📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 মানুষকে জয় করা

📄 মানুষকে জয় করা


মানুষকে ভালোবাসা, সম্মান ও সহমর্মিতা অর্জন করার গুণ সৌভাগ্যের, সাফল্যের, উন্নতির ও সমৃদ্ধির একটি লক্ষণ। নবী ইব্রাহীম (আ) বলেছেন— “এবং পরবর্তী জাতিদের মাঝে আমার জন্য সুখ্যাতি সৃষ্টি করে দিন।” (২৬-সুরা আশ শোয়ারা : আয়াত-৮৪)

মূসা (আ) সম্বন্ধে আল্লাহ বলেছেন— “আমি আমার পক্ষ থেকে তোমার উপর ভালোবাসা দিয়ে দিয়েছিলাম।” (২০-সুরা ত্বাহা : আয়াত-৩৯)

নিচে বর্ণিত দুটি হাদীসের উভয়টিই নির্ভরযোগ্য :
“তোমরা পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী।”
জিব্রাঈল (আ) আকাশবাসীদের মাঝে ঘোষণা দেন : “নিশ্চয় আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, সুতরাং তোমরাও তাঁকে ভালোবাস।” অতএব আকাশবাসীরা তাঁকে ভালোবাসে এবং পৃথিবীতে তাঁর জন্য গ্রহণযোগ্যতা মঞ্জুর করা হয়।

একটি হাসি-খুশি মুখ, সদয় কথা-বার্তা ও সদাচরণ হলো মানুষের মনে নিজেকে অনুগ্রহভাজন করার সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী উপায়। আরও বেশি শক্তিশালী উপায় হলো কোমলতা, নম্রতা, ভদ্রতা ও সহানুভূতি। এ কারণেই নবী করীম ﷺ বলেছেন— “যার মধ্যে নম্রতা-ভদ্রতা আছে তা সুন্দর। আর যার মধ্যে নম্রতা-ভদ্রতা নেই তা কলঙ্কিত।” “যে নম্রতা-ভদ্রতা থেকে বঞ্চিত সে সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।”

একজন বিজ্ঞ লোক বলেছেন— “সহানুভূতি ও কোমলতা সাপকেও তার গর্ত থেকে বের করে আনে।” অর্থাৎ শত্রুর অন্তরে লুকায়িত শত্রুতাও দূর করে দেয়।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অন্যের ব্যক্তিত্বে নিজেকে বিলিয়ে দিবেন না

📄 অন্যের ব্যক্তিত্বে নিজেকে বিলিয়ে দিবেন না


মানুষ তিনটি পর্যায় অতিক্রম করে : ১. অনুকরণ, ২. নির্বাচন ও পছন্দ, ৩. আবিষ্কার ও সৃষ্টি করার গুণ (সৃজনশীলতা)। অন্যের ব্যক্তিত্ব ও আচার-আচরণের অনুকরণ করা হয় হয়তোবা যে ব্যক্তিকে অনুকরণ করা হচ্ছে তাঁর প্রতি ভালোবাসার কারণে অথবা তাঁর সাথে সম্পর্ক থাকার কারণে। যখন অন্যের অনুকরণ চর্চা চরম আকারে করা হয়, যখন অনুকরণকারী অন্যের গলার স্বরেরও নকল করে অথবা অন্যের শারীরিক ভঙ্গিরও অনুকরণ করে তখন আসলে সে যা করছে তা হলো তাঁর নিজের ব্যক্তিত্বকে কবর দিচ্ছে।

আজকালকার তরুণদের দিকে তাকান, হাস্যকর মনে হলেও দেখতে পাবেন যে, তারা নামকরা লোকেদেরকে তাঁদের হাঁটা-চলা, কথা বলা ও নড়াচড়াতেও অনুকরণ করছে। তাঁদের আদর্শদের অনুকরণ করার খাতিরে তাঁদের সকল স্বভাব বৈশিষ্ট্য পরিত্যক্ত হয়। যদি তাঁরা মহৎ বৈশিষ্ট্য ও মহান ব্যক্তিত্বকে অনুকরণ করতে থাকত তবে আমি তাদেরকে তা করতে সুপারিশ করতাম (তাদেরকে এ কাজ করার জন্য প্রশংসা করতাম); কেননা, জ্ঞান অন্বেষণে, উদার ও মহৎ হতে বা সদাচরণ অর্জনকল্পে অন্যের অনুকরণ করা সত্যিই মহৎ কাজ।

পূর্বে আমি যা বলেছি এখানে তাঁর পুনরাবৃত্তি করতে বাধ্য হচ্ছি : আপনি এক অনন্যা সত্তা এবং আল্লাহ্ আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত কোন দুজন লোককেও দেখতে হুবহু একই রকম করে সৃষ্টি করেননি।

