রন্থকার যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তা হলো ক্রুদ্ধ লোকের দেহ থেকে আত্মা বের হয়ে যাওয়ার পর সে আর যন্ত্রণা অনুভব করতে পারে না।

অথচ প্রতিশোধ গ্রহণকারী হত্যাকারী কখনও সুখ-শান্তি পাবে না, একারণে যে, প্রতিশোধ গ্রহণের আগুন তাকে আত্মস্থ করে ফেলেছে বা তার সর্বসত্তাকে দখল করে ফেলেছে। এই পুস্তকে আব্বাস গোত্রের কিছু নেতার জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে। তারা উমাইয়া গোত্রের মধ্য থেকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ পায়নি শুধুমাত্র এ কারণে যে, আব্বাস গোত্র ক্ষমতা দখলের পূর্বেই উমাইয়া গোত্রের প্রতিপক্ষরা মারা গিয়েছিল। (এতেও তাদের রাগ কমেনি) তখনও ক্রুদ্ধ এমন একজন তার শত্রুকে কবর থেকে তুলে চাবুক মেরে শূলে চড়িয়ে শেষে আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে।

অতএব, একথা বলুন : প্রতিশোধ গ্রহণকারী সর্বদাই তার প্রতিপক্ষ থেকে বেশি দুঃখ-কষ্ট ভোগ করবে; কারণ, সে শান্তি ও সৌম্যতা উভয়ই হারিয়েছে। একজন আরবী কবি বলেন— “মূর্খ নিজে তার যতটা ক্ষতি করে—শত্রুরা তার ততটা ক্ষতি করতে পারে না।”
“আর যখন তারা তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করে তখন (তারা) বলে, 'আমরা ঈমানদার!' আর যখন একাকী থাকে বা নিভৃতে মিলিত হয় তখন তারা তোমাদের আঙুলের ডগা কামড়ায়। আপনি বলুন, 'তোমাদের ক্রোধে তোমরা মরো।'” (৩-সুরা আলে ইমরান : আয়াত-১১০)

ইতিহাসে যারা শূলে চড়েছেন (The Crucified ones in History) (الْمَنْصُورُونُ فِي التَّارِيخِ) নামক বইটি সে সব প্রতিশোধ গ্রহণকারীদের গল্পে ভরা যারা তাদের শত্রুদেরকে কঠোর শাস্তি দিয়েছে। বইটি যখন কেউ পড়ে তখন বুঝতে পারে যে, শত্রুদেরকে হত্যা করাই প্রতিশোধ গ্রহণের তৃপ্তি মেটাতে যথেষ্ট নয়। গ্রন্থকার যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তা হলো ক্রুদ্ধ লোকের দেহ থেকে আত্মা বের হয়ে যাওয়ার পর সে আর যন্ত্রণা অনুভব করতে পারে না।

অথচ প্রতিশোধ গ্রহণকারী হত্যাকারী কখনও সুখ-শান্তি পাবে না, একারণে যে, প্রতিশোধ গ্রহণের আগুন তাকে আত্মস্থ করে ফেলেছে বা তার সর্বসত্তাকে দখল করে ফেলেছে। এই পুস্তকে আব্বাস গোত্রের কিছু নেতার জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে। তারা উমাইয়া গোত্রের মধ্য থেকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ পায়নি শুধুমাত্র এ কারণে যে, আব্বাস গোত্র ক্ষমতা দখলের পূর্বেই উমাইয়া গোত্রের প্রতিপক্ষরা মারা গিয়েছিল। (এতেও তাদের রাগ কমেনি) তখনও ক্রুদ্ধ এমন একজন তার শত্রুকে কবর থেকে তুলে চাবুক মেরে শূলে চড়িয়ে শেষে আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে।

অতএব, একথা বলুন : প্রতিশোধ গ্রহণকারী সর্বদাই তার প্রতিপক্ষ থেকে বেশি দুঃখ-কষ্ট ভোগ করবে; কারণ, সে শান্তি ও সৌম্যতা উভয়ই হারিয়েছে। একজন আরবী কবি বলেন— “মূর্খ নিজে তার যতটা ক্ষতি করে—শত্রুরা তার ততটা ক্ষতি করতে পারে না।”
“আর যখন তারা তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করে তখন (তারা) বলে, 'আমরা ঈমানদার!' আর যখন একাকী থাকে বা নিভৃতে মিলিত হয় তখন তারা তোমাদের আঙুলের ডগা কামড়ায়। আপনি বলুন, 'তোমাদের ক্রোধে তোমরা মরো।'” (৩-সুরা আলে ইমরান : আয়াত-১১০)

ফন্ট সাইজ
15px
17px