“এবং তোমাদের ভাষায় ও রঙের বিভিন্নতা।” (৩০-সুরা আর রুম : আয়াত-২২)

তবে কেন আমরা অন্যান্য বিষয়ে হুবহু একই রকম হতে চাই? আপনার ঘরের সৌন্দর্য এর অনুপমতায় এবং আপনার চেহারার সৌন্দর্য আপনার জন্য এর নির্দিষ্ট হওয়ার মাঝে।

“আর পাহাড়ের মাঝে রয়েছে নানা রঙের পথ (সেগুলো) সাদা, লাল ও মিশমিশে কালো।” (৩৫-সুরা ফাতির : আয়াত-২৭)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অন্যের প্রচেষ্টাকে খর্ব করবেন না

📄 অন্যের প্রচেষ্টাকে খর্ব করবেন না


জীবন আমাকে এমন কিছু অভ্যাস করার শিক্ষা দিয়েছে যা আমাকে কখনও ব্যর্থ করেনি (আর তা হলো) : অন্যদের সম্বন্ধে আমার অনুমোদন প্রকাশ করা। সব ধরনের লোকের উপরে এই পদ্ধতির ইতিবাচক প্রভাব আছে। কোমল, নরম ও ভদ্র কথা মানুষের অন্তরে বিস্ময়কর ক্রিয়া করে। চাল-চলন, আচার-ব্যবহার ও লেন-দেনে উদার ও সদয় হতে আমাদের ধর্ম আমাদেরকে শিক্ষা দেয়।

“আল্লাহর রহমতে আপনি কোমল ছিলেন বিধায় (তারা বিপদের সময় আপনার পাশে ছিল)। আর যদি আপনি কর্কশ ও কঠোর হৃদয়ের অধিকারী হতেন তবে তারা অবশ্যই আপনার চারপাশ থেকে সরে পড়ত।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৫৯)

'How to Win Friends' নামক গ্রন্থের গ্রন্থকার বর্ণনা করেন যে, জনগণকে আপনার নিকট আকর্ষণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো তাদের ব্যাপারে অবাধ ও অধিক পরিমাণে প্রশংসা করা। এ ব্যাপারে আমি একমত হলাম না; কেননা সংযম বা মধ্যমপন্থা এবং ন্যায় বিচার প্রয়োজন। “আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য অবশ্যই মাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।” (৬৫-সূরা আত তালাক্ব : আয়াত-৩)

তাই কারো উচিত নয় কৃত্রিমভাবে অন্যদের তোষামোদ করা এবং তাদের ব্যাপারে স্তব্ধ রাখা (অর্থাৎ একেবারেই তাদের প্রশংসা না করা) ও তাদের থেকে দূরে থাকা। অবশ্যই গর্বিত ও উন্নাসিক মনোভাবের মাধ্যমে আমরা মানুষকে অবজ্ঞা করার পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারতাম; কিন্তু ফলে আমরাই আমাদের বন্ধুদেরকে হারাতাম—তারা আমাদেরকে হারাতো না। আপনি যদি বন্ধুসুলভ না হন তবে লোকেরা শীঘ্রই বন্ধুত্ব স্থাপন করার জন্য অন্য কাউকে খুঁজে নেবে। “আর যে সব মুমিন আপনাকে অনুসরণ করে তাদের প্রতি আপনি আপনার দয়ার হাতকে বাড়িয়ে দিন।” (২৬-সূরা আশ শোয়ারা : আয়াত-২১৫)

অন্যদের শ্রদ্ধা অর্জন করাও আপনাকে সুখে বয়ে এনে দিতে অবদান রাখে; মুসলমানগণ পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী এবং তারা একে অপরের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। “এবং মানুষের সাথে ভালো কথা বলো।” (২-সূরা বাকারা : আয়াত-৮৩)

যারা অন্যান্য সাধারণ প্রতিভাধর, অন্যদেরকে প্রভাবিত করার গুণসম্পন্ন এবং অন্যদের ভক্তি আকর্ষণ ও উৎসাহ সঞ্চার করার গুণ আছে এমন লোকদের দ্বারাই জীবনে আমি বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছি। মনে হয় যেন তারা তাদের উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে অন্যদেরকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে। তাদের মুখে অন্যদের জন্য সদা হাসি ফুটে থাকে, তারা সত্য কথা বলে এবং তাদের অন্তর হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মুক্ত।

আল্লাহর ইচ্ছায় পৃথিবীর লোকের মাঝে সমর্থন অর্জন করা আমাদের সকলের সাধ্যের মধ্যে। এই সমর্থন ধন-সম্পদের মাধ্যমে ক্রয় করা যায় না, বরং আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা, সতাবাদিতা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা, অন্যদের নিকট কল্যাণ বিস্তারের জন্য ভালোবাসা এবং নিজেকে ছোট মনে করার মাধ্যমেই এটা অর্জন করা যায়। এবং অন্যান্য উত্তম গুণাবলি অর্জন করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কেননা, এগুলো অর্জন করতে হলে উপরের দিকে উঠতে হয়। যে ব্যক্তি মন্দ চরিত্র অর্জন করতে চায় সে সহজেই তা অর্জন করতে পারে, কারণ, মন্দ চরিত্র অর্জনের জন্য শুধুমাত্র নিচের দিকে নামার প্রয়োজন হয়। একজন আরবী কবি বলেছেন— “মন্দ চরিত্রের অধিকারী শীঘ্রই এমন হয়ে যায় যে, সে তাঁর শত্রুতাও আর অনুভব করতে পারে না, যেমন নাকি মৃত ব্যক্তির দেহে আঘাত কোন ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে না।”

যে ব্যক্তি স্বার্থ চিন্তায় বিভোর সে নিজেকে হীন ও বিষণ্ণ ভাবার কথা। কিছু লোক আছে যারা নিজেদেরকে যতটা বড় ভাবা উচিত তাঁর চেয়ে অনেক বেশি বড় মনে করে। এ ধরনের কিছু লোক কেবলই কথা মনে পড়ে, এরা এমন লোক যারা সমাজকে কিছু অবদান রাখার চেষ্টা করেছিল পরে তারা ভাবতে শুরু করল যে, তাঁদের কাজ তাঁদের জীবনের মহৎ কীর্তির পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য হবে।

আমি একটি ছাত্রের কথা জানি, যে নাকি তরুণ মুসলমানদেরকে উদ্দেশ্য করে ছোট ছোট কয়েকটি পুস্তিকা লিখেছিল। আমি তাঁকে উৎসাহিত করতে চাইলাম, তাই তাঁর প্রচেষ্টার জন্য আমি তাঁর প্রশংসা করলাম। তখন সে তাঁর পুস্তিকাগুলো সম্বন্ধে, সেগুলো কত ব্যাপকভাবে বিতরণ করা হয়েছে সে সম্বন্ধে এবং সেগুলো কত বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছে সে সম্বন্ধে সীমাহীনভাবে কথা বলতে শুরু করল। নিজের সম্বন্ধে লোকের ধারণা দেখে আমি বিস্মিত হতে গেলাম, কিন্তু তাঁর নিকট থেকে আমি এটাও জানলাম যে, মানুষ অজ্ঞ ও হেয়প্রতিপন্ন হতে কতটা ঘৃণা করে। আরেকবার আমি এক ছাত্রের বক্তৃতার টেপ রেকর্ড শুনলাম। ইসলামের জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখতে চেয়ে তাঁকে উৎসাহিত করার জন্য আমি তাঁকে আমার বাড়িতে আমন্ত্রণ করলাম। আমি যখন টেপ রেকর্ডের কথা উল্লেখ করলাম তখন সে আরো সুযোগ পেয়ে গেল, সমগ্র মুসলিম জাতির কল্যাণের জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করার মাধ্যমে সে তাঁর বক্তৃতা শুরু করল। এরপর সে অনবরত ব্যাখ্যা করতে লাগল কীভাবে সে বিষণ্ণতার উপশম করতে পারে। তাকে আহ্বান করার আগে আমি কখনও তাকে এতটা ধার্মিক ভাবতে পারিনি। তাঁর সাথে কথা বলে আমি এটাও বুঝতে পেরেছি যে, নিজের যোগ্যতার চেয়ে নিজেকে অনেক বেশি মূল্যায়ন করা মানুষের স্বভাব।

অতএব, অন্যকে অবজ্ঞা করা থেকে সতর্ক থাকুন। “কোন পুরুষ যেন অন্য কোন পুরুষকে অবজ্ঞা বা ঘৃণা না করে এবং কোন স্ত্রী ও যেন অন্য কোন স্ত্রীকে ঘৃণা বা অবজ্ঞা না করে। কেননা, এমনও হতে পারে যে, যাদেরকে ঘৃণা বা অবজ্ঞা করা হয় তারা যারা ঘৃণা বা অবজ্ঞা করে তাদের চেয়েও ভালো।” (৪৯-সূরা আল হুজরাত : আয়াত-১১)

যদি আপনি মানুষের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং তাদের প্রতি মনোযোগ দেন তবে তারা আপনার ভালোবাসাকে ভালোবাসবে। “যারা তাদের প্রতিপালককে সকাল-সন্ধ্যায় ডাকে আপনি তাদেরকে তাড়িয়ে দিবেন না।” (৬-সূরা আল আন’আম : আয়াত-৫২) “যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে ডাকে তাদের সাথে আপনি ধৈর্য ধরে থাকুন।” (১৮-সূরা আল কাহাফ : আয়াত-২৮)

“তিনি ভ্রুকুটি করলেন ও উপেক্ষা করলেন, কারণ, তাঁর নিকট একজন অন্ধ লোক এসেছিল। আপনি কীভাবে জানবেন সে হয়তো (পাপ হতে) পবিত্র হতো।” (৮০-সূরা আল আবাসা : আয়াত-১-৩)

আমার আলিয়া মাদ্রাসায় পড়ার বছরগুলোতে আমি শুধুমাত্র কবিতা পড়ানোই না অধিকন্তু কবিতা রচনাও করতাম। একবার অন্য মাদ্রাসার ছাত্ররা আমাদেরকে দেখতে আসল। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমাকে আমার রচিত কবিতা আবৃত্তি করতে বলা হলো—আমার দাবি করা মতো কোন দক্ষতার কারণেই নয় বরং এ কারণে যে, আমাদের মাদ্রাসায় একমাত্র আমারই কবিতার প্রতি ঝোঁক ছিল। আমি আমার স্বরচিত কিছু কবিতা উচ্চস্বরে আবৃত্তি করলাম আর সাহিত্যের শিক্ষক আমার ধরন ও শব্দের ব্যবহার উভয়ই প্রশংসা করলেন আর আমি তাঁকে আসলেই বিশ্বাস করলাম। আমি মনে করেছিলাম যে, আমি প্রতিভাদীপ্ত কোন কিছু লিখেছি; কিন্তু, আমি যখন বয়স্ক হওয়ার পর সেগুলোর দিকে চোখ বুলালাম তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, সেগুলো সত্যি সত্যি কাঁচা হাতের ছিল। অন্যদেরকে অবজ্ঞা করে আমরা একমাত্র যা অর্জন করি তা হলো একজন অতিরিক্ত শত্রু। তাই, অন্যের চেষ্টা অনুধাবন করতে মধ্যমপন্থা গ্রহণ করুন এবং তাঁদের কারণে তাঁদের প্রশংসা করুন।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অন্যদের থেকে আপনি যেরূপ আচরণ কামনা করেন অন্যদের সাথে আপনি সেরূপ আচরণই করুন

📄 অন্যদের থেকে আপনি যেরূপ আচরণ কামনা করেন অন্যদের সাথে আপনি সেরূপ আচরণই করুন


একজন জ্ঞানী ব্যক্তি বলেছেন যে, সেই লোক অন্যের দোষ খুঁজে বের করে সে মাছির মতো—যা নাকি পঁচা-দুর্গন্ধ জিনিসের উপর বসে। কিন্তু কিছু লোক ‘কিছু’ শব্দ দ্বারা আক্রান্ত। যখনই আপনি তাদের নিকট কারো কথা বলবেন তখন তারা “তাঁর মধ্যে কিছু ভালো গুণ আছে, কিন্তু....” এই বাক্যের সাথে তাঁর সম্বন্ধে কিছু বলবে। এই ‘কিন্তু’ এর পর যা বলবে তা সর্বদাই সমালোচনা, দোষারোপ ও তিরস্কার।

“সামনে ও পিছনে নিন্দাকারী প্রত্যেক লোকের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ, ধ্বংস ও জাহান্নামের শাস্তি!” (১০৪-সূরা আল হুমাযাহ: আয়াত-১)
“সে তো গীবতকারী ও ঘুরে ঘুরে চোগলখোরী করে।” (৬৮-সূরা আল কালাম: আয়াত-১১)
“তোমাদের একজন যেন অপরের গীবত না করে।” (৪৯-সূরা আল হুজরাত: আয়াত-১২)

অন্যের প্রতি আমরা যতটা বিনয়ী ও সৎ হব তাঁদের ভক্তি তত বেশি হবে (অর্থাৎ অন্যের প্রতি আমরা যত অন্যায় করব অন্যরা আমাদেরকে তত ঘৃণা করবে)। কোন বুদ্ধিমান লোক একথা ভাবতে পারে না যে, সে মানুষকে খর্ব করে, হেয় করে বা অবজ্ঞা করে তাঁদের শ্রদ্ধা ও প্রশংসা অর্জন করতে পারবে। “মুতাহফিফফিনের জন্য ধ্বংস, দুর্ভোগ ও জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে।” (৮৩-সূরা মুতাহফিফফিন: আয়াত-১) (মুতাহফিফ হলো সে, যে নাকি পরিমাপে কম দেয়, ওজনে কম দেয় তথা অন্যের অধিকার খর্ব করে।)

ফন্ট সাইজ
15px
17